মহামারিতে পরিণত হাম পরিস্থিতি, সন্নিকটে মানবিক বিপর্যয় – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬

আরও খবর

জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা

ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায়

দেশটা দিনে অচল থাকে, রাইতে হারিকেন: স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখল বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্ত: সংশয়ের পদ্মা সেতুতে চার বছরে আয় ৩৩৯২ কোটি টাকা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নেয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুব ঢ়াড়ী-কে পিটিয়ে হত্যা

‘মাজারবিদ্বেষীদের’ সঙ্গে নিয়ে শেষ দিনে ‘মাজারে ডিসিগিরি’ করে গেলেন সারওয়ার আলম

৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও আগামীর অঙ্গীকার

মহামারিতে পরিণত হাম পরিস্থিতি, সন্নিকটে মানবিক বিপর্যয়

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ |
বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ চলতি মৌসুমে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে মহামারি পরিস্থিতির দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই উর্ধ্বমুখী প্রবণতা এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এসে দেশজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৬টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার তথ্য মিলেছে, যা জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার বড় ধরনের চাপ ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই সামনে আনছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর সর্বশেষ চিত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩৭১ জন। ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক মোট রোগী দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ২৪ জনে। একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগী ৮২ জন এবং ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত

মোট নিশ্চিত রোগী ২ হাজার ৭২১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগে আরও দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ জনে। অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনকভাবে মোট মৃত্যু ১৫৬ জনে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ১৫ মার্চ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত ও সন্দেহজনক মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার এবং মৃত্যু ১৮৬ জন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নির্ণয় ও রিপোর্টিংয়ের ঘাটতি রয়েছে। পরিস্থিতির মাত্রা: নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাত্রার সংক্রমণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি

মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যেতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যত্যয়ই এই সংকটের মূল কারণ। বিগত বছরের তুলনা ও সংক্রমণ বৃদ্ধি এশিয়া অঞ্চলের লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে হাম ও রুবেলা নির্মূলের কথা ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক চিত্র সেই লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। ২০২২ সালে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যায় হামের সংক্রমণের হার ছিল ১ দশমিক ৪১, ২০২৩ সালে ১ দশমিক ৬০, ২০২৪ সালে ১ দশমিক ৪৩ এবং ২০২৫ সালে শূন্য দশমিক ৭২। তবে চলতি বছরে এই হার হঠাৎ বেড়ে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক। টিকাদান কর্মসূচির পতন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

তথ্য বলছে, ২০১৭ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ ছিল ৮৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং এমআর-২ ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৮ সালে তা ছিল ৮৬ দশমিক ৪ ও ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৮৮ দশমিক ১ ও ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ, ২০২০ সালে ৮১ দশমিক ৭ ও ৮০ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২১ সালে এটি বেড়ে ৯৭ দশমিক ৩ ও ৯৪ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছায়। ২০২২ সালে এমআর-১ শতভাগ এবং এমআর-২ ছিল ৯৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে কভারেজ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে থাকলেও ২০২৫ সালে তা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ২০২৫ সালে এমআর-১ টিকার কভারেজ নেমে আসে ৫৬ দশমিক

৫ শতাংশে এবং এমআর-২ দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১ শতাংশে। ফলে প্রায় ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়, যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানের এই বড় ধরনের ঘাটতিই হামের বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণহীন করে তুলেছে। হার্ড ইমিউনিটি ভেঙে পড়ায় ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া এক বছরের বেশি সময় ধরে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যত ব্যাহত রয়েছে, যা শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিয়েছে। অপুষ্টিও আরেকটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার বেশি বলে জানা গেছে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, করোনার সময় মাঠপর্যায়ে

টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়। অনেক শিশু সময়মতো টিকা পায়নি। পরবর্তীতে গণটিকাদান কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় টিকাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা বাড়তে থাকে, যা চলতি বছরে হামের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। শিশুরা টিকা না পাওয়ায় এটি মহামারি আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সংক্রমণ যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়, ভাইরাস মারাত্মক শক্তি ধারণ করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন করা হলে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা যেত। টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও জনবল সংকটসহ একাধিক কারণ একত্রে কাজ করেছে বলে তিনি মনে করেন। মহামারি কি না—নিয়ে মতভেদ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো রোগ স্বাভাবিক সীমা ছাড়িয়ে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সেটিকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা

করা হয়। ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলছেন, মানুষ ভয় পাবে বলে এখন মহামারি শব্দটা ব্যাবহার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, গত ১৫-২০ বছরে বাংলাদেশে এত সংখ্যক মানুষ হামে আক্রান্ত হয়নি এবং মৃত্যুও এত হয়নি। চলতি বছর হামের প্রকোপ অনেক বেড়েছে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সংজ্ঞা অনুযায়ী এটি মহামারি হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দেশে হামের মহামারি শুরু হয়ে গেছে। প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম চালু না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, হাম হলে বাচ্চারা খুব দুর্বল হয়ে যায়। তাদের মধ্য থেকেই অনেকের মৃত্যু হয়। ফলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেও শিশুকে একটা নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। করোনাভাইরাসের সময় আমরা যেখানে একটা টাইমলাইন মেনে চলতাম, ঠিক সেভাবেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক ও জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. বেনজির আহমেদ বলেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কোনো শিশুর মৃত্যু যেন না হয় তা নিশ্চিত করা। এজন্য চিকিৎসার মান উন্নয়ন জরুরি। অর্থাৎ হামের চিকিৎসায় জোর দিতে হবে। আমাদের চিকিৎসায় ঘাটতি রয়েছে। এখন যে পরিমাণ রোগী ভর্তি হচ্ছে, তাতে আগামী চার থেকে আট সপ্তাহ এই পরিস্থিতি চলমান থাকা অস্বাভাবিক নয়। চিকিৎসা যদি উন্নত না হয়, তাহলে প্রতিদিন এভাবে আমাদের শিশুদের মৃত্যু মেনে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের জন্য জাতীয় গাইডলাইন জরুরি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণ নিশ্চিত করতে হবে। টিকাদান কার্যক্রম থাকলেও তা যথেষ্ট নয়—জরুরি পরিস্থিতিতে আরও সমন্বিত ও দ্রুত পদক্ষেপ দরকার। নিয়মিত ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে পরিস্থিতি জনসমক্ষে আনার ওপরও তিনি জোর দেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে ফের বিতর্কে ফিফা চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে ড্রিবলিংয়ে রোনালদোকে টপকালেন ভোজিনিয়া বিশ্বকাপে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কেপ ভার্দের লড়াই হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩ রাজধানীর চকবাজারে খাজা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল হাজারো সিম শহীদ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা চলাকালে ট্রাম্পের কটাক্ষ কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইমাম আটক অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, নিয়ে গেছে মোবাইল-টাকা ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪ ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় ‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে শেষ হলো রপ্তানির বছর