বিশ্ব যখন চুপ, গাজার ঈদ তখন আর্তনাদে ভরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ জুন, ২০২৫

বিশ্ব যখন চুপ, গাজার ঈদ তখন আর্তনাদে ভরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ জুন, ২০২৫ |
ঈদুল আজহা আনন্দ, ত্যাগ আর সহানুভূতির বার্তাকেই বহন করে- যেখানে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মানুষ সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে, দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটায়। কিন্তু এ বছরের ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার ঈদ যেন এই ধর্মীয় সৌন্দর্যের নির্মম ব্যতিক্রম। কারণ এখানে পশু নয়, কোরবানি হচ্ছে মানুষ-নিরপরাধ শিশু, নারী ও পুরুষ। গাজার অলিগলিতে এখন রক্তের স্রোত, কান্নার প্রতিধ্বনি, ধ্বংসস্তূপ আর ব্যথার চিৎকার। যেসব শিশুরা নতুন জামা পরে ঈদগাহে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তারা আজ কেউ হাসপাতালের বারান্দায়, কেউবা ধ্বংসস্তূপের নিচে নিথর দেহ। ঈদের নামাজ পড়ার মতো জায়গাও নেই অনেক এলাকায়, কারণ ঈদগাহগুলোই আর অস্তিত্বে নেই- সেগুলো আজ কেবল ধূলোমলিন স্মৃতি। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে একটি

প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশ্বজুড়ে, এই হত্যাযজ্ঞের দায় কার? শুধু কি দখলদার বাহিনীর? নাকি সেই সব ক্ষমতাবান রাষ্ট্রগুলোর, যারা মানবাধিকারের বুলি কপচায়, কিন্তু বাস্তবে নিরবতা পালন করে? যারা অস্ত্র বিক্রি করে আগুন জ্বালায়, পরে শান্তির অভিনয় করে? কিংবা সেইসব মুসলিম রাষ্ট্রনেতাদের, যারা গাজায় হত্যাযজ্ঞের সময় নীরব থাকে নিজেদের স্বার্থরক্ষার জন্য? গাজার ঈদের বাস্তবতা দেখে চোখ ভিজে যায় বিবেকবানদের। ড. হানান আশরাওয়ি বলেন, ‘প্রতি ঈদেই গাজা কাঁদে, আর বিশ্ব থাকে নীরব। এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় সহিংসতা।’ আর্চবিশপ দেশমন্ড টুটু ফাউন্ডেশন বলেছে, ‘একটি ধর্মীয় উৎসবে যখন শিশুর কান্না, ধ্বংসস্তূপে প্রার্থনা আর পবিত্র দিনে বোমা পড়ে- তা শুধু অন্যায় নয়, বরং ঈশ্বরকেও অশ্রদ্ধা। মার্কিন অধিকারকর্মী কোরনেল ওয়েস্টের

মতে, ‘এই রক্তভেজা ঈদ আমাদের সকলের বিবেকের পরীক্ষা। কেউ কোরবানি দেয় আত্মশুদ্ধির জন্য, আর কেউ মানুষ হত্যা করে দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য।’ এই পরিস্থিতিতে এক শিশু যখন জিজ্ঞেস করে- ‘আমার বাবা-মায়ের রক্তের দায় কে নেবে?’-তখন কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, বিশ্ব ব্যবস্থাকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয়। আমরা যারা প্রতিদিন গাজাবাসীর রক্তমাখা ছবি দেখে চোখ ফিরিয়ে নিই, ভাবি ‘আমার তো কিছু করার নেই’ -আমরাও কি দায়মুক্ত? এই দায় কারও একার নয়- এই দায় ছড়িয়ে আছে প্রতিটি শক্তিধর রাষ্ট্রের নিরবতায়, প্রতিটি প্রভাবশালী গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বে এবং প্রতিটি নিঃশব্দ মুসলিম নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তায়। ঈদের দিনে এমন এক প্রশ্ন জেগে ওঠে, যা তাকবিরের আওয়াজকেও ছাপিয়ে যায় : ‘আর কত ঈদ আসবে

যেখানে কেউ বুক চাপা কান্না লুকাবে, আর কেউ কবরস্থানে প্রিয়জন খুঁজবে?’ এই দায়ের হিসাব একদিন ইতিহাসই করবে- আর সেই দিন নীরবতার মুখোশ পরা সবাইকে জবাব দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে— হারের পর মিরাজ হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম হামের প্রকোপ কমাতে দেশব্যাপী সরকারের টিকাদানের পদক্ষেপ ১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের কাছে থাকা সব ইউরেনিয়াম পাবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের ‘জনপ্রিয়তায়’ আতিফ আসলামকেও ছাড়িয়ে যাওয়া কে এই তালহা আনজুম রাশেদ প্রধান লিমিট ক্রস করে বক্তব্য দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন ‘শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত’ পঁচিশে সমুদ্রপথে ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি প্রবাসীদের মাতাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রীতম-জেফার-পূজা-তমা 17 April: Mujibnagar Day — A Defining Moment in Bangladesh’s Liberation Struggle ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এক স্মৃতি বিজড়িত দিন জাতীয় দলের অধিনায়কদের জন্য বিসিবির প্রিভিলেজ কার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তিতে প্রথম আলোর জোরালো অবস্থান দিনে ৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং, শহরের চেয়ে গ্রামে সংকট তীব্রতর ১৭ এপ্রিল-বাংলাদেশের নূতন সূর্যোদয় বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্রে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে জুলাই-আগস্টে ঢাকায় হত্যাকাণ্ড বাড়ানোর নির্দেশ দেয় কে? জামায়াত জোট জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ; পিএস জনি আটক সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ নেতা ধর্মসিং চাকমা নিহত, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ২ বোন