ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
জঙ্গিবাদ ইস্যুতে বিএনপি সরকারের ভেতরেই ভিন্ন সুর!
ফেনীতে এক লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে ব্যবসায়ীকে পেটাল ৩ যুবদল নেতা
রাউজানে থামছেই না লাশের মিছিল: ৩ দিনের ব্যবধানে ফের বিএনপি কর্মীকে গুলি করে হত্যা
আদম ব্যবসার মূলে এনসিপি নেতা
প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের রিট
ইসহাক সরকারের এনসিপিতে যোগদান: বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জন্য ‘অশনিসংকেত’
হজ ক্যাম্পে ৮ লাখ টাকা মূল্যের সৌদি রিয়াল চুরি, দুইদিনেও ধরা পড়েনি কেউ
বিএনপি সরকারের দুই মেয়াদে করা একমাত্র বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে কালেভদ্রে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়
দুই মেয়াদে (১৯৯১-১৯৯৬ ও ২০০১-২০০৬) খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মোট ১০ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশে মাত্র একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। সেটি হলো গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত ৮০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র (Tongi 80 MW GT Power Station)। পরবর্তীতে এর ক্ষমতা আরও ২৫ মেগাওয়াট বাড়িয়ে ১০৫ মেগাওয়াট করা হয়।
প্রকল্পটির মোট নির্মাণ ব্যয় ছিল প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা (২০০৫ সালের হিসাব)। বর্তমান মূল্যে (মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায়) যা প্রায় ৪৮০ কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রতি মেগাওয়াট খরচ হিসাব করলে:
প্রাথমিক ৮০ মেগাওয়াটের জন্য প্রতি মেগাওয়াট খরচ পড়ে প্রায় ৪.৫ কোটি টাকা।
১০৫ মেগাওয়াটে উন্নীত করার পর প্রতি মেগাওয়াট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৪.৫৭ কোটি টাকা।
২০০০-এর দশকের
শুরুর দিকে গ্যাস টারবাইন (Simple Cycle GT) প্রকল্পের আন্তর্জাতিক গড় খরচ ছিল প্রতি মেগাওয়াট ৫০০ থেকে ৭০০ ডলার, সেই সময়কার বিনিময় হারে প্রায় ৩.৫ থেকে ৫ কোটি টাকা। টঙ্গী প্রকল্পের খরচ এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) নির্মিত অনেক গ্যাসভিত্তিক ও কম্বাইন্ড সাইকেল প্ল্যান্টের প্রতি মেগাওয়াট খরচ টঙ্গী প্রকল্পের তুলনায় অনেক কম ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টঙ্গী প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া এবং ঘুষ লেনদেনের কারণে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পটি নির্মাণের ঠিকাদার ছিল চীনের হারবিন পাওয়ার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যাদের তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রকল্পে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে
আরাফাত রহমান কোকো এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুসারে, হারবিন কোম্পানি থেকে কোকোর সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৫০,০০০ ডলার ঘুষ হিসেবে পাঠানো হয়। এছাড়া সিমেন্সসহ অন্যান্য কোম্পানি থেকেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সিঙ্গাপুর সরকারের সহযোগিতায় এই ঘুষের অর্থ ফেরত আনা হয় এবং দুর্নীতি মামলায় সংশ্লিষ্টদের সাজা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই ধুঁকে ধুঁকে চলছে এই কেন্দ্র ২০০৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হলেও কেন্দ্রটি নিয়মিত চালানো সম্ভব হয়নি। বছরের অধিকাংশ সময় কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। যে কয়েকদিন চালানো হয়, সেদিন
টঙ্গী ও উত্তরা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের রান্নাঘরের চুলা জ্বলে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার (২০২৪ সালের আগস্ট) পর থেকে আজ পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি একদিনও চালু করা হয়নি। এটি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রটির অবসরকাল (Retirement) নির্ধারিত হয়েছে ২০৩০ সাল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড BPDB’র বিভিন্ন সূত্র ও রিপোর্ট থেকে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবদান নিম্নরূপ: সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের বছর: ২০০৭-০৮ সালে কেন্দ্রটি তার ক্ষমতার মাত্র ৫০% এর কাছাকাছি চলেছিল। সাধারণ অবস্থা: অধিকাংশ বছরে Capacity Factor ছিল ১২% থেকে ৩০% এর মধ্যে। ২০১৭-১৮ সাল: পুরো বছর ০ মেগাওয়াট উৎপাদন। বরং জাতীয়
গ্রিড থেকে ১,৮১১ মেগাওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ করে যন্ত্রপাতি চালু রাখা হয়েছে। ২০১৯ সাল: মাত্র ২১,৫৩৫ মেগাওয়াট-আওয়ার (২১.৫৩৫ গিগাওয়াট-আওয়ার) উৎপাদন হয়েছে। আনুমানিক মোট উৎপাদন (২০০৫ – ২০২৬)বিভিন্ন রিপোর্ট ও BPDB-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে আনুমানিক হিসাব করলে দাঁড়ায় টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২১ বছরে মোট ১.৮ থেকে ২.৫ মিলিয়ন মেগাওয়াট-আওয়ার (১.৮ – ২.৫ গিগাওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতার তুলনায় খুবই কম। যদি কেন্দ্রটি গড়ে ৪০% Capacity Factor-এ চলত, তাহলে ২১ বছরে (২০০৫-২০২৬) উৎপাদন হতো প্রায় ৭.৬ থেকে ৮.৫ গিগাওয়াট-আওয়ার। কিন্তু বাস্তবে এটি তার সক্ষমতার ২৫-৩০% এরও কম উৎপাদন করেছে। টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের ২১ বছর পরও
জাতীয় গ্রিডে খুব সামান্য অবদান রেখেছে। এটি বিএনপি আমলের বিদ্যুৎ খাতের একটি ব্যর্থ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ খাতের একমাত্র বড় প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি, অদক্ষ ঠিকাদার নির্বাচন, অপরিকল্পিত ব্যয় এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে একটি ব্যর্থ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। এই প্রকল্পটি প্রায়ই বিএনপি আমলের বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা ও দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
শুরুর দিকে গ্যাস টারবাইন (Simple Cycle GT) প্রকল্পের আন্তর্জাতিক গড় খরচ ছিল প্রতি মেগাওয়াট ৫০০ থেকে ৭০০ ডলার, সেই সময়কার বিনিময় হারে প্রায় ৩.৫ থেকে ৫ কোটি টাকা। টঙ্গী প্রকল্পের খরচ এর চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০০৯-২০২৪) নির্মিত অনেক গ্যাসভিত্তিক ও কম্বাইন্ড সাইকেল প্ল্যান্টের প্রতি মেগাওয়াট খরচ টঙ্গী প্রকল্পের তুলনায় অনেক কম ছিল। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টঙ্গী প্রকল্পে ঠিকাদার নির্বাচন, প্রকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া এবং ঘুষ লেনদেনের কারণে খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়েছিল। দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পটি নির্মাণের ঠিকাদার ছিল চীনের হারবিন পাওয়ার ইকুইপমেন্ট কোম্পানি, যাদের তখন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে তেমন অভিজ্ঞতা ছিল না। প্রকল্পে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে
আরাফাত রহমান কোকো এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুসারে, হারবিন কোম্পানি থেকে কোকোর সিঙ্গাপুরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৭৫০,০০০ ডলার ঘুষ হিসেবে পাঠানো হয়। এছাড়া সিমেন্সসহ অন্যান্য কোম্পানি থেকেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ছিল। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে সিঙ্গাপুর সরকারের সহযোগিতায় এই ঘুষের অর্থ ফেরত আনা হয় এবং দুর্নীতি মামলায় সংশ্লিষ্টদের সাজা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই ধুঁকে ধুঁকে চলছে এই কেন্দ্র ২০০৫ সালের ২রা সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে চেষ্টা করা হলেও কেন্দ্রটি নিয়মিত চালানো সম্ভব হয়নি। বছরের অধিকাংশ সময় কেন্দ্রটি বন্ধ থাকে। যে কয়েকদিন চালানো হয়, সেদিন
টঙ্গী ও উত্তরা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের রান্নাঘরের চুলা জ্বলে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসার (২০২৪ সালের আগস্ট) পর থেকে আজ পর্যন্ত এই কেন্দ্রটি একদিনও চালু করা হয়নি। এটি এখনো সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। কেন্দ্রটির অবসরকাল (Retirement) নির্ধারিত হয়েছে ২০৩০ সাল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড BPDB’র বিভিন্ন সূত্র ও রিপোর্ট থেকে যে তথ্য পাওয়া যায়, তার ভিত্তিতে জাতীয় গ্রিডে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবদান নিম্নরূপ: সর্বোচ্চ পারফরম্যান্সের বছর: ২০০৭-০৮ সালে কেন্দ্রটি তার ক্ষমতার মাত্র ৫০% এর কাছাকাছি চলেছিল। সাধারণ অবস্থা: অধিকাংশ বছরে Capacity Factor ছিল ১২% থেকে ৩০% এর মধ্যে। ২০১৭-১৮ সাল: পুরো বছর ০ মেগাওয়াট উৎপাদন। বরং জাতীয়
গ্রিড থেকে ১,৮১১ মেগাওয়াট-আওয়ার বিদ্যুৎ খরচ করে যন্ত্রপাতি চালু রাখা হয়েছে। ২০১৯ সাল: মাত্র ২১,৫৩৫ মেগাওয়াট-আওয়ার (২১.৫৩৫ গিগাওয়াট-আওয়ার) উৎপাদন হয়েছে। আনুমানিক মোট উৎপাদন (২০০৫ – ২০২৬)বিভিন্ন রিপোর্ট ও BPDB-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে আনুমানিক হিসাব করলে দাঁড়ায় টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র ২১ বছরে মোট ১.৮ থেকে ২.৫ মিলিয়ন মেগাওয়াট-আওয়ার (১.৮ – ২.৫ গিগাওয়াট-আওয়ার) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছে, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির সক্ষমতার তুলনায় খুবই কম। যদি কেন্দ্রটি গড়ে ৪০% Capacity Factor-এ চলত, তাহলে ২১ বছরে (২০০৫-২০২৬) উৎপাদন হতো প্রায় ৭.৬ থেকে ৮.৫ গিগাওয়াট-আওয়ার। কিন্তু বাস্তবে এটি তার সক্ষমতার ২৫-৩০% এরও কম উৎপাদন করেছে। টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের ২১ বছর পরও
জাতীয় গ্রিডে খুব সামান্য অবদান রেখেছে। এটি বিএনপি আমলের বিদ্যুৎ খাতের একটি ব্যর্থ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। টঙ্গী ১০৫ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বিএনপি সরকারের বিদ্যুৎ খাতের একমাত্র বড় প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও দুর্নীতি, অদক্ষ ঠিকাদার নির্বাচন, অপরিকল্পিত ব্যয় এবং টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে একটি ব্যর্থ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প হিসেবে পরিচিত হয়ে আছে। এই প্রকল্পটি প্রায়ই বিএনপি আমলের বিদ্যুৎ খাতের অদক্ষতা ও দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করা হয়।



