বাংলার রাজনৈতিক আকাশে মুজিব তনয়া এখনো সমান অপরিহার্য – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর, ২০২৫

বাংলার রাজনৈতিক আকাশে মুজিব তনয়া এখনো সমান অপরিহার্য

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ |
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে একটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ চালু আছে। বঙ্গবন্ধু জাতির বিনির্মাণ করেছেন ঠিকই কিন্তু সদ্য স্বাধীন দেশের প্রশাসক হিসাবে ততোটা আপ টু দ্য মার্ক নন! এরপর উনি দেশের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র মুছে দিয়ে পুরো দেশকে আওয়ামী লীগ বানাতে গিয়েছিলেন। আরো সরেস কাঠি আলাপ আছে। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট! ১৫ আগস্টের পরেরদিন যে সরকার তার পুরোটাই আওয়ামী লীগ। তাহলে ব্যর্থতা কার? আওয়ামী লীগ আসলে মূলত একটা কাল্টের রাজনীতি চর্চা করে, ইত্যকার নানান চটকদার আলাপ আছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকার বঙ্গবন্ধুর নিজস্ব পলিটিক্যাল ফিলোসোফি ডেভেলপমেন্টের একটা অন্যতম গ্রাউন্ড ছিলো। এই যুক্তফ্রন্ট সরকারের যে সময়টুকু সেটা তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। এরপরের অধ্যায়ে তিনি দু’ভাবে

তার সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন। দল হিসাবে আওয়ামী লীগকে একটা শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর পাশাপাশি তিনি ব্যক্তি শেখ মুজিব হিসাবে দলীয় সাইনবোর্ডের বাইরে গিয়ে প্রচুর জনসংযোগে মনোনিবেশ করেছেন। ছাত্রলীগ যে আওয়ামী লীগের ব্যানারের বাইরে গিয়ে একটা সেমি স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক চর্চার সংগঠন হিসাবে দারুণ শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলো সেটা বঙ্গবন্ধুর এই ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক নীতির দারুণ সুফল হিসাবে মূল্যায়ন করা যায়। বঙ্গবন্ধুর মনোজগত খুবই ইন্টারেস্টিং। একই সঙ্গে তিনি দলীয় এক্টিভিজম বা শৃঙ্খলাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে যেমন মনোযোগী ছিলেন তেমনি ব্যক্তি মুজিব হিসাবে তিনি কতোটা জনগণের নিকট পৌঁছাতে পেরেছেন, সেটাও তিনি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে তাঁর দৈনন্দিন রাজনৈতিক কার্যক্রমের অংশ হিসাবে বিবেচনা করতেন। এখন এই

কাজ কেন করতেন বঙ্গবন্ধু? এই বিষয়ে যে মতামত উপস্থাপন করছি, সেটা একান্তই আমার ব্যক্তিগত স্পেকুলেশন। এর পেছনে সেরকম কোন রেফারেন্স নেই। আবার রেফারেন্স যে নেই তাও বলা যাবে না। রেফারেন্স আত্মজীবনীসহ তাঁর তিনটি গ্রন্থ। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম প্রধান উপজীব্য হলো এদেশের খেটে খাওয়া প্রান্তিক মানুষ। তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বেশিরভাগ সময় এই মানুষদের সঙ্গে কাটিয়েছেন। এই প্রান্তিক মানুষদের নিকট কাঠামোবদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শ দিয়ে পৌঁছানোর চেয়ে তাদের সন্তান হয়ে, ভাই হয়ে বন্ধু হয়ে পৌঁছানো অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য ও স্থায়ী। কারণ বঙ্গবন্ধু জানতেন যে তাঁর যে একেবারে ভেতরের মানসের অভিপ্রায় অর্থাৎ বাঙালির জন্যে একটা স্বাধীন ও স্বনির্ভর আত্মপরিচয় বিনির্মাণ সেটা রাজনৈতিক পরিমন্ডলের বাইরে

গিয়ে মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা বেশি সম্ভব হবে। আর এই যে সাংস্কৃতিকভাবে জনগণের সঙ্গে হাত মেলানো, কাঁধে কাঁধ মেলানো এটা দিনশেষে তাকে রাজনীতির বাইরে গণমানুষের মুজিব হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে। যার কারণে সদ্য স্বাধীন দেশের একজন প্রান্তিক মানুষ তাঁকে “প্রধানমন্ত্রী মুজিব ভাই” সম্বোধন করে খোলা পোস্ট কার্ডে চিঠি লিখতেন। এটাই বঙ্গবন্ধুকে সবকিছু থেকে ওপরে প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। ঐ ৩২ এ হাঙ্গামা করতে যাওয়া একজনকে এক সেনা কর্মকর্তা বুঝাচ্ছিলেন যে আপনি ৩২ ভাঙবেন কিন্তু মানুষের মাথায়, হৃদয়ে যে স্থাপনা আছে সেটা ভাঙবেন কী করে? এই মানসিক স্থাপনা এটাকে একদল ঈর্ষান্বিত হয়ে এবং আরেকদল না বুঝে কাল্ট বলে অভিহিত করে থাকে।

মুজিব শুধুমাত্র একটা রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম নয়। মুজিব চিন্তার জগতে একটা নতুন ধরণের সাংস্কৃতিক বিপ্লবের নাম। একদিন আওয়ামী লীগ সাইনবোর্ড দিয়ে নাও থাকতে পারে কিন্তু চিন্তার আওয়ামী লীগ অমর। কারণ আওয়ামী লীগকে মারতে হলে আগে মুজিবের চিন্তাকে বা দর্শনকে মারতে হবে। সেটা বাস্তবে সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। কারণ মুজিব কোন কিছুকেই নিজের করে নেননি, বরং সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে তাদের হয়েছেন ক্রমাগতভাবে। এমনকি যে সময় অনাগত সে সময়ের মাঝেও নিজের চিন্তা আর শ্রমকে বিলিয়ে দিয়েছেন। দল হিসাবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ সমস্যা নেই। চিন্তার জগতে যে রাজনীতির বাইরের যে মুজিবের বসবাস তাকে আটকাবে কোন জেল, বুলেট কিংবা নিষিদ্ধ আইন? শরীরের

মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে ৭৫ সালে। এরপর দীর্ঘ ২০ বছর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে গেছে। ফলাফল কী? একটা স্বাধীন দেশের স্ট্যাবিলিটির সবচেয়ে বড় প্যারামিটার হলো সে দেশের মানুষের জীবন মান কেমন। এই প্রশ্নে সরকার প্রধান হিসাবে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনার সাফল্যের ধারেকাছেও তো কেউ নেই দেশের অন্যান্য সরকারগুলোর মধ্যে। কেন নেই? কারণ মুজিব তনয়াও তাঁর পিতার দেখানো পথেই হেঁটেছেন। দল আওয়ামী লীগের থেকে তাঁর কাছে বাংলার প্রান্তিক মানুষের ভালোভাবে বাঁচা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নামে ব্যাংকের লকারে ৯০০ ভরি সোনার গহনার গল্প খুবই অর্বাচীন ও হাস্যকর। নিজস্ব হিউমার থেকে তিনি এই গল্পের একটা সাহিত্যিক মানের সমাধান বের করেছেন। “আমার

জ্ঞাতসারে লকারে কোন গহনা নেই। এরপরেও যেহেতু বলা হয়েছে আছে, থাকলে সেগুলো আগুনে পোড়া বস্তিবাসীদের দিয়ে দেওয়া হোক”। এটা শুধুই একটা পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি না। তার বিগত ১৬ বছরের গৃহীত অনেক প্রকল্প শুধুমাত্র সমাজের এই প্রান্তিক মানুষগুলোকে ঘিরেই পরিচালিত হয়েছে। ঠিক এই জায়গায় বাংলার রাজনৈতিক আকাশে মুজিব তনয়া এখনো সমানভাবে অপরিহার্য। অনির্বাণ হাসান শুভ পরিচিতি: সাংবাদিক, কলামিস্ট

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
১৩ লাখ টাকা দিলে পরীক্ষা ও পাস করা ছাড়াই জাতীয় জাদুঘরে চাকরির নিশ্চয়তা! খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশ থেকে এখন বিশ্বের তীব্র খাদ্য সংকটের শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ টিটিপির নিশানায় বাংলাদেশ: সারাদেশে ‘রেড অ্যালার্ট সংসদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীর সম্ভাব্য সমন্বিত হামলার সতর্কতা জারি করেছে পুলিশ ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড: জামিল লিমনের লাশ উদ্ধার, নাহিদা বৃষ্টির মৃত্যু নিশ্চিত বহুমুখী সংকটে শিল্পখাত, টিকে থাকার লড়াইয়ে ধুঁকছে সিমেন্টসহ উৎপাদন খাত ইউএন টর্চার এক্সপার্ট এখনো জুলাই’২০২৪-এ আটকেঃ অ্যালিস এডওয়ার্ডস অ্যাকটিভিস্টদের মতামত প্রকাশে বাধা দিলেন ইসলামাবাদে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার: ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর খুলনায় বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২ চকরিয়ায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বন ও নদীখেকোদের মহোৎসব: অসহায় বনবিভাগ নড়াইলে প্রাচীর তুলে ২৫ হিন্দু পরিবারের রাস্তা অবরুদ্ধ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে উত্তেজনা: টিটিপির সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে একাধিক কর্মী আটক, অনেকে পালিয়েছে বিদেশে উগ্রবাদী হামলার শঙ্কা: সতর্কবার্তার বিষয়টি স্বীকার করল সিটিটিসি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর অনস্ক্রিন চুম্বন দৃশ্য, ৩০ বছরের ‘কিসিং নীতি’ ভাঙা নিয়ে মুখ খুললেন কাজল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ পুলিশ সদরের যুদ্ধবিরতি বাড়লেও থামেনি হিজবুল্লাহ-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার কে এই হিশাম ম্যালেরিয়ার জীবাণুতে জিনগত পরিবর্তন চালের দামের ওপর বাড়তি ভাড়ার প্রভাব