বাঁচানো গেল না সায়মাকে, গণপিটুনির শিকার যুবকেরও মৃত্যু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ জুন, ২০২৬

বাঁচানো গেল না সায়মাকে, গণপিটুনির শিকার যুবকেরও মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ জুন, ২০২৬ |
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকায় মা ও তিন মেয়েসহ একই পরিবারের চারজনকে কোপানো হয়েছে। এর মধ্যে মা ও দুই মেয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান। পরিবারটির আরেক সদস্য গুরুতর আহত সায়মা আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এছাড়াও অভিযুক্ত গণপিটুনিতে আহত অন্তর মজুমদারও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ফলে মর্মান্তিক এ ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। এ অবস্থায় পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গণপিটুনির ঘটনায় নিহত অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার। রায়পুর বাজারের ফল ব্যবসায়ী ছিলেন। এর আগে, আজ বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েসহ একই

পরিবারের চারজনকে কোপানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে মারা যাওয়া তিনজন হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তার (১৩)। আরেক মেয়ে সায়মা আক্তার (২১) গুরুতর আহত হন। আহতাবস্থায় তাকে প্রথমে হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। নিহত সায়মা আক্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। এদিকে, ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ফলে একই পরিবারের চার সদস্য ও অভিযুক্তসহ মোট পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনায় রায়পুরজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দিনের আলোয় জনবসতিপূর্ণ

এলাকায় সংঘটিত এ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাটি চাপা আতঙ্ক ও বিচারের দাবিতে সাধারণ জনগণ ফুঁসে উঠেছেন। আজ সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা কামাল উদ্দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর স্বামীহারা শাহিনুর বেগম সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও সন্তানদের নিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বড় মেয়ে সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছিলেন। পরিবারের স্বপ্ন ছিল সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রতিষ্ঠিত করা। কিন্তু এক নির্মম হামলায় মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন রক্তাক্ত পরিণতির মুখে পড়ে। ঘটনার

পরপরই এলাকাবাসী সন্দেহভাজন এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের সঙ্গে একই ভবনে ভাড়া থাকতেন সন্দেহভাজন যুবক অন্তর মজুমদার। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা এবং পেশায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রেমঘটিত বিরোধ অথবা ব্যক্তিগত ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো কারণ নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালে আনার পর মা

ও দুই মেয়েকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত সায়মা আক্তারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে সেখানেও মারা যায় সে। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাৎক্ষণিক আহত পুলিশের নাম জানানো হয়নি। রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আহত একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম

সিন ইউনিট এবং রায়পুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছে। মূল সন্দেহভাজনের মৃত্যুর কারণে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আশপাশের বাসিন্দা, স্বজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এদিকে, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো গোডাউন রোড এলাকা এবং আশপাশের জনপদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দিনের বেলায় একটি পরিবারের ওপর এমন বর্বর হামলা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন, সবুজ মিয়া ও ইতি বেগমসহ অনেকে বলেন- এমন ভয়াবহ ঘটনা আমরা আগে দেখিনি। একটি পরিবারের চারজন মানুষকে এভাবে হত্যা করা হবে, তা কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। নিহতদের

স্বজন, প্রতিবেশী এবং সচেতন নাগরিকরা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। রায়পুরের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ও হৃদয়বিদারক এই হত্যাকাণ্ডে শোকাহত পুরো জনপদ। একদিকে তিনটি প্রাণের নির্মম মৃত্যু, অন্যদিকে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আহত তরুণী। এখন সবার একটাই প্রশ্ন—কেন সংঘটিত হলো এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড, আর কবে প্রকাশ পাবে এর প্রকৃত রহস্য। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবু তারেক বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আহত একজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তদন্ত শেষে জানানো হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
কাঙালিনী সুফিয়ার পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন স্কুলছাত্র প্রেমের পিঠ দিয়ে গুলি ঢুকে গেছে, ঢামেকে অস্ত্রোপচার বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু বাঁচানো গেল না সায়মাকে, গণপিটুনির শিকার যুবকেরও মৃত্যু খুব স্নায়ুচাপ অনুভব হচ্ছিল: নেইমার ইউরোপের গরমে মানুষের আয় কমেছে, বেড়েছে খরচ ভেনেজুয়েলায় নিহত ছাড়াল ১৬০, আহত হাজার খাসজমিতে চার মাসেই উঠল বহুতল ভবন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে ম্যাচে ব্রাজিলের কার রেটিং কত ২০৩০ বিশ্বকাপ নিয়ে কী ভাবছেন মেসি, জানালেন নিজেই পেলের রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের পাতায় নেইমার ভিনির বাতিল হওয়া গোলটি কি ‘বৈধ’ ছিল মা-বোনসহ ঢাবি ছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে ঘাতকের মৃত্যু হাম উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৪৫ বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা ভারতের অবৈধ ওয়াকিটকি ব্যবহারে সতর্কবার্তা মধুপুরে মাদ্রাসায় ফের ছাত্রকে যৌন নির্যাতন “অনুপস্থিত আছি, কিন্তু নীরব নই”, দেশের মানুষের পক্ষে এখনও অটল-অবিচল শেখ হাসিনা ভিনিসিউসের জোড়া গোলে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে নকআউটে ব্রাজিল