ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
প্রতিমন্ত্রী পুতুলের সুপারিশ না শোনায় প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার
দ্বিগুণেরও বেশি দামে এক কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার, একই দরে কেনা হবে আরও ১৪ কার্গো
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর-লুটপাট: ইউনূস, আসিফ নজরুল, শফিকুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন নিল না আদালত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিলেন প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতা
প্রার্থী হয়েও ভোট দিতে পারছেন না অলি আহমদ
ড. ইউনূস ও আসিফ নজরুলসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
চিকিৎসক ধীপ্রা হত্যা: প্রভাবশালীদের ইয়ার্কি ও চাপে মানসিক নির্যাতন ও স্বজনদের অবহেলায় মৃত্যুর মামলা প্রত্যাহার
গ্যাস সংকটে চরম বিপর্যয়ের মুখে শিল্পাঞ্চল, বন্ধ ৯০০-এর বেশি টেক্সটাইল মিল
সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দেওয়া হলেও শিল্পাঞ্চলগুলোর পরিস্থিতিতে এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের অর্ধেকেরও বেশি টেক্সটাইল ও সুতা উৎপাদনকারী মিল ইতোমধ্যে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংকটের প্রভাব শুধু টেক্সটাইল খাতেই সীমাবদ্ধ নেই। গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পে উৎপাদন সক্ষমতা নেমে এসেছে অর্ধেকেরও নিচে।
গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকদের আশ্বস্ত করেছিলেন, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন না থাকায় হতাশা ও উদ্বেগ আরও বেড়েছে শিল্পোদ্যোক্তাদের
মধ্যে। নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের মালিকেরা বলছেন, গত শুক্রবার কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় সরবরাহ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ তাঁতশিল্পের কেন্দ্র নরসিংদীর মাধবদীতেও গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তাঁত শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া যায়। তবে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের তথ্য অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, সংগঠনটির ১ হাজার ৮০০-এর
বেশি সদস্যের মধ্যে ৯০০টিরও বেশি টেক্সটাইল মিল বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তার ভাষ্য, সংকটের প্রভাব টেক্সটাইলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসনির্ভর ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিক শিল্পেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সোমবার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি হলেও পরদিন পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি শীর্ষস্থানীয় স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। অথচ সরকার ১৫ পিএসআই চাপের আশ্বাস দিয়েছিল। তার দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি
টাকা লোকসান হচ্ছে। পরিস্থিতি চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। শুধু উৎপাদন বন্ধ হওয়া নয়, সামনে আরও বড় আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকেরা। তাদের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও অনেক কারখানার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ হক বলেন, সরকার এর আগে একাধিকবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু একের পর এক নির্ধারিত সময় পার হলেও সংকট কাটেনি। এখন পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে শিল্প মালিকদের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। নরসিংদী চেম্বার অব
কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনের দাবি, কারখানা বন্ধ থাকায় নরসিংদীর তাঁতশিল্পের শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে গতকাল তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নামার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে পারেননি। উৎপাদনভিত্তিক মজুরিতে কাজ করা এসব শ্রমিকের ক্ষেত্রে কারখানার উৎপাদন বন্ধ মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। তবে মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন শ্রমিকদের এমন বিক্ষোভের খবর অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে শিবপুর থানার ওসি মো. কোহিনুর মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্যাস সংকটের সূত্রপাত গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর। ওই
ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এরপর থেকে দেশজুড়ে চলমান সংকট এখন শিল্প উৎপাদন, শ্রমিকদের আয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
মধ্যে। নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের মালিকেরা বলছেন, গত শুক্রবার কয়েকটি এলাকায় গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে অনেক এলাকায় সরবরাহ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়, কোথাও কোথাও পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ তাঁতশিল্পের কেন্দ্র নরসিংদীর মাধবদীতেও গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তাঁত শ্রমিকদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া যায়। তবে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের তথ্য অস্বীকার করেছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের দাবি, সংগঠনটির ১ হাজার ৮০০-এর
বেশি সদস্যের মধ্যে ৯০০টিরও বেশি টেক্সটাইল মিল বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। তার ভাষ্য, সংকটের প্রভাব টেক্সটাইলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসনির্ভর ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিক শিল্পেও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমও পরিস্থিতির অবনতির কথা জানিয়েছেন। তার মতে, সোমবার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি হলেও পরদিন পরিস্থিতি আবার খারাপ হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি শীর্ষস্থানীয় স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তার কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি নেমে গেছে। অথচ সরকার ১৫ পিএসআই চাপের আশ্বাস দিয়েছিল। তার দাবি, গ্যাস সংকটের কারণে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি
টাকা লোকসান হচ্ছে। পরিস্থিতি চলতে থাকলে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের জন্য শেষ পর্যন্ত সম্পত্তি বিক্রি করার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। শুধু উৎপাদন বন্ধ হওয়া নয়, সামনে আরও বড় আর্থিক সংকটের আশঙ্কা করছেন শিল্প মালিকেরা। তাদের আশঙ্কা, গ্যাস সংকট দীর্ঘায়িত হলে জুলাই ও আগস্ট মাসের গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল এবং শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও অনেক কারখানার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ হক বলেন, সরকার এর আগে একাধিকবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু একের পর এক নির্ধারিত সময় পার হলেও সংকট কাটেনি। এখন পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে শিল্প মালিকদের কাছে কোনো স্পষ্ট ধারণা নেই। নরসিংদী চেম্বার অব
কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনের দাবি, কারখানা বন্ধ থাকায় নরসিংদীর তাঁতশিল্পের শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে গতকাল তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে নামার চেষ্টা করেন। তবে দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করতে পারেননি। উৎপাদনভিত্তিক মজুরিতে কাজ করা এসব শ্রমিকের ক্ষেত্রে কারখানার উৎপাদন বন্ধ মানেই আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া। তবে মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন শ্রমিকদের এমন বিক্ষোভের খবর অস্বীকার করেছেন। এ বিষয়ে শিবপুর থানার ওসি মো. কোহিনুর মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গ্যাস সংকটের সূত্রপাত গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর। ওই
ঘটনার পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এরপর থেকে দেশজুড়ে চলমান সংকট এখন শিল্প উৎপাদন, শ্রমিকদের আয় এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।



