গণমাধ্যম দমনে ‘ফেরাউনি’ ছায়া: ড. ইউনূসের শাসনে ভিন্নমত ও বিবেকের কারাবাস—একটি বিশ্লেষণ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ জানুয়ারি, ২০২৬

গণমাধ্যম দমনে ‘ফেরাউনি’ ছায়া: ড. ইউনূসের শাসনে ভিন্নমত ও বিবেকের কারাবাস—একটি বিশ্লেষণ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ জানুয়ারি, ২০২৬ |
বিশেষ প্রতিবেদন: বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক গভীর সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাকে একসময় পরিবর্তনের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবে ভাবা হয়েছিল, সেই ড. ইউনূসের শাসনব্যবস্থাকে এখন ইতিহাসের জঘন্যতম ‘ফেরাউনি ফ্যাসিবাদের’ সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি এমন এক নজির স্থাপন করছেন, যেখানে ভিন্নমত মানেই রাষ্ট্রদ্রোহ এবং সত্য বলা মানেই অপরাধ। সমালোচকদের মতে, বাংলাদেশ আজ একটি বিশাল বন্দীশালায় পরিণত হয়েছে, যেখানে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বন্দী করা হয়েছে জাতির বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে। ১. নীরব দমনের ভয়ংকর রূপ বর্তমান শাসনের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এর ‘নীরব দমননীতি’। এটি কোনো ঘোষিত সামরিক শাসন নয়, কিন্তু এর কার্যপদ্ধতি সামরিক জান্তার চেয়েও ভয়াবহ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ড.

ইউনূসের প্রশাসন বন্দুক বা সেনাবাহিনীর চেয়ে ‘ভয়’ এবং ‘আইনি প্রতিশোধ’কে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ব্যবস্থায় প্রশ্ন তোলাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এমন এক ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ভিন্নমতের স্থান নেই। অভিযোগ রয়েছে, এই শাসনব্যবস্থা দেশকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে ন্যায়বিচারের চেয়ে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত আক্রোশই মুখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২. কারারুদ্ধ ‘জাতির বিবেক’ ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলেও, বর্তমান শাসনে এই স্তম্ভটিকেই সবার আগে ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষত, আনিস আলমগীরের মতো প্রথিতযশা সাংবাদিক, যিনি সারাজীবন ক্ষমতার চোখের দিকে তাকিয়ে সত্য বলেছেন, আজ তাঁকেও কারাগারে দিন কাটাতে হচ্ছে। একইভাবে প্রফেসর নাজমুল

আহসান কলিমউল্লাহ এবং আবু আলম শহীদ খানের মতো বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে, শাসকগোষ্ঠী সমালোচনার কোনো রাস্তাই খোলা রাখতে চায় না। বিশ্লেষকদের মতে, এঁদের অপরাধ কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয়; এঁদের একমাত্র অপরাধ হলো তাঁরা ফ্যাসিবাদের সামনে মাথা নত করেননি এবং সত্যের সঙ্গে আপস করেননি। এই বন্দিত্ব কেবল ব্যক্তিগত নিপীড়ন নয়, বরং এটি পুরো গণমাধ্যমকে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার কৌশল—‘চুপ থাকো, নতুবা পরিণতি ভোগ করো’। ৩. জবাবদিহিহীন একনায়কতন্ত্রের উত্থান ড. ইউনূসের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ে বরং ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ ও ‘ফেরাউনি মানসিকতা’র বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে জবাবদিহির ঊর্ধ্বে মনে করছেন এবং রাষ্ট্রকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির

মতো ব্যবহার করছেন। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যখনই কোনো শাসক জনগণকে তুচ্ছজ্ঞান করে নিজেকে সর্বেসর্বা ভাবতে শুরু করে, তখনই সেই রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশ সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত নৈতিকতারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে উঠছে, যেখানে সমাজ বিভক্ত এবং রাষ্ট্র ক্ষতবিক্ষত। ৪. মুক্তির দাবি ও ইতিহাসের হুঁশিয়ারি আজকের এই বন্দীশালা থেকে মুক্তির দাবি কেবল আটককৃত ব্যক্তিদের পরিবারের নয়, এটি এখন জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আনিস আলমগীর, প্রফেসর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, আবু আলম শহীদ খানসহ সকল বন্দী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের অবিলম্বে মুক্তি দাবি করা হচ্ছে। কারণ, গণমাধ্যম বন্দী থাকলে রাষ্ট্র কখনোই স্বাধীন বা মুক্ত হতে পারে না। ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো, কোনো স্বৈরাচারী শাসকই শেষ পর্যন্ত

টিকে থাকতে পারেনি। ফেরাউনি কায়দায় দমন-পীড়ন চালিয়ে সাময়িকভাবে কণ্ঠরোধ করা গেলেও, ইতিহাসের আদালতে এই ফ্যাসিবাদের বিচার অনিবার্য। আর সেই বিচারের দিন আজকের এই কারাবন্দী সত্যসন্ধানী মানুষগুলোর জবানবন্দীই হবে শাসকের পতনের সবচেয়ে বড় দলিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে, ড. ইউনূসের শাসনামলে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার চরম হুমকির মুখে। যদি এখনই এই দমননীতি বন্ধ না হয়, তবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র হিসেবে তার গণতান্ত্রিক ও মানবিক সত্তা চিরতরে হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ফসলহানির শঙ্কা ঢাকায় বৃষ্টির দেখা নেই, যেমন থাকতে পারে আজকের আবহাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা ট্রাম্পের, যা বলল ইরান ৪ বিভাগে বজ্রবৃষ্টির আভাস ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ালেন ট্রাম্প শীর্ষ সন্ত্রাসীরা ফের তৎপর বিমানবন্দরের রানওয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে অবহেলার প্রতিশোধ নিতে প্রেমিককে পুড়িয়ে মারল প্রেমিকা যুক্তরাজ্যের ‘ইয়াং লিডারস অ্যাওয়ার্ড’ পাচ্ছেন ৪ বাংলাদেশি বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত শিশু সাদমানকে, মরদেহ নিয়ে ফেরার ছবি ভাইরাল ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান ৫ বিভাগে শিলাবৃষ্টির আভাস সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ২৫ হাজার ৪০৮ জন অনুপস্থিত, বহিষ্কৃত ৬ লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর!