ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হয়ে যারা দেশকে জিম্মি করে রেখেছে – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

ক্ষমতার নেশায় বুঁদ হয়ে যারা দেশকে জিম্মি করে রেখেছে

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
জুলাই মাসের সেই রক্তাক্ত দিনগুলোর কথা মনে আছে? রাস্তায় রাস্তায় তরুণদের রক্ত, পুলিশ আর সাধারণ মানুষের লাশ, পুড়ছে গাড়ি, ভাঙচুর হচ্ছে সরকারি স্থাপনা। তখন বলা হয়েছিল এসব হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকারের জন্য, স্বৈরাচার উৎখাতের জন্য। কিন্তু আজ যখন দেখি পটুয়াখালীর একজন সাধারণ ব্যবসায়ীর দোকানে তালা ঝুলছে শুধুমাত্র এই কারণে যে তিনি চাঁদা দিতে রাজি হননি, তখন বুঝতে বাকি থাকে না আসলে কাদের স্বার্থে সেই দাঙ্গা বাঁধানো হয়েছিল। তৌহিদুল ইসলাম নামের একজন অসুস্থ মানুষ ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তার অপরাধ কী ছিল? তিনি বিএনপির কোনো নেতাকে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা দিতে পারেননি। আর এই না দেওয়ার শাস্তি হিসেবে তাকে আওয়ামী লীগের দোসর

বলে গালিগালাজ করা হয়েছে, তার দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটাই কি সেই নতুন বাংলাদেশ যার স্বপ্ন দেখিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছিল তরুণদের? শাহিন গাজী নামের যে বিএনপি নেতা এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন, তিনি নির্দ্বিধায় জানিয়ে দিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে যে তিনি একজন মানুষের দোকানে তালা দিয়েছেন। এই যে প্রকাশ্যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস, এটা কোথা থেকে আসে? এই সাহস আসে ক্ষমতার নেশা থেকে। যখন কেউ জানে যে তার পেছনে সামরিক বাহিনীর সমর্থন আছে, যখন কেউ জানে যে তার পেছনে একটা অবৈধ সরকার দাঁড়িয়ে আছে, তখনই সে এভাবে নিরীহ মানুষদের ওপর অত্যাচার করার সাহস পায়। মজার ব্যাপার হলো, চাঁদা চাওয়া হয়েছিল

তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের নামে। যিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে থাকেন বছরের পর বছর, যার বিরুদ্ধে দেশে নানা অভিযোগ আছে, তার জন্য সংবর্ধনার টাকা তুলতে গিয়ে একজন অসুস্থ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই টাকা দিতে না পারলে মানুষকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। ইউনুস আর তার তথাকথিত উপদেষ্টা পরিষদ যে দেশ চালাচ্ছে, সেই দেশে এখন আইন বলে কিছু নেই। পুলিশ অফিসার নিজেই স্বীকার করছেন যে অন্যায়ভাবে কারও দোকানে তালা দেওয়া আইনসম্মত নয়, অথচ সেই অন্যায় যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কারণ এই মুহূর্তে আইন আর শৃঙ্খলা রক্ষার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ক্ষমতায় থাকা যেকোনো মূল্যে। জুলাইয়ে যখন দেশজুড়ে হত্যাকাণ্ড চলছিল,

তখন বলা হয়েছিল এটা জনগণের আন্দোলন। কিন্তু কোন জনগণের আন্দোলনে বিদেশি রাষ্ট্রের টাকা লাগে? কোন জনগণের আন্দোলনে ইসলামি জঙ্গি সংগঠনের সহায়তা প্রয়োজন হয়? এখন পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে যে পুরো ব্যাপারটাই ছিল একটা সুপরিকল্পিত ক্যু। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় বসানো হয়েছে এমন একজনকে যিনি গরিব মানুষের কাছে চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে কোটিপতি হয়েছেন। এখন সেই সুদী মহাজন আর তার চাঁদাবাজ সহযোগীরা মিলে দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে। একদিকে বিএনপির নেতারা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে চাঁদা তুলছে, অন্যদিকে ইউনুসের সরকার দেশের সম্পদ বিদেশি প্রভুদের হাতে তুলে দিচ্ছে। সাধারণ মানুষ দুই দিকে থেকেই পিষ্ট হচ্ছে। যেসব তরুণ জুলাইয়ে রাস্তায় নেমেছিল, তারা কি এই দিন

দেখার জন্য নেমেছিল? তারা কি চেয়েছিল যে তাদের আত্মত্যাগকে কাজে লাগিয়ে এক দল চাঁদাবাজ দেশের মানুষের ঘাড়ে চেপে বসবে? তারা কি চেয়েছিল যে আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপির সন্ত্রাস শুরু হবে? পটুয়াখালীর সেই ব্যবসায়ী হয়তো একজন সাধারণ মানুষ। তার গল্প হয়তো জাতীয় পত্রিকায় খুব বেশি জায়গা পাবে না। কিন্তু তার অভিজ্ঞতা আসলে পুরো দেশের চিত্র তুলে ধরে। এই দেশের লাখো মানুষ এখন এরকম হয়রানির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যারা ক্ষমতায় আছে তারা দেশের সেবা করতে আসেনি, এসেছে নিজেদের পকেট ভরতে। আর সবচেয়ে লজ্জার বিষয় হলো, এই অবৈধ ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে সামরিক বাহিনী। যে বাহিনীর কাজ দেশকে রক্ষা করা, সেই বাহিনী দাঁড়িয়ে আছে

এক সুদখোর আর তার চাঁদাবাজ বন্ধুদের পক্ষে। ইতিহাস এই বিশ্বাসঘাতকতা মনে রাখবে। তৌহিদুল ইসলামের দোকানের তালা শুধু একটা তালা নয়। এটা প্রতীক, আমাদের গণতন্ত্রের তালাবন্ধ অবস্থার প্রতীক। এটা প্রতীক, আমাদের আইনের শাসনের মৃত্যুর প্রতীক। এটা প্রতীক, সেই নতুন বাংলাদেশের যেখানে মুখে গণতন্ত্রের কথা বলা হয় কিন্তু বাস্তবে চলে নগ্ন সন্ত্রাস।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ঝরল ৩২টি প্রাণ: পাহাড়ধস ও ভাঙা বেড়িবাঁধে বাঁশখালীর এক লাখ মানুষের নির্ঘুম রাত ভাষা শহিদদের স্মরণে নির্মিত শহিদ মিনারের চারপাশ ঘিরে শৌচাগার নির্মাণ ২৯৭ জনের প্রকল্পে কাজ করেন ৫০ জন, বাকিরা ভুয়া! সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক হরিলুট মব-মামলা-নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে চট্টগ্রামের পানিবন্দী মানুষের মাঝে ছাত্রলীগের খাবার বিতরণ দুর্নীতি ও ব্যর্থতায় জর্জরিত পাকিস্তানি সিটি প্রকল্পকে অনুসরণের পরিকল্পনা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানির স্বার্থ রক্ষায় ফিলিস্তিনপন্থি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কিংস-অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষের নিজেদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই গাইলেন ফিফার রেফারিং প্রধান ফ্রান্সের শৈল্পিকতা বনাম মরক্কোর দৃঢ়তা তীব্র জ্বালানি সংকটে আরও কয়েকশ কারখানা বন্ধের পথে ৭ বছর আগে কেনা জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা, তদন্তে সরকারি জমি দখলের প্রমাণ মেলেনি চাঁদার দাবিতে জমির মালিককে হত্যার হুমকি দিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করলেন জামায়াত নেতা ২১ মাস পর জামিন, জেলগেট থেকে আবার গ্রেপ্তার: বাবার জানাজায় যেতে দেওয়া হয়নি ছাত্রলীগ নেতা সজিবকে অর্থনীতিতে এশিয়ার ইমার্জিং টাইগার বাংলাদেশ এখন উগান্ডা-ঘানারও পেছনে, বৈদেশিক বিনিয়োগে চরম খরা অর্থনৈতিক বিপর্যয়: এনপিএল খাতে বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন, দ্বিতীয় বাংলাদেশ জুলাইযোদ্ধার নতুন আবেদনের ২০০টি ভুয়া, ৬০০টির তথ্য বিকৃতিসহ মিলেছে অনিয়ম-অসংগতি ‘ইসলামিক রিপাবলিক অভ জাপান আমাদের ওপর ১১১টি মিসাইল ছুড়েছে’, বললেন ট্রাম্প ১৫ রোগীকে হত্যার দায়ে জার্মান চিকিৎসকের যাবজ্জীবন, আরও হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে হামলা, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের ন্যাটো সম্মেলনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি কানাডা-ইউরোপের কুষ্টিয়ায় হাসপাতালের ওটি থেকে রোগীর এক পা গায়েব!