ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬

ইতিহাসের ধ্রুবতারা ও ১০ জানুয়ারির তাৎপর্য: ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এক ফিরে দেখা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ |
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হলেও স্বাধীনতার পূর্ণতা যেন বাকি ছিল। কারণ, যার ডাকে এই দেশের মানুষ অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল, সেই মহান নেতা তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি। বাঙালির বিজয়োল্লাসের মাঝেও ছিল এক গভীর শঙ্কা—আমাদের নেতা ফিরে আসবেন তো? সেই শঙ্কার অবসান ঘটেছিল ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। পূর্ণতা পায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা। আজ ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট যখন আমূল পরিবর্তিত, তখন ১০ জানুয়ারির এই দিনটিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে যে কোনো ব্যক্তি বা দল রাষ্ট্রের চেয়ে বড় নয়। কিন্তু একইসঙ্গে

ইতিহাস আমাদের এও মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির জন্মলগ্নের ইতিহাস ও তার মহানায়কদের অবদানকে দলীয়করণের ঊর্ধ্বে রেখে মূল্যায়ন করা উচিত। ১৯৭১ এবং বঙ্গবন্ধু: অবিচ্ছেদ্য সত্তা ১৯৪৭ পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭০-এর নির্বাচন—প্রতিটি ধাপে শেখ মুজিবুর রহমান ধাপে ধাপে বাঙালিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তার সেই বজ্রকঠিন ঘোষণা, "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম"—তা ছিল মূলত অলিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৯ মাস সেখানে তিনি মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন, তবুও আপস করেননি। তার এই

আপসহীন নেতৃত্বই তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ থেকে ‘জাতির পিতা’য় রূপান্তর করেছে। স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: স্বপ্ন ও বাস্তবতার সেতুবন্ধন লন্ডন ও দিল্লি হয়ে ১০ জানুয়ারি যখন তিনি ঢাকায় নামেন, তখন তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত ছিল জনসমুদ্র। সেইদিন তিনি বলেছিলেন, "আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।" তিনি স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন এক শোষণহীন, গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ার সেই সংগ্রাম ছিল আরেক মুক্তিযুদ্ধ। বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ইতিহাসের শিক্ষা আজকের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান নেই। বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে ইতিহাসকে দলীয়করণের যে প্রচেষ্টা ছিল, তা সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি করেছিল। এর ফলে, সরকার পতনের পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা বা তার নামফলক মুছে ফেলার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও আমরা

দেখেছি। এটি ছিল মূলত স্বৈরাচারী শাসনের প্রতি জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু আবেগের ধুলো থিতিয়ে গেলে আমাদের ইতিহাসের আয়নায় তাকাতে হবে। শেখ মুজিবুর রহমানকে কেবল একটি রাজনৈতিক দলের সম্পদ হিসেবে ভাবা ভুল ছিল, এবং তাকে সেই দলের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখাও ছিল ইতিহাসের প্রতি অবিচার। তিনি ছিলেন সমগ্র বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতীক। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি তাই কোনো দলের উৎসব নয়, বরং এটি বাঙালির জাতিরাষ্ট্র গঠনের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধুর প্রাসঙ্গিকতা আজকের তরুণ প্রজন্ম, যারা ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, তারা চায় বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ। মজার বিষয় হলো, ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুও ঠিক এই স্বপ্নগুলোই দেখেছিলেন। তার রাজনৈতিক জীবনের

মূল দর্শনই ছিল শোষিতের পক্ষে দাঁড়ানো। আজ যখন আমরা রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলছি, তখন ১৯০৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ভাষণটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তিনি বলেছিলেন, "আমার রাষ্ট্র হবে ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক।" বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে হয়তো সমাজতন্ত্রের সংজ্ঞা পাল্টেছে, কিন্তু গণতন্ত্র ও বৈষম্যহীনতার আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হবে, সরকার আসবে এবং যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অপরিবর্তিত থাকবে। সেই ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোনো আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের প্রয়োজন নেই; প্রয়োজন তার দেশপ্রেম, সাহসিকতা এবং শোষিতের পক্ষে দাঁড়ানোর আদর্শকে ধারণ করা। ১০ জানুয়ারি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিক—স্বাধীনতা অর্জন করা যেমন কঠিন, তা রক্ষা করা এবং

তাকে অর্থবহ করা আরও কঠিন। আজকের দিনে আমাদের প্রত্যাশা, ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ব, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে—যা ছিল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের এবং বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঁচানো গেল না হাম আক্রান্ত শিশু সাদমানকে, মরদেহ নিয়ে ফেরার ছবি ভাইরাল ইরানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পাকিস্তান ৫ বিভাগে শিলাবৃষ্টির আভাস সংসদের কেনাকাটায় ‘হরিলুট’ তদন্তে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত রাজনীতি’ লেখাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ ঝিনাইদহে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত জামিন পেলেন দেড় মাসের সন্তানসহ কারাগারে যাওয়া সেই যুব মহিলা লীগ নেত্রী সোনারগাঁয়ে ভুল প্রশ্নে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ২৫ হাজার ৪০৮ জন অনুপস্থিত, বহিষ্কৃত ৬ লক্ষ্য আন্দোলনে লাশ বৃদ্ধি স্নাইপারের গুলির জোগানদাতা বরখাস্ত কর্নেল হাসিনুর! যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি আসলে ‘বাণিজ্য অস্ত্র’, দেশকে পঙ্গু করার ষড়যন্ত্র: মাহবুব কামাল ‘নতুন বন্দোবস্তের’ ফল মিলতে শুরু করেছে, সরকার ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে: মোহাম্মদ আলী আরাফাত নৌবাহিনী প্রধান ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান: বেরিয়ে আসছে দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর তথ্য অপরাধ জগতে নতুন আতঙ্ক দেখতে সাধারণ কলম, আসলে ভয়ংকর পিস্তল! পাকিস্তান থেকে জঙ্গিদের হাতে আসছে নতুন অস্ত্র অন্তর্বর্তী সরকারের ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট নিয়ে আইপিইউর উদ্বেগ, সমর্থন জানাল আরআরএজিও ‘নোবেলের টাকা ও কর নিয়ে ইউনূস মারাত্মক অ্যালার্জি আছে’, দাবি সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যানের ১৮ মাস কারাবন্দী ডাবলু সরকার মায়ের মৃত্যুতেও প্যারোল মেলেনি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উন্মত্ত জনতাকে দিয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যার ‘গোপন ব্লু-প্রিন্ট’ ছিল ৫ আগস্ট: নর্থইস্ট নিউজ আওয়ামী লীগ নেতাদের সিম বন্ধ করে বিক্রির ‘বাণিজ্য’, ছাত্রলীগ নেতা জাকিরের চাঞ্চল্যকর দাবি