৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ‘গ্রিন সিগন্যাল’, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা: ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে জিয়াউর রহমান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ মার্চ, ২০২৬

৭ মার্চের ভাষণ স্বাধীনতার ‘গ্রিন সিগন্যাল’, বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা: ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধে জিয়াউর রহমান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ মার্চ, ২০২৬ |
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ মার্চ একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।বাংলাদেশ ভ্রমণ তবে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর এই ভাষণ ও এর তাৎপর্য নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করে একটি মহল। সে সময় আলোচনায় আনা হয় মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও পরবর্তী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর নামও। কিন্তু স্বাধীনতার পরপরই প্রকাশিত একটি লেখায় জিয়াউর রহমান স্পষ্টভাবে বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ৭ মার্চের ভাষণকে স্বাধীনতার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ বলে অভিহিত করেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলা-র বিশেষ সংখ্যায় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ শিরোনামের প্রবন্ধে তিনি এসব মন্তব্য করেন। ওই লেখায় জিয়াউর

রহমান লিখেছিলেন, “৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে এক গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম। কিন্তু তৃতীয় কোনো ব্যক্তিকে তা জানালাম না। বাঙালি ও পাকিস্তানি সৈনিকদের মাঝেও উত্তেজনা ক্রমেই চরমে উঠছিল।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তারপর এলো ১লা মার্চ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সারা দেশে শুরু হলো ব্যাপক অসহযোগ আন্দোলন। এর পরদিন দাঙ্গা হলো। বিহারীরা হামলা করেছিল এক শান্তিপূর্ণ মিছিলে, এর থেকেই ব্যাপক গোলযোগের সূচনা হলো।” মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহিংস কর্মকাণ্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রবন্ধে জিয়া লিখেছিলেন, তার ব্যাটালিয়নের এনসিওরা তাকে জানায় যে বিংশতিতম বালুচ

রেজিমেন্টের সৈন্যরা প্রতিদিন সন্ধ্যায় বেসামরিক পোশাক পরে ট্রাকে করে বের হয়ে বাঙালি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা চালাত এবং গভীর রাতে ফিরে আসত। তিনি লিখেছেন, পরে অনুসন্ধান করে জানা যায়, তারা নির্দিষ্ট কিছু বাঙালি পাড়ায় গিয়ে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালাত।রাজনৈতিক বিশ্লেষণ সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় প্রসঙ্গেও তিনি লেখেন। তার ভাষায়, “নির্বাচনের সময়টায় আমি ছিলাম ক্যান্টনমেন্টে। প্রথম থেকেই পাকিস্তানি অফিসাররা মনে করত, চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই হবে। কিন্তু নির্বাচনের দ্বিতীয় দিনেই তাদের মুখে আমি দেখলাম হতাশার সুস্পষ্ট ছাপ। ঢাকায় অবস্থানকারী পাকিস্তানি সিনিয়র অফিসারদের মুখে আতঙ্কের ছবি দেখলাম। তাদের এই আতঙ্কের কারণও আমার অজানা ছিল না। শিগগিরই জনগণ গণতন্ত্র ফিরে পাবে—এই আশায় আমরা বাঙালি অফিসাররা আনন্দে

উৎফুল্ল হয়ে উঠেছিলাম।” জিয়াউর রহমান ওই লেখায় আরও উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধুর ভাষণই তাকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্ফোরণোম্মুখ হয়ে উঠলে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি কর্মকর্তারাও তার আঁচ পেতে শুরু করেন এবং ভেতরে ভেতরে আলোচনা চলতে থাকে। এ প্রসঙ্গে তিনি আবারও উল্লেখ করেন, “৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা আমাদের কাছে গ্রিন সিগন্যাল বলে মনে হলো। আমরা আমাদের পরিকল্পনাকে চূড়ান্ত রূপ দিলাম।” জিয়াউর রহমান তার লেখার শুরুতেই পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর ভাষা প্রশ্নে বাঙালিদের মধ্যে জাতীয়তাবোধের উত্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি লিখেছিলেন, “পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই ঐতিহাসিক ঢাকা নগরীতে মি. জিন্নাহ যেদিন ঘোষণা

করলেন—উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা—আমার মতে সেদিনই বাঙালি হৃদয়ে অঙ্কুরিত হয়েছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদ।” পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় বাঙালি অফিসারদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, “আমাদের ওরা দাবিয়ে রাখত, অবহেলা করত, অসম্মান করত। বলত—‘আওয়ামী লীগের দালাল’। একাডেমির ক্লাসগুলোতেও বোঝানো হতো—আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু।” পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান-এর পক্ষে ২৭ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। তার এই ঘোষণায় তৎকালীন বাঙালি সেনাসদস্য ও মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে অনুপ্রেরণা জোগায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
শিশু থেকে শখের বাইক ট্র্যাক করুন স্বল্প খরচে খুনের মতো গুরুতর অপরাধ বেড়েছে নওগাঁয় চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মামলা শক্তিশালী হলে শিবির সন্ত্রাসের বীজ বপন করে: নাছির ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে: জামায়াত কাশি কমছে না? কারণ জেনে নিন হাম: জানতে হবে যে সব বিষয় লন্ডন উৎসবে রাফীর ‘প্রেশার কুকার’ বাংলাদেশকে হারিয়ে সিরিজ সমতায় ফিরল শ্রীলংকা এবার দুইটি কার্গো জাহাজ জব্দ করল ইরান হাম উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু এইচএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ এবার এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল আইনি মারপ্যাঁচে আসন হারাতে পারেন জামায়াত জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনয়ন পেলেন না সেই ফারজানা সিঁথি ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়নি: বাঘেই ৩৬ বছর আগে প্রতিবেশীকে পুড়িয়া হত্যা: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তি বাতিলে ইইউকে আহ্বান ৩ দেশের আরব আমিরাতের সঙ্গে মুদ্রা বিনিময়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত ট্রাম্পের ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময় বাড়াতে চান না প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প