‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা তারা সারাজীবন মনে রাখবে’—প্রতিদানের প্রশ্নে শেখ হাসিনার সেই দ্ব্যর্থহীন বার্তা কি বলেছিল? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১ ডিসেম্বর, ২০২৫

‘ভারতকে যা দিয়েছি, তা তারা সারাজীবন মনে রাখবে’—প্রতিদানের প্রশ্নে শেখ হাসিনার সেই দ্ব্যর্থহীন বার্তা কি বলেছিল?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ |
বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সমীকরণ এবং লেনদেনের প্রসঙ্গ উঠলেই বারবার সামনে আসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশেষ মন্তব্য। ভারতের জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা-র একটি প্রতিবেদনের জেরে সেই সময় তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, ভারতের কাছে বাংলাদেশের চাওয়ার কিছু নেই, বরং বাংলাদেশ ভারতকে যা দিয়েছে, তা দেশটির নিরাপত্তার ইতিহাসে এক মাইলফলক। ঘটনাটির সূত্রপাত হয়েছিল শেখ হাসিনার তৎকালীন একটি সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা-র একটি প্রতিবেদনের শিরোনামকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিক শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সাংবাদিক প্রশ্ন রেখেছিলেন: ‘‘ভারতীয় পত্রিকায় ছাপা হয়েছে যে, বাংলাদেশ এখন ভারতের কাছে প্রতিদান চায়। তা আসলে আপনি কি প্রতিদান চেয়েছেন? কোনো কিছু আশ্বাস পেয়েছেন কিনা? আনন্দবাজার পত্রিকার

শিরোনাম...’’ প্রশ্নে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের শিরোনামের প্রসঙ্গটি উঠে আসতেই শেখ হাসিনা এর কড়া জবাব দেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, কূটনৈতিক বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি ‘প্রতিদান’ প্রত্যাশা করেন না। সাংবাদিকের সেই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেছিলেন, ‘‘আমি কোনো প্রতিদান চাই না। প্রতিদানের কি আছে এখানে? আর কারো কাছে চাওয়ার অভ্যাস আমার একটু কম। দেয়ার অভ্যাস বেশি।’’ তাঁর এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং পারস্পরিক সহযোগিতা ও বাংলাদেশের উদারতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। শেখ হাসিনা তাঁর বক্তব্যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো বা ‘সেভেন সিস্টার্স’-এ শান্তি ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে

বাংলাদেশের অবদানের কথা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, একসময় ওই অঞ্চলে নিয়মিত বোমাবাজি ও গুলির লড়াই চলত, যা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমরা ভারতকে যা দিয়েছি, সেটা ভারত সারাজীবন মনে রাখবে। প্রতিদিনের বোমাবাজি, গুলি... আমরা কিন্তু তাদের শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা তাদের মনে রাখতে হবে।’’ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর (যেমন উলফা) বিরুদ্ধে যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল, তার ফলেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে শান্তি ফিরে আসে। ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বিভিন্ন সময়ে স্বীকার করেছেন যে, বাংলাদেশের এই সহযোগিতার ফলেই ভারত তার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে অনেকটা নিশ্চিন্ত

হতে পেরেছে এবং বিপুল সামরিক ব্যয় ও প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা-র সেই প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ খারিজ করে শেখ হাসিনা সেদিন চূড়ান্তভাবে বলেছিলেন, ‘‘কাজেই আমরা কোনো প্রতিদান চাই না।’’ তাঁর এই বক্তব্যটি কেবল একটি পত্রিকার জবাব ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার শক্ত অবস্থানের বহিঃপ্রকাশ—যেখানে বাংলাদেশ নিজেকে কেবল গ্রহীতা নয়, বরং বড় ‘নিরাপত্তা দাতা’ হিসেবেই উপস্থাপন করেছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মাঝে মাঝে এমনটা হতেই পারে— হারের পর মিরাজ হরমুজ প্রণালি খোলার ঘোষণায় কমল তেলের দাম হামের প্রকোপ কমাতে দেশব্যাপী সরকারের টিকাদানের পদক্ষেপ ১০ দিন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত থাকবে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের কাছে থাকা সব ইউরেনিয়াম পাবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের ‘জনপ্রিয়তায়’ আতিফ আসলামকেও ছাড়িয়ে যাওয়া কে এই তালহা আনজুম রাশেদ প্রধান লিমিট ক্রস করে বক্তব্য দিচ্ছে: রাশেদ খাঁন ‘শেখ হাসিনাকে ফেরতের বিষয়টি বিবেচনা করছে ভারত’ পঁচিশে সমুদ্রপথে ৯০০ রোহিঙ্গার প্রাণহানি প্রবাসীদের মাতাতে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রীতম-জেফার-পূজা-তমা 17 April: Mujibnagar Day — A Defining Moment in Bangladesh’s Liberation Struggle ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের এক স্মৃতি বিজড়িত দিন জাতীয় দলের অধিনায়কদের জন্য বিসিবির প্রিভিলেজ কার্ড আওয়ামী লীগ নেতাদের মুক্তিতে প্রথম আলোর জোরালো অবস্থান দিনে ৭-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং, শহরের চেয়ে গ্রামে সংকট তীব্রতর ১৭ এপ্রিল-বাংলাদেশের নূতন সূর্যোদয় বরিশাল নগরের প্রাণকেন্দ্রে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তাকে জুলাই-আগস্টে ঢাকায় হত্যাকাণ্ড বাড়ানোর নির্দেশ দেয় কে? জামায়াত জোট জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ; পিএস জনি আটক সশস্ত্র হামলায় ইউপিডিএফ নেতা ধর্মসিং চাকমা নিহত, ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ ২ বোন