ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারে বড় পতন
জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার
২০২৬-২৭ বাজেট: বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম
‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয়
বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
সংসদে ইসলামী ব্যাংক দখল সংক্রান্ত আলোচনায় মনক্ষুণ্ন ইআবা নেতা গাজী আতাউর
বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে
১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, মিলছে না আয়-ব্যয়ের খেরোখাতা
সরকারের নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বরং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি এবং খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে মে মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হার।
রোববার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে জাতীয় পর্যায়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।
এক মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে মে মাসে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
তথ্য বিশ্লেষণে
দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির হার। ওই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব এখন পুরো অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণসহ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় সব ধাপেই খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, জ্বালানি
ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব আগামী মাসগুলোতেও বাজারে অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) মনজুর হোসেন বলেন, মে মাসজুড়ে চাল, ভোজ্যতেল, ডাল, শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ের বাজারে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। আয় একই হারে না বাড়ায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ,
মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে চালের দামও কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। বিবিএসের হিসাবে, মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে ১ দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, শিল্পে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, মূল্যস্ফীতি যখন মজুরি বৃদ্ধিকে অতিক্রম করে, তখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পরিবারগুলো ব্যয় সংকোচনে
বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশই ব্যয়-প্রণোদিত বা ‘কস্ট-পুশ’ প্রকৃতির। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ায় না, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে। ভর্তুকির চাপ কমাতে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ ব্যয় বৃদ্ধি। জ্বালানি ও পরিবহন খরচের প্রভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়
ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের মূল্যস্ফীতি কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন; কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও প্রয়োজন। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশের চেয়ে বেশি। গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়েছে। অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, পরিবহন ব্যয় ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণ প্রভাব জুন ও জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
দেখা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারির পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির হার। ওই মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাব এখন পুরো অর্থনীতিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণসহ সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় সব ধাপেই খরচ বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ০৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট। একই সময়ে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, জ্বালানি
ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের প্রভাব আগামী মাসগুলোতেও বাজারে অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে এক অঙ্কের নিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সচিব) মনজুর হোসেন বলেন, মে মাসজুড়ে চাল, ভোজ্যতেল, ডাল, শাকসবজি, মাছ ও মাংসের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, যার প্রভাব পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ের বাজারে পড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো। আয় একই হারে না বাড়ায় তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার কারণে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বাজারে শাকসবজি, মাছ,
মাংসসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে চালের দামও কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। বিবিএসের হিসাবে, মে মাসে জাতীয় গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২১ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার এর চেয়ে ১ দশমিক ২১ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। কৃষি খাতে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ, শিল্পে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, মূল্যস্ফীতি যখন মজুরি বৃদ্ধিকে অতিক্রম করে, তখন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে যায়। ফলে পরিবারগুলো ব্যয় সংকোচনে
বাধ্য হয়, যা সামগ্রিক ভোগব্যয় ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির বড় অংশই ব্যয়-প্রণোদিত বা ‘কস্ট-পুশ’ প্রকৃতির। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি শুধু পরিবহন ব্যয়ই বাড়ায় না, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করে। ভর্তুকির চাপ কমাতে সরকার সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. এম এম আকাশ বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতির প্রধান কারণ ব্যয় বৃদ্ধি। জ্বালানি ও পরিবহন খরচের প্রভাব পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায়
ছড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের মূল্যস্ফীতি কেবল মুদ্রানীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন; কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোও প্রয়োজন। বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে গ্রামীণ এলাকায় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা শহরাঞ্চলের ৯ দশমিক ২৫ শতাংশের চেয়ে বেশি। গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ১০ শতাংশে পৌঁছে ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ হয়েছে। অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান বলেন, পরিবহন ব্যয় ও কৃষি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ তুলনামূলক বেশি অনুভূত হচ্ছে। সাম্প্রতিক নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোর পূর্ণ প্রভাব জুন ও জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্যে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।



