দিনে ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকছে ঢাকার শিশুরা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ মে, ২০২৬

আরও খবর

জুনে সারাদেশে ৩৩৩ নারী-কন্যাশিশু নির্যাতিত: শীর্ষে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-সংশ্লিষ্ট সহিংসতা

ভারতীয় পেঁয়াজের সাথে প্রতিযোগিতায় ন্যায্যমূল্য না পেয়ে দিশেহারা কৃষক, ক্ষোভে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন রাস্তায়-ডোবায়

দেশটা দিনে অচল থাকে, রাইতে হারিকেন: স্মরণকালের সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখল বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার নিজস্ব অর্থায়নের সিদ্ধান্ত: সংশয়ের পদ্মা সেতুতে চার বছরে আয় ৩৩৯২ কোটি টাকা

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলে অংশ নেয়ায় ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুব ঢ়াড়ী-কে পিটিয়ে হত্যা

‘মাজারবিদ্বেষীদের’ সঙ্গে নিয়ে শেষ দিনে ‘মাজারে ডিসিগিরি’ করে গেলেন সারওয়ার আলম

৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ—সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও আগামীর অঙ্গীকার

দিনে ৫ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকছে ঢাকার শিশুরা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ মে, ২০২৬ |
ঢাকার শিশুরা প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সময় ডিজিটাল স্ক্রিনে (মোবাইল, টিভি, ট্যাব বা কম্পিউটার) তাকিয়ে থাকে। অতিরিক্ত এই স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে শিশুদের পর্যাপ্ত ঘুম ব্যাহত হচ্ছে এবং তারা স্থূলতা ও বিভিন্ন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে। আইসিডিডিআর,বির নতুন এক গবেষণায় এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ জন শিশুর ওপর এই গবেষণা পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী স্কুলগুলোর মধ্যে তিনটি ছিল বাংলা মাধ্যম এবং তিনটি ইংরেজি মাধ্যম। গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি জার্নাল অফ মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ হিউম্যান ফ্যাক্টরস্-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, শারীরিক পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিভিন্ন মূল্যায়ন

পদ্ধতির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স (পিএসকিউআই), স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার (এসডিকিউ) এবং ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট (ডিএডব্লিউবিএ) ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে চারজন বা প্রায় ৮৩ শতাংশ শিশু প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহার করে। গড়ে প্রতিটি শিশু দিনে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে সময় কাটায়, যা শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমার তুলনায় অনেক বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, এক-তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে এবং প্রায় ৮০ শতাংশ শিশু ঘন ঘন মাথাব্যথার অভিযোগ করেছে। যারা দিনে দুই

ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করে, তাদের গড় ঘুমের সময় মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বয়সী শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রতিদিন অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। প্রায় ১৪ শতাংশ শিশু অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় আক্রান্ত এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারকারীদের মধ্যে এ প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। একই সঙ্গে প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতিচঞ্চলতা কিংবা আচরণগত সমস্যাসহ এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে শিশুদের ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হয়। দীর্ঘসময় বসে থাকার ফলে শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলা কমে গিয়ে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। পাশাপাশি চোখে চাপ, মাথাব্যথা, মনোযোগের ঘাটতি এবং

সামাজিক মেলামেশা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট ডা. শাহরিয়া হাফিজ কাকন বলেন, শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে অস্বস্তি, খিটখিটে আচরণ, বাইরের খেলাধুলায় অনীহা কিংবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত হতে পারে। আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও শিশুদের সুস্থ বিকাশের জন্য এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত রাখা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে দুই ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। তিনি আরও বলেন, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে

অভিভাবকদের উচিত তাদের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিভাইস-মুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি বিতর্ক, দলীয় পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে শিশুদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। গবেষকরা মনে করছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা সমাধান নয়; বরং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি। এজন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও কার্যকর নির্দেশিকা প্রণয়ন প্রয়োজন বলে তারা মত দিয়েছেন। শিশুদের চোখের সুরক্ষায় গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে

তাকিয়ে থাকতে হবে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য নিয়ে ফের বিতর্কে ফিফা চলতি বিশ্বকাপের নকআউটে ড্রিবলিংয়ে রোনালদোকে টপকালেন ভোজিনিয়া বিশ্বকাপে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল কেপ ভার্দের লড়াই হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৮৩৩ রাজধানীর চকবাজারে খাজা মার্কেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৬ ইউনিট খামেনির শেষ বিদায়ে যোগ দিলে সহায়তা বন্ধের হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের আঙুলের ছাপ চুরি করে সচল হাজারো সিম শহীদ খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা চলাকালে ট্রাম্পের কটাক্ষ কুমিল্লায় ফুটপাতে ঘুমন্ত নারীকে ধর্ষণ, ভিডিও ভাইরাল ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে ইমাম আটক অস্ত্রের মুখে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, নিয়ে গেছে মোবাইল-টাকা ইউটিউবে আসছে দৃষ্টিনন্দন ফিচার মেসিকে নিয়েই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা রাজধানীতে একদিনে গ্রেপ্তার ৪২৪ ভোটার হওয়ার সময় বাড়ল লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকায় ‘বিবেক কাজ করেনি’, এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে বিদ্যালয়ে মদ্যপান-মাতলামির পর প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য শেখ হাসিনা সরকারের স্থাপিত ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানায় প্রথম বছরেই মুনাফা ২৩৩ কোটি টাকা সরকারের দাবি ‘ছাড় দেওয়া হয়েছে’, কিন্তু বাজারে কমেনি নিত্যপণ্যের দাম: ওষ্ঠাগত সাধারণ মানুষের প্রাণ লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৭ বিলিয়ন ডলার পিছিয়ে শেষ হলো রপ্তানির বছর