সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত শ্রমরপ্তানি বাজার: দুই মাসে বিদেশগামী কর্মী কমেছে ৪২% – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

সিন্ডিকেটে বিপর্যস্ত শ্রমরপ্তানি বাজার: দুই মাসে বিদেশগামী কর্মী কমেছে ৪২%

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ |
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রভাব, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ অনিয়মের কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশে গেছেন ৮২ হাজার ৫৬১ জন কর্মী, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬০ হাজার ৭৯০ জন বা ৪২ দশমিক ৪০ শতাংশ কম। গত বছর এ সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন এক লাখ ৪৩ হাজার ৩৫১ জন। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের মার্চ-এপ্রিল সময়ে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অভিবাসন প্রবাহে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ধাক্কা লেগেছে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে। সৌদি আরব,

কাতার, কুয়েতের মতো প্রধান গন্তব্যগুলোতে কর্মী পাঠানো ব্যাপকভাবে কমেছে। গত বছরের একই সময়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এক লাখ দুই হাজার ১০৪ জন, চলতি বছরে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে ৪৪ হাজার ৮৭৬-এ, কমেছে ৫৬ শতাংশ। কাতারে কর্মসংস্থান কমেছে ৬৯ শতাংশ, আর কুয়েতে কমেছে ২৭ শতাংশ। তবে তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যায় হলেও জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মী যাওয়া কিছুটা বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে, যা সরাসরি শ্রমবাজারে প্রতিফলিত হয়েছে। সৌদি নির্ভরতা ও ঝুঁকি জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশগামী কর্মীদের ৬৬ শতাংশের বেশি গেছেন সৌদি আরবে। উপসাগরীয় দেশগুলো মিলিয়ে মোট

কর্মসংস্থানের প্রায় ৭৮ শতাংশই নির্ভর করছে এই অঞ্চলের ওপর। ফলে ওই অঞ্চলে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে পুরো অভিবাসন খাতেই বড় ধাক্কা লাগে। বিকল্প বাজারেও স্থবিরতা মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সম্ভাবনাময় শ্রমবাজারগুলোতেও তেমন অগ্রগতি নেই। মালয়েশিয়া, ওমান ও বাহরাইনের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানো কমেছে, আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উচ্চ আয়ের দেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগও কার্যকর হচ্ছে না। ইউরোপের রোমানিয়া, পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলোতে ভিসা জটিলতা ও কর্মীদের অনিয়মের কারণে বাজার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক কর্মী এসব দেশে গিয়ে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ায় নিয়োগকারীরা বাংলাদেশি শ্রমিক নিতে অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। ভিসা জটিলতা ও নতুন সংকট ইউরোপে কাজের জন্য ভারতের নয়াদিল্লিতে গিয়ে ভিসা নিতে

হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ভারতীয় ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে যাওয়ায় কর্মীরা সেখানে যেতে পারছেন না। ফলে ইউরোপমুখী অভিবাসন আরও সংকুচিত হয়েছে। একই সঙ্গে কিরগিজস্তান হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথও প্রায় বন্ধ। অন্যদিকে, রাশিয়ায় কাজের প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে সেই বাজারও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও সিন্ডিকেট মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পেছনে রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত খরচ আদায় এবং অনিয়ম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সরকার নির্ধারিত খরচের কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে হাজারো কর্মী সব প্রক্রিয়া শেষ করেও বিদেশ যেতে পারেননি। এছাড়া জাল সনদ, ভুয়া অভিজ্ঞতা এবং বিদেশে গিয়ে চাকরি না করে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে,

যার প্রভাব পড়ছে নতুন কর্মসংস্থানের ওপর। সরকারের উদ্যোগ ও আশাবাদ সরকার বলছে, বন্ধ শ্রমবাজারগুলো পুনরায় চালু করতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কর্মী নিয়োগ বাড়বে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। পাশাপাশি নতুন শ্রমবাজার খোঁজা, ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া ও অন্যান্য পুরোনো বাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক অগ্রগতির কথা জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ২৮৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৩ লাখ ৩ হাজার ৬৪২ জন। অর্থাৎ বৈদেশিক কর্মসংস্থানে সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। বিশ্লেষকদের

মতে, শুধু যুদ্ধ নয়—বাজার বৈচিত্র্যের অভাব, দক্ষতার ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনিয়ম—সব মিলিয়েই বাংলাদেশের অভিবাসন বড় পতনের মুখোমুখি

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
‎মারা গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা দিলু বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে টিটিপি-আইএসআইএস-কে’র গোপন নেটওয়ার্ক! পেশোয়ার থেকে সতর্কতা! বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না: রাষ্ট্রব্যবস্থার মুখে রামিসার বাবার সজোর চপেটাঘাত বিএনপি-জামায়াত সিন্ডিকেটে জিম্মি আদালতপাড়া: চট্টগ্রামের রাজপথে সাধারণ আইনজীবীরা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই ‘আওয়ামী লীগের ফেরা’ নিয়ে মাহফুজ-আসিফের ফেসবুক নাটক হামে শিশু মৃত্যুর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু ধর্ষণ: দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ শিশু ধর্ষণ ৪ মাসে বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে সংকট মোকাবেলায় বিপর্যস্ত সরকার: নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, অর্থনৈতিক চাপ ও বাস্তবতার টানাপোড়েনে প্রথম বাজেট শেখ হাসিনার জীবনের উপর কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, নিশ্চিত করলো দিল্লি’র গোয়েন্দা সংস্থা কালার রেভ্যুলেশনে ক্ষত-বিক্ষত বাংলাদেশ: থার্ড ন্যাশনালিজমের উত্থান কি অনিবার্য? মাহফুজ আলমের দ্বিচারিতা: গ্রহনযোগ্যতা ফিরে পাবার রিসেট বাটন ভদকা, বুলেট ট্রেন ও রান্না: যেভাবে গড়ে ওঠে শি-পুতিনের বন্ধুত্ব গ্যাং স্টারদের পাকিস্তান বধ খুমেক হাসপাতালে আগুন, আতঙ্কিত হয়ে লাফিয়ে আহত ২ নার্স চীন-রাশিয়া ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি রুখে দেবে: শি ডুয়েট ফাঁকা, ভিসির সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা, ভারতে বিজেপির আদলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি জ্বালানি থেকে এআই, ২০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন শি-পুতিন চীনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত বছর হামের টিকার সংকট ছিল, সরকারকে ১০ বার সতর্ক করা হয়: ইউনিসেফ