ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
চীন-রাশিয়া ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি রুখে দেবে: শি
তরুণদের তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা, ভারতে বিজেপির আদলে ‘ককরোচ জনতা পার্টি
জ্বালানি থেকে এআই, ২০ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেন শি-পুতিন
চীনের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে বড় ধরনের চাপে ফেলল মার্কিন সিনেট
ট্যুরিস্ট ভিসা ইস্যুতে বড় সিদ্ধান্ত নিল থাইল্যান্ড
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি দ্বীপে বিস্ফোরণ
ভদকা, বুলেট ট্রেন ও রান্না: যেভাবে গড়ে ওঠে শি-পুতিনের বন্ধুত্ব
বিশ্বনেতাদের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ উঠলে সামনে আসে শি জিনপিং ও ভ্লাদিমির পুতিনের কথা। তাদের মতো ব্যক্তিগত রসায়ন খুব কম নেতার মধ্যেই দেখা গেছে। শি তুলনামূলক গুরুগম্ভীর ব্যক্তিত্বের অধিকারী হলেও তিনি প্রায়ই রুশ প্রেসিডেন্টকে ‘সবচেয়ে ভালো ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দেন।
গত কয়েক বছরে দুই নেতার সম্পর্ক কেবল দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, শীর্ষ সম্মেলন কিংবা রাষ্ট্রীয় সফরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং তারা একসঙ্গে রান্না করেছেন, ভদকা পান করেছেন, ঘুরেছেন বুলেট ট্রেনে। উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জন্মদিনও উদযাপন করেছেন। লেকের ধারে বসে দুজনের চা পানের দৃশ্যটিও অনেকের মনে থাকার কথা। রাষ্ট্রীয় আচারের বাইরে গিয়ে দুজনের এসব সৌহার্দ্য বিনিময়ের আরেকটি উপলক্ষ্য সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার ভ্লাদিমির পুতিন বেইজিং সফর
শুরু করছেন। এর ঠিক আগ মুহূর্তেও তারা একে অপরের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও পুতিনকে বরণ করতে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অর্কেস্ট্রার সঙ্গে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর দুই নেতা অনানুষ্ঠানিক চা চক্রে অংশ নেবেন। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৪০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করেছেন। যা পশ্চিমা অন্য নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি। পুতিন তাঁর ৬১তম জন্মদিন উদযাপন করেন ২০১৩ সালে। তখন এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে শি জিনপিংও ইন্দোনেশিয়ার বালিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পুতিনকে জন্মদিনের কেক উপহার দেন। এরপর দুই নেতা মিলে ভদকা পান করে জন্মদিন
উদযাপন করেন। ২০১৮ সালে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০১৩ সালের মুহূর্তটি স্মরণ করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘শি জিনপিং সম্ভবত একমাত্র বিশ্বনেতা যার সঙ্গে আমি জন্মদিন উদযাপন করেছি। এর আগে কোনো বিদেশি সহকর্মীর সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করিনি।’ শি জিনপিংও পুতিনের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে উষ্ণ বাক্য ব্যবহার করেন। ২০১৯ সালে রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পুতিন আমার সবচেয়ে ভালো ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। এই বন্ধুত্বকে আমি মনেপ্রাণে লালন করি।’ রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া আক্রমণ করে (২০১৪) তখন পুতিনকে যে কয়জন বিশ্বনেতা সমর্থন দিয়েছিলেন তাদের একজন শি জিনপিং। মূলত ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটিই বর্তমানে ইউক্রেন সংকটের জন্ম দিয়েছে।
একই বছর সোচি শীতকালীন অলিম্পিকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাশিয়া সফর করেন শি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে পুতিনকে শি বলেছিলেন, ‘প্রতিবেশীর ঘরে যখন কোনো আনন্দের অনুষ্ঠান হয়, তখন সেখানে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। এটাই চীনা রীতি।’ ২০১৮ সালের জুনে পুতিনের চীন সফরের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ‘জিয়ান বিং গুওজি’ বানানো। এটি চীনের তিয়ানজিন এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও এক ধরনের প্যানকেক। পুতিন নিজে সেই প্যানকেক বানিয়ে শির পাতে তুলে দিয়েছিলেন। সঙ্গে বলেছিলেন, ‘মনে রাখবেন, এটি আমি বানিয়েছি।’ ওই সফরে দুই নেতা বেইজিং থেকে বুলেট ট্রেনে করে তিয়ানজিনে গিয়েছিলেন। সে সময় শি একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেন পুতিনকে। যেটিকে তখন
‘ফ্রেন্ডশিপ মেডেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পর, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দুই নেতা আবারো তাঁদের রান্নার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। রাশিয়ায় ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে তারা ঐতিহ্যবাহী রুশ প্যানকেক ‘ব্লিনি’ তৈরি করেন। এরপর ব্লিনির ওপর ক্যাভিয়ার (মাছের ডিমের তৈরি দামি খাবার) ছড়িয়ে দিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি ভদকা পান করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে শি জিনপিং এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলছেন। তিনি একদিকে বিশ্বমঞ্চে চীনকে শান্তিকামী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় পুতিন বেইজিংয়ের ঝংনানহাই উদ্যানের লেকের ধারে
বসে শির সঙ্গে চা পান করেছিলেন। একইসঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনাও করেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঝংনানহাই উদ্যান পরিদর্শন করেছেন। বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই উদ্যান ও প্রাসাদ পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে শি বলেন, এখানে বিদেশি নেতাকে অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনা খুবই বিরল। অল্প যে কয়জন নেতা এই উদ্যান পরিদর্শন করেছেন তাদের মধ্যে পুতিনও আছেন।
শুরু করছেন। এর ঠিক আগ মুহূর্তেও তারা একে অপরের ব্যক্তিগত বন্ধুত্বের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েছেন। বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও পুতিনকে বরণ করতে বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অর্কেস্ট্রার সঙ্গে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। এরপর দুই নেতা অনানুষ্ঠানিক চা চক্রে অংশ নেবেন। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে শি জিনপিং রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ৪০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করেছেন। যা পশ্চিমা অন্য নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি। পুতিন তাঁর ৬১তম জন্মদিন উদযাপন করেন ২০১৩ সালে। তখন এপেক সম্মেলনে যোগ দিতে শি জিনপিংও ইন্দোনেশিয়ার বালিতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি পুতিনকে জন্মদিনের কেক উপহার দেন। এরপর দুই নেতা মিলে ভদকা পান করে জন্মদিন
উদযাপন করেন। ২০১৮ সালে বেইজিং সফরে গিয়ে চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ২০১৩ সালের মুহূর্তটি স্মরণ করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘শি জিনপিং সম্ভবত একমাত্র বিশ্বনেতা যার সঙ্গে আমি জন্মদিন উদযাপন করেছি। এর আগে কোনো বিদেশি সহকর্মীর সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন করিনি।’ শি জিনপিংও পুতিনের বিষয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে উষ্ণ বাক্য ব্যবহার করেন। ২০১৯ সালে রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘পুতিন আমার সবচেয়ে ভালো ও অন্তরঙ্গ বন্ধু। এই বন্ধুত্বকে আমি মনেপ্রাণে লালন করি।’ রাশিয়া যখন ক্রিমিয়া আক্রমণ করে (২০১৪) তখন পুতিনকে যে কয়জন বিশ্বনেতা সমর্থন দিয়েছিলেন তাদের একজন শি জিনপিং। মূলত ক্রিমিয়া দখলের ঘটনাটিই বর্তমানে ইউক্রেন সংকটের জন্ম দিয়েছে।
একই বছর সোচি শীতকালীন অলিম্পিকের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাশিয়া সফর করেন শি। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সফরে পুতিনকে শি বলেছিলেন, ‘প্রতিবেশীর ঘরে যখন কোনো আনন্দের অনুষ্ঠান হয়, তখন সেখানে গিয়ে শুভেচ্ছা জানানো উচিত। এটাই চীনা রীতি।’ ২০১৮ সালের জুনে পুতিনের চীন সফরের অন্যতম আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল ‘জিয়ান বিং গুওজি’ বানানো। এটি চীনের তিয়ানজিন এলাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও এক ধরনের প্যানকেক। পুতিন নিজে সেই প্যানকেক বানিয়ে শির পাতে তুলে দিয়েছিলেন। সঙ্গে বলেছিলেন, ‘মনে রাখবেন, এটি আমি বানিয়েছি।’ ওই সফরে দুই নেতা বেইজিং থেকে বুলেট ট্রেনে করে তিয়ানজিনে গিয়েছিলেন। সে সময় শি একটি স্বর্ণের চেইন উপহার দেন পুতিনকে। যেটিকে তখন
‘ফ্রেন্ডশিপ মেডেল’ বলে উল্লেখ করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পর, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে দুই নেতা আবারো তাঁদের রান্নার দক্ষতা প্রদর্শন করেন। রাশিয়ায় ইস্টার্ন ইকোনমিক ফোরামের ফাঁকে তারা ঐতিহ্যবাহী রুশ প্যানকেক ‘ব্লিনি’ তৈরি করেন। এরপর ব্লিনির ওপর ক্যাভিয়ার (মাছের ডিমের তৈরি দামি খাবার) ছড়িয়ে দিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি ভদকা পান করেন। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে শি জিনপিং এক ধরনের কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে চলছেন। তিনি একদিকে বিশ্বমঞ্চে চীনকে শান্তিকামী দেশ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরো জোরদার করছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় পুতিন বেইজিংয়ের ঝংনানহাই উদ্যানের লেকের ধারে
বসে শির সঙ্গে চা পান করেছিলেন। একইসঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট কৌশলগত বিষয়গুলো নিয়ে গভীর আলোচনাও করেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পও ঝংনানহাই উদ্যান পরিদর্শন করেছেন। বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত এই উদ্যান ও প্রাসাদ পরিদর্শনের সময় ট্রাম্পকে শি বলেন, এখানে বিদেশি নেতাকে অভ্যর্থনা জানানোর ঘটনা খুবই বিরল। অল্প যে কয়জন নেতা এই উদ্যান পরিদর্শন করেছেন তাদের মধ্যে পুতিনও আছেন।



