ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দুই দফায় অস্বাভাবিক উল্লম্ফন, জেট ফুয়েলের দামে নতুন রেকর্ড
খেলাপি ঋণের পাহাড়ে দমবন্ধ ব্যাংকিং খাত, ২৩ ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ২.৮২ লাখ কোটি টাকা
ফের বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম
স্বর্ণের দাম আরও বাড়ল
জিডিপির প্রবৃদ্ধি ফের নিম্নমুখী
সুকৌশলে বোতলজাত সয়াবিন উধাও করা হচ্ছে
চার লাখ ৪৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার, সোয়া কোটি টাকা অর্থদণ্ড
শিল্পের ধাক্কায় কমল প্রবৃদ্ধি, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপি ৩.০৩ শতাংশে
দেশের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি আবারও শ্লথ হয়ে পড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ দশমিক ০৩ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ এই হিসাব ইঙ্গিত দিচ্ছে—অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতা এখন আর আড়াল করা যাচ্ছে না, বিশেষ করে শিল্প খাতের ধাক্কা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
এর আগে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক বেশি—৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ দশমিক ৯১ শতাংশ। অর্থাৎ বছর শুরুর ইতিবাচক গতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে এসে ধরে রাখা যায়নি। ফলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে
প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার কমলেও অর্থনীতির আকার অবশ্য বেড়েছে। চলতি মূল্যে দেশের জিডিপি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭৬ বিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ৯০১ বিলিয়ন টাকা। তবে এই বৃদ্ধি অনেকটাই মূল্যস্ফীতিনির্ভর—বাস্তব প্রবৃদ্ধির গতি যে কমছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও কৃষিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল, যেখানে আগের বছর এই খাত সংকোচনের মুখে পড়েছিল। খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির এই স্থিতিশীলতা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে আংশিকভাবে ধরে রেখেছে। সেবা খাতও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল
রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি প্রায় একই মাত্রায় ছিল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল থাকায় এই খাত এখনো প্রবৃদ্ধির একটি ভরসার জায়গা হিসেবে রয়েছে। তবে পুরো চিত্রকে নড়বড়ে করে দিয়েছে শিল্প খাত। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি তীব্রভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ—অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খাতটি কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা
শিল্পের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এখন কৃষি ও সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। শিল্প খাতকে বাদ দিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা নতুন করে সামনে চলে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পে গতি ফেরাতে শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানিমুখী খাতের জন্য বৈশ্বিক বাজারে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করা। অন্যথায় প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি আগামী প্রান্তিকগুলোতেও অব্যাহত থাকার ঝুঁকি থেকেই যাবে।
প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার কমলেও অর্থনীতির আকার অবশ্য বেড়েছে। চলতি মূল্যে দেশের জিডিপি দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ১৭৬ বিলিয়ন টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ৯০১ বিলিয়ন টাকা। তবে এই বৃদ্ধি অনেকটাই মূল্যস্ফীতিনির্ভর—বাস্তব প্রবৃদ্ধির গতি যে কমছে, তা পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাত প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৯০ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও কৃষিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল, যেখানে আগের বছর এই খাত সংকোচনের মুখে পড়েছিল। খাদ্য উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতির এই স্থিতিশীলতা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে আংশিকভাবে ধরে রেখেছে। সেবা খাতও তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল
রয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৪৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকেও প্রবৃদ্ধি প্রায় একই মাত্রায় ছিল। অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল থাকায় এই খাত এখনো প্রবৃদ্ধির একটি ভরসার জায়গা হিসেবে রয়েছে। তবে পুরো চিত্রকে নড়বড়ে করে দিয়েছে শিল্প খাত। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি তীব্রভাবে কমে দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৭ শতাংশে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে শিল্পে প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮২ শতাংশ—অর্থাৎ মাত্র এক প্রান্তিকের ব্যবধানে খাতটি কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বিনিয়োগে স্থবিরতা, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক চাহিদার দুর্বলতা
শিল্পের এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি এখন কৃষি ও সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। শিল্প খাতকে বাদ দিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব নয়—এ বাস্তবতা নতুন করে সামনে চলে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিল্পে গতি ফেরাতে শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তবায়নযোগ্য বিনিয়োগ পরিবেশ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং রপ্তানিমুখী খাতের জন্য বৈশ্বিক বাজারে কার্যকর অবস্থান নিশ্চিত করা। অন্যথায় প্রবৃদ্ধির এই নিম্নগতি আগামী প্রান্তিকগুলোতেও অব্যাহত থাকার ঝুঁকি থেকেই যাবে।



