ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের ‘মহিমান্বিত’ করে শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সংসদ: ছাত্র ইউনিয়ন-ফ্রন্টের প্রতিবাদ
সংসদে রাজাকারদের জন্য শোক প্রস্তাব: ৪১ বিশিষ্ট নাগরিকের প্রতিবাদ
ইউনূসের পদাঙ্ক অনুসরণে তারেক: দিবসের তালিকায় ফেরেনি ৭ই মার্চ, ১৫ই আগস্ট ও সংবিধান দিবস
দেশের জন্য রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয় নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতির ওপর: রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী
৭৪ কারাগারে ২৩ অ্যাম্বুলেন্স: সংকটের অজুহাতে পথেই রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যু
আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে পুলিশ হত্যার আসামি করার আবেদন আদালতে নাকচ
গুরুতর অসুস্থ মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরের মুক্তির জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বৈশ্বিক নাগরিক সমাজের জরুরি আহ্বান
উপদেষ্টার শিশুকন্যার ‘ছাগল চোর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী’ বনাম মির্জা আব্বাস: রাজনীতির বাকবাঁদল
মন্ত্রিপাড়া সাধারণত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুদায়িত্বপূর্ণ মানুষের ক্ষেত্র। সেখানে উপদেষ্টা, আমলা, প্রোটোকল, ফাইল, স্যুট-টাই এবং দীর্ঘ বৈঠকই মূল বিষয়। কিন্তু গত বছরের ডিসেম্বরের এক রাতের ঘটনা প্রমাণ করে, এই গুরুদায়িত্বপূর্ণ পরিবেশও কখনো তুচ্ছ ব্যঙ্গাত্মক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।Politics
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল–এর বাংলোয় থাকা দুটি ছাগল এক রাতে উধাও হয়ে যায়। ঘটনা তদন্তে উঠে আসে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী এবং তার সহযোগী রিফাত রশিদ–এর নাম।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, রাতের বৈঠকের শেষে হঠাৎ ‘দুষ্টুমি’ করার পরিকল্পনা হয়। দেয়াল টপকে তারা বাংলোয় ঢুকে ছাগল দুটি বের করেন। বাইরে ছিল ‘রিসিভিং টিম’। পুরো দৃশ্যটি যেন কোনো
সিনেমার দৃশ্য, কেবল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়া। ঘটনার পরপরই এক ছাগলকে রাতের মধ্যেই জবাই করা হয়। ধারালো অস্ত্রের অভাবের কারণে বটির মাধ্যমে চালু হয় এক ‘ইনোভেশন’। পরে কাওরান বাজার থেকে কসাই এনে আয়োজন সম্পূর্ণ হয়—মাংসের দাওয়াত, রাতভর পার্টি ও খাওয়া-দাওয়া। দ্বিতীয় ছাগলটি বেঁচে থাকলেও তাকে প্রতিবাদী অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “চপ্পুর পদত্যাগ চাই।” সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নাসীর এবং রিফাত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘ভেংচি’ কাটছেন। আইন উপদেষ্টা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে অভিযোগ হিসেবে উত্থাপন করেন। তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বিব্রত হয়ে ছাগল কিনে দেন, যদিও আসিফ নজরুল তা ফেরত দেন। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা
হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক জানান, তার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো ছাগল কেস তিনি পাননি। এই ব্যঙ্গাত্মক ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, মন্ত্রিপাড়া থেকে শুরু হয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কখনো কখনো তুচ্ছ ঘটনা থেকেও বিস্তৃত বিতর্কে রূপ নিতে পারে। ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে মির্জা আব্বাস–এর অসুস্থতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন
পাটোয়ারী সামাজিক মাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করেন। তবে অতীতে পাটোয়ারী মির্জা আব্বাসকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে সমালোচনা করে আসছেন। ফেসবুক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সূত্রে জানা যায়, মির্জা আব্বাস একজন মুক্তিযোদ্ধা, কমিশনার, কয়েকবারের এমপি, মেয়র ও মন্ত্রী। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন উচ্চবংশীয় পরিবারের সন্তান ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ সাবের হোসেন চৌধুরী। কিন্তু জুলাই মাসে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নেতৃত্বাধীন ‘ছাগল চুরি’ ঘটনা–এর মাধ্যমে আসিফ নজরুলের পরিবারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়। এই ঘটনায় প্রকাশ পায় যে, ব্যক্তিগত ব্যঙ্গ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শন কখনো কখনো গুরুতর নেতাদের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ছোটখাটো তুচ্ছ ঘটনা—যেমন ছাগল চুরি—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তি প্রদর্শন, ব্যঙ্গাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার
সঙ্গে মিলিত হয়ে বড় বিতর্কে রূপ নিতে পারে। একদিকে রয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ, অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ নেতার প্রতি মানবিক সহানুভূতি। মন্ত্রিপাড়া থেকে শুরু হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ‘ছাগল কাণ্ড’ রাজনীতির বাকবাঁদল ও ক্ষমতার ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।
সিনেমার দৃশ্য, কেবল ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক ছাড়া। ঘটনার পরপরই এক ছাগলকে রাতের মধ্যেই জবাই করা হয়। ধারালো অস্ত্রের অভাবের কারণে বটির মাধ্যমে চালু হয় এক ‘ইনোভেশন’। পরে কাওরান বাজার থেকে কসাই এনে আয়োজন সম্পূর্ণ হয়—মাংসের দাওয়াত, রাতভর পার্টি ও খাওয়া-দাওয়া। দ্বিতীয় ছাগলটি বেঁচে থাকলেও তাকে প্রতিবাদী অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়। গলায় ঝোলানো প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “চপ্পুর পদত্যাগ চাই।” সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, নাসীর এবং রিফাত ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘ভেংচি’ কাটছেন। আইন উপদেষ্টা রীতিমতো ক্ষুব্ধ হন এবং বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদে অভিযোগ হিসেবে উত্থাপন করেন। তরুণ উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বিব্রত হয়ে ছাগল কিনে দেন, যদিও আসিফ নজরুল তা ফেরত দেন। নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা
হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। রমনা থানার ওসি গোলাম ফারুক জানান, তার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন কোনো ছাগল কেস তিনি পাননি। এই ব্যঙ্গাত্মক ঘটনা রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ। এটি প্রমাণ করে যে, মন্ত্রিপাড়া থেকে শুরু হয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব কখনো কখনো তুচ্ছ ঘটনা থেকেও বিস্তৃত বিতর্কে রূপ নিতে পারে। ঘটনাটিকে আরও জটিল করেছে মির্জা আব্বাস–এর অসুস্থতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি-এর স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছেন। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মির্জা আব্বাস ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন
পাটোয়ারী সামাজিক মাধ্যমে তার সুস্থতা কামনা করেন। তবে অতীতে পাটোয়ারী মির্জা আব্বাসকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে সমালোচনা করে আসছেন। ফেসবুক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সূত্রে জানা যায়, মির্জা আব্বাস একজন মুক্তিযোদ্ধা, কমিশনার, কয়েকবারের এমপি, মেয়র ও মন্ত্রী। তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ছিলেন উচ্চবংশীয় পরিবারের সন্তান ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ সাবের হোসেন চৌধুরী। কিন্তু জুলাই মাসে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর নেতৃত্বাধীন ‘ছাগল চুরি’ ঘটনা–এর মাধ্যমে আসিফ নজরুলের পরিবারের সঙ্গে সংঘাত তৈরি হয়। এই ঘটনায় প্রকাশ পায় যে, ব্যক্তিগত ব্যঙ্গ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রদর্শন কখনো কখনো গুরুতর নেতাদের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। এই প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, ছোটখাটো তুচ্ছ ঘটনা—যেমন ছাগল চুরি—রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে শক্তি প্রদর্শন, ব্যঙ্গাত্মক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার
সঙ্গে মিলিত হয়ে বড় বিতর্কে রূপ নিতে পারে। একদিকে রয়েছে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ব্যক্তিগত আক্রমণ, অন্যদিকে গুরুতর অসুস্থ নেতার প্রতি মানবিক সহানুভূতি। মন্ত্রিপাড়া থেকে শুরু হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ‘ছাগল কাণ্ড’ রাজনীতির বাকবাঁদল ও ক্ষমতার ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেবে।



