ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক মারা গেছেন
নতুন জটিলতায় পে স্কেল, গেজেট কবে?
ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ভাঙচুর ও নাশকতার দায় স্বীকার ছাত্রদলের
সারাদেশে আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম, ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের স্বীকারোক্তি
জুলাই সিডিআই বলায় শাওনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ, নাম আছে মাহিরও
তারেক রহমান: বিচারের নামে কারো প্রতি যেন ‘অবিচার’ করা না হয়
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাবা-মায়ের ঝগড়ার ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৩১০ জনের নামে জুলাইযোদ্ধা পুত্রের ‘জুলাই মামলা’
বাবা-মায়ের ঝগড়া এবং দেনা-পাওনার বিরোধ গড়িয়েছে জুলাই আন্দোলনের মামলায়। এস এম ইফতেখার উদ্দিন নাদিম নামের ১৬ বছরের এক কিশোর- যে নিজেকে জুলাইযোদ্ধা পরিচয় দেয়, বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করে। যাতে আসামি করা হয় শেখ হাসিনাসহ ৩১০ জনকে।
তবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন চিত্র।
জানা গেছে, বাবার পাওনাদার এবং মায়ের আত্মীয়দের ফাঁসাতেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনে আহতের নাটক সাজিয়ে এই মামলা করা হয়েছিল। গত বছরের ৬ই আগস্ট নাদিম আদালতে মামলাটি দায়ের করে। নিজেকে জুলাইযোদ্ধা ও আহত হিসেবে দাবি করে। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়।
নাদিম তার এজাহারে দাবি করে, ২০২৪ সালের ১৯শে জুলাই কদমতলী এলাকায় বৈছা
আন্দোলনের মিছিলে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ছোড়া গুলি তার মাথায় লাগে। পরে তাকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় কদমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর সে মুক্তি পায়। পরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আর তাতেই উঠে আসে বাস্তবতা। পিবিআই জানায়, নাদিমের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে পিবিআই জানায়, বাদীর আর্জিতে বর্ণিত অপরাধের সঙ্গে বিবাদীদের জড়িত থাকার পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাদী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে আহত হয়েছে, এমন কোনো দালিলিক নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এবং যাত্রাবাড়ী-কদমতলী এলাকার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও সেখানে নাদিমের উপস্থিতি খুঁজে পাননি। এমনকি তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র, প্রেসক্রিপশনও পাওয়া যায়নি। উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে উঠে এলো নেপথ্য কারণ। বাদীর বাবা এস এম ইকরাম উদ্দিন শিহাবের ব্যক্তিগত বিরোধের তথ্য মিলেছে। ইকরাম বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করতেন। মামলার ৩৩ ও ৫৩ নম্বর আসামি মো. তারিক মামুনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। তারিককে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এবং পরে তার পরিবারকে গ্রিন কার্ড পাইয়ের দেওয়ার নাম করে ইকরাম তাদের কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পেরে এবং টাকা ফেরত না দিতে ইকরাম এলাকা ছেড়ে
পালিয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হয়। একপর্যায়ে চাপে পড়ে ইকরামের পরিবার তাদের জমির দলিল তারিকের কাছে জিম্মা রাখতে বাধ্য হয়। পরে ২০১৯ সালে ইকরাম কিস্তিতে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও তা পূরণ করেননি। বরং উল্টো সালিসকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এবং সেই মামলাও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসব ক্ষোভ থেকেই পাওনাদারদের এই নতুন মামলায় আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় আছেন আত্মীয়-স্বজনরাও টাকা-পয়সা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সেই প্রতিহিংসা যে কতদূর যেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত এই মামলা। পিবিআই-এর তদন্তে দেখা গেছে, বাদীর বাবার সঙ্গে তার মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর পারিবারিক কলহ আরও বৃদ্ধি পায়। এর জেরে নাদিমের নানা, মামা, খালা ও খালুসহ আত্মীয়দের আসামি করা
হয়। অথচ এই আত্মীয়দের অনেকের সন্তানও কথিত জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। জমিজমার বিরোধের কারণে ১৫২ নম্বর বিবাদী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও তার ছেলেকেও আসামি করা হয়। পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা সনদ না থাকা এবং নিজের মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের অভিযুক্ত করার বিষয়গুলো বিবেচনায় অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের প্রতিশোধ নিতে এই মামলা সাজানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সবাইর খালাস চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনের মিছিলে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ছোড়া গুলি তার মাথায় লাগে। পরে তাকে মারধর করে অচেতন অবস্থায় কদমতলী থানায় সোপর্দ করা হয়। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর সে মুক্তি পায়। পরে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। দীর্ঘ তদন্তের পর আদালতে এই মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পিবিআই। আর তাতেই উঠে আসে বাস্তবতা। পিবিআই জানায়, নাদিমের অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে পিবিআই জানায়, বাদীর আর্জিতে বর্ণিত অপরাধের সঙ্গে বিবাদীদের জড়িত থাকার পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বাদী ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে আহত হয়েছে, এমন কোনো দালিলিক নথিপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি। এদিকে, তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল
এবং যাত্রাবাড়ী-কদমতলী এলাকার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করেও সেখানে নাদিমের উপস্থিতি খুঁজে পাননি। এমনকি তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো নথিপত্র, প্রেসক্রিপশনও পাওয়া যায়নি। উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের তদন্তে উঠে এলো নেপথ্য কারণ। বাদীর বাবা এস এম ইকরাম উদ্দিন শিহাবের ব্যক্তিগত বিরোধের তথ্য মিলেছে। ইকরাম বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করতেন। মামলার ৩৩ ও ৫৩ নম্বর আসামি মো. তারিক মামুনের সঙ্গে তার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। তারিককে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো এবং পরে তার পরিবারকে গ্রিন কার্ড পাইয়ের দেওয়ার নাম করে ইকরাম তাদের কাছ থেকে ৫৫ লাখ টাকা নেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে না পেরে এবং টাকা ফেরত না দিতে ইকরাম এলাকা ছেড়ে
পালিয়ে যান। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিস-বৈঠক হয়। একপর্যায়ে চাপে পড়ে ইকরামের পরিবার তাদের জমির দলিল তারিকের কাছে জিম্মা রাখতে বাধ্য হয়। পরে ২০১৯ সালে ইকরাম কিস্তিতে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করলেও তা পূরণ করেননি। বরং উল্টো সালিসকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এবং সেই মামলাও তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এসব ক্ষোভ থেকেই পাওনাদারদের এই নতুন মামলায় আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় আছেন আত্মীয়-স্বজনরাও টাকা-পয়সা নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং সেই প্রতিহিংসা যে কতদূর যেতে পারে, তার দৃষ্টান্ত এই মামলা। পিবিআই-এর তদন্তে দেখা গেছে, বাদীর বাবার সঙ্গে তার মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর পারিবারিক কলহ আরও বৃদ্ধি পায়। এর জেরে নাদিমের নানা, মামা, খালা ও খালুসহ আত্মীয়দের আসামি করা
হয়। অথচ এই আত্মীয়দের অনেকের সন্তানও কথিত জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। জমিজমার বিরোধের কারণে ১৫২ নম্বর বিবাদী মোহাম্মদ ফজলুল হক ও তার ছেলেকেও আসামি করা হয়। পিবিআই তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আহত হওয়ার বিষয়ে কোনো চিকিৎসা সনদ না থাকা এবং নিজের মাসহ আত্মীয়-স্বজনদের অভিযুক্ত করার বিষয়গুলো বিবেচনায় অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিরোধের প্রতিশোধ নিতে এই মামলা সাজানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় সবাইর খালাস চেয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।



