উনিশ মিনিটে একটি দেশ : লাখো কণ্ঠের একটি নাম, একটি বিকেল – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬
     ৪:৪৯ পূর্বাহ্ণ

উনিশ মিনিটে একটি দেশ : লাখো কণ্ঠের একটি নাম, একটি বিকেল

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১১ মার্চ, ২০২৬ | ৪:৪৯ 9 ভিউ
৫৫ বছর পেরিয়ে গেছে। তবু ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের সেই বিকেলটা যেন কোথাও থেমে আছে। রেসকোর্স ময়দানের সেই মাটি, সেই জনসমুদ্র, সেই একটি মানুষের গলার আওয়াজ। ঢাকার রাজপথ তখন ফুটন্ত কড়াইয়ের মতো টগবগ করছে। সারা বাংলায় দাউ দাউ করে জ্বলছে অসহযোগের আগুন। আর ঠিক সেই মুহূর্তে মঞ্চে উঠলেন তিনি। লাখো মানুষ তাকিয়ে আছে। একটাই প্রশ্ন সবার চোখে, একটাই অপেক্ষা, একটাই ভরসা। শেখ মুজিবুর রহমানকে সেদিনের সংবাদপত্রগুলো লিখেছিল "শেখ সাহেব" বলে। শুধু ইত্তেফাক নয়, আজাদ, পাকিস্তান, সংবাদ, পিপল, অবজারভার, সব জায়গায় একই সম্বোধন। "শেখ সাহেব।" নামটায় একটা আলাদা উষ্ণতা আছে। বঙ্গবন্ধু উপাধি তখনও সেভাবে কাগজে জায়গা করেনি, কিন্তু মানুষের বুকে তিনি তখন

বাংলার সাড়ে সাত কোটি স্বপ্নের জীবন্ত প্রতীক। ৭ই মার্চের ঠিক আগের দিনগুলোর কথা একটু ভাবা দরকার। ১লা মার্চ ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করলেন। পুরো বাংলাদেশ যেন একটা বিস্ফোরণের মুখে দাঁড়িয়ে পড়ল। শেখ মুজিব তখন কার্যত এই ভূখণ্ডের প্রধান মানুষ, যার একটা কথায় দোকান বন্ধ হয়, ব্যাংক বন্ধ হয়, সচিবালয় বন্ধ হয়। গোটা পাকিস্তান সরকারের কলকব্জা বাংলায় এসে থেমে যাচ্ছিল তার ইশারায়। এই অবস্থায় ৭ই মার্চের সভা ছিল এক ঐতিহাসিক ক্ষণ। মানুষ জানতে চাইছিল, পরের পদক্ষেপ কী। পরদিন, ৮ই মার্চ ইত্তেফাক শিরোনাম করল, "পরিষদে যাওয়ার প্রশ্ন বিবেচনা করিতে পারি, যদি।" যদি, মানে শর্ত আছে। সামরিক শাসন তুলতে হবে, সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে

ফেরাতে হবে, গণহত্যার তদন্ত করতে হবে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা দিতে হবে। কাগজে এই চারটি শর্ত পড়লে মনে হয় যেন একটা আইনি দলিলের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু সেদিন রেসকোর্সে যারা ছিলেন, তারা জানতেন এগুলো শুধু শর্ত নয়, এগুলো একটা জাতির দাবি। ভাষণে শেখ মুজিব বললেন, "আপনি ২৫শে মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকিয়াছেন। আগে আমার এই সব দাবী মানিতে হইবে, তারপর বিবেচনা করিব, অধিবেশনে যোগ দিব কিনা।" প্রেসিডেন্টকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ। সেটাই স্বাভাবিক ছিল তখনকার পরিস্থিতিতে, কিন্তু যেভাবে বললেন সেটা ছিল অন্যরকম। ক্ষমতার দম্ভ নেই, হুমকির সুর নেই, কিন্তু একটা পাথরকঠিন দৃঢ়তা। ২৩ বছরের ইতিহাস বলতে গিয়ে সেদিন কান্নার মতো একটা আবেগ ছিল তার

গলায়। ১৯৪৮ থেকে ১৯৭১, এই দীর্ঘ পথে বাংলার মানুষ কতবার ভোট দিয়েছে, কতবার প্রতারিত হয়েছে, কতবার গুলি খেয়েছে। ভুট্টো যখন ঢাকায় আসা বন্ধ করে দিলেন, তখন গুলি চলল ঢাকার রাস্তায়। শেখ মুজিব বললেন, "গোলমাল করিলেন ভুট্টো, আর গুলী চলিল বাংলার নিরীহ জনতার উপর।" এই সহজ কথাটায় একটা যন্ত্রণা লুকিয়ে আছে। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন লেখা হয়েছিল তাৎপর্যপূর্ণ সতর্কতার সাথে। পত্রিকার বার্তাকক্ষ প্রধান সিরাজুদ্দীন হোসেন নিজে এই কাজ তদারক করেছিলেন। তিনি শেখ মুজিবের কলকাতার ইসলামিয়া কলেজের সহপাঠী। এই সম্পর্ক কাজে লাগেনি কখনো সুবিধা নিতে, বরং কাজ করেছিল একটা গভীর বিশ্বাস হিসেবে যে কলম দিয়েই মুক্তির পথ তৈরি হয়। সেই বিশ্বাস থেকেই হয়তো শিরোনামগুলো এতটা

সাহসী হয়েছিল। সামরিক শাসনের ছায়া তখনও বাতাসে, অথচ কাগজ বলছে "স্বাধিকার আন্দোলনের মহানায়ক।" ভাষণের শেষ দিকে তিনি বললেন, যদি আঘাত আসে, যদি তিনি নির্দেশ দিতে না পারেন, তাহলে বাংলার মানুষকে নিজেরাই পথ বেছে নিতে হবে। ঘরে ঘরে দুর্গ গড়তে হবে। হাতের কাছে যা পাওয়া যায় তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। এই কথাগুলো পড়লে আজ ২০২৬ সালেও গা ছমছম করে। কারণ তিনি জানতেন, আঘাত আসবেই। ২৫শে মার্চের ভয়াল রাতটা তখনও আসেনি, কিন্তু বাতাসে তার গন্ধ ছিল। সভার শুরুতে নূরে আলম সিদ্দিকী, আ স ম আবদুর রব, শহীদুল ইসলাম, আবদুল কুদ্দুস মাখন মঞ্চ থেকে স্লোগান দিয়েছিলেন। তোফায়েল আহমেদ শেখ সাহেবকে মঞ্চে স্বাগত জানিয়ে

স্লোগান ধরেছিলেন। আবদুর রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবকদের সামলেছিলেন। এই ছবিটা একটু মনে রাখা দরকার। একটা বিশাল সমাবেশ, কিন্তু কোনো অরাজকতা নেই, কারণ মানুষগুলো একটা নেতার উপর ভরসা করে এসেছে। আজ এত বছর পরে এসে কেউ বলতে পারেন, এই ভাষণকে নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। হ্যাঁ, হয়েছে। শেখ হাসিনার ১৬ বছরে এই ভাষণ বাজতে বাজতে মানুষের কানে বিরক্তি এসে গেছে। সেই সমালোচনাও ন্যায্য। কিন্তু ভাষণটাকে তার নিজের জায়গায় রেখে দেখলে সত্যটা স্পষ্ট। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে একটি মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন এক অসম্ভব চাপের মুখে, আর মাত্র উনিশ মিনিটে বলে দিয়েছিলেন যা বলার ছিল। কোনো কাগজ ছাড়া, কোনো লেখা ভাষণ ছাড়া। ইত্তেফাকের পুরনো পাতায় সেই সংবাদ আজও আছে। হলুদ

কাগজে কালো কালিতে লেখা সেই "শেখ সাহেব" শব্দটা পড়তে গেলে বোঝা যায়, তখনকার মানুষ তাকে কীভাবে দেখতেন। মুজিব ভাই, শেখ সাহেব, বাংলার নেতা। কোনো উপাধির দরকার ছিল না তখন। মানুষই তাকে বুকে ধরেছিল। আর সেই মানুষটিও সেদিন বুক পেতে দিয়েছিলেন তাদের জন্য।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
উনিশ মিনিটে একটি দেশ : লাখো কণ্ঠের একটি নাম, একটি বিকেল আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তের আদেশ বাতিল ৮২০ মিলিয়ন ডলার আর দশ হাজার চাকরি, দেশ ডুবিয়ে ইউনুসের “সংস্কারের” মূল্য পরিশোধ প্রতীকী অগ্রগতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব ক্ষমতায়ন চাঁদাবাজি-ছিনতাই, বিএনপি, আর একটি রাষ্ট্রের নৈতিক দেউলিয়াত্ব ৭ই মার্চের ভাষণ বাজানোর “অপরাধে” শিক্ষার্থীর উপর মব হামলা মুক্তিযুদ্ধকে উদযাপন করা হলে কারা হামলা করে? মগবাজারে ফার্মেসি মালিককে কুপিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাই: নেপথ্যে বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ‘মাউরা সায়মন’ সিন্ডিকেট বয়কটের ডাক দিয়েও ভারতের তেলেই ভরসা জুলাই হত্যাকাণ্ড: ফজলে করিমকে বাঁচাতে ১ কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগে প্রসিকিউটর সাইমুম রেজার পদত্যাগ বেতন দিতেই ৫০ হাজার কোটি টাকার ঋণ! ‘গ্যাস পাচারের’ গুজব ছড়ানো সেই পাইপলাইনেই আজ তেল আনছে বয়কটকারীরা! ফয়সালকে ‘বলির পাঁঠা’ না করে পর্দার আড়ালের মূল খুনিদের ধরতে বললেন হাদির বোন কোটি টাকার ঘুষ নতুবা ফাঁসিতে চড়াতে চেয়েছিলেন প্রসিকিউটর তুষার ঈদ সামনে রেখে রাজধানীতে বেড়েছে ছিনতাই, ৪৩২ হটস্পট চিহ্নিত স্থানীয় সরকার-পেশাজীবীসহ সকল নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে: শেখ হাসিনা হঠাৎ রডের মূল্যবৃদ্ধি কার স্বার্থে? একদিনেই টনপ্রতি বাড়ল ১০ হাজার টাকা শেখ হাসিনা সরকারের জ্বালানি চুক্তির সুফল: আজ ভারত থেকে পাইপলাইনে আসছে ডিজেল ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ফের চোটে নেইমার, ব্রাজিলের দলে ফেরার স্বপ্নে ধাক্কা