রাত ১২টার পর সেহরি খেলে কি রোজা হবে?
রমজান ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য মাস। এই মাসে সেহরি ও ইফতারকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বিশেষ পরিবর্তন আসে। তবে অনেকের মনে একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায়— ভোর রাতের পরিবর্তে রাত ১২টার পর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে কী রোজা হবে?
গুনাহ মাফ ও তাকওয়া অর্জনের মাস রমজানে প্রাপ্তবয়স্ক প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা রাখা ফরজ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
‘হে ইমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৮৩)
আখিরাতে স্বয়ং
মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাকে রোজার প্রতিদান দেবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি— قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ‘মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য; কিন্তু সিয়াম (রোজা) আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।’ নবীজি (সা.) আরও বলেন— وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তূরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।’ (মুসলিম ২৫৯৪) এক্ষেত্রে দিনভর রোজা রাখার শক্তি জোগায় সেহরি। কারণ সিয়াম সাধনার এই মাসে
সেহরিতে মহান আল্লাহ তাআলা অশেষ বরকত রেখেছেন। হাদিসেও এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম ২৪২০, বুখারি ১৮০১) পবিত্র এই মাসে শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই নয়, বরং আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জনও রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য। এজন্য বিভিন্ন বর্ণনায় বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্তভাবে সাওম বা রোজা পালনের কথা বলা হয়েছে। তবে সেহরি খাওয়া নিয়ে অনেকেই একটি বিষয়ে দ্বিধায় পড়েন—রাত ১২টার পর সেহরি করে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা হবে কিনা। এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাত ১২টার পর সেহরি খেতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি কেউ সেহরি
না খেলেও তার রোজা হয়ে যাবে। তবে সেহরি খাওয়ার উত্তম সময় হলো রাতের শেষ অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ وَأَخَّرُوا السُّحُورَ ‘আমার উম্মত ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা ইফতার তাড়াতাড়ি করবে এবং দেরিতে সেহরি করবে।’ (বুখারি ১৯২১) তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন দেরি করে সেহরি খাওয়ার অর্থ হলো ফজরের আজানের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত খাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সুবহে সাদিক বা ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, রাত ১২টার পর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা নষ্ট হয় না এবং রোজা শুদ্ধভাবে আদায় হয়ে যায়। তবে সুন্নত
অনুযায়ী সেহরি রাতের শেষ অংশে করা উত্তম এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে খাওয়া বন্ধ করা জরুরি। তাই রমজানে সঠিক সময় জেনে সেহরি করা এবং রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য—তাকওয়া অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।
মহান রাব্বুল আলামিন বান্দাকে রোজার প্রতিদান দেবেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি— قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ‘মহান আল্লাহ তাআলা বলেন, আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য; কিন্তু সিয়াম (রোজা) আমার জন্য এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।’ নবীজি (সা.) আরও বলেন— وَالَّذِي نَفْسُ مُحَمَّدٍ بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ! নিশ্চয়ই রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে কস্তূরীর সুগন্ধির চেয়েও অধিক সুগন্ধিময়।’ (মুসলিম ২৫৯৪) এক্ষেত্রে দিনভর রোজা রাখার শক্তি জোগায় সেহরি। কারণ সিয়াম সাধনার এই মাসে
সেহরিতে মহান আল্লাহ তাআলা অশেষ বরকত রেখেছেন। হাদিসেও এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন— تَسَحَّرُوا فَإِنَّ فِي السَّحُورِ بَرَكَةً ‘তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।’ (মুসলিম ২৪২০, বুখারি ১৮০১) পবিত্র এই মাসে শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকাই নয়, বরং আল্লাহভীতি ও তাকওয়া অর্জনও রোজার অন্যতম উদ্দেশ্য। এজন্য বিভিন্ন বর্ণনায় বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্তভাবে সাওম বা রোজা পালনের কথা বলা হয়েছে। তবে সেহরি খাওয়া নিয়ে অনেকেই একটি বিষয়ে দ্বিধায় পড়েন—রাত ১২টার পর সেহরি করে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা হবে কিনা। এ বিষয়ে ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, রাত ১২টার পর সেহরি খেতেই হবে— এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এমনকি কেউ সেহরি
না খেলেও তার রোজা হয়ে যাবে। তবে সেহরি খাওয়ার উত্তম সময় হলো রাতের শেষ অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— لَا تَزَالُ أُمَّتِي بِخَيْرٍ مَا عَجَّلُوا الْفِطْرَ وَأَخَّرُوا السُّحُورَ ‘আমার উম্মত ততদিন কল্যাণের ওপর থাকবে, যতদিন তারা ইফতার তাড়াতাড়ি করবে এবং দেরিতে সেহরি করবে।’ (বুখারি ১৯২১) তিনি আরও বলেন, অনেকেই মনে করেন দেরি করে সেহরি খাওয়ার অর্থ হলো ফজরের আজানের ঠিক আগ মুহূর্ত পর্যন্ত খাওয়া যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। সুবহে সাদিক বা ফজরের সময় শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত সেহরি খাওয়া যাবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, রাত ১২টার পর সেহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা নষ্ট হয় না এবং রোজা শুদ্ধভাবে আদায় হয়ে যায়। তবে সুন্নত
অনুযায়ী সেহরি রাতের শেষ অংশে করা উত্তম এবং ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগে খাওয়া বন্ধ করা জরুরি। তাই রমজানে সঠিক সময় জেনে সেহরি করা এবং রোজার প্রকৃত উদ্দেশ্য—তাকওয়া অর্জনের দিকে মনোযোগ দেওয়াই একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম পথ।



