চৌধুরী মুজাহিদুল হক সৌরভ
আরও খবর
বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রপতি, উদ্ধত শাসনব্যবস্থা এবং মব সন্ত্রাস
বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রপতি, উদ্ধত শাসনব্যবস্থা এবং মব সন্ত্রাস
স্বাধিকার আন্দোলনের অগ্নিঝরা মার্চঃ ৩রা মার্চ ১৯৭১- বঙ্গবন্ধুর আহ্ববানে সারা দেশে হারতাল পালিত, যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত পূর্ব পাকিস্থান
মার্চ ১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণার প্রথম আনুষ্ঠানিকতা
আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল হত্যার তদন্ত ও বিচারে জুলাই যোদ্ধাদের কেন এতো অনীহা?
গণভোটের ফলাফল বনাম সাংবিধানিক সীমা
‘ইরানে হামলা প্রমাণ করে চীন ও ভারত এখনো মার্কিন প্রশাসনের আক্রমনের লক্ষ্যবস্তু’
আজ সকালে আমার সুপারভাইজারকে বলছিলাম 'আমেরিকা তার আল্টিমেট টার্গেট থেকে একচুলও সরেনি। রঙ্গীন বিপ্লবের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় রাজাপাক্ষে সরকারকে অপসারণ, রঙ্গীন বিপ্লবের মাধ্যমে জুলাই দাঙ্গা ঘটিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারকে অপসারণ, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক অপহরণ, ইরানে ইস্রাইল-মার্কিন কর্তৃক যৌথ হামলা সবই একই সূত্রে গাথা। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে এসব এট্যাকের মাধ্যমে মূলত চীন ও ভারতের হাত-পা ছেটে দেওয়ার কাজ করা হচ্ছে যাতে চীন ও ভারত অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় দৌড়াতে বা আগাতে না পারে'। প্রফেসরের সাথে কথোপকথন শেষ হওয়ার পর Asian News International (ANI)-এ ইরানের কূটনীতিক ড. আবদুল মাজেদ হাকীম ইলাহীর সাক্ষাৎকার দেখলাম যেখানে তিনি বলছেন 'ইরান আমেরিকার মূল লক্ষ্য
নয়। তাদের মূল লক্ষ্য ভারত ও চীন। আমেরিকা চায় না অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ারের কম্পিটিশনে চীন ও ভারত আমেরিকার সমকক্ষ হোক'। ইরানের ডিপ্লোমেটের এই বক্তব্যটি প্রফেসরকে বলা আমার এনালাইসিসটিকে সমর্থন করছে। ২০০০ সালের ১২ই মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের সব গ্যাস মার্কিন কোম্পানিকে বিক্রি করে দিতে বলেন। শেখ হাসিনা উত্তরে বলেছিলেন 'বাংলাদেশের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস রিজার্ভ না রেখে আমি দেশের গ্যাস কারো কাছে বিক্রি করতে পারবো না'। বিল ক্লিনটনের এই প্রস্তাবের নেপথ্য উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে ভারতকে এই গ্যাস পাইয়ে দেওয়া যাতে ভারত ইরান থেকে আর গ্যাস না কিনে। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উত্তরের
পর মার্কিন প্রশাসন ক্ষেপে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিশেষ সাইঅপ অপারেশন শুরু করে যে অপারেশনে মার্কিন সিআইএ এর পার্টনার হিসেবে যোগ দেয় পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। প্রথম ধাপে ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারানো হয় এবং ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তান পার্টি অফিসের সামনে হত্যার উদ্দেশ্যে বক্তব্যরত শেখ হাসিনার উপর জ'ঙ্গীদের মাধ্যমে মিলিটারি গ্রেড গ্রেনেড ও সামরিক অটো রাইফেল থেকে মুহুর্মুহু গুলি ছোড়া হয়। গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ার দৃশ্য সবাই দেখেছে। নেপথ্যের উদ্দেশ্য জানানোর জন্য আমি পুরনো ঘটনাটি আবার বললাম এবং সিআইএ-এর চলমান সেই অপারেশনটি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট দাঙ্গার মাধ্যমে প্রায় সফল হয়। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের উপর মার্কিন স্যাঙ্কশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও চীন ও ভারত ব্যাকডোরে এই দুটি দেশ থেকে পেট্রোলিয়াম বা ক্রুড অয়েল ও গ্যাস খরিদ করে যা ভারত-চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথে খুবই কাজে দিচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি 'চীন ও ভারতকে শায়েস্তা করাই মার্কিনীদের আসল উদ্দেশ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ইসলাম, পরিবেশ রক্ষা, পোশাকের স্বাধীনতা ইত্যাদি চীন ও ভারতকে সাইজ করার পশ্চিমা অস্ত্র মাত্র'। লেখক: চৌধুরী মুজাহিদুল হক সৌরভ পিএইচডি ফেলো, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এণ্ড জিওপলিটিক্স, হুনান ইউনিভার্সিটি।
নয়। তাদের মূল লক্ষ্য ভারত ও চীন। আমেরিকা চায় না অর্থনৈতিক সুপার পাওয়ারের কম্পিটিশনে চীন ও ভারত আমেরিকার সমকক্ষ হোক'। ইরানের ডিপ্লোমেটের এই বক্তব্যটি প্রফেসরকে বলা আমার এনালাইসিসটিকে সমর্থন করছে। ২০০০ সালের ১২ই মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলাদেশের সব গ্যাস মার্কিন কোম্পানিকে বিক্রি করে দিতে বলেন। শেখ হাসিনা উত্তরে বলেছিলেন 'বাংলাদেশের জন্য ৫০ বছরের গ্যাস রিজার্ভ না রেখে আমি দেশের গ্যাস কারো কাছে বিক্রি করতে পারবো না'। বিল ক্লিনটনের এই প্রস্তাবের নেপথ্য উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে ভারতকে এই গ্যাস পাইয়ে দেওয়া যাতে ভারত ইরান থেকে আর গ্যাস না কিনে। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই উত্তরের
পর মার্কিন প্রশাসন ক্ষেপে গিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিশেষ সাইঅপ অপারেশন শুরু করে যে অপারেশনে মার্কিন সিআইএ এর পার্টনার হিসেবে যোগ দেয় পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। প্রথম ধাপে ২০০১ সালের অক্টোবরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে হারানো হয় এবং ধারাবাহিকভাবে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গুলিস্তান পার্টি অফিসের সামনে হত্যার উদ্দেশ্যে বক্তব্যরত শেখ হাসিনার উপর জ'ঙ্গীদের মাধ্যমে মিলিটারি গ্রেড গ্রেনেড ও সামরিক অটো রাইফেল থেকে মুহুর্মুহু গুলি ছোড়া হয়। গ্রেনেড ও গুলি ছোড়ার দৃশ্য সবাই দেখেছে। নেপথ্যের উদ্দেশ্য জানানোর জন্য আমি পুরনো ঘটনাটি আবার বললাম এবং সিআইএ-এর চলমান সেই অপারেশনটি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট দাঙ্গার মাধ্যমে প্রায় সফল হয়। ভেনেজুয়েলা ও ইরানের উপর মার্কিন স্যাঙ্কশন বা নিষেধাজ্ঞা থাকা স্বত্বেও চীন ও ভারত ব্যাকডোরে এই দুটি দেশ থেকে পেট্রোলিয়াম বা ক্রুড অয়েল ও গ্যাস খরিদ করে যা ভারত-চীনের ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথে খুবই কাজে দিচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি 'চীন ও ভারতকে শায়েস্তা করাই মার্কিনীদের আসল উদ্দেশ্য। গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ইসলাম, পরিবেশ রক্ষা, পোশাকের স্বাধীনতা ইত্যাদি চীন ও ভারতকে সাইজ করার পশ্চিমা অস্ত্র মাত্র'। লেখক: চৌধুরী মুজাহিদুল হক সৌরভ পিএইচডি ফেলো, ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এণ্ড জিওপলিটিক্স, হুনান ইউনিভার্সিটি।



