ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
মমতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়া সায়নী ঘোষ এবার বিদ্রোহী শিবিরে
ট্রাম্পের মুখে ইরানের সঙ্গে চুক্তির আভাস, কমল তেলের দাম
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির আভাস মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের
ইসরাইলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বদলে গেল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ, কীভাবে?
বিশ্লেষণ।। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র ট্রেড ডিল: কার স্বার্থে, কার বিনিময়ে?
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের
জার্মানিতে কেন মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে?
জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। শান্তি আলোচনায় ইরান সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অপমান’ করছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসে, এরপরই এমন সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ‘অল্প সময়ের মধ্যেই’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় জার্মানি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এটি বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন সামরিক প্রভাব বিস্তারের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন জার্মানিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে?
জার্মানিতে মার্কিন সেনা উপস্থিতির ইতিহাস দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে। নাৎসি জার্মানির আত্মসমর্পণের সময় সেখানে প্রায় ১৬ লাখ মার্কিন সেনা ছিল, যা এক বছরের মধ্যে কমে ৩ লাখের
নিচে নেমে আসে। পরবর্তীতে স্নায়ু যুদ্ধের সময় জার্মানিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি স্থায়ী রূপ পায়। ১৯৪৯ সালে ন্যাটো ও পশ্চিম জার্মানি প্রতিষ্ঠার পর সামরিক ঘাঁটিগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্নায়ু যুদ্ধের সময় জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০টি বড় ঘাঁটি ও ৮০০-র বেশি স্থাপনা ছিল। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতন এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এসবের অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এসব ঘাঁটির ভূমিকা কী? বর্তমানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় সেনা আছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ জন জার্মানিতে অবস্থান করছে। এসব সেনা ২০ থেকে ৪০টি ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রয়েছে। স্টুটগার্টে ইউরোপীয় কমান্ড ও
আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর রয়েছে, যেখান থেকে দুই মহাদেশে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রামস্টাইন বিমানঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ সদস্য কর্মরত। এ ছাড়া গ্রাফেনভেয়ার, ভিলসেক ও হোহেনফেলস এলাকাগুলো ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অংশ। উইসবাডেনে ইউএস আর্মি ইউরোপ ও আফ্রিকার সদর দপ্তর এবং ল্যান্ডস্টুলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক হাসপাতাল অবস্থিত। স্নায়ু যুদ্ধের পর এসব ঘাঁটির ভূমিকা বদলে গেছে—এগুলো এখন মূলত সামরিক অভিযান পরিচালনার লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখান থেকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ট্রাম্প কি এর আগে এমন হুমকি দিয়েছেন? ২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প জার্মানির কম প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং
নর্ড স্ট্রিম-২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দেন এবং সেনা সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর হুমকি দেন। তবে সেই পরিকল্পনা কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতা ও বাস্তব জটিলতার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেন এবং পরে তা বাতিল করা হয়। সেনা প্রত্যাহারের প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি থেকে বড় সংখ্যক সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি শুধু ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামস্টাইনের মতো ঘাঁটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিরাপত্তা দেয়, আর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামো সরবরাহ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইউরোপের অন্যান্য দেশে সেনা পুনর্বিন্যাস করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সেনা কমানো তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
নিচে নেমে আসে। পরবর্তীতে স্নায়ু যুদ্ধের সময় জার্মানিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরোধক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি স্থায়ী রূপ পায়। ১৯৪৯ সালে ন্যাটো ও পশ্চিম জার্মানি প্রতিষ্ঠার পর সামরিক ঘাঁটিগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্নায়ু যুদ্ধের সময় জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৫০টি বড় ঘাঁটি ও ৮০০-র বেশি স্থাপনা ছিল। ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতন এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর এসবের অনেকগুলো বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এসব ঘাঁটির ভূমিকা কী? বর্তমানে ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৬৮ হাজার সক্রিয় সেনা আছে, যার মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার ৪০০ জন জার্মানিতে অবস্থান করছে। এসব সেনা ২০ থেকে ৪০টি ঘাঁটিতে ছড়িয়ে রয়েছে। স্টুটগার্টে ইউরোপীয় কমান্ড ও
আফ্রিকা কমান্ডের সদর দপ্তর রয়েছে, যেখান থেকে দুই মহাদেশে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। রামস্টাইন বিমানঘাঁটি ইউরোপে মার্কিন বিমানবাহিনীর প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ সদস্য কর্মরত। এ ছাড়া গ্রাফেনভেয়ার, ভিলসেক ও হোহেনফেলস এলাকাগুলো ইউরোপের বৃহত্তম সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অংশ। উইসবাডেনে ইউএস আর্মি ইউরোপ ও আফ্রিকার সদর দপ্তর এবং ল্যান্ডস্টুলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক হাসপাতাল অবস্থিত। স্নায়ু যুদ্ধের পর এসব ঘাঁটির ভূমিকা বদলে গেছে—এগুলো এখন মূলত সামরিক অভিযান পরিচালনার লজিস্টিক হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখান থেকে ইরাক, আফগানিস্তান এবং সাম্প্রতিক ইরান সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। ট্রাম্প কি এর আগে এমন হুমকি দিয়েছেন? ২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প জার্মানির কম প্রতিরক্ষা ব্যয় এবং
নর্ড স্ট্রিম-২ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করে দেশটিকে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে আখ্যা দেন এবং সেনা সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমানোর হুমকি দেন। তবে সেই পরিকল্পনা কংগ্রেসে দ্বিদলীয় বিরোধিতা ও বাস্তব জটিলতার কারণে বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই পরিকল্পনা স্থগিত করেন এবং পরে তা বাতিল করা হয়। সেনা প্রত্যাহারের প্রভাব কী হতে পারে? বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানি থেকে বড় সংখ্যক সেনা প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও ক্ষতির কারণ হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বলেন, ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি শুধু ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, রামস্টাইনের মতো ঘাঁটি ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের অনেক সামরিক অভিযান পরিচালনা করা অনেক কঠিন হয়ে পড়বে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপকে নিরাপত্তা দেয়, আর ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অবকাঠামো সরবরাহ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইউরোপের অন্যান্য দেশে সেনা পুনর্বিন্যাস করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের সেনা কমানো তাদের সামরিক সক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান



