তুরস্কে সরকার পতনের দাবি, চাপে এরদোয়ান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৭ মার্চ, ২০২৫

তুরস্কে সরকার পতনের দাবি, চাপে এরদোয়ান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৭ মার্চ, ২০২৫ |
তুরস্কে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের অন্যতম রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইস্তাম্বুলের মেয়র ইকরাম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) এই নেতা আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে চলেছিলেন। এদিকে মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ইস্তাম্বুলের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও রাজপথে মিছিল করেছেন। সরকার পতনের দাবিতে তারা স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীর হাতে থাকা ব্যানার ও পতাকায় এরদোয়ান সরকারের পতনের দাবির কথা লেখা ছিল। তুরস্কে অব্যাহত বিক্ষোভের মধ্যেই ব্যাপক ধড়পাকড়ও শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও লাখ লাখ মানুষ রাজধানী আঙ্কারাসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেছেন। এসময় এএফপির আলোকচিত্রীসহ দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের হামলায় দেড় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। সাংবাদিক আটকের ঘটনায় নিন্দা

জানিয়েছে বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক সংস্থা। গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এ বিক্ষোভে কার্যত চাপে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। বুধবার (২৬ মার্চ) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, শুরুতে ইস্তাম্বুলের মেয়র ইমামোগলুর মুক্তি চেয়ে বিক্ষোভ করলেও এখন তা সরকার পতনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এরদোয়ানের পতন দাবি করছেন। রাশিয়ার সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠতা এবং সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে দূরত্বের মধ্যে তুরস্কে এ সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। তুরস্কে সরকার পতনের দাবি, চাপে এরদোয়ান তুরস্কের প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) চেয়ারম্যান ওজগুর ওজেল বলেছেন, আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত অথবা ইস্তাম্বুলের কারাবন্দি মেয়র একরেম ইমামোগলুকে কারাগার থেকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত ‌‌‘প্রতিটি শহরে’ বিক্ষোভ

অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, দেশব্যাপী বিক্ষোভের মধ্যেই শনিবার ইস্তাম্বুলে একটি বড় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এটি ২০২৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনে ইমামোগলুকে দেশের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট পদে এগিয়ে নেওয়ার জন্য দলের প্রচারণার সূচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা যে শহরেই যাই, সেখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাবেশ হবে।’ ওজেল বলেন, একরেম ইমামোগলু এর মুক্তি দাবি এবং দেশের জনগণের গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস চলমান বিক্ষোভকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে। ইমামোগলুর সমর্থকরা মনে করেন, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এরদোয়ান তাঁর ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে চাইছেন। সরকার বলছে, এতে তাদের কোনো হাত নেই। বিচার বিভাগ তার নিজ পথেই পরিচালিত হচ্ছে। দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলের মেয়র একরাম ইমামোগলুকে গ্রেপ্তার

করে পুলিশ। তিনি দেশটির আগামী নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল রিপাবলিকান পিপলস পার্টির (সিএইচপি) প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সমালোচকরা মনে করেন, ইমামোগলুর জনপ্রিয়তার কারণে গত ১৯ মার্চ তাঁকে গ্রেপ্তার করে রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রশাসন। গ্রেপ্তারের পর থেকে প্রতিদিনই বিক্ষোভ হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা ইমামোগলুর ছবি সংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করছেন। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে গত মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত আট সাংবাদিক আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির আলোকচিত্রী ইয়াসিন আকগুল এবং বুলেন্ট কিক। আটক সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ বিক্ষোভে’ অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আকগুলের গ্রেপ্তারকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন এএফপি চেয়ারম্যান ফেব্রিক ফ্রাইজ। সাংবাদিক গ্রেপ্তারের কঠোর সমালোচনা করেছে সংগঠন

রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার। এ ছাড়া তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নও তাদের মুক্তি দাবি করেছে। বিক্ষোভে হাজির হয়েছেন ২৮ বছরের সিনার আইলারি। তিনি জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের নন। নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবেই এসেছেন। তিনি বলেন, আমি সিএইচপি নেতা ইমামোগলুকে সমর্থন করি না। তাঁকে ভোটও দিইনি। এটা মনে করি যে, যা হয়েছে, তা যে কোনো রাজনীতিকের জন্যই অন্যায্য। কারণ, এটা রাজনৈতিক মামলা। আইলারি বলেন, চার দিনের বিক্ষোভের পর আমার মনে হচ্ছে, বিক্ষোভের মধ্যে গতি কিছুটা মন্থর। ইস্তাম্বুলে পরপর দুটি মেয়র নির্বাচনে জয়ী ইমামোগলুকে এরদোয়ানের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচনা করা হয়। এরদোয়ান ২০০৩ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন এবং ২০২৩ সালে দেশটির সাম্প্রতিকতম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ

করেন। ইমামোগলুর সমান্তরালে ১৯৯৯ সালে কারারুদ্ধ হওয়ার আগে ১৯৯০-এর দশকে এরদোয়ানও ইস্তাম্বুলের একজন জনপ্রিয় মেয়র ছিলেন। গ্রেপ্তারের আগের দিন ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয় ইমামোগলুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি বাতিল করে, যেখানে বলা হয়েছিল, এটি প্রতারণায় অর্জন করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য একটি বৈধ ডিগ্রি থাকা পূর্বশর্ত। এদিকে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের কোথাও জায়গা হবে না। রাজধানী আঙ্কারায় তরুণদের সঙ্গে ইফতারে অংশ নিয়ে এরদোয়ান বলেন, দেশ খুবই নাজুক সময় পার করছে। তিনি সবাইকে ধৈর্য আর কাণ্ডজ্ঞান বিবেচনা করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। এছাড়াও তিনি বলেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছেন, তাদের কোথাও জায়গা হবে না। বিক্ষোভকারীরা

করুণ পরিণতির পথ বেছে নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বিশ্ববাজারে কমলো স্বর্ণের দাম কুমিল্লায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৫ গোয়েন্দা প্রতিবেদন, ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি রাত ১টার মধ্যে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা বাংলাদেশসহ ৬ দেশের জাহাজ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা পাবে : ইরান এবার তেল নিয়ে নাগরিকদের জরুরি বার্তা দিল ভারত বাংলাদেশকে পার্থক্যটা বুঝিয়ে দিল ভিয়েতনাম ইসরায়েলের পরমাণু স্থাপনায় হামলার দাবি ইরানের খার্গ দ্বীপ নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি তেহরানের ১০০ ডলার ছাড়াল জ্বালানি তেলের দাম ‘২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পুরো স্ট্রাটেজি সাজিয়ে দিয়েছিল ডিপ স্টেট’ নতুন সম্পর্ক কি পুরোনো ব্যথা ভুলাতে পারে? যেসব শর্তে যুদ্ধ বন্ধে রাজি ইরান দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ, দর্শনার্থীদের ভিড় বাংলাদেশকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের, সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতি পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু বেড়ে ২৫ সাবেক ডিজিএফআই ডিজি মামুন খালেদের ৫ দিনের রিমান্ড অজানা উৎস থেকে আসা তথ্যে বিভ্রান্ত হবেন না: হানিফ সংকেত বিশ্বকাপের আগে আরও দুই ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা, প্রতিপক্ষ কারা? জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাচ্ছে জাতি