শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৩ June, ২০২৬

শিরোপাহীন দুই যুগ, কোন পথে ব্রাজিল?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৩ June, ২০২৬ |
কোনো কোনো আঘাত আছে, তা প্রত্যাঘাত হয়ে জ্বলে ওঠে। আবার কোনো কোনো আঘাত আছে, নিস্তব্ধ করে দেয়। বিপরীতধর্মী এই প্রতিক্রিয়া কার ওপর কীভাবে প্রভাব বিস্তার করবে, সেটা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। কথাটা ছন্দময়, আনন্দদায়ক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পূজারী ব্রাজিলকে নিয়ে। পঞ্চাশ দশকে মারাত্মক একটা মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা খেয়ে দলটি এমনভাবে জেগে উঠে, অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে আরেকটি গ্লানিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে দলটি যেন দিশা হারিয়ে ফেলেছে। প্রত্যাবর্তনের পথ খুঁজে পাচ্ছে না। ১৯৫০ সালের ১৬ জুলাই মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের কাছে ব্রাজিলের ২-১ গোলে হেরে যাওয়াটা ছিল এক তীব্র জাতীয় ট্র্যাজেডি, যা ইতিহাসে 'মারাকানাজো' নামে পরিচিত। এই হারের বেদনার গভীরতা

ছিল অসীম। কারণ শিরোপা জেতার জন্য ব্রাজিলের কেবল একটি ড্র প্রয়োজন ছিল এবং গোটা দেশ আগে থেকেই উদযাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছিল। ম্যাচটিতে ব্রাজিল প্রথমে এগিয়ে গেলেও উরুগুয়ে দুটি গোল করে ম্যাচ ও শিরোপা ছিনিয়ে নেয়। জয়ের জন্য উন্মুখ প্রায় দুই লাখ দর্শকের সেই বিশাল স্টেডিয়ামে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মারাকানা। ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, ব্রাজিলের সংস্কৃতির অংশ। এই অপ্রত্যাশিত হারে গোটা দেশে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। তা পরিণত হয় দুঃখ ও হতাশায়। অনেকে এই ধাক্কা মানতে না পেরে কান্নাকাটি শুরু করেন। এমনকি স্টেডিয়ামে ও এর বাইরে আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছিল। পত্রিকায় শোকবার্তা ছাপা হয়েছিল

এবং ফুটবলারদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে দেখা হয়েছিল। এই হারের জন্য সবচেয়ে বেশি বলি হতে হয়েছিল ব্রাজিলের কৃষ্ণাঙ্গ গোলরক্ষক মোয়াসির বারবোসাকে। আজীবন খলনায়ক বনে যান। একটি ভুলের জন্য তাকে সারাজীবন অপরাধবোধ ও সামাজিক বয়কটের শিকার হতে হয়েছিল, যা তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বয়ে বেড়িয়েছেন। এই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতাটি ব্রাজিলীয়দের মধ্যে এতই মানসিক আঘাত তৈরি করে, এটি তাদের ফুটবল সংস্কৃতির এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রধান অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সেই লজ্জাজনক হারের পর ব্রাজিল দল তাদের আগের 'অভিশপ্ত' সাদা জার্সি পুরোপুরি বর্জন করে। ১৯৫৩ সালে সংবাদপত্রের মাধ্যমে দেশব্যাপী নকশা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে হলুদ, সবুজ ও নীল রঙের সমন্বয়ে নতুন আইকনিক জার্সি তৈরি করা হয়। নতুন এই

জার্সি ব্রাজিলের ফুটবলে জয় ও আনন্দের প্রতীক হয়ে ওঠে। ঐ হারের পর ব্রাজিল ফুটবলে মানসিক জোর, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কৌশলের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। আবেগ বা অতি আত্মবিশ্বাসের পরিবর্তে পেশাদারিত্বের মাধ্যমে ফুটবলকে নিখুঁত করার প্রেরণা হিসেবে এই ট্র্যাজেডি ভূমিকা রাখে। এই বেদনার আগুন থেকেই ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পণ করে ব্রাজিল। পরবর্তীতে পেলের মতো কিংবদন্তিদের হাত ধরে 'সেলেসাও'রা বিশ্বকাপ মঞ্চে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে, যা ওই শোককে শক্তিতে রূপ দেওয়ার একটি দারুণ দৃষ্টান্ত। কোনো জাতীয় বিপর্যয় বা গভীর বেদনা কেবল বর্তমান প্রজন্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি বংশপরম্পরায় বয়ে বেড়াতে হয়। মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও জৈবিক—এই তিন স্তরে এর প্রভাব যুগের

পর যুগ ধরে প্রবাহিত হতে পারে।আধুনিক বিজ্ঞান ও জেনেটিক্স গবেষণা প্রমাণ করেছে, পূর্বপুরুষদের সহ্য করা চরম মানসিক আঘাত বা ভয় তাঁদের জিনগত গঠনে এমন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন আনে, যা পরবর্তী প্রজন্মের সন্তানদের মধ্যে বাহিত হয়। এর ফলে পরবর্তী প্রজন্ম অকারণে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক ট্রমা ও বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। যুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, গণহত্যা বা বড় কোনো মহামারির মতো জাতীয় বিপর্যয়গুলো পুরো সমাজের মনস্তত্ত্বে স্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই ট্রমার শিকার মানুষের আচরণ, ভয় ও দৃষ্টিভঙ্গি পারিবারিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে পরবর্তী প্রজন্মে সংক্রমিত হয়। অভিভাবকের অতিরিক্ত ভয় বা অসহায়ত্ব দেখে বেড়ে উঠা সন্তানরাও অবচেতনভাবে সেই মানসিকতা আত্মস্থ করে। বেদনাদায়ক জাতীয় ইতিহাস সাহিত্য বা

শিল্পের মাধ্যমে কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠদের মুখে মুখে লোকগাথা হিসেবে এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। এই আখ্যানগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একটি নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক বেদনার সঙ্গে যুক্ত রাখে। আর এ কারণে ১৯৫০ সালের এই ক্ষত এখনো ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে একটি বড় প্রসঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ফুটবলের দলের সবারই ১৯৫০ সালের দুঃস্বপ্নের অভিজ্ঞতা ছিল। এমনকি সেই দলের দুজন খেলোয়াড় এই দলে ছিলেন। দলের সবচেয়ে জুনিয়র সদস্য পেলেও এই দুঃস্বপ্নের বাহক ছিলেন। ১৯৫৪ সালের বিশ্বকাপেও সাফল্য না পাওয়ায় খেলোয়াড়রা হৃদয়ে গভীর ক্ষত নিয়ে খেলতে নামেন। এই জাতীয় ট্র্যাজেডি তাদের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। তাদেরকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে, যে

কোনো মূল্যে দেশকে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দিতে হবে। শেষ পর্যন্ত ১৯৫৮ সালের স্কোয়াডে থাকা খেলোয়াড়রা এই বেদনাকে শক্তিতে রূপান্তর করতে পেরেছিলেন। ফাইনালের প্রথমার্ধে যখন সুইডেন ১-০ গোলে এগিয়ে যায়, তখন লেফট উইঙ্গার মারিও জাগালোর মনে ১৯৫০ সালের ফাইনালের কথা মনে পড়ে যায় এবং তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন যে, ব্রাজিল আবারও ট্র্যাজেডির শিকার হবে কি-না। তবে তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে আক্রমণাত্মক ও রক্ষণাত্মক উভয় ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখেন এবং ব্রাজিলের চতুর্থ গোলটি নিজে করেন ও পঞ্চম গোলে পেলেকে সহায়তা করেন। ১৯৫০ সালের দলে থাকলেও সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি লেফটব্যাক নিলটন সান্তোস আর মিডফিল্ডার ডিডি ছিলেন ১৯৫৪ সালের হতাশার অংশ। ১৯৫৮ সালের টুর্নামেন্টে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে গ্রুপের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলের সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে তারা কোচ ভিনসেন্ট ফিওলাকে বুঝিয়েছিলেন যে, ১৯৫০-এর মতো অতিরিক্ত রক্ষণশীল না থেকে তরুণ ও প্রতিভাবান স্ট্রাইকার পেলে ও রাইট উইঙ্গার গারিঞ্চাকে একাদশে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। কোচ তাদের পরামর্শ মেনে নিয়েছিলেন, যা দলের খেলার ধরন বদলে দেয় এবং শিরোপা জেতা সহজ করে। ১৭ বছর বয়সী পেলে ১৯৫৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ী দলের গর্বিত সদস্য হন। তবে ৯ বছর বয়সে ১৯৫০ সালের ওই হারের সময় তিনি নিজ বাড়িতে তার বাবাকে কাঁদতে দেখেছিলেন। সেই কান্নার দৃশ্য এবং বাবার হতাশাই তাঁকে প্ররোচিত করেছিল বড় হয়ে একদিন বিশ্বকাপ জিতে সেই বেদনার উপশম ঘটাতে। এ ছাড়া পুরো ব্রাজিল দল ১৯৫০ সালের সাদা জার্সির 'অভিশাপ' থেকে বেরিয়ে এসে নতুনভাবে নিজেদের প্রমাণ করার মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিল। এরপর ব্রাজিল ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪, ২০০২ সালে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সর্বেসর্বা দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করে। আর কোনো দল পাঁচবার শিরোপা জিততে পারেনি। ২০১৪ সালের ৮ জুলাই এস্তাদিও মিনেইরাও স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে কুখ্যাত 'সেভেন আপ' খ্যাত ৭-১ গোলে ব্রাজিলের হারটি কেবল একটি ম্যাচ ছিল না, এটি ছিল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি বড় জাতীয় ট্র্যাজেডি বা 'মিনেইরাজো'। নিজ দেশের মাটিতে এমন বিধ্বস্ত ও অপমানজনক পরাজয় গোটা ব্রাজিলবাসীকে হতবাক ও গভীরভাবে শোকাহত করেছিল। ঘরের মাঠে আয়োজিত বিশ্বকাপে ফেবারিট হিসেবে খেলতে নেমেছিল ব্রাজিল। মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে জার্মানি ৫-০ গোলে এগিয়ে যায়, যা পুরো ব্রাজিলিয়ান গ্যালারিকে কান্নায় ভাসিয়ে দিয়েছিল। এটি ছিল ১৯৩৪ সালের পর ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হার এবং নিজ মাটিতে ১৯৯৫ সালের পর প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে পরাজয়। সমর্থকরা স্টেডিয়ামে বসে এবং টেলিভিশনের পর্দায় দলের এই করুণ পরিণতি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। হারের পর স্টেডিয়ামে এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। হাজার হাজার দর্শক হতাশায় মাঠ ছাড়েন এবং অনেকে মাঠে বসেই ডুকরে কেঁদে ওঠেন। খবরের কাগজগুলো একে 'ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে অবমাননাকর পরাজয়' বলে আখ্যা দেয়। দলের সেরা তারকা নেইমার কোয়ার্টার ফাইনালে গুরুতর ইনজুরির কারণে ছিটকে পড়েন এবং অধিনায়ক থিয়াগো সিলভা নিষিদ্ধ ছিলেন। সেই মানসিক শূন্যতা ও অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপ দলটির ডিফেন্সকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেয়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ডেভিড লুইজের মতো ডিফেন্ডারদের কান্নায় ভেঙে পড়ার দৃশ্য গোটা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছিল। এই হারের বেদনা এতটাই তীব্র ছিল যে, অনেক সমর্থক তাৎক্ষণিকভাবে খেলোয়াড়, কোচ ও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এমনকি হারের দুঃখ ভুলতে সমর্থক থেকে শুরু করে কোচ লুই ফেলিপ স্কলারি পর্যন্ত একে 'জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিন' বলে উল্লেখ করেছিলেন। এই বেদনার পর ব্রাজিলের ফুটবল অনেকটা সময় ট্রমার মধ্য দিয়ে পার করেছে। ১৯৫০ সালের ট্র্যাজেডির ৮ বছর পর ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু ২০১৪ সালে লজ্জাজনক পরাজয়ের পর দলটি বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারছে না। ২০১৮ এবং ২০২২ সালে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব কটি আসরের চূড়ান্ত পর্বে খেলার অনন্য রেকর্ডটি কেবল ব্রাজিলের। অথচ এবারই প্রথম দলটি চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারবে কি-না তা নিয়ে বড় রকম সংশয় সৃষ্টি হয়। কোনো রকম ধুকতে ধুকতে কনমেবল গ্রুপে পঞ্চম হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা না বাড়লে কপালে খারাপি ছিল। একটা পর্যায়ে দলটি অনেকটা ছন্নছাড়ায় পরিণত হয়। প্রথম বিদেশি কোচ ইতালির কার্লো আনচেলত্তি দলের হাল ধরায় বেহাল দশা থেকে রক্ষা পেয়েছে। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে থাকা দলটি বরাবরই টপ ফেবারিট থাকলেও এবার তেমনটা মনে করা হচ্ছে না। অতীত ঐতিহ্য ও গৌরবের কারণে দলটির নাম উচ্চারিত হলেও জোর দিয়ে কিছু বলার উপায় নেই। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার অভাব, কোচিং স্টাফদের ঘন ঘন পরিবর্তন এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে ব্রাজিলকে এবারের বিশ্বকাপের টপ ফেবারিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। ইউরোপীয় পরাশক্তি যেমন স্পেন, ফ্রান্স বা ইংল্যান্ডকে বাজি ধরার ক্ষেত্রে অনেকে এগিয়ে রাখছেন। বাছাইপর্বে ও প্রীতি ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল দলের পারফরম্যান্সে আশানুরূপ ধারাবাহিকতা দেখা যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলোতে প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারা তাদের অন্যতম বড় দুর্বলতা। গত বিশ্বকাপের পর দলের কোচ এবং ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। সে সময় নতুন কোচের অধীনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল, যার কারণে দল পুরোপুরি থিতু হতে সময় লাগছে। ঐতিহ্যগতভাবে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের ডিফেন্সে বেশ কিছু দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা প্রকাশ পেয়েছে। বর্তমান ফুটবলে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ডের স্কোয়াড অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এসব দলের খেলোয়াড়রা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে দারুণ ফর্মে থাকায় বিশ্লেষকদের চোখে তারা ব্রাজিলের চেয়ে এগিয়ে আছে। সর্বশেষ দুটি প্রীতি ম্যাচে দুই জয় পেলেও তাতে খুব বেশি উৎফুল্ল হওযার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। রক্ষণভাগে ভঙ্গুরতা এবং আক্রমণভাগে ফিনিশিংয়ে ব্যর্থতা চোখে পড়েছে৷ তবে বর্তমান দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কার্লোস ক্যাসেমিরোর মতে, ফেবারিট হিসেবে বিশ্বকাপ শুরু না করাটা ব্রাজিলের জন্য ইতিবাচক। এতে দলের ওপর বাড়তি কোনো চাপ থাকে না এবং তারা নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারবেন। সান্ত্বনাস্বরূপ এ কথা বলা হলেও ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় বাজির দর মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। এবার যদি চ্যাম্পিয়ন হতে না পারে, সবচেয়ে দীর্ঘ সময় চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার রেকর্ড গড়বে দলটি। ব্রাজিল কি উরুগুয়ের পথে হাঁটছে? যদি দুই দলের অনেক ব্যবধান। বিশ্বকাপের শুরুর দিকে দুইবার হলেও আর কখনো চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দলটি। পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হলেও ব্রাজিল এরপর 'ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি' আবার কবে নিজেদের ঘরে নিতে পারবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আরেকটা বিষয়, সাম্প্রতিককালে ইউরোপীয় দলগুলো নিরঙ্কুশ আধিপত্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তাদের টেক্কা দিয়ে শীর্ষস্থান দখল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রথমবার ২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ইউরোপের চারটি দল চ্যাম্পিয়ন হয়। গতবার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়ে লাতিন শিবিরে খানিকটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও সেটা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তেমনটা হলে ব্রাজিলের দুর্দিন সহসা কাটবে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে না। আমেরিকান কবি ও অধিকারকর্মী মায়া অ্যাঞ্জেলোর কবিতার মতো ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য শক্তি এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে ব্রাজিল কি বলতে পারবে- 'ইতিহাসের লজ্জার কুঁড়েঘর থেকে আমি জেগে উঠি যন্ত্রণায় প্রোথিত এক অতীত থেকে আমি জেগে উঠি'।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের