ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা
জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান
সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ
ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’
ন্যূনতম মজুরির জন্য শ্রমিক যখন মরছে, তখন ২০০ কোটি টাকা খরচে সরকারি কর্মচারীদের ফ্ল্যাট তৈরির ঘোষণা
দেয়ালে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লিখন: স্কুলছাত্রীদের শনাক্ত করল পুলিশ, শিক্ষার্থী-নিপীড়নের শংকা
ইসলামী বক্তা ও জামায়াতের সাংসদ আমির হামজার নারীঘটিত অডিও-ভিডিও পাওয়ার দাবি রাশেদ খাঁনের
শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী?
ভাষাসৈনিক ও শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের কুমিল্লা নগরীর ধর্মসাগরপাড়ের ঐতিহাসিক বাসভবনে তাঁর নাতনি আরমা দত্তের লাগানো সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা।
৬ই নভেম্বর, শুক্রবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ঐতিহাসিক বাড়িটি সংরক্ষণ ও সেখানে স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাইনবোর্ডটি ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করেন সন্ত্রাসী দলটির নেতাকর্মীরা।
যদিও স্থানীয়দের ভাষ্য, মূলত জাদুঘরের নাম দিয়ে বাড়িটি থেকে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পরিবার ও ওয়ারিশদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যেই এই অপকর্মটি করেছেন এনসিপির সন্ত্রাসীরা।
এদিকে, এ ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বাড়িটির ওয়ারিশ দাবিদার এবং শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি আরমা দত্ত।
স্থানীয় সূত্র বলছে, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি সংস্কার, সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি
জানিয়েছে কয়েকটি পক্ষ। এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি আরমা দত্ত পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বাড়িটির সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। সাইনবোর্ডে জমির মালিক হিসেবে তাঁর নাম, পিতার নাম এবং জমির দাগ ও মৌজার তথ্য উল্লেখ ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার পর এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা বাড়িটির সামনে এসে প্রথমে বাড়িটি জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের দাবি তুলে বক্তব্য দেন। পরে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি নেতাদের দাবি, বাড়িটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তারা দাবি করেন, বাড়িটি বিক্রির উদ্দেশ্যে
সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বাড়িটি বিক্রি ঠেকাতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে অপকর্মের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তবে পরিবারটির সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই জানান, আরমা দত্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হওয়ায় তাদের পরিবারকে বাড়িটির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই মূলত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলও এই কথার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সমাজকর্মী জানালেন, এনসিপি যদি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতো, তবে ৫ই আগস্টের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাড়ি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার ভাস্কর্য-ম্যূরাল, বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধের
বিভিন্ন স্মারক ধ্বংস করে দিতো না। তারা জানান, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের প্রতি গত দুই বছরে কারো দরদ দেখা যায়নি, হঠাৎ আরমা দত্তের সাইনবোর্ড দেখে দরদ উথলে উঠেছে এনসিপির। রাতে এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়। এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করার কথাও জানায় দলটি। কাওসার বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে আমরা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ
কাজে আশা করি সরকার ও ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্তকে পাশে পাব। এ জায়গা বিক্রি কিংবা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’ অন্যদিকে, আরমা দত্ত জানান, বাড়িটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং তিনি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লার মানুষও বিষয়টি জানেন। বাড়ির জায়গা তিনি রাখবেন, নাকি বিক্রি করবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতের আঁধারে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করবেন বলেও জানান। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত
করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে ও তাঁর ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে আওয়ামী লীগ সরকার। তাঁর নাতনি আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।
জানিয়েছে কয়েকটি পক্ষ। এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি আরমা দত্ত পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বাড়িটির সম্পত্তির বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে সেখানে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। সাইনবোর্ডে জমির মালিক হিসেবে তাঁর নাম, পিতার নাম এবং জমির দাগ ও মৌজার তথ্য উল্লেখ ছিল। শুক্রবার সন্ধ্যার পর এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সন্ত্রাসী নেতাকর্মীরা বাড়িটির সামনে এসে প্রথমে বাড়িটি জাতীয় ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণের দাবি তুলে বক্তব্য দেন। পরে সেখানে স্থাপিত সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলেন। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এনসিপি নেতাদের দাবি, বাড়িটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তারা দাবি করেন, বাড়িটি বিক্রির উদ্দেশ্যে
সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে এবং পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাই বাড়িটি বিক্রি ঠেকাতে সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয়েছে অপকর্মের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। তবে পরিবারটির সাথে সম্পৃক্ত অনেকেই জানান, আরমা দত্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ হওয়ায় তাদের পরিবারকে বাড়িটির উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করতেই মূলত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলও এই কথার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সমাজকর্মী জানালেন, এনসিপি যদি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতো, তবে ৫ই আগস্টের পর থেকে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারের বাড়ি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বঙ্গবন্ধু ও চার নেতার ভাস্কর্য-ম্যূরাল, বীরশ্রেষ্ঠ ও মুক্তিযুদ্ধের
বিভিন্ন স্মারক ধ্বংস করে দিতো না। তারা জানান, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের প্রতি গত দুই বছরে কারো দরদ দেখা যায়নি, হঠাৎ আরমা দত্তের সাইনবোর্ড দেখে দরদ উথলে উঠেছে এনসিপির। রাতে এনসিপি কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কাওসার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়। এটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে হবে। এ বিষয়ে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করার কথাও জানায় দলটি। কাওসার বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে আমরা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ
কাজে আশা করি সরকার ও ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্তকে পাশে পাব। এ জায়গা বিক্রি কিংবা বহুতল ভবন নির্মাণ করতে চাইলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’ অন্যদিকে, আরমা দত্ত জানান, বাড়িটি তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং তিনি এর বৈধ ওয়ারিশ। কুমিল্লার মানুষও বিষয়টি জানেন। বাড়ির জায়গা তিনি রাখবেন, নাকি বিক্রি করবেন, সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতের আঁধারে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে অবহিত করবেন বলেও জানান। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড কে ভেঙেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অবহিত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত
করা হবে। উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে ও তাঁর ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে আওয়ামী লীগ সরকার। তাঁর নাতনি আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।





