শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৪ June, ২০২৬

শ্যুটার আসিফের পর ক্রিকেটার নাঈম: বিএনপি আমলে দুই ক্রীড়াবিদকে পুলিশি নির্যাতন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৪ June, ২০২৬ |
২০০৬ সালের ২রা অক্টোবর। গুলশানে জাতীয় শ্যুটিং ফেডারেশন ভবনের সামনের পুলিশ পিটিয়ে হাত ভেঙে দিয়েছিলো কমনওয়েলথ গেমসে সোনাজয়ী শ্যুটার আসিফ হোসেন খানকে। ২০ বছর পর জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে পেটালো পুলিশ। ক্রীড়াঙ্গনের এই দুই ন্যাক্কারজনক ঘটনাতেই রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা দলের নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০০৬ সালের সেই কালো দিনে গুলশানে জাতীয় শ্যুটিং ফেডারেশন ভবনের সামনে গাড়ি পার্কিং নিয়ে একটি তুচ্ছ বিবাদের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরেই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা চড়াও হন দেশের নামী ক্রীড়াবিদদের ওপর। কমনওয়েলথ গেমসে দেশের জন্য সোনা বয়ে আনা শ্যুটার আসিফ হোসেন খান, শ্যুটার আলী হোসেন শিপু, জাহাঙ্গীর হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস এবং কোচ শোয়েবুজ্জামানের ওপর নির্মমভাবে প্রহার

করা হয়। পুলিশের সেই মারধরে হাত ভেঙে গিয়েছিল দেশের গর্ব শ্যুটার আসিফের। দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও পুলিশি নির্যাতনের শিকার হলেন দেশের আরেকজন জাতীয় স্তরের ক্রীড়াবিদ। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ শেষ করে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামের ফ্লাইট ধরেন বাংলাদেশ টেস্ট দলের অফ স্পিনার নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে নেমে রাত সাড়ে দশটায় সিএনজি করে নিজের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। লালখান বাজার এলাকায় পৌঁছালে ডিবি পুলিশ তার পথ আটকায়। ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়: প্রথমে গাড়ির কাগজ দেখার ভান করে নাঈমকে কলার ধরে টেনে নামানো হয়। এরপর কোনো কিছু না বুঝেই পাইপ দিয়ে তাকে পেটানো শুরু করে পুলিশ। নির্যাতনের সময় নাঈম নিজের ক্রিকেটার পরিচয় দিলেও পুলিশ তা বিন্দুমাত্র

আমলে নেয়নি। ছাত্রলীগ নেতা দেশে ফিরেছেন ভেবে চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈমকে পেটালো পুলিশ স্থানীয়দের তথ্যমতে, গভীর রাতে বিমানবন্দর থেকে ফেরায় পুলিশ তাকে ‘ছাত্রলীগ নেতা’ ভেবে ভুল করে এই অমানবিক নির্যাতন চালায়। এতে আরেকটি চিত্রও বেরিয়ে আসে। পুলিশ কীভাবে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগকে নির্যাতন চালাচ্ছে। এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে সাধারণ মানুষ জড়ো হতে শুরু করে। উপস্থিত জনতা ক্রিকেটার নাঈমকে শনাক্ত করতে পারলে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। জনতার চাপের মুখে পড়ে পুলিশ তাকে সেখান থেকে সরিয়ে খুলশি থানায় নিয়ে যায়। তবে হয়রানি সেখানেই শেষ হয়নি; খুলশি থানাতেও নাঈমের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করে পুলিশ। পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সাধারণ মানুষের

চাপের মুখে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় তারা। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের ওপর পুলিশের এমন বর্বর আচরণের তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। একই সঙ্গে ক্রিকেটারদের অধিকার ও কল্যাণ নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোশিয়েসন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা ক্রিকেটার নাঈমের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত দোষী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছে। এদিকে বিএনপি আমলে আবার কেন ক্রীড়াবিদদের উপর পুলিশি নির্যাতন ঘটল তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে সমালোচনা। বিএনপি মুখে খেলাধুলায় উন্নয়নের কথা বললেও দেশের ক্রীড়াবিদদের

প্রাপ্য সম্মান দিতে জানে না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের