ঢাবি, বুয়েটসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, বিক্ষোভ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

ঢাবি, বুয়েটসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস উত্তপ্ত, বিক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ |
খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাস। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে বুয়েট, রাবি, জাবি ও জবিতে। পরস্পরকে দায়ী করে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সব সংগঠনই। সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে ‘কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে’ বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। অন্যদিকে, ছাত্রদলও রাজু ভাস্কর্যে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয়। পরে অবশ্য ছাত্রদল ডাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাজু ভাস্কর্য থেকে মিছিল নিয়ে ভিসি চত্বর ঘুরে পুনরায় রাজু ভাস্কর্যে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় জুলাইয়ে ছাত্রলীগের

হামলা এবং কুয়েটে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিওচিত্র বুধবার বিকেলে টিএসসিতে প্রদর্শনীর কর্মসূচি ঘোষণা করেন সমন্বয়ক আবু বাকের মজুমদার। সমাবেশে ছাত্রদলকে জালিম না হওয়ার আহ্বান করেন আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে নির্যাতনের কথা ভুলে যাবেন না। এই চাপাতির রাজনীতি ক্যাম্পাসে আবার ‘রি-ইনস্টল’ করতে চাইলে ছাত্রলীগ গেছে যে পথে, আপনারা যাবেন সেই পথে। গত ১৬ বছরে যে নির্যাতন হয়েছে, আপনারা মজলুম ছিলেন, আপনারা জালিম হয়েন না। মজলুম জালিম হলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে যায়। হাসনাত বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্মান জানাই। একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিতে চাই, আবার যারা ছাত্রলীগ হয়ে উঠতে চাইবে, শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের পরিণতি

ছাত্রলীগের মতোই হবে। শহীদদের রক্তের দায় আমাদের ওপর রয়েছে। তাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে মাদার পার্টির এজেন্ডা বাস্তবায়নের রাজনীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘রি-ইনস্টল’ করতে পারি না। শিক্ষার্থীদের জন্য রাজনীতি করতে চাইলে তাদের ভাষায় তাদের মতো চলতে হবে। কিন্তু আপনারা যদি আবার ক্যাডার পলিটিক্স করতে চান, হল দখল, সিট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি করতে চান, আপনাদের পরিণতি সাদ্দাম-ইনানের মতো হবে। সমন্বয়ক আবদুল কাদের বলেন, জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে কোনো দখলদারিত্বের ঠাঁই হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেমন ছাত্র রাজনীতির দরকার আছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিয়ে কাজ করতে হবে। যারা জোরজবরদস্তি করে রাজনীতি খাওয়ানোর চেষ্টা করে, তাদের পরিণতি ছাত্রলীগের মতো হবে। তিনি বলেন, ছাত্রলীগ তো অনেক পরাক্রমশালী ছিল, তাদের আমরা ঝেঁটিয়ে

বিদায় করেছি, ছাত্রদল তো গতকাল সকালে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে। আমরা ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছি, তারা যদি আবার শিক্ষার্থীদের ওপর হাত দিতে চায়, আমরা তাদের প্রতিরোধ করব। সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সমন্বয়ক রিফাত রশীদ, হাসিব আল ইসলাম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, নিশিতা জামান নিহাসহ বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা। এদিকে কুয়েটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারকে অপব্যবহার করে ফরম বিতরণের অভিযোগ এনে গুপ্ত সংগঠন শিবির ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কতিপয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী ছাত্রদলের নেতাকর্মীর ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ছাত্রদল। সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে তারা এ হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে। ছাত্রদলের সমাবেশে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ

চন্দ্র রায় সাহস বলেন, কুয়েটে দু’দিন আগে একটি টিম অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে ফরম বিতরণ করেছে, যা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আজকে একটি গুপ্ত সংগঠন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চাই না বলে মিছিল আয়োজন করেছিল। যারা সেখানে ছাত্রদলের ফরম পূরণ করেছে, তাদের ওপর হামলা করেছে। তারা একটি মব তৈরি করে শিক্ষার্থীদের বোঝাতে চাচ্ছে, ছাত্রদল ছাত্রলীগের মতো আধিপত্য করবে। তিনি বলেন, যারা ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি চাই না বলে মিছিল করেছিল, তারা এখন ক্যাম্পাসগুলোতে নামে-বেনামে সংগঠন খুলে বসে আছে। ছাত্রদল কোনো গেস্টরুম-গণরুমের সংস্কৃতি ধারণ করে না। ছাত্রদল সভাপতি বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মব তৈরি করা হয়েছিল, ছাত্রদল ডাকসু চায় না। কিন্তু ডাকসু আমাদের প্রাণের

দাবি। ৫ আগস্টের পর হয়তো কিছুদিন মব তৈরি করে তাদের আবেগকে নিয়ে খেলাধুলা করা গেছে; কিন্তু শিক্ষার্থীরা বুঝে গেছে, মব তৈরি করে কোনো ধরনের গুপ্তভিত্তিক চর্চা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আর হবে না। ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা, বিক্ষোভে বুয়েট এদিকে কুয়েটে ছাত্রদলের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। তারা হামলায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তারা বুয়েট শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পলাশী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বকশীবাজার ঘুরে পুনরায় বুয়েট শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে লিখিত বক্তব্য দেন বুয়েটের ১৯তম ব্যাচের ছাত্র আবু ওবায়দা মায়াজ এবং আরাফাত সাকিব। আরাফাত সাকিব বলেন, আমরা বুয়েটের

সাধারণ শিক্ষার্থীরা পরিষ্কার কণ্ঠে ঘোষণা করতে চাই, বাংলাদেশকে আরেকটি নৈরাজ্যপূর্ণ রাষ্ট্রে পরিণত হতে আমরা দেব না। হাজারো শহীদের রক্তস্নাত এই ফ্যাসিস্টমুক্ত স্বাধীন দেশে ফ্যাসিস্টদের পুরোনো পদচারণা আমরা মেনে নেব না। তিনি বলেন, ইতোপূর্বে বুয়েটে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেমন বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছি, ছাত্রদলের বর্তমান সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবস্থান অনড় এবং সুদৃঢ়। আবু ওবায়দা মায়াজ বলেন, আমরা কুয়েট প্রশাসনকে জানিয়ে দিতে চাই, কোনোভাবেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি পুনর্বাসনের চেষ্টা করবেন না। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। জাবি, জবিতেও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। গতকাল সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে পুনরায় বটতলায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে কুয়েটের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ না করলে ‘পরিণতি আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের চেয়েও ভয়ংকর হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরাও। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরের সামনে জড়ো হন। মিছিলটি শাঁখারীবাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কারমূলক রাজনীতি চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা তা দেখতে পাচ্ছি না। ক্যাম্পাসে রাজনীতি করতে হলে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গিয়ে তা করবেন না। যদি সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়, তবে শিক্ষার্থীরা চুপ থাকবেন না। এ ছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। এক বিবৃতিতে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ইবি সংসদ। (প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিরা)

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
দেশরত্ন শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ নতুন জামা থেকে রং ওঠলে কী করবেন বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাগৃহে ‘ডিসক্লোজার ডে’ করছাড় পাচ্ছে আইটি ফ্রিল্যান্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও স্টার্টআপ গৃহকর্মী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়ে কলিতা মাঝি পেলেন গৃহায়ণ মন্ত্রণালয় তদন্তের আগেই দুই কৃষি কর্মকর্তাকে বদলি, ডিএই’র ডিজি লাঞ্ছিত পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক, ঝুঁকিতে হাজারো আমানতকারীর অর্থ ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর শেয়ারে বড় পতন জনগণের ওপর বাড়তি ঋণ ও করভার চাপিয়ে বড় হচ্ছে বাজেটের আকার ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি: চাপে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার, মিলছে না আয়-ব্যয়ের খেরোখাতা ২০২৬-২৭ বাজেট: বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম জুলাই গেজেট স্ক্যাম: ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া আখতারুজ্জামান নাঈমকে বানানো হয় জুলাই শহীদ নেত্রকোণায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে জুলাই স্তম্ভে আগুন, ভিডিও বিশ্লেষণ করছে পুলিশ বুকে পাঁচটা তারকা আর কারও নেই: ব্রুনো গিমারেস মেসির গোলে প্রস্তুতি সারল আর্জেন্টিনা নোয়াখালীতে শিশুসহ নির্বিচারে গ্রেপ্তার: জাতিসংঘে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর জরুরি নোটিশ ‘সৎ লোকের শাসন’ দলের ইসলামী ব্যাংকে আর্থিক এবং পরিচালনায় দুর্নীতি-জালিয়াতির আশ্রয় বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ধস: ১০ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ২২ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল থানা পোড়ানো, পুলিশ হত্যাকারী সেই সমন্বয়ক মাহদী এখন মবের ভয়ে থানায় আশ্রয়ের সন্ধানে দলীয় পদ নেই, মামলাও নেই; শুধু আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে যশোরে কলেজ অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার