মুবারক হো মাহে রমজান – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ মার্চ, ২০২৫

মুবারক হো মাহে রমজান

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ মার্চ, ২০২৫ |
মানব জীবনে ধৈর্যাবলম্বনই হলো দুঃখ-কষ্ট ও বিপদাপদের একমাত্র প্রতিষেধক। দু’টি কারণে এই প্রতিষেধকের আয়োজন করার প্রয়োজন দেখা দেয়। প্রথমত, ইবাদত বন্দেগীর জন্য সর্বতোভাবে প্রস্তুত হতে হলে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। মানব জীবনে যা কিছু চাওয়া পাওয়া রয়েছে সবকিছু ইবাদতের মাধ্যমেই সম্পন্ন হতে পারে। মূলতঃ সিয়াম সাধনা ছাড়াও অন্যসব ইবাদতের জন্যও ধৈর্যের দারকার। অধৈর্য ব্যক্তি ইবাদতের কোন স্তরেই কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে উন্নীত হতে পারে না। ইবাদত আদায়কারী ব্যক্তিদের সামনে কয়েক ধরনের বাধা-বিপত্তি ও দুঃখ-কষ্ট এসে হাজির হয়। এতদপ্রসঙ্গে ইমাম আবু হামিদ গাজ্জালী (রহঃ) এই বাধাগুলোর শ্রেণী বিন্যাস এ ভাবে করেছেন। যেমনÑ এক ঃ এমন কোন ইবাদত নেই যাতে কোন কষ্ট থাকে না। এ জন্যই

ইবাদতের জন্য এত তাকীদ রয়েছে এবং তার বিনিময়ে সওয়াব ও পুণ্যদানের অঙ্গীকার করা হয়েছে। ইবাদতের জন্য কামনা-বাসনা বর্জন করতে হয় এবং কু-প্রবৃত্তির প্ররোচনা দমন করতে হয়। এ দুটো কাজ ইবাদত গুজার লোকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুই ঃ মানুষের কষ্টার্জিত পুণ্য-অটুট রাখাও তার জন্য অপরিহার্য। এজন্য সর্বদা তাকওয়া অবলম্বন করে চলতে হয় এবং এটাও ইবাদতকারীর জন্য কঠিন কাজ বটে। তিন ঃ দুনিয়া ফেতনা-ফাসাদে ভরপুর। দুনিয়াবাসীদের নানা ধরনের দুঃখ কষ্ট ও বিপদাপদের সম্মুখীন হতে হয়। যেমন- স্বজন বিয়োগ, রোগ-ব্যাধি, মান-সম্মানের হানি, চলাফেরার অসুবিধা, হিংসা, কুৎসা কিংবা লোভ লালসার শিকার হওয়া ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রেও ধৈর্যের প্রয়োজন। নতুবা অস্থিরচিত্ত নিয়ে যথাযথভাবে ইবাদত আদায় করা সম্ভবপর হয়

না। চার ঃ পারলৌকিক মুক্তিকামীর জন্য বিশেষভাবে নানারূপ দুঃখ-কষ্টের সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। বিবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তাকে উত্তীর্ণ হতে হয়। যে লোক যতবেশী আল্লাহর প্রিয় হতে চায় তাকে ততবেশী বিপদাপন্ন হতে হয়। তার সামনে পাহাড়তুল্য বাধা এসে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) আরও বলেনÑ তোমরা কি নূর নবী মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী শুননি? তিনি বলেছেনÑ মানুষের মধ্যে পরীক্ষার কঠিনতর স্তর আসে নবীদের জন্য। তৎপরবর্তী স্তর আসে আলেমদের জন্য। তারপর মানুষের স্তর অনুযায়ী পরীক্ষা চলে। সুতরাং যখনই কেউ ভালো কাজের ইচ্ছা করে এবং পারলৌকিক মুক্তির পথে পা বাড়ায়, তখনই তার সামনে কঠিন বিপদাপদের পরীক্ষা এসে হাজির হয়ে যায়। ধৈর্যের অনুপস্থিতিতে সে

তখন পথভ্রষ্ট হয় এবং পুণ্যের পথ বিচ্যুত হয়। ফলে তার মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ তায়ালা দুঃখ ক্লেশ ও বিপদাপদ সম্পর্কে সর্বদা সচেতন থাকার জন্য আমাদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ সবের মাধ্যমে যে পরীক্ষা হয়, তাও সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেনÑ তোমরা অবশ্যই জান ও মালের পরীক্ষার সম্মুখীন হবে এবং তোমাদের আগেকার আহলে কিতাবও মুশরিকদের তরফ হতে অবশ্যই অনেক কষ্টদায়ক কথা শুনবে। আল্লাহপাক অন্যত্র ইরশাদ করেছেনÑ আর তোমরা যদি ধৈর্য ধারণ কর তাকওয়া অবলম্বন করে চল, তাহলে অবশ্যই তা বহু হিম্মতের কাজ বলে গণ্য হবে। মোট কথা, আল্লাহ পাক যেন আগেই সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, আল্লাহর পথ বড়ই বিপদসংকুল। পরীক্ষার

কঠিনতর স্তরে এসে বান্দাকে বিপর্যস্ত করে দেয়া খুবই স্বাভাবিক। সুতরাং তাতে ধৈর্যাবলম্বনকারীরাই হলো প্রকৃত মানুষ। কেননা, বুঝতে হবে যে, মানবীয় দৃঢ়তা ও সংকল্পে স্থিরতা তার মধ্যে বিদ্যমান। তাই, আল্লাহর পথে যে পা বাড়াতে চায়, তাকে প্রথমেই ধরে নিতে হবে যে, সে কঠিন ঝুঁকি মাথায় নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, আমরণ তাকে প্রস্তুত থাকতে হবে পর্যায়ক্রমে আগত সকল প্রকার বিপদাপদ ও দুঃখ ক্লেশ সহ্য করার জন্য। নতুবা তার ইবাদতের ইচ্ছা শুধু ইচ্ছা হয়েই থাকবে। কোন আমল করাই তার পক্ষে সম্ভব হবে না। হযরত ফেজিয়েল ইবনে আয়াজ (রহঃ) বলেনÑ যে ব্যক্তি আখেরাতের পথে পা বাড়াতে চায়, সে যেন নিজের মধ্যে চার ধরনের মৃত্যুর অনুভূতি

নিয়ে অগ্রসর হয়। তাহলো (১) সাদা মৃত্যু (২) লাল মৃত্যু (৩) কালো মৃত্যু এবং (৪) পান্ডুর মৃত্যু। সাদা মৃত্যু হলো ক্ষুধার যাতনা। লাল মৃত্যু হলো শয়তানের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কষ্ট। কালো মৃত্যু হলো পাপ বর্জনের ক্লেশ এবং পান্ডুর মৃত্যু হলো একের পর এক পার্থিব দুঃখ-কষ্ট, দুর্ঘটনা প্রভৃতি। এ চার ধরনের মৃত্যুর স্বাদ যে গ্রহণ করতে পারবে, তার পক্ষেই কেবল পারলৌকিক সাফল্যের পথে অগ্রসর হওয়া চলে। মহান আল্লাহপাক আমাদেরকে এর পরিপূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য দান করুন, আমীন!

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
মুক্তি পেল ‘সর্দারবাড়ির খেলা’, প্রচারে নেই রোশান-বুবলী; কেন? মামদানির স্ত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদ, মিস ইসরাইলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলে কী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে? দেশের মোট রিজার্ভ ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার সন্তান নিতে ওপেনএআইয়ের সাবেক উপদেষ্টাকে শুক্রাণু দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানবহরে ৪ জুলাই যুক্ত হতে পারে কাতারের উপহারের উড়োজাহাজ সিএনএনের প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন ভাড়াটিয়াদের পক্ষে ৩১ মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা অর্জন মামদানির হরমুজে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন দীপু মনি, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২ শুভেন্দুর সহকারী হত্যাকাণ্ডে তৃণমূলকে নিশানা করল বিজেপি বাঁশখালীতে কৃষকের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মাদ্রাসায় নিয়োগের এক সপ্তাহের মধ্যেই শিশু ছাত্রকে বলাৎকার করে শ্রীঘরে হাফেজ ‘গুপ্ত, গুপ্ত, ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে আমির হামজাকে কলেজে অবরুদ্ধ ৫ আগস্টের পর দেশজুড়ে জঙ্গিবাদের প্রসার: মাদ্রাসায় টিটিপি জঙ্গির আত্মগোপন টের পায়নি গোয়েন্দা সংস্থা, চলে যাওয়ার পর তত্ত্ব-তালাশ! ‘ইউনূরজাহান’ গংয়ের ওপি বন্ধের খেসারত: হামের পর র‌্যাবিস টিকার সংকট, ‘বাদ যাবেনা একটি রোগও’ যবিপ্রবিতে জামায়াতপন্থি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ ঢাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈছা নেতাদের বৈষম্যমূলক গণমামলা: শত শত মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন হুমকিতে ইউনূস সরকারের সকল নৈরাজ্যের সুরক্ষা দিয়ে অবশেষে ব্যারাকে ফিরছে সেনাবাহিনী মিশন ব্যর্থ নাকি সফলতার পর দৃশ্যপট ত্যাগ?