মাথাপিছু ৩২ টাকা আর ২৭০ গ্রাম চাল, রাঙামাটির দেড়লাখ বানভাসির সাথে এ কেমন সরকারি তামাশা? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬

মাথাপিছু ৩২ টাকা আর ২৭০ গ্রাম চাল, রাঙামাটির দেড়লাখ বানভাসির সাথে এ কেমন সরকারি তামাশা?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৯ জুলাই, ২০২৬ |
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটি জেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জেলার সামগ্রিক জনজীবন। সরকারি হিসাবমতেই, জেলা জুড়ে অন্তত ১৩৫টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে, প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন এবং সব মিলিয়ে মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৭১৭ জন মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে এই বিপুলসংখ্যক দুর্গত মানুষের বিপরীতে সরকারিভাবে যে ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল ও নামমাত্র বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১ লাখ ৮ হাজারেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বিপরীতে সরকারিভাবে মাত্র ৩৫ লাখ টাকা এবং ২৯৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া

২ হাজার ৩১৪ প্যাকেট শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে, যার সুবিধা পেয়েছেন মাত্র ৩২ হাজার ৫৪৬ জন মানুষ। এর অর্থ হলো, জেলার প্রায় ৭৬ হাজার ৭১৭ জন বানভাসি মানুষ এখনও কোনও ধরনের সরকারি সহায়তার আওতায় আসেননি। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ করা এই ৩৫ লাখ টাকা ও ২৯৫ টন চাল যদি মোট ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হয়, তবে মাথাপিছু বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ৩২ টাকা এবং মাত্র ২৭০ গ্রাম চাল! ত্রাণের এমন অপ্রতুল চিত্র দেখে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে বাঘাইছড়ি ও বিলাইছড়ির ফারুয়া ইউনিয়ন থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করায় দুর্গতরা ঘরবাড়ি পুনর্গঠনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

তবে সড়ক যোগাযোগ এখনও পুরোপুরি সচল করা যায়নি। পানির প্রবল স্রোতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় বাঘাইছড়ির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ এখনও সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। জেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বন্যায় আনুমানিক ৪৮৩টি বসতঘর, ৩২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২৫টি সেতু-কালভার্ট এবং ৫৪৬.৫ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কৃষি খাতে ৩ হাজার ৬৭৫ হেক্টর ফসলি জমি এবং মৎস্যখাতে প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন জানান, ফারুয়া বাজারের ৭২টি দোকান এবং ১ হাজার ৯৮২টি বসতঘর বন্যার পানিতে ডুবে ছিল, যার মধ্যে ২৭৪টি স্থাপনা চরমভাবে

ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা স্থায়ী সমাধানের জন্য বাজারটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও বন বিভাগের আইনি জটিলতার কারণে তা আটকে আছে। অন্যদিকে, বাঘাইছড়ি উপজেলার ৮০ শতাংশ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল এবং ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি ছিল বলে জানিয়েছেন বাঘাইছড়ি ইউএনও আমেনা মারজান। বর্তমানে দুটি আশ্রয়কেন্দ্রে ২৯৫ জন মানুষ অবস্থান করছেন। ভবিষ্যত পরিকল্পনা হিসেবে প্রতিটি উপজেলায় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ফাইবার বোট প্রদান এবং পুনর্বাসনের জন্য ঢেউ টিন ও নগদ অর্থ মঞ্জুরির প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে রাঙামাটির সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক-টিআইবি) সদস্য মো. আলী প্রশাসনের বণ্টন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলেন, “আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল। অনেক মানুষ লোকলজ্জার

কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, তারা কোনও সুবিধাই পাননি। যারা সব হারিয়ে নিরুপায় হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছিলেন, কেবল তারাই কিছু সুবিধা পেয়েছেন, তবে সেই খাবার ও বরাদ্দ কোনভাবেই পর্যাপ্ত ছিল না।” রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি আনোয়ারুল হক এই বন্যার ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, “পার্বত্য তিন জেলায় অতীতে বন্যা ও পাহাড় ধসে এতো মানুষের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি কখনও হয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন বলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবর্গ এলাকা ঘুরে গিয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণের যে তথ্য পেয়েছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। ঘরবাড়ি পুনর্গঠনে সরকারি সহায়তা আরও দ্রুত ও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা জরুরি।” পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে গেলেও শত শত পরিবার এখনও কাদা-পানিতে মানবেতর জীবনযাপন

করছে। সর্বস্ব হারানো এই মানুষগুলো এখন কেবল নামমাত্র চাল আর টাকা নয়, বরং পুনর্বাসনের জন্য টেকসই ও কার্যকর সরকারি সহায়তার জোর দাবি জানাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ফাইনালে ১২০ মিনিট খেলে একটি শটও অন টার্গেটে নিতে পারেনি আর্জেন্টিনা মেসি কাঁদলেন, কাঁদালেন শতকোটি ভক্তকে টেস্ট-ওয়ানডেতে হারের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের ৫ জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির শঙ্কা সরকারি কর্মচারীদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কমানো থামালো কোন শক্তি? নতুন পাসপোর্টে যা যা পরিবর্তন আনা হচ্ছে বিনা বাধায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকতে পারবেন কর কর্মকর্তারা হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু সবচেয়ে ব্যয়বহুল বিশ্বকাপ ফাইনাল, এক টিকিটের দাম কত জানেন? রাত জেগে রিলস দেখছেন, লুকিয়ে আছে মারাত্মক বিপদ স্বর্ণের বাজারে হইচই, দাম কি আরও কমবে? ফেসবুক স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা হয় কিংবদন্তি নয়তো আক্ষেপ- ইয়ামালের ভাগ্য নির্ধারণের রাত আয় বাড়লেও রেলের লোকসান ১৮৮৮ কোটি বিশ্বকাপের পর বাতিল হতে পারে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ ট্রাম্প দেখবেন খেলা, প্রস্তুত থাকবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ঢাকাজুড়ে ফুটবল জ্বর, বড় পর্দার খোঁজে সমর্থকেরা বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রেকর্ড আয়ে ধামাচাপা পড়ছে বিতর্ক জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ