বদলে গেছে ঈদ উদযাপনের ধারা – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৩০ March, ২০২৫

বদলে গেছে ঈদ উদযাপনের ধারা

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৩০ March, ২০২৫ |
‘আমাদের সময়ে ঈদের দিন নামাজ শেষে ঘরে ঘরে সেমাই ও মিষ্টি খাওয়ার হিড়িক পড়ত। পাড়ায় পাড়ায় চেনা-অচেনা সবাই কেমন একাত্ম হয়ে যেত। ছোট ছেলেমেয়েরা সালামি নিতে আসত। সন্ধ্যায় থাকত পারিবারিক বিভিন্ন আয়োজন। একে-অন্যের বাড়িতে গিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করত। সে সময় এক অন্যরকম আমেজ ছিল। কিন্তু এখন ঈদে তরুণ-তরুণীদের দিকে তাকালে কেমন জানি ছন্নছাড়া একটা অনুভূতি কাজ করে।’ ঈদের দিনের অনুভূতি জানাতে কথাগুলো বলছিলেন সত্তরোর্ধ্ব রামিজা আক্তার। তাঁর মতো অনেকেরই ভাষ্য, সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে ঈদ উদযাপনের ধারা। আগে ঈদের আনন্দ পারিবারিক পরিমণ্ডলে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন এর গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এখনকার ঈদ মানে কে কী পরল, কোথায় ঘুরতে গেল– এসব দেখানোতেই ব্যস্ত। মূলত

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহজলভ্যতার ফলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে উৎসবের দিনগুলোতে পারিবারিক সম্পর্ক থেকে বেশ দূরে সরে গেছে বর্তমান প্রজন্ম। ঈদের তিন থেকে চার দিন সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা ও রাতে কোন কোন পোশাক পরে, কোন ক্যাপশন দিয়ে কী পোস্ট করা হবে– এসব নিয়ে আড্ডা দিতে ব্যস্ত থাকেন তরুণ-তরুণীরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাইয়ুম বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমে জয়ফুল মোমেন্ট (আনন্দের মুহূর্ত) শেয়ার না করতে পারলে নিজেকে খালি খালি লাগে।’ তবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিনা জামান বলেন, ‘স্রোতের বিপরীতে বা স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়েও চলে অনেকে। আমিও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবহার করি। কিন্তু তার পরিমিতও বোঝার চেষ্টা করি। কারণ আনন্দঘন মুহূর্তগুলো হয়তো ক্ষণিকের

জন্য ক্যামেরাবন্দি হবে, বাস্তবে তো আর আমি পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সেই সময়টা উপভোগ করতে পারব না। তাই চেষ্টা করি দুটো জায়গা ব্যালান্স করার।’ ২০০০ সাল পরবর্তী কয়েক বছরের ঈদ নিয়ে স্মৃতিচারণ করে বেসরকারি চাকরিজীবী আনিসা চৌধুরী বলেন, ‘সেই সময়ে দিনের দিন টেলিভিশন থেকে চোখ সরাতাম না। রোজার ঈদের ইত্যাদি তো কখনই মিস করতাম না। আর সঙ্গে আনন্দ মেলা। বিটিভিতে সিনেমা দেখাত। সেগুলো ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করতে না।’ উৎসবের ক্ষেত্রে প্রজন্মের ছন্দপতনের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, ‘এই পরিবর্তনটা মোটেও ভালো নয়।’ ছোটবেলার কথা মনে করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন আমাদের দুটো ঈদেই

স্কুল ছুটি হবে, আর আমরা জাদুঘরে যাব। অথবা হয়তো একটা ঈদ নানুবাড়ি ও অন্যটা দাদুবাড়ি এবং সব ভাইবোন নিয়ে আনন্দের সঙ্গে সময় কাটাব, নতুন একটা পোশাক পরব। বর্তমান সময়ের মতো এত দামি ও বিশেষ কোনো ব্র্যান্ডের না। একেবারে সাধারণ জামা হতো। ঈদের দিন বিভিন্ন বাড়ি গিয়ে ফিরনি খেতাম। সে এক অন্যরকম আনন্দঘন পরিবেশ ছিল।’ ড. ফাতেমা বলেন, ‘এখন ঈদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুধু ঈদের শুভেচ্ছা দিতে দেখা যায়। অনেকে ঈদে এখন দেশের বাইরে যান। আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু এটি পড়াশোনাসহ প্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রে বেশি ব্যবহার হওয়া প্রয়োজন। গ্রামের বাড়িতে রাস্তার জ্যাম ঠেলে অনেকে যেতে চান না। গেলেও

সেখানেও ফোনে ডুবে থাকেন। অথচ গ্রামের ঈদের যে একটা আলাদা আবহ রয়েছে, তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ঈদের পোশাক ও খাবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করার ফলে সমাজের অন্যস্তরের মানুষের মাঝে ঈদের আনন্দের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়ে। তারা নানাভাবে হীনম্মন্যতায় ভোগে। এসব থেকে আমাদের বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে হবে।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
বাঙালির ডিএনএতে লুকানো “চতুর্থ পূর্বপুরুষ”: দেড় হাজার বছর আগের নীরব অভিবাসনের গল্প lপিরোজপুরে ৫ আগস্টের পর থেকে মন্দিরের জমি দখল করে ধান চাষ জামায়াত আমিরের জামায়াত-শিবিরকে নিয়মিত ধুয়ে দেওয়া রাশেদ ছিলেন শিবিরের শপথবদ্ধ সাথী, গোমর ফাঁস শিল্পী-সাংস্কৃতিক কর্মীদের সমাবেশে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর ঘিরে টোকিওতে বিএনপির দুই গ্রুপের হাতাহাতি তুমি কে, আমি কে? বাঙালি… বাঙালি… – শেকড়, সংগ্রাম ও প্রত্যয়: বাঙালি জাতীয়তাবাদের অপরাজেয় অভিযাত্রা জয় বাংলা—রণাঙ্গনের গর্জন থেকে চেতনার মহাকাব্য অভিষেকের ৩৫ বলের সেঞ্চুরি, পাওয়ারপ্লেতে ভারতের বিশ্বরেকর্ড ব্রাজিলে নির্বাচনে হেরে গোপনে দেশত্যাগ ওয়াশিংটনের প্রার্থী ফ্লাভিও’র; পরিবারের সদস্যদেরও ভিসা দেবে ট্রাম্প প্রশাসন জাপান-বাংলাদেশ ইপিএঃ চার বছর পরিশ্রমের ফসল; রপ্তানিতে নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে কার্যকরের সম্ভাবনা বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাঁধা জামায়াতে ইসলামীর, জাবিতে যুদ্ধাপরাধী সাঈদি’র কুশপুত্তলিকা দাহ ২০২৩ সালে কৌশলগত অংশীদারত্ব ও অঙ্গীকার, ২০২৬ সালে বিনিয়োগে আগ্রহ ও সহযোগিতাঃ জাপান-বাংলাদেশ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ২৩’এর বৈঠকে বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টির অনুরোধ, ২৬’এ বাংলাদেশে পাঁচ বছরে ৬ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ জাপানের ইউনূসের জাপান সফরের ১৭ মাসঃ পাঁচ বছরে জাপানে ১ লাখ বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর চুক্তির অগ্রগতি কতোটা? ওয়াশিংটনে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগকে নিয়েই অবাধ নির্বাচন ও পুনর্মিলনের আহ্বান দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ায় লঙ্কানদের রেকর্ড জয় মানুষের পেটে ভাত নেই, ৭০% ছাড় দিয়েও বিক্রি হচ্ছে না জামা-কাপড়: ব্যবসা নেমেছে এক-তৃতীয়াংশে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক স্থবিরতা (স্ট্যাগফ্লেশন) এবং মহা অস্বীকৃতি কেরানীগঞ্জে নিজ ফ্ল্যাটে আওয়ামী লীগ নেত্রী ডালিয়াকে জবাই করে হত্যা