ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরি কত?
বেসরকারি খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে
কুরবানির জন্য প্রস্তুত ‘নেইমার’, দাম ১২ লাখ
মোটরসাইকেল মালিকদের থেকে অগ্রিম আয়কর যেভাবে আদায় করা হবে
নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়ল সরকার
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল
আমিরাতে হামলার পর বাড়ল তেলের দাম
নতুন অর্থনৈতিক রূপকল্পে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন দেখছে সরকার
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করা পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে সরে এসে এবার নতুন ধরনের একটি কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। নতুন এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আগামী এক দশকে দেশের অর্থনীতিকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা এবং উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনা। এ যাত্রার প্রথম ধাপ হিসাবে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
তবে এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য এমন একসময় ধরা হচ্ছে, যখন চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে খোদ সরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। একদিকে উচ্চ
মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনছে, অন্যদিকে সরকার প্রবৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে অর্থনীতির চাকা সচল করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু সংখ্যার ফাঁদ নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত আমূল সংস্কার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল কড়া মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় ঘটিয়ে একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে উৎপাদনশীল খাতকে সচল রাখা। তবে অর্থবছর শেষের দিকে চলে আসায় বাস্তব চিত্র বলছে, এ লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের
প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক সূচকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিল্প ও সেবা-উভয় খাতেই প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল আমদানিতে কড়াকড়ি এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণে উৎপাদন খাত আশানুরূপ গতি পায়নি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মূল্যায়ন বরাবরই কিছুটা রক্ষণশীল ও বাস্তবঘেঁষা। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে। অন্যদিকে আইএমএফ তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আউটলুকে এটিকে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেঁধে রেখেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের মতে, উচ্চ
মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, যা প্রবৃদ্ধির গতিকে টেনে ধরছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিবছর গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা আবশ্যক। আর সেই কারণেই আসন্ন বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় এই সাহসিকতা বা উচ্চাভিলাষ দেখানো হচ্ছে। সরকার মূলত কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান
বলেন, আমাদের লক্ষ্য থাকা ভালো এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাও যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানো ঠিক হবে না। বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কম। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের হার জিডিপির অন্তুত ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যা এখন মাত্র ২৭-২৮ শতাংশে আটকে আছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত না করে কেবল লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বস্তি আনা যাবে না। সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ধরাটা স্বাভাবিক। এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রবৃদ্ধির গুণগত মান ও অর্থায়ন। প্রবৃদ্ধি
বাড়াতে গেলে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি।
মূল্যস্ফীতি এবং ডলার সংকটের কারণে উন্নয়ন সহযোগীরা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে আনছে, অন্যদিকে সরকার প্রবৃদ্ধির গতি বাড়িয়ে অর্থনীতির চাকা সচল করতে চাইছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে শুধু সংখ্যার ফাঁদ নয়, প্রয়োজন কাঠামোগত আমূল সংস্কার। চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। সংশোধিত বাজেটে এই লক্ষ্যমাত্রা ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। সরকারের লক্ষ্য ছিল কড়া মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় ঘটিয়ে একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, অন্যদিকে উৎপাদনশীল খাতকে সচল রাখা। তবে অর্থবছর শেষের দিকে চলে আসায় বাস্তব চিত্র বলছে, এ লক্ষ্যমাত্রা পুরোপুরি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। চলতি অর্থবছরের
প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের অর্থনৈতিক সূচকগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শিল্প ও সেবা-উভয় খাতেই প্রবৃদ্ধির গতি শ্লথ। জ্বালানি সংকট, কাঁচামাল আমদানিতে কড়াকড়ি এবং ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণে উৎপাদন খাত আশানুরূপ গতি পায়নি। বাংলাদেশ সরকারের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের মূল্যায়ন বরাবরই কিছুটা রক্ষণশীল ও বাস্তবঘেঁষা। বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে। অন্যদিকে আইএমএফ তাদের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আউটলুকে এটিকে ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেঁধে রেখেছে। উন্নয়ন সহযোগীদের মতে, উচ্চ
মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, দুর্বল রাজস্ব আদায় এবং ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে, যা প্রবৃদ্ধির গতিকে টেনে ধরছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের জিডিপি এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে প্রতিবছর গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের ওপর প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা আবশ্যক। আর সেই কারণেই আসন্ন বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রায় এই সাহসিকতা বা উচ্চাভিলাষ দেখানো হচ্ছে। সরকার মূলত কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, মেগা প্রকল্পগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান
বলেন, আমাদের লক্ষ্য থাকা ভালো এবং এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাও যৌক্তিক। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ানো ঠিক হবে না। বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কম। এ অবস্থায় প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হলে বিনিয়োগের হার জিডিপির অন্তুত ৩২ থেকে ৩৩ শতাংশে উন্নীত করতে হবে, যা এখন মাত্র ২৭-২৮ শতাংশে আটকে আছে। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত না করে কেবল লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে অর্থনৈতিক স্বস্তি আনা যাবে না। সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ বলেন, বাজেটে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা বাড়িয়ে ধরাটা স্বাভাবিক। এটি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে মূল চ্যালেঞ্জ হলো প্রবৃদ্ধির গুণগত মান ও অর্থায়ন। প্রবৃদ্ধি
বাড়াতে গেলে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি।



