ঢাবিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি ও শিক্ষক সংগঠন নিষিদ্ধের দাবির প্রতিবাদ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৯ আগস্ট, ২০২৬

ঢাবিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি ও শিক্ষক সংগঠন নিষিদ্ধের দাবির প্রতিবাদ

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৯ আগস্ট, ২০২৬ |
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং এর পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে Centre for Human Rights, Democracy and Justice (CHRDJ)। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষককে রাজনৈতিক মতাদর্শ, মতপ্রকাশ, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা অথবা অস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে প্রগতিশীল শিক্ষক সংগঠনসহ কোনো শিক্ষক সংগঠনকে সামষ্টিকভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত কার্যক্রমেও আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই—কোনো শিক্ষকের রাজনৈতিক মতাদর্শ, নাগরিক হিসেবে মতপ্রকাশ কিংবা কোনো বৈধ শিক্ষক সংগঠনের সদস্যপদ নিজে থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না।

কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হলে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট, ব্যক্তিনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য অসদাচরণ প্রতিষ্ঠিত হতে হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, ন্যায্য ও আইনসম্মত হতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো সাধারণ প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান নয়। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, প্রগতিশীল চিন্তা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষ, জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র। অতএব, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতা কোনো অবস্থাতেই মতাদর্শগত শুদ্ধি অভিযান, ভিন্নমত দমন কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ারে পরিণত হওয়া উচিত নয়। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ,

বরখাস্ত ও সাময়িক বরখাস্তের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা থাকলেও সেই ক্ষমতা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আদেশ, স্ট্যাটিউটস ও অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী প্রয়োগ করতে হবে। অস্পষ্ট অভিযোগ, সামষ্টিক দায় আরোপ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা মতপ্রকাশের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৮ অনুচ্ছেদ নাগরিকের সংগঠনের স্বাধীনতা এবং ৩৯ অনুচ্ছেদ চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিয়েছে। একইভাবে নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (ICCPR)-এর ১৯ ও ২২ অনুচ্ছেদে যথাক্রমে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা স্বীকৃত হয়েছে। উচ্চশিক্ষার শিক্ষক-কর্মীদের মর্যাদাবিষয়ক ইউনেস্কোর ১৯৯৭ সালের সুপারিশমালাতেও একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বায়ত্তশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত ও প্রতিনিধিত্বমূলক সংগঠনে অংশগ্রহণের অধিকারের ওপর বিশেষ

গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করি, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি মতাদর্শগত একরৈখিকতায় নয়; বরং মতের বহুত্ব, সমালোচনামূলক চিন্তা, গবেষণার স্বাধীনতা, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক এবং ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতায়। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে যদি ভিন্নমতাবলম্বী শিক্ষক, গবেষক বা সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে। এতে শিক্ষকসমাজে ভীতি ও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে একাডেমিক স্বাধীনতা, গবেষণা, পাঠদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই—মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কখনো মতদমন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, সামষ্টিক শাস্তি কিংবা প্রশাসনিক নিপীড়নের নাম হতে পারে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মর্মবাণী হলো মানবিক মর্যাদা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের

স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানে এসব মূল্যবোধ রক্ষা করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দাবি সাম্প্রতিক শিক্ষক বরখাস্ত, সাময়িক বরখাস্ত এবং একাডেমিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসমূহ ন্যায্যতা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার আলোকে অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে। যেকোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, ব্যক্তিনির্দিষ্ট প্রমাণ, আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যাপ্ত সুযোগ এবং নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ শুনানির ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শ, নাগরিক মতপ্রকাশ কিংবা কোনো বৈধ শিক্ষক সংগঠনের সদস্যপদকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। কোনো শিক্ষক সংগঠনকে রাজনৈতিক বা আদর্শিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সামষ্টিকভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া যাবে না। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা ব্যক্তিনির্দিষ্টভাবে এবং আইনসম্মত

প্রক্রিয়ায় বিচার করতে হবে। ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশে নিহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, একাডেমিক স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের চেতনা সমুন্নত রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও মতাদর্শগত একরৈখিকতার ক্ষেত্র না বানিয়ে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, বিতর্ক ও মুক্তচিন্তার নিরাপদ পরিসর হিসেবে রক্ষা করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সব তদন্ত ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, নিরপেক্ষতা, প্রমাণভিত্তিকতা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। আমরা বাংলাদেশ সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, দেশের শিক্ষকসমাজ, নাগরিক সমাজ, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই—বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একাডেমিক স্বাধীনতা, শিক্ষক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংগঠনের স্বাধীনতা রক্ষায় সোচ্চার হোন এবং যেকোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক, বৈষম্যমূলক বা অন্যায্য পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নীতিগত

অবস্থান গ্রহণ করুন। CHRDJ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে—বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র নয়; বিশ্ববিদ্যালয় হবে মুক্তচিন্তা, জ্ঞান, যুক্তি ও মতের বহুত্বের নিরাপদ আশ্রয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের ভয়মুক্ত মতপ্রকাশ, সংগঠনের স্বাধীনতা, একাডেমিক স্বাধীনতা এবং ন্যায্য প্রক্রিয়ার অধিকার নিশ্চিত করাই আজ সময়ের দাবি। ধন্যবাদান্তে, ড. মাহবুব আলম প্রদীপ, আহ্বায়ক [Centre for Human Rights, Democracy and Justice (CHRDJ)] ড. মোল্লা হক, যুগ্ম আহ্বায়ক [Centre for Human Rights, Democracy and Justice (CHRDJ)]

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
অস্ট্রেলিয়ায় ব্যাটিং বিপর্যয়, ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম: মমতা দাম বাড়ল জেট ফুয়েলের ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৬৭২ এটিএমে কার্ড স্পর্শ করেই তোলা যাবে টাকা, নেই আটকে যাওয়ার ভয় বাংলাদেশ সফরে দল পাঠাচ্ছে না ভারত ঢাবিতে রাজনৈতিক বিবেচনায় শিক্ষক বরখাস্ত, অব্যাহতি ও শিক্ষক সংগঠন নিষিদ্ধের দাবির প্রতিবাদ শেখ হাসিনা সরকারের গড়া মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুতকেন্দ্র ঘুরে ঘুরে দেখলেন তারেক রহমান পদ্মা রেলসেতু: কোটি কোটি টাকার সিগন্যাল সরঞ্জাম চুরি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ৭০% অচল আশুলিয়ায় ছুটির মধ্যেই একযোগে ৫৬৫ পোশাক শ্রমিক ছাঁটাই, কোথায় যাবে অসহায় পরিবারগুলো? অনুমতি ছাড়া কারও ছবি তোলা কি অপরাধ? সার্বিয়ায় ঐতিহাসিক সফরে গেলেন জেলেনস্কি বাইডেনের শরীরে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে হরমুজ খুলতে ক্ষতিপূরণ চায় ইরান, উদ্বিগ্ন উপসাগরীয় দেশ যাত্রীদের অভিযোগ— রাত কাটাচ্ছেন মেঝেতে, খাবার ও চিকিৎসায় অব্যবস্থাপনা গণহারে পোলট্রি খামার ডেকে আনছে যে বিপদ! ক্রিকেট তারকার সঙ্গে অভিনেত্রীর প্রেমের গুঞ্জন চটপটি খাওয়ানোর কথা বলে ব্রিজের নিচে নিয়ে ছাত্রকে ধর্ষণ, মাদ্রাসার হাফেজকে গণপিটুনি যুবলীগ নেতার বাড়িতে হামলা-লুটপাটে গিয়ে জনতার প্রতিরোধে হাত খোয়ানো বিএনপি নেতা কীভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’? রাশেদ: জুলাইর সঙ্গে প্রথম বেইমানি করেন জামায়াত আমির, ক্ষমতায় যেতে অন্যায়, মিথ্যাচার ও মোনাফেকি করেছেন