ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গুচ্ছভুক্ত ২০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
চট্টগ্রামে কলেজছাত্রীকে অপহরণ করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
জিপিএ-৫ পেয়েও যে কারণে ভর্তির জন্য কলেজ পায়নি ২২০৫ শিক্ষার্থী
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ
ডাকসুর প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি
এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ডাকসুর দেয়ালে বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন: ছাত্র মৈত্রীর ক্ষোভ
ঢাবির হলে কমিটির বদলে সমন্বয়ক দিল শিবির, মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। গত ৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১২টি আবাসিক হল ও ছয়টি অনুষদে মোট ১৮ জনকে সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে হলভিত্তিক কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক দেওয়ার এ সিদ্ধান্তকে দ্বিচারিতা হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা। তাদের অভিযোগ, অতীতে অন্য সংগঠনগুলো কমিটি দিলে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের পক্ষে অবস্থান নেওয়া শিবির এখন নিজেরাই হল ও অনুষদে সাংগঠনিক কার্যক্রম বিস্তৃত করছে। পাশাপাশি হলগুলোতে গুপ্ত রাজনৈতিক চর্চা বৃদ্ধির ফলে প্রকৃত সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব হতে পারেও বলে মনে করছেন অনেকে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবির বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে ছাত্ররাজনীতি চলবে কিনা, সে বিষয়ে প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট রূপরেখা
নেই। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর হল প্রশাসন ছাত্রদলকে একপাক্ষিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই সমন্বয়ক দেওয়া হয়েছে। শিবিরের ১২টি হল ও ৬টি অনুষদে ১৮ জন সমন্বয়কের মধ্যে ১৬ জনই ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি। স্যার এ এফ রহমান হলের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহিল আবরার ওই হলের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক। তবে তিনি তখন ছাত্রশিবির পরিচয়ে নির্বাচন করেননি। বিজয় একাত্তর হলের সমন্বয়ক আশিক বিল্লাহ ওই হলের নির্বাচিত জিএস, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সমন্বয়ক রাফিদ হাসান সাফওয়ান ওই হলের জিএস, সূর্যসেন হলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইমরান হলের পাঠকক্ষবিষয়ক সম্পাদক, জসীম উদদীন হলের সমন্বয়ক রুকন উদ্দিন হল সংসদের সদস্য, জিয়াউর রহমান হলের সমন্বয়ক
আসিফ ইমাম হল সংসদের জিএস। শেখ মুজিবুর রহমান হলের সমন্বয়ক মুশফিক তাজওয়ার মাহির হল সংসদের এজিএস, জহুরুল হক হলের সমন্বয়ক আহসান হাবীব ইমরোজ হলের ভিপি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সমন্বয়ক আছেম ইবনে কালাম ডাকসু নির্বাচন করেননি। শহিদুল্লাহ হলের তাওকির হাসান হলের জিএস, ফজলুল হক হলের সমন্বয়ক ইমামুল হাসান হলের জিএস এবং অমর একুশে হলের এজিএস ওই হলের শিবিরের সমন্বয়ক। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম সাব্বির ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সমন্বয়ক মুসলিমুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিপি, কলা অনুষদের সমন্বয়ক হাসানুল বান্না বিজয় একাত্তর হলের ভিপি, আইন অনুষদের সমন্বয়ক সাখাওত জাকারিয়া ডাকসুর আইনবিষয়ক
সম্পাদক, বিজ্ঞান অনুষদের সমন্বয়ক মো. রবিউল ইসলাম অমর একুশে হলের ভিপি এবং ইনস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়ক এস এম জাহিদুল আলম ডাকসু নির্বাচন করেননি। এর আগে গত বছরের ৮ আগস্ট হলগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এর প্রায় ১৩ মাস পর সমন্বয়ক দেয় শিবির। ছাত্রদলের হল কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে ওই দিন রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী। দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ। যদিও ওই ঘোষণার পর এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক নথি বা ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে ওই আন্দোলন হলেও এর নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল
ছাত্রদল। কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক কেন দেওয়া হলো—এ প্রসঙ্গে ঢাবি শিবিরের ছাত্র অধিকারবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, প্রতিটা সংগঠনের একটা পলিসি আছে। এটা আমাদের একটা পলিসি। হলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, মিছিল, মিটিং শিক্ষার্থীরা চায় না। আমাদের ছাত্ররাজনীতি তো খুব একটা পরিশীলিত না ফলে আমরা হল কমিটি দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, শিবির যে নাটক শুরু করেছে তা হাস্যকর। শিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি কোনো ইউনিট সদস্য শাখা হয় তাহলে তার আন্ডারে অনেকগুলো ইউনিট থাকা লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সদস্য শাখা তার আন্ডারে হল কমিটি আছে এটা সবারই জানা। তিনি আরও বলেন,
আমাদের বিজয় একাত্তর হলের ২ ভবনে শিবিরের দুইটা কমিটি আছে। অনুষদভিত্তিক কমিটিও আছে। তারা আগে বলতো—ছাত্রলীগের কারণে হেকমত অবলম্বন করার কারণে কমিটি প্রকাশ হয়নি এখন তো সমস্যা থাকার কথা না। আব্দুল কাদের বলেন, ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতির সুবিধাটা ভোগ করতে চায়। আরেকটা শঙ্কা হলো যদি কোনোভাবে ছাত্রলীগ ফিরে আসে এই ভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করে। তবে যেহেতু ছাত্রদলের হল কমিটি আছে ফলে প্রশাসন যেকোনো আলোচনায় ছাত্রদলকে ডাকলেও সেখানে শিবিরের কমিটি না থাকায় শিবিরের প্রতিনিধি থাকতে পারবে না। হল প্রশাসনের সঙ্গে যাতে সমন্বয় করতে পারে এজন্যই একজনকে সমন্বয়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাবি শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন,
এটা আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। আমাদের মনে হয়েছে সমন্বয়ক দরকার; তাই দিয়েছি। যখন মনে হবে কমিটি দিতে হবে তখন আমরা কমিটি দিবো। তবে ছাত্রদল বলছে, গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসকে বিরাজনীতিকরণ করার উদ্দেশ্যেই কমিটি প্রকাশ করেনি শিবির। ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি করার যে অবারিত সুযোগ ছিলো, এবং অনেকক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করার যে দায়িত্ব ছিলো, তা পায়ে ঠেলে দিয়ে ক্যাম্পাসে বিরাজনীতিকরণের পক্ষে যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে- তারাই এখন এরকম দ্বিমুখী কার্যক্রম করে হাসির খোরাক হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সর্দি লাগার কারণে নিজের নাক কেটে ফেললে আদৌ কোনো সমাধান হয় না। বরং অন্যের কাছে কৌতুকের বস্ততে পরিণত হওয়া লাগে- এতটুকু বুঝবার মত রাজনৈতিক জ্ঞান তাদের নেই বোধকরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আগে থেকেই শিবিরের কমিটি আছে জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার বলেন, এর আগে এস এম ফরহাদ বলেছিলো হলগুলোতে তাদের ছোট টিম আছে। তাহলে এখন একজনকে প্রকাশ করতে হবে কেন? বিষয়টা ইতিবাচক যে তারা অন্তত একজনকে প্রকাশ করেছে। আমি চাই, তারা পুরো কমিটি প্রকাশ করে প্রকাশ্যে রাজনীতি করুক। কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। কবি জসীম উদ্দিন হলের শিক্ষার্থী ইউনূস বলেন, শিবিরের কে কে হলে থাকে অনেককেই শিক্ষার্থীরা চেনে। তারা প্রকাশ্যে শিবিরের পক্ষে রাজনীতি করে। কিন্তু কোনো পদ নেই। ফলে এদেরকে শিবির বললে বলবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। কমিটি প্রকাশ করলে তো সমস্যার কিছু নেই। ৫ আগস্টের পরে হানাহানির রাজনীতি আর ক্যাম্পাসে নেই। তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন জিয়া হলের শিক্ষার্থী টিপু। তিনি জানান, তাদের পলিসি অনুযায়ী তারা কাজ করছে। এখানে তো অন্যায় কিছু নেই। কমিটি প্রকাশ করলে সবাই সামনে আসতো। তবে আড়ালে থেকে কোনো ক্ষতি তো করছে না। ছাত্রী হলগুলোতে নেই সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১২টি হল ও ছয়টি অনুষদে সমন্বয়ক দেওয়া হলেও ছাত্রীদের হলগুলোতে কোনো সমন্বয়ক দেয়নি ইসলামী ছাত্রশিবির। এর কারণ জানতে চাইলে মিফতাহুল মারুফ বলেন, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কাঠামো শুধু ছাত্রদের জন্য।
নেই। পাশাপাশি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর হল প্রশাসন ছাত্রদলকে একপাক্ষিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই সমন্বয়ক দেওয়া হয়েছে। শিবিরের ১২টি হল ও ৬টি অনুষদে ১৮ জন সমন্বয়কের মধ্যে ১৬ জনই ডাকসু ও হল সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি। স্যার এ এফ রহমান হলের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহিল আবরার ওই হলের অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক। তবে তিনি তখন ছাত্রশিবির পরিচয়ে নির্বাচন করেননি। বিজয় একাত্তর হলের সমন্বয়ক আশিক বিল্লাহ ওই হলের নির্বাচিত জিএস, হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের সমন্বয়ক রাফিদ হাসান সাফওয়ান ওই হলের জিএস, সূর্যসেন হলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইমরান হলের পাঠকক্ষবিষয়ক সম্পাদক, জসীম উদদীন হলের সমন্বয়ক রুকন উদ্দিন হল সংসদের সদস্য, জিয়াউর রহমান হলের সমন্বয়ক
আসিফ ইমাম হল সংসদের জিএস। শেখ মুজিবুর রহমান হলের সমন্বয়ক মুশফিক তাজওয়ার মাহির হল সংসদের এজিএস, জহুরুল হক হলের সমন্বয়ক আহসান হাবীব ইমরোজ হলের ভিপি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সমন্বয়ক আছেম ইবনে কালাম ডাকসু নির্বাচন করেননি। শহিদুল্লাহ হলের তাওকির হাসান হলের জিএস, ফজলুল হক হলের সমন্বয়ক ইমামুল হাসান হলের জিএস এবং অমর একুশে হলের এজিএস ওই হলের শিবিরের সমন্বয়ক। এছাড়া সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম সাব্বির ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সমন্বয়ক মুসলিমুর রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ভিপি, কলা অনুষদের সমন্বয়ক হাসানুল বান্না বিজয় একাত্তর হলের ভিপি, আইন অনুষদের সমন্বয়ক সাখাওত জাকারিয়া ডাকসুর আইনবিষয়ক
সম্পাদক, বিজ্ঞান অনুষদের সমন্বয়ক মো. রবিউল ইসলাম অমর একুশে হলের ভিপি এবং ইনস্টিটিউটগুলোর সমন্বয়ক এস এম জাহিদুল আলম ডাকসু নির্বাচন করেননি। এর আগে গত বছরের ৮ আগস্ট হলগুলোতে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছিল জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এর প্রায় ১৩ মাস পর সমন্বয়ক দেয় শিবির। ছাত্রদলের হল কমিটি ঘোষণার প্রতিবাদে ওই দিন রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন একদল শিক্ষার্থী। দাবির মুখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের ঘোষণা দেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ। যদিও ওই ঘোষণার পর এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে কোনো দাপ্তরিক নথি বা ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিতে ওই আন্দোলন হলেও এর নেতৃত্বে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ছিলেন বলে তখন অভিযোগ তুলেছিল
ছাত্রদল। কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক কেন দেওয়া হলো—এ প্রসঙ্গে ঢাবি শিবিরের ছাত্র অধিকারবিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবীব ইমরোজ বলেন, প্রতিটা সংগঠনের একটা পলিসি আছে। এটা আমাদের একটা পলিসি। হলের মধ্যে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম, মিছিল, মিটিং শিক্ষার্থীরা চায় না। আমাদের ছাত্ররাজনীতি তো খুব একটা পরিশীলিত না ফলে আমরা হল কমিটি দেইনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ও ডাকসুর ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের বলেন, শিবির যে নাটক শুরু করেছে তা হাস্যকর। শিবিরের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী যদি কোনো ইউনিট সদস্য শাখা হয় তাহলে তার আন্ডারে অনেকগুলো ইউনিট থাকা লাগে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু সদস্য শাখা তার আন্ডারে হল কমিটি আছে এটা সবারই জানা। তিনি আরও বলেন,
আমাদের বিজয় একাত্তর হলের ২ ভবনে শিবিরের দুইটা কমিটি আছে। অনুষদভিত্তিক কমিটিও আছে। তারা আগে বলতো—ছাত্রলীগের কারণে হেকমত অবলম্বন করার কারণে কমিটি প্রকাশ হয়নি এখন তো সমস্যা থাকার কথা না। আব্দুল কাদের বলেন, ছাত্রশিবির গুপ্ত রাজনীতির সুবিধাটা ভোগ করতে চায়। আরেকটা শঙ্কা হলো যদি কোনোভাবে ছাত্রলীগ ফিরে আসে এই ভয়ও তাদের মধ্যে কাজ করে। তবে যেহেতু ছাত্রদলের হল কমিটি আছে ফলে প্রশাসন যেকোনো আলোচনায় ছাত্রদলকে ডাকলেও সেখানে শিবিরের কমিটি না থাকায় শিবিরের প্রতিনিধি থাকতে পারবে না। হল প্রশাসনের সঙ্গে যাতে সমন্বয় করতে পারে এজন্যই একজনকে সমন্বয়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাবি শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ বলেন,
এটা আমাদের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। আমাদের মনে হয়েছে সমন্বয়ক দরকার; তাই দিয়েছি। যখন মনে হবে কমিটি দিতে হবে তখন আমরা কমিটি দিবো। তবে ছাত্রদল বলছে, গণতান্ত্রিক ক্যাম্পাসকে বিরাজনীতিকরণ করার উদ্দেশ্যেই কমিটি প্রকাশ করেনি শিবির। ঢাবি ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামী বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত গণতান্ত্রিক ছাত্ররাজনীতি করার যে অবারিত সুযোগ ছিলো, এবং অনেকক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক রাজনীতির পক্ষে থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদেরকে সচেতন করার যে দায়িত্ব ছিলো, তা পায়ে ঠেলে দিয়ে ক্যাম্পাসে বিরাজনীতিকরণের পক্ষে যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে- তারাই এখন এরকম দ্বিমুখী কার্যক্রম করে হাসির খোরাক হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সর্দি লাগার কারণে নিজের নাক কেটে ফেললে আদৌ কোনো সমাধান হয় না। বরং অন্যের কাছে কৌতুকের বস্ততে পরিণত হওয়া লাগে- এতটুকু বুঝবার মত রাজনৈতিক জ্ঞান তাদের নেই বোধকরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আগে থেকেই শিবিরের কমিটি আছে জানিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু বাকের মজুমদার বলেন, এর আগে এস এম ফরহাদ বলেছিলো হলগুলোতে তাদের ছোট টিম আছে। তাহলে এখন একজনকে প্রকাশ করতে হবে কেন? বিষয়টা ইতিবাচক যে তারা অন্তত একজনকে প্রকাশ করেছে। আমি চাই, তারা পুরো কমিটি প্রকাশ করে প্রকাশ্যে রাজনীতি করুক। কমিটি না দিয়ে সমন্বয়ক দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও। কবি জসীম উদ্দিন হলের শিক্ষার্থী ইউনূস বলেন, শিবিরের কে কে হলে থাকে অনেককেই শিক্ষার্থীরা চেনে। তারা প্রকাশ্যে শিবিরের পক্ষে রাজনীতি করে। কিন্তু কোনো পদ নেই। ফলে এদেরকে শিবির বললে বলবে ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। কমিটি প্রকাশ করলে তো সমস্যার কিছু নেই। ৫ আগস্টের পরে হানাহানির রাজনীতি আর ক্যাম্পাসে নেই। তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন জিয়া হলের শিক্ষার্থী টিপু। তিনি জানান, তাদের পলিসি অনুযায়ী তারা কাজ করছে। এখানে তো অন্যায় কিছু নেই। কমিটি প্রকাশ করলে সবাই সামনে আসতো। তবে আড়ালে থেকে কোনো ক্ষতি তো করছে না। ছাত্রী হলগুলোতে নেই সমন্বয়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ১২টি হল ও ছয়টি অনুষদে সমন্বয়ক দেওয়া হলেও ছাত্রীদের হলগুলোতে কোনো সমন্বয়ক দেয়নি ইসলামী ছাত্রশিবির। এর কারণ জানতে চাইলে মিফতাহুল মারুফ বলেন, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক কাঠামো শুধু ছাত্রদের জন্য।



