মমতার রাজনৈতিক জীবনের অভিশপ্ত দিন শুক্রবার, খোয়ালেন দলীয় নাম ও প্রতীক – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ September, ২০২৬

মমতার রাজনৈতিক জীবনের অভিশপ্ত দিন শুক্রবার, খোয়ালেন দলীয় নাম ও প্রতীক

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ September, ২০২৬ |
একই দিনে একের পর এক ধাক্কা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে এরকম শুক্রবার আগে এসেছে কিনা সন্দেহ। আগেই ভেঙে খান খান হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। এবার পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা উপ-নির্বাচনের আগে খোয়ালেন দলীয় নাম ও প্রতীক। অন্যদিকে, নমিনেশন জমা দেওয়ার সময় সীমা শেষ হওয়ার পর নন্দীগ্রামের মত হেভিওয়েট আসন থেকে নমিনেশন তুলে নিলেন মমতার প্রার্থী। আবার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে তড়িঘড়ি করে কংগ্রেসকে সমর্থন জানালেন মমতা। এক ঘণ্টার মধ্যে খুনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হলো নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীকে। দলের নতুন নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের নতুন নাম হলো ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’। তাদের প্রতীক ‘ফুটবলার’। অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম হলো ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল

কংগ্রেস’। প্রতীক হলো ‘খাম’। পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের আগে প্রতীক যুদ্ধে ইতি টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের এমনই অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের উপনির্বাচনে মমতা ও ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীদের এই প্রতীক এবং এই দলের নামেই নির্বাচনে লড়াই করতে হবে। আজ শুক্রবার দুপুরে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বিধানসভা উপনির্বাচনের লড়াই করার জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীই নতুন দলের নাম ও প্রতীকের জন্য নিজেদের পছন্দের তালিকা নির্ধারিত সময় আজ শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়। সূত্রের খবর, এর আগে গতকাল দিবাগত রাত ১২টার পর

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দলের নাম ও প্রতীকের জন্য তিনটি করে বিকল্প জমা দেয়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী আজ শুক্রবার সকালে তাদের পছন্দের তালিকা পাঠায়। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসে দলের নাম ও নাম প্রতীকের দখল নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া দল ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীক আপাতত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে দুই গোষ্ঠীই ওই নাম বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এদিকে, আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভার উপনির্বাচন। যেখানে

তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক চেয়ে আবেদন করেছে দুই পক্ষের চারজন প্রার্থী। এমন অবস্থায় নির্বাচন কমিশনে দুই পক্ষের শুনানি চলমান অবস্থায় থাকায় সাক্ষ্য প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারছিল না কমিশন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক স্থগিত করে। আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ছিল নতুন নাম ও প্রতীক কমিশনে জমা করার জন্য শেষ সময়। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে কালীঘাটের পক্ষ থেকে যে তিনটি নাম পাঠানো হয়েছিল সেগুলো হলো- ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতা’ ও ‘তৃণমূল মমতা কংগ্রেস’। প্রতীক চাওয়া হয়েছিল খেলারত ফুটবল খেলোয়াড় (কমিশনের তালিকায় ৬৫ নম্বর), আর একটি ক্রিকেট ব্যাট (তালিকায় ৮ নম্বর)।

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিকল্প হিসেবে দলের তিনটি নাম ও প্রতীক পাঠিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির। তারা দলের নাম চেয়েছে ‘ন্যাশনালিস্ট তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘ওয়েস্টবেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’ও ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’—এই তিন নামের কোনো একটি। পাশাপাশি আবেদন জানানো হয়েছিল খাম, টর্চ ও ব্ল্যাকবোর্ড প্রতীকের জন্য। দুই তরফেই নতুন নাম ও প্রতীকের আবেদনে সাড়া পাওয়ার পরও আজ শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে কমিশন। ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় বিবাদের জেরে প্রথমবার দলীয় নাম ও প্রতীক ছাড়াই নির্বাচনী ময়দানে নামতে চলেছে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী। দলীয় প্রতীক খাম নিয়ে অভিযোগ এদিকে ঋতব্রতপন্থি ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’কে নির্বাচন কমিশন

প্রতীক চিহ্ন হিসেবে খাম অনুমোদন দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে আইএসএফ (ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট)। আইএসএফ’র প্রতীকও খাম, নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছেন আইএসএফ প্রার্থী। কী হবে আইএসএফ প্রার্থীর প্রতীক ভবিষ্যৎ?— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাতছাড়া হতে পারে পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী ও বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর দল ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের (আইএসএফ) অত্যন্ত পরিচিত প্রতীক ‘খাম’। মনোনয়নপর্ব শেষ হওয়ার পর প্রার্থী প্রত্যাহার মমতার দলের নাম প্রতীক খাওয়ানোর পর আবারও চূড়ান্ত ধাক্কা খেলেন মমতা। যে বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়াই করার জন্য নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নাম ও প্রতীক নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়; সেই নির্বাচন থেকেই সরে দাঁড়ালেন মমতার প্রার্থী। পশ্চিমবঙ্গের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র শুভেন্দুর ছেড়ে আসা নন্দীগ্রাম কেন্দ্রের উপনির্বাচনের লড়াই থেকেই সরে দাঁড়ালেন মমতা

সর্বভারতীয় তৃণুমল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে। এমন সময় সঞ্চিতা প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেছেন; যখন মনোনয়নপর্ব শেষ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে ‘আশীর্বাদ’ চেয়েছিলেন তিনি। ময়দানের পূর্ত দপ্তরের ছাউনিতে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির ভোট পরিচালক শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করেন সঞ্চিতা। সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী সত্যজিৎ প্রধানও। এরপরেই তীব্র কল্পনা-জল্পনা শুরু হয়। যদিও সঞ্চিতা সে সময় বলেছিলেন, ‘শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পুরোনো বিধায়ক এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, তাই তার কাছে এসে দেখা করেছেন। কিন্তু আজ শুক্রবার বিকেলে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসে’র আর কোনো প্রার্থী থাকলো না। নন্দীগ্রাম আসনে কালীঘাট শিবিরের প্রার্থী হিসেবে গত ১৩ সেপ্টেম্বর সঞ্চিতার নাম ঘোষণা হয়েছিল। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরও এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে মহম্মদ এতেশামুল হককে। ফলে একই দলের দুই গোষ্ঠীর দুই প্রার্থীকে ঘিরে নন্দীগ্রামের লড়াই এমনিতেই আলাদা মাত্রা পেয়েছিল। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ শুক্রবার বিকেলে যেভাবে ভোটের লড়াই থেকে মমতার প্রার্থী নন্দীগ্রামের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ালেন; তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে ৷ প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। ফলে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিজেপির প্রচারে আবেগের একটি মাত্রাও যুক্ত হয়েছে। আপাতত ৬ অক্টোবরের ভোটকে সামনে রেখে প্রচার শুরু করেছে সব দল। কংগ্রেসকে সমর্থনের বার্তা মমতার মমতার নিজের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘নন্দীগ্রামে আমরা লড়ব না, সিস্টার পার্টি কংগ্রেসকে সমর্থন করছি। তাতে ইন্ডিয়া জোটকে শক্তিশালী করা হবে।’ অর্থাৎ, আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’। রেজিনগর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কি লড়বেন মমতা? নাকি সেখানেও অন্য কাউকে সমর্থন দেবেন? তা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানালেন পশ্চিমবঙ্গের এই নেত্রী। কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেপ্তার এদিকে মমতা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে। নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনে বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মিলন প্রধান। দাবি করেছিলেন, সম্প্রতি প্রচার কাজ শুরু করবেন। সূত্রের খবর, আজ দুপুর থেকে অনেকক্ষণ ধরেই তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীকালে জেলা পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগামীকাল শনিবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হবে। পুরোনো একটি খুনের মামলায় তার নামে ওয়ারেন্ট ছিল—এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ। দিনভর ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে যা বললেন মমতা, ঋতব্রত, শুভেন্দু ও অধীর এদিকে দলের নাম এবং প্রতীক হারানোর পর সংবাদ সম্মেলন করে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার স্পষ্ট অভিযোগ, উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিয়ে দিয়েছিল, প্রত্যাহারের সময়সীমার একদিন আগে এইভাবে দলীয় নাম আর প্রতীক স্থগিত করে দেওয়া বেআইনি। মমতার সাফ কথা, ‘'আজ গণতন্ত্রের কালো অধ্যায়। অগণতান্ত্রিক, রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও এটা অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবুও আমরা মাথা নত করব না।’ মমতার প্রশ্ন— ‘২৮ বছরের দলের প্রতীক এভাবে কীভাবে ছিনিয়ে নেওয়া যেতে পারে? দলের অ্যাকাউন্টও ফ্রিজ করে দিয়েছে। এখানে অনেক বেনামি রাজনৈতিক দল আছে, তাদের প্রতীক তো নিচ্ছে না। তৃণমূল নেত্রী পরিষ্কার জানিয়েছেন, ‘প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আমরা একদম তৃণমূল থেকেই দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন করি। আমাদের সব সাংগঠনিক নির্বাচন আমরা করেছি। তার রেকর্ড আছে, কমিশনকেও সব রেকর্ড দেওয়া আছে। তাও এ ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এটা ঠিক নয়।’ কমিশনকে নিশানা করে তার বক্তব্য, মধ্যরাতে গণতন্ত্র হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিধানসভায় সংবাদ সম্মেলন করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের তৃতীয় বিকল্প নামটি দিয়েছে। প্রতীকে প্রথম চয়েস খাম চেয়েছিলাম। সেটা পেয়েছি। নির্বাচন কমিশনের যোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। অন্যপক্ষ যে নাম পেয়েছে সেখানে ব্যক্তি গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা গণতন্ত্রকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করেছি। রাজনীতিতে মালিকানা হয় না। জোড়াফুল থেকে ফুটবল; এটা ওনারাই বলতে পারবে। যুবভারতীর সামনে থেকে গলাকাটা ফুটবলটা সরে গেছে বলে হয়তো ওনারা ফুটবল দিয়েছে।’ পুরো ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমার আর এই নিয়ে বলার কিছু নেই। এটা নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। নির্বাচন কমিশন নিয়ম মেনে সব পক্ষের কথা শুনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উনি নিজের দলকে এক রাখতে পারেননি, দুই, তিন, চার ভাগ হয়েছে দল। এর দায়-দায়িত্ব ওনার। এর সঙ্গে আমাদের বিজেপির সরাসরি রোল নেই। তবে আমি একটা কথা বলি, নির্বাচনের গণনার দিন হলদিয়ায় বলেছিলাম। আর যেই থাকুক, এনারা থাকবেন না। তার কারণ, অতি দর্পে হত লঙ্কা। দম্ভ যার হবে সেই দম্ভে সে চূর্ণ হবে। কারণ, হিন্দু ধর্মকে গন্ধা ধর্ম বলা। মহা কুম্ভকে মৃত্যু কুম্ভ বলা হয়। রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার দিনে রাম মন্দির মানি না বলে মিছিল করা। ভগবান পুরুষোত্তম মহারাজ রামচন্দ্রের অভিশাপে সব ধ্বংস হয়ে গেছে।’ মিলন প্রধানের গ্রেপ্তার নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করার অর্থ, কংগ্রেস প্রার্থীকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে বিজেপি প্রমাণ করে দিল, তারা নৈতিকভাবে পরাজিত।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের