ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: হত্যা বা দমনপীড়নে সম্পৃক্ততা ছাড়াই ১০ বছরের সাজা পেলেন ইনু – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: হত্যা বা দমনপীড়নে সম্পৃক্ততা ছাড়াই ১০ বছরের সাজা পেলেন ইনু

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
জাসদ সভাপতি ও সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে দায় নির্ধারণের ভিত্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ৫০০ পৃষ্ঠার রায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ বলেছে, ইনু নিজে কাউকে হত্যা করেছেন—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হাসানুল হক ইনু সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব বা অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নিয়ন্ত্রণ করতেন না। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দমন-পীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে তিনি রাজনৈতিক বৈধতা ও নৈতিক সমর্থন দিয়েছেন এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপে তাঁর ইচ্ছাকৃত অবদান ছিল বলে ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তৃতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

প্রতিটি অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলেও সাজাগুলো যুগপৎ চলবে। ফলে কার্যত তাঁকে মোট ১০ বছর কারাভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে ষষ্ঠ ও সপ্তম অভিযোগে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অন্য পাঁচটি অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে একটি বিষয়—যিনি সরাসরি কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটাননি এবং কোনো বাহিনীর কমান্ডেও ছিলেন না, তাঁর বিরুদ্ধে কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠিত হলো? কী বলছে ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইনুর ভূমিকা সরাসরি অস্ত্র হাতে নিয়ে অপরাধ সংঘটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং রাজনৈতিক অবস্থান, উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ, দমনমূলক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে অবদানের

মধ্য দিয়ে তাঁর দায় তৈরি হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, জাসদ সভাপতি এবং তৎকালীন ১৪ দলীয় জোটের গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে ইনুর রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। তিনি উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী আলোচনায় অংশ নিতেন এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। আন্দোলন দমনের কৌশল নিয়ে আলোচনা করা বিভিন্ন বৈঠকেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা রায়ে এসেছে। ট্রাইব্যুনালের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের জঙ্গি, সন্ত্রাসী, ষড়যন্ত্রকারী বা রাষ্ট্রের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির ক্ষেত্রেও ইনুর ভূমিকা ছিল। আন্দোলনের সংগঠকদের শনাক্ত করা, তালিকা করা, আগাম গ্রেপ্তার এবং নেতৃত্বকে দুর্বল করার মতো পদক্ষেপের প্রতি তাঁর সমর্থনের বিষয়ও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ ট্রাইব্যুনালের যুক্তিতে ইনুর দায়ের ভিত্তি সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া নয়; বরং

রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা এবং সেই কর্মকাণ্ডে তাঁর জ্ঞাতসারে অবদানের প্রশ্ন। আট অভিযোগের তিনটিতে দোষী, পাঁচটিতে খালাস মামলায় আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে তিনটি প্রমাণিত হওয়ায় ইনুকে সাজা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচটি অভিযোগে প্রসিকিউশন তাঁর দায় সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পারেনি বলে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে খালাস দিয়েছে। প্রমাণিত অভিযোগগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক নিপীড়ন ও নির্যাতনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে ষড়যন্ত্রমূলক ভূমিকার বিষয় রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল মনে করেছে, এসব ক্ষেত্রে ইনুর ভূমিকা নিছক রাজনৈতিক বক্তব্য বা মতামত প্রকাশের পর্যায়ে ছিল না; বরং অপরাধ সংঘটনের বৃহত্তর প্রক্রিয়ায় তাঁর ইচ্ছাকৃত অবদান ছিল। অন্যদিকে যেসব অভিযোগে সরাসরি হত্যার নির্দেশ, নির্দিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততা

কিংবা দমন অভিযানের আরও প্রত্যক্ষ ভূমিকার অভিযোগ ছিল, সেসবের কয়েকটিতে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগসহ অষ্টম অভিযোগটি প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে আরও কয়েকটি অভিযোগেও ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত প্রমাণকে যথেষ্ট মনে করেনি। এখানেই রায়ের দুটি দিক পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে—একদিকে সরাসরি হত্যার অভিযোগের কয়েকটি থেকে ইনু খালাস পেয়েছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার মাধ্যমে অপরাধে অবদান রাখার অভিযোগে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। রায়ের ব্যাখ্যাই তুলছে রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রশ্ন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক তৈমুর ফারুক তুষার। তাঁর অভিযোগ, ইনুর বিরুদ্ধে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাঁর

ভাষ্য, রায় থেকেই দেখা যাচ্ছে—ইনু নিজে কাউকে হত্যা করেননি এবং কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ন্ত্রণও করেননি। এরপরও ‘নৈতিক সমর্থন’ বা রাজনৈতিক সমর্থনের ভিত্তিতে তাঁকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তুষার এই বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তুলেছেন। তাঁর দাবি, বিএনপি ও জামায়াত-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে যুক্ত সরকারের সময়ে ইনুর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছিল, সেগুলোর একটি বড় অংশ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তাঁর মতে, সরাসরি হত্যার দায় প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ‘নৈতিক সমর্থন’কে দায় নির্ধারণের ভিত্তি করা হয়েছে। তুষারের ভাষায়, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচারব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রভাবের প্রশ্ন তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের আইনি ব্যাখ্যা অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োগ

হতে পারে। তবে তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। তুষার যেখানে ‘নৈতিক সমর্থন’কে সাজা দেওয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে রাজনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি বৈঠকে অংশগ্রহণ, দমনমূলক পদক্ষেপে অবদান, ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার মতো একাধিক বিষয় বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচটি অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাসও দেওয়া হয়েছে। তুষারের মূল প্রশ্ন এখানেই—একজন রাজনৈতিক নেতা সরাসরি কোনো হত্যাকাণ্ডে অংশ না নিলেও তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্য, বৈঠকে অংশগ্রহণ বা কোনো রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের প্রতি সমর্থন যদি ফৌজদারি দায়ের ভিত্তি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে এই মানদণ্ড কত দূর পর্যন্ত প্রয়োগ করা হবে? তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এর ফলে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যাখ্যা ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তুষার প্রশ্ন তুলেছেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা কিংবা ২০২৪ সালের আন্দোলনে পুলিশ হত্যার অভিযোগে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও কি একই ধরনের দায়ের ব্যাখ্যা প্রয়োগ করা হবে? সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের প্রমাণ না থাকলেও রাজনৈতিক সমর্থন, বক্তব্য বা সাংগঠনিক ভূমিকার ভিত্তিতে তাঁদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের মতো শাস্তির দাবি উঠবে কি না—সেই প্রশ্নও তিনি সামনে এনেছেন।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ধানমন্ডি লেক থেকে আবারও ভাসমান লাশ উদ্ধার: কোথায় না মিলছে লাশ, সৌন্দর্যের প্রতীক লেক থেকে শোবার ঘর! তেলের দাম বৃদ্ধি পদত্যাগ চাওয়ার মতো বিষয় স্বীকার করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন “তবে এখন চাওয়া উচিত হবে না” ট্রাইব্যুনালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ: হত্যা বা দমনপীড়নে সম্পৃক্ততা ছাড়াই ১০ বছরের সাজা পেলেন ইনু এনডিটিভিকে প্রথমবারের মতো লাইভ সাক্ষাৎকারে ‘দেশে ফেরার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ শেখ হাসিনা ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক আগাতে কিনতে হবে এয়ারবাস: ফরাসি রাষ্ট্রদূত ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের ঘোষণা মেলোনির, প্রশ্নে অভিবাসী শিক্ষার্থী নীতি ধানমন্ডি লেক থেকে আবারও ভাসমান লাশ উদ্ধার: কোথায় না মিলছে লাশ, সৌন্দর্যের প্রতীক লেক থেকে শোবার ঘর! প্রথমবার এশিয়ান গেমস থেকে খালি হাতে ফিরছে নারী ক্রিকেট দল ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হচ্ছে না: হুমায়ুন কবির স্থায়ী বিচারপতি হলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর ছেলে দেবাশীষ জাতিসংঘে সাইড ইভেন্টে ‘সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব’ তুলে ধরলেন ইউনূস; উপস্থিত ছিলে হাতেগোণা অতিথি নিখোঁজের ২ দিন পর পুকুরের ঝোপে মিলল ৭ বছরের শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আতঙ্ক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় জাপানের বিপক্ষে অল্পের জন্য জিতল ভারত সন্ধ্যা নামলেই নগরীতে আতঙ্ক: কেরানীগঞ্জে ব্যবসায়ীকে গুলি ও বোমা ফাটিয়ে ২৫ ভরি সোনা লুট মরিয়মের মৃত্যুতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট ও পারিবারিক নির্যাতনের অভিযোগ কক্সবাজার সরকারি কলেজ হোস্টেল থেকে ২০ হাজার ইয়াবাসহ গণিতের ছাত্রী আটক, পাচার করতেন পায়ুপথে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুরু: দক্ষিনাঞ্চলে যাত্রীপ্রতি ৫০ টাকা বাস ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জামায়াতের লং মার্চ দেখানোর নাম করে ভাবীকে নিয়ে পালালেন এনসিপির আহ্বায়ক! দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস চরমে নিম্ন আয়ের মানুষেঃ তবুও কোথাও দেখা মিলছে না ‘টিসিবির ট্রাকসেল’ রূপনার বীরত্বেও তলানিতে থেকে এশিয়ান গেমস শেষ করল বাংলাদেশ