ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ১৮ জুলাই, ২০২৬

আরও খবর

চাঁদা না পেলেই সরাসরি গুলি: চট্টগ্রামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর একের পর এক জামিনে আতঙ্কিত নগরবাসী

‘বুকে ব্যথা নিয়ে’ সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির আকস্মিক মৃত্যু

১১ দিনেই ৩ মামলায় জামিন পেলেন ছিনতাইকারী থেকে মাদক-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের গডফাদার বুইস্যা

ছাত্রলীগে গুপ্তবেশে ছিলেন ছাত্রদলের দুই নেতা, ‘কৌশল’ বলে স্বীকার করলেন

চুক্তির চেয়েও ৫০% বেশি দামে কেনা হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি

ঢাকায় তিন মার্কিন এপিডেমিওলজিস্টের নীরব সফর: যার একজন ইউএস আর্মির সদস্য, উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন

৫ আগস্টের পর মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ভাঙার ধারাবাহিকতা: এবার ভাঙল বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুরের ভাস্কর্য, জানে না প্রশাসন

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ১৮ জুলাই, ২০২৬ |
আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদে চট্টগ্রামের জনপদ কখনো এতটা উত্তপ্ত ছিল না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনের শক্ত অবস্থানের কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের একটা অংশ আটক হয়, অনেকেই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ফলে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবন ছিল স্বস্তিদায়ক। তবে গত বছরের ৫ই আগস্টের পর এই চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। ২৬ বছর ধরে কারগারে আটক শিবিরের শীর্ষ সন্ত্রাসী নাছির উদ্দিন চৌধুরী ওরফে ‘শিবির নাছির’-কে বের করে আনা হয় কারাগার থেকে ফুলের মালা দিয়ে। একে একে বেরিয়ে আসেন অন্য সব কুখ্যাত সন্ত্রাসীরাও। প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসেন শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ফিরতে শুরু করেন অনেকে। সুব্রত বাইনের

মত শীর্ষ সন্ত্রাসীরাও ছদ্মবেশ ছেড়ে দেখা দেন জনসম্মুখে। মূলত জুলাই-আগস্টের বিক্ষোভ-দাঙ্গা চলাকালীন সময়েই ভয়ঙ্কর দাগী অপরাধী, খুনি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, জঙ্গি, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বের করে আনা হতে থাকে দেশের কারগারগুলো ভেঙে। সারাদেশে ১৯টি কারাগারে হামলা হয়। লুটপাট হয় বিপুল পরিমাণ ভারী অস্ত্রশস্ত্র এবং গোলাবারুদ। বেশিরভাগ চলে যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে। শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন বুক ফুলিয়ে। কেউ কেউ রাজনীতিতে ফিরছেন। শিবির নাছির ৬০ বছর বয়সে বিয়ে করেছেন ব্যাপক ধুমধামের সাথে। তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জামায়াত, বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং ব্যবসায়ীরা। তবে মুদ্রার যেমন দুটো পিঠ রয়েছে, তেমনি এই পুনর্মিলনীরও অন্য দিক রয়েছে। আশি-নব্বই দশকের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মাঠে নামতেই সৃষ্টি হয় পরবর্তী প্রজন্মের সন্ত্রাসীদের

সাথে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। গত ১৫-১৭ বছরের ক্ষুধা জেগে ওঠে সবার। চট্টগ্রামের বৃহৎ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, দখলবাজি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন, মহানগর এবং জেলা-উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক-অস্ত্র এবং সোনা চোরাচালানসহ আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণের লড়াই শুরু হয়। এতে মহানগর এবং উপজেলা পর্যায়ে সংঘাতে প্রাণ যায় অনেকের। অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইতে কেউ পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে, কেউ তুলনামূলক শক্তিশালী নেতার আধিপত্য মেনে নিয়ে গ্যাংয়ে শামিল হন। আবার পক্ষ বদলের ফলে প্রাণ যায় কয়েকজনের। সংঘাত আর লাশ হয়ে ওঠে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।

সন্ত্রাসীদের কোনো দল হয় না- মতবাদ খাটে না

চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন সুস্পষ্ট। অতীত ঘাঁটলে দেখা যায়, এখনো তারা আদর্শগত অবস্থান তেমন একটা বদলায়নি। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবার আগেই নাম আসে শিবির নাছিরের। নামেই তার পরিচয়। চট্টগ্রামে নয় শুধু, বর্তমান সময়ে দেশের প্রবীণ এবং জীবিত সন্ত্রাসীদের মধ্যে অন্যতম শিবির নাছির। দীর্ঘ ২৬ বছর ছিলেন কারাগারে। তার নামের পাশে রয়েছে ভয়ঙ্কর সব অপরাধের ইতিহাস। জামায়াতে ইসলামী তাকে গুপ্ত সংগঠন শিবিরের কর্মী হিসেবে অস্বীকার করলেও এত বছর তার মামলা পরিচালনা, পরিবারের ভরণ-পোষণ সবই যুগিয়েছে দল। বের করে আনার সময় শোভাযাত্রায় ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ইতিমধ্যে নাছির ঘোষণা দিয়েছেন দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের। বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগেও দেখা গেছে তাকে। স্থানীয় কয়েকটি

অনলাইন পোর্টালকে দিয়েছেন সাক্ষাৎকারও। জানান দিয়েছেন নির্বাচন করার ‘অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা আছে’ বলে। নাছির ছাড়াও অন্য শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে রয়েছেন: শিবিরের সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ, তার ডান হাত রায়হান আলম, শিবির কর্মী হাবিব খান, বড় সাজ্জাদের সাগরেদ সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ- যিনি বর্তমানে বিএনপিতে ঘেঁষেছেন, তার সহযোগী মোবারক হোসেন ইমন, যুবদল কর্মী শহিদুল ইসলাম বুইস্যা, ইসমাইল হোসেন টেম্পু, বিএনপির ফজল হক, বিএনপির মেজর ইকবাল, যুদ্ধারপরাধী বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরীর ডানহাত বিধান বড়ুয়া, বিএনপির আজিজ উদ্দিন ইমু, আজিজুল হক প্রমুখ। এই সন্ত্রাসীদের মধ্যে বড় সাজ্জাদ, হাবিব খান ও ফজল হক বিদেশ থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছেন আন্ডারওয়ার্ল্ড। শিবির নাছির রাজনীতিতে নামার

প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাই  তাকে প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও তার ফেসভ্যালু ব্যবহার করে কাজ করছেন সহযোগীরা। এই শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিএনপিপন্থীদের সংখ্যাই বেশি। তবে অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতায় ভারী জামায়াত-শিবিরপন্থীরা। বেশিরভাগ শীর্ষ সন্ত্রাসীই সন্ত্রাসের জনপদ রাউজান-কেন্দ্রিক। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে একটা জায়গায় ভীষণ মিল- উভয় পক্ষই আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ-সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতি সংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিকে হত্যা করেছেন সেই ৮০’র দশক থেকে। যা বন্ধ হয়নি কখনো।

একে-৫৬সহ আটক শিবির সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদ

মহানগর এবং বাইরে গত বছরের আগস্টের পর

থেকে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘটিত হয়েছে অন্তত ৭০টি হত্যাকাণ্ড। প্রায় প্রতিটি ঘটনার পেছনে ছিল রাজনৈতিক মদদ। বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের হাতে এসময় নিহত হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী। বিশেষ করে রাউজান ছিল অন্যতম প্রধান ‘হট পয়েন্ট’। উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনা- গত বছরের ২৯শে আগস্ট কুয়াইশ-অক্সিজেন সড়কে যুবলীগ কর্মী আনিস ও মাসুদ কায়ছারকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ২১শে অক্টোবর চান্দগাঁওয়ে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আফতাব উদ্দিন তাহসীনকে গুলি করে হত্যা, এ বছরের ২৪শে জানুয়ারি রাউজানের নোয়াপাড়ায় বিএনপি কর্মী-ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, ২৯শে মার্চ বাকলিয়া এক্সেস রোডে শীর্ষ সন্ত্রাসী সরওয়ার হোসেন বাবলার দুই সহযোগী মানিক ও রিফাতকে, ১১ই এপ্রিল রাউজানে যুবদল কর্মী ইব্রাহিমকে, ২৩শে মে পতেঙ্গায় শীর্ষ সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবরকে, ২৫শে অক্টোবর রাউজানে যুবদল কর্মী আলমগীর এবং সর্বশেষ গত ৫ই নভেম্বর বিএনপির চট্টগ্রাম-৮ আসনের প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলি করে হত্যা করা হয় ১৮ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বিএনপি কর্মী সরওয়ার হোসেন বাবলাকে।
হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি, ডাকাতি, পাঁচ খুনসহ ১৮ মামলার আসামি সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। ২০১১ সালে গ্রেপ্তারের পর এক যুগ চট্টগ্রাম কারাগারে ছিলেন। তার কাছ থেকে একে-৪৭, একে-২২সহ অত্যাধুনিক অস্ত্র উদ্ধার করেছিল পুলিশ। জেলে থাকাকালে বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে সখ্যতা হয় তার। বেরিয়েই তার ছত্রছায়ায় যান। জামিন নিয়ে দুবাই পালিয়ে যান, সেখানে মারামারি করে এক মাস জেল খেটে ২০২০ সালে দেশে ফিরে ঢাকায় বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন। গত ৫ই আগস্টের পর বিএনপি নেতারা তাকে বের করে আনেন। এতে তার ওস্তাদ শিবিরের সন্ত্রাসী সাজ্জাদের শক্র হয়ে ওঠেন। বালুমহাল দখল, নির্মাণাধীন ভবন, বাসাবাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ফুটপাতে চাঁদাবাজি করতেন। প্রভাব বিস্তারের জেরে ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধ এবং এর জেরেই খুন হন তিনি।

অস্ত্র-গোলাবারুদের মজুদ বাড়ছে দিন দিন

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরণ দেখে স্পষ্ট, দেশের বাইরে থেকে অবাধে ঢুকছে বিদেশি অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র। গত বছরের জুলাই-আগস্টে নরসিংদী কারাগার, কেরাণীগঞ্জ, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটিসহ দেশের ১৯টি কারাগারে ব্যাপক হামলা চালায় আন্দোলনকারীরা। কারাগার ভেঙে যেমন বের করে দেয় বন্দীদের, লুটে নেয় বিপুল সংখ্যক অত্যাধুনিক অস্ত্র-গোলাবারুদ। বেহাত অস্ত্রের মধ্যে ভারী অস্ত্র ছিল অসংখ্য। ৪ঠা আগস্ট থেকে শুরু করে পরবর্তী বেশ কয়েকদিন ধরে টানা ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয় সারাদেশের ৪৬০টির বেশি থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি। সেখান থেকে লুটপাট হয় বিপুল অস্ত্রশস্ত্র।

সাবেক শিবির-বর্তমানে বিএনপি কর্মী শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ ও তার স্ত্রী

এছাড়া পুলিশের ওয়্যারলেস সিস্টেম, আত্মরক্ষায় ব্যবহৃত বুলেটপ্রুফ ভেস্ট-হেলমেটসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম খোয়া যায়। ৫ই আগস্ট লুটপাট হয় গণভবন এবং সংসদ ভবনে। উভয় স্থানে নিরাত্তার দায়িত্বে থাকা সোয়াট, এসএসএফসহ বিভিন্ন সংস্থার দায়িত্বশীলরা আত্মরক্ষার্থে ইউনিফর্ম এবং অস্ত্র ছেড়ে সরে পড়েন। দুটি স্থানেই স্ট্রংরুম, ভল্ট/লকারে ছিল সর্বাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, গোয়েন্দা ও সার্ভেইল্যান্স সরঞ্জাম, নেটওয়ার্ক ইক্যুইপমেন্ট, কেভলার ভেস্টসহ প্রটেক্টিভ ইক্যুইপমেন্ট এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এর কিছুই পরবর্তীতে আর উদ্ধার করা যায়নি। বিডি ডাইজেস্ট-এর অনুসন্ধানে মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, হালকা অস্ত্র-গোলাবারুদ সন্ত্রাসীদের হাতে পৌঁছে গেছে। মাঝারি ও ভারী অস্ত্রশস্ত্রের একটা অংশ গেছে জেল পলাতক জঙ্গিদের হাতে। আর নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠী ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কাছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে অত্যাধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল, স্নাইপার রাইফেল, হালকা-ভারী মেশিনগানসহ বিভিন্ন শ্রেণির মারণাস্ত্র রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পুলিশের ব্যবহৃত চাইনিজ রাইফেল, শটগানসহ বিভিন্ন অস্ত্র। আর বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। গত মার্চে সাতকানিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে হামলা করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত জামায়াতের দুই অস্ত্রধারী নেতার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছিল একটি পিস্তল। যার সিরিয়াল নাম্বার মিলিয়ে দেখা যায় অস্ত্রটি ছিল সিএমপি’র কোতোয়ালী থানা থেকে লুটকৃত।

দেশে উৎপাদিত অস্ত্র

থানার লুটকৃত অস্ত্রের বাইরে মিয়ানমার এবং পাকিস্তান থেকেও ঢুকেছে ভারী অস্ত্রশস্ত্র। আন্ডারওয়ার্ল্ড সম্পৃক্ত একাধিক সূত্র বিডি ডাইজেস্ট-এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপে জানিয়েছে চট্টগ্রামে গত দেড় বছরে যেসব ভারী অস্ত্র ঢুকেছে, তার মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৩টি একে-৪৭ রাইফেল এবং ২২-২৫টি জি-৩ রাইফেল। এর মধ্যে ৬টি একে-৪৭ রয়েছে শিবির নাছিরের নিয়ন্ত্রণে। সূত্র মতে, এসব একে-৪৭ চট্টগ্রাম মহানগরের একাধিক অজ্ঞাত স্থান এবং দুটি উপজেলায় বিশ্বস্তদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। অন্তত দুটি একে-৪৭ রয়েছে বিএনপির প্রয়াত নেতা মীর নাসিরের পুত্র- দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে। যার একটি তিনি তার গাড়িতে বহন করেন বলে ঘনিষ্ঠ সূত্রের ভাষ্য। বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে গুলির ঘটনার পর থেকে মীর হেলাল এখন সশস্ত্র দেহরক্ষী ছাড়া বের হন না কোথাও। কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরীর পুত্র হুকা চৌধুরীর সংগ্রহে রয়েছে একে-৪৭ এবং জি-৩ রাইফেলসহ হালকা ও ভারী অস্ত্রের বড় একটি মজুদ। যা তত্ত্বাবধান করেন সাকার ডানহাত খ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী বিধান বড়ুয়াসহ আরও কয়েকজন।

জার্মান কোম্পানি এইচকে-এর লাইসেন্সে মিয়ানমারে দেদারসে তৈরি হচ্ছে এসব অস্ত্র

আন্ডারওয়ার্ল্ড সূত্র মতে, চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার, বাকলিয়া, ফটিকছড়ি, রাউজানসহ কয়েকটি এলাকার বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দের নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে রয়েছে বেশ কিছু একে-৪৭ রাইফেল। জি-৩ রাইফেলগুলোর বেশিরভাগই রয়েছে চট্টগ্রাম কলেজ, মহসীন কলেজ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের হোস্টেল এবং নগরের শিবির নেতাদের কাছে। দল-মত নির্বিশেষে কয়েকজন অস্ত্র ব্যবসায়ী এসব অস্ত্র সরবরাহে কাজ করেন বলে তথ্য রয়েছে। তারা শুধু অস্ত্রই সরবরাহ করেন না, বিভিন্ন শ্রেণির গুলি চাহিবামাত্র নির্দিষ্ট পয়েন্টে পৌঁছে দেন। বিভিন্ন ক্যালিবারের পিস্তলের গুলি, শটগান ও দেশিয় বন্দুকের বিভিন্ন শ্রেণির কার্তুজ- এমনকি ভারী অস্ত্রের গুলিও তাদের কাছে সহজলভ্য। ইতিমধ্যে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর সাথে শীর্ষ এক সন্ত্রাসীর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর ভয়াবহ পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করতে পারেন সাধারণ মানুষ। সেই অস্ত্র ব্যবসায়ীকে দেশি এবং ভারত থেকে আনা হালকা অস্ত্র প্রতি দেড়/দুই লাখ টাকা এবং বিদেশি পিস্তলের গুলিপ্রতি ২০০০ টাকা দরদাম নিয়ে কথা বলতে শোনা যায়। অপর প্রান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসীও জানাচ্ছিলেন দাম যাই হোক, মাল তার চাই-ই। ফোনে তিনি বড় পরিমাণ গুলির অর্ডার দেন। অস্ত্র ব্যবসায়ীও জানান, ২ ঘণ্টা আগে জানালে তিনি নির্দিষ্ট স্থানে মাল সরবরাহ করতে পারবেন। চাইলে প্রশিক্ষিত শ্যুটারও দিতে পারবেন। তবে সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী জানান, ট্রিগার চাপার লোক রয়েছে, শুধু গুলির স্বল্পতা রয়েছে।

অস্ত্র চোরাচালানের রুট এবং লেনদেনের চাঞ্চল্যকর উপায়

জানা যায়, মিয়ানমার থেকে নৌপথে ঢুকছে অস্ত্র। জি-৩ ছাড়াও হালকা অস্ত্রের উৎপাদন হয় মিয়ানমারে। ভারত থেকেও আসছে অস্ত্র এবং গুলি। এছাড়া পাকিস্তান থেকে আসছে একে-৪৭ এবং অন্যান্য স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র, স্পেয়ার পার্টস, ম্যাগাজিনসহ বোমা তৈরির রসদ। মিয়ানমার থেকে মাছ ধরার ট্রলারে অস্ত্রের চালান হাতবদলের কাজ করেন রোহিঙ্গারা। উপকূলের যেসব স্থানে কোস্টগার্ড, বিজিবি, নৌবাহিনীর টহল কম কিংবা বিশেষ বন্দোবস্ত রয়েছে, সেসব ফাঁক-ফোকর দিয়ে দেশে ঢোকে অস্ত্র। একইসাথে ঢুকছে আইস। চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াবার চালান তুলনামূলক কমে গেছে, যার দখল নিয়েছে আইস। তরুণ সমাজে ইয়াবার চেয়ে আইস-এর কদর বাড়ছে হু হু করে। দামে বেশি হলেও মাদক হিসেবে উচ্চমানের, তাই চাহিদা ভালো, পরিবহনও সহজ। বিশেষ করে, মাছ ধরার ট্রলারে জমাট বরফের মাঝে ফেলে রাখলে সহজে চেনা যায় না ভয়ঙ্কর মাদকটি। অস্ত্র চোরাচালান এবং মূল্য পরিশোধের সহজ পন্থা হলো, দেশে আইস বিক্রি করে তার মাধ্যমে নগদ অর্থ হুন্ডি কিংবা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে ডলারে পরিশোধের সুযোগ রেখেছে এই সিন্ডিকেটে জড়িত মিয়ানমারের দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠী।

ছোট সাজ্জাদ, শিবির থেকে বিএনপিতে

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন পাহাড় ও জঙ্গলে অস্ত্র আনলোডিং হয়। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রামে প্রবেশ মুখ নতুন ব্রিজ এলাকা এবং নিকটবর্তী বাকলিয়া এক্সেস রোড এই অস্ত্র-মাদক পরিবহনের একটি শক্ত চ্যানেল। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিশেষ বন্দোবস্ত রয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াত-শিবির ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়ে অস্ত্রের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে দেশে। আগে মহেশখালী, সুন্দরবনসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় হাতে তৈরি পাইপগান, এলজি, ডিবি রাইফেল তৈরি হলেও কার্যকারিতা এবং প্রতিপক্ষের সক্ষমতা বিবেচনায় বর্তমানে বিদেশি অস্ত্রের কদর বেশি। তবে দেশি অস্ত্রের যেহেতু দাম কম এবং কাজ শেষে ফেলে দেওয়া যায়, তাই এর চাহিদা রয়েছে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের কাছে। টাকা দিলেই অস্ত্র-গুলি চলে আসছে নির্দিষ্ট স্থানে, ভাড়াতেও মিলছে কন্ট্রাক্ট কিলিংয়ের ক্ষেত্রে।

বাকলিয়া এক্সেস রোডে গুলিতে ঝাঁজরা গাড়ি

এর সাথে চলছে হুন্ডি এবং সোনা চোরাচালান। প্রতিটি খাত একটি অপরটির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অস্থিরতার নেপথ্যে রয়েছে এক ডজন শীর্ষ সন্ত্রাসী।

দেশিয় অস্ত্র ঘুরছে হাতে হাতে

চট্টগ্রামে বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্রের গোপন বাজার রয়েছে। সূত্র ধরে গেলেই পাওয়া যায়। জেলার পাহাড় ও উপকূলীয় এলাকায় তৈরি হয় এলজি, পাইপগান, ওয়ান শ্যুটারগান ও একনলা বন্দুক। সূত্র বলছে, বাঁশখালী, রাঙ্গুনিয়া, কুতুবদিয়া, ঈদগাহ, মহেশখালীসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় তৈরি হয় এসব অস্ত্র। রোহিঙ্গা কারিগর ছাড়াও দেশিয় পুরনো কারিগর রয়েছে, যারা এসব তৈরি করছে। লেদ মেশিনে ডাইস ছাড়াও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি হয়। মানভেদে মাত্র ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকায় বিক্রি হয় দেশি অস্ত্র। গুলির দামও মান ভেদে ভিন্ন। অত্যাধুনিক মেশিনে এখন দেশেই বিভিন্ন ক্যালিবারের গুলি তৈরি হচ্ছে। কাঁচামাল আসছে বিভিন্ন মাধ্যমে। কার্তুজেরও চাহিদা বেড়েছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডে কখনো একে শেল, কখনো প্লাস্টিক নামে ডাকা হয়। চাহিদা অনুসারে বড়/ছোট দানার শেল তৈরি করে দেওয়া হয়। কারিগররা গ্যারান্টি দেয়- এক শটেই টার্গেট পড়ে যাবে।

বিএনপি নেতা মীর হেলালের বাহুসংলগ্ন শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশি-বিদেশি অস্ত্রের যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘাত হতে পারে ভয়াবহ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন। মাঝে মাঝে অস্ত্র উদ্ধারও করছেন। তবে তাদের তৎপরতা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন নগরবাসী। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে এগুলো নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারে ব্যবহার হতে পারে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। তথ্য বলছে, গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিএমপি, জেলা পুলিশ ও র‌্যাব মিলে চট্টগ্রাম থেকে ১৪৫টি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করেছে। পুলিশ স্বীকার করেছে, চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারে অপরাধ বাড়ছে। তবে এও স্বীকার করতে বাধ্য হলেন নগর পুলিশের কর্মকর্তারা- শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে নিহতের ঘটনাগুলোয় ব্যবহৃত বেশিরভাগ অস্ত্রই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে। বিদেশি অস্ত্রগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে বড় বড় অপরাধের ক্ষেত্রে। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) ও মুখপাত্র মো. রাসেল বলেন, আমরা অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করছি। যার বেশিরভাগই স্থানীয়ভাবে তৈরি। র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফফর হোসেন বলেন, চট্টগ্রামে দেশিয় আগ্নেয়াস্ত্র অনেকেই তৈরি করে। তথ্য পেলে আমরা অভিযান চালাই। সাধারণত উপকূলীয় এলাকায় তৈরি হচ্ছে। তবে আমাদের অভিযান চলছে। আশা করি দ্রুত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

(চলবে)…

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১ চাঁদা না পেলেই সরাসরি গুলি: চট্টগ্রামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীর একের পর এক জামিনে আতঙ্কিত নগরবাসী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘শারীরিক ফুটবল’-এর লড়াইয়ের প্রস্তুতি রদ্রির ‘বুকে ব্যথা নিয়ে’ সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির আকস্মিক মৃত্যু ‘বিএনপির কোনো ভিডিও করা যাবে না’—বলেই ওসির সামনে সাংবাদিকের উপর নেতাকর্মীদের হামলা ১১ দিনেই ৩ মামলায় জামিন পেলেন ছিনতাইকারী থেকে মাদক-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসের গডফাদার বুইস্যা ফাইনালে মেসিকে ‘ম্যান-মার্কিং’ করবে না স্পেন! ছাত্রলীগে গুপ্তবেশে ছিলেন ছাত্রদলের দুই নেতা, ‘কৌশল’ বলে স্বীকার করলেন প্রিজন ব্রেক-কাশিমপুর: উচ্চ নিরাপত্তা ব্যূহ ভেদ করে রিম্পার পালিয়ে যেতে লেগেছে মাত্র কয়েক মিনিট চুক্তির চেয়েও ৫০% বেশি দামে কেনা হচ্ছে ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি ‘আপনার বহু আগে ঢাকায় আমি ছাত্রদল করে আসছি’— কুমিল্লা এসপির বিস্ফোরক মন্তব্য ভাইরাল গোপালগঞ্জ গণহত্যা দিবস: চবি ক্যাম্পাসে স্লোগানে স্লোগানে ছাত্রলীগের প্রতিবাদ ‘তারেক রহমানের ডাকেই সাড়া দিয়েছিলেন আবু সাঈদ’: ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের দাবি ‘ছাত্রদলের নামে ভুয়া ফটোকার্ড বানাচ্ছে, শিবির: বেরোবির সমাবেশে রাকিব শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার মুখে ছাই: নাটোরে পরীক্ষার হলে দেদারসে নকল, ধরিয়ে দিয়ে উল্টো বহিষ্কার শিক্ষার্থী ২ বছরেও শেষ হয়নি ৮৬% জুলাই মামলার তদন্ত: হয়নি ময়নাতদন্ত, ঢালাও আসামি-মামলা বাণিজ্যে ভজঘট অবস্থা! ক্রিকেট ইতিহাসের মহানায়ক স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই সাইফুদ্দিন ও রিশাদের ঝলকে টি-টোয়েন্টি সিরিজে সমতায় ফিরল বাংলাদেশ তাবিজ দেওয়ার নাম করে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টা, জামায়াত আমিরকে জুতাপেটার পর পুলিশে সোপর্দ ৭৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম মিস ওয়ার্ল্ডের আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তান