এই ঈদেও নিশ্চয়ই কাঁদবে সাংবাদিকের সন্তানেরা? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬

এই ঈদেও নিশ্চয়ই কাঁদবে সাংবাদিকের সন্তানেরা?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৫ মে, ২০২৬ |
বাংলাদেশর চারদিকে এখন ঈদের আনন্দ। শহর গ্রাম গঞ্জ সবখানেই ভাসছে আনন্দ উচ্ছ্বাস। ছুটির আমেজ নামছে। যার যার সামর্থ অনুযায়ী মানুষ ভাগ করে নিচ্ছে আনন্দ। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, নিজে কোন উচ্ছ্বাসের সঙ্গে যেতে পারছি না। কারণ আমি পেশায় সাংবাদিক। বাংলাদেশের সাংবাদিক। আমাদের বহু সাংবাদিক জেলে। যারা অনেকে পরিচিত নন। আবার অনেকেই পরিচিত। পরিচিত কী পরিচিত নয় সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা আমি সাংবাদিক। আমিও যে কোন সময় জেলভুক্তদের তালিকায় চলে যেতে পারি। শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপার মেয়ে মনফুল। ওকে আমি খুব কাছ থেকে চিনি। ওর বাবা-মায়ের সময়ে কর্মরত প্রায় সব সাংবাদিক ওকে চেনে। সব সাংবাদিক জানে ওর ১৮ বছরের

জীবনে এত বড় বিপর্যয় কখনও আসেনি। মা-বাবার সঙ্গ ছাড়া হতে হয়নি কখনো। অথচ সেই বাবা-মা ছাড়া মেয়েটার কেটে যাচ্ছে মাসের পর মাস। কাটছে একটার পর একটা ঈদ। একই রকম অবস্থা জেলে আটক অন্যসব সাংবাদিকের সন্তানদেরও। পর পর দুটি বছর তাদের ঈদ হচ্ছে চরম প্রতিহিংসাময় দুর্যোগের মধ্যে। তাদের পাশে কেউ নেই। গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশের বাতাসে শুধু সাংবাদিকের কান্না শোনা যায়। বাংলাদেশের সাংবাদিকরা কাঁদে, চাকরিচ্যুত হয়, মার খায়, নিরাপত্তা হারায়। একসময় কেউ কেউ আত্মহত্যা করে৷ তবু প্রতিবাদ হয় না। এই আমি এত কথা বলছি আমিও প্রতিবাদ করতে পারি না। অনেকে উষ্মা প্রকাশ করে, আমাদের প্রতিবাদ না করা নিয়ে। আপাত

দৃষ্টিতে যে কেউ তাই বলবে। কিন্তু জানবেন না যে প্রতিবাদ করতে গেলেই সে বেকার হবে। জেলে যাবে। আইন, আদালত, বিচার যুক্তি কোন ফ্যাক্টর তার পক্ষে কাজ করবে না। পাঠক, আমি মনফুলসহ ওই ছেলে মেয়েদের ওপর ঈদের আগে এই এই নিপীড়নকে শুধু দুর্ভাগ্য বলে চালিয়ে দিতে পারলে খুশি হতাম। বলতাম ওদের বাবা মায়ের কর্মফল ওরা ভোগ করছে। কিন্ত কোন ভাবেই তা বলতে পারছি না। কারণ আমি পুরো ২৪ আন্দোলনের এর পর্যবেক্ষক। তাই দায়িত্ব নিয়েই বলছি, বাংলাদেশের কিছু মানুষ না জেনে না বুঝে প্রথম থেকে সাংবাদিকদের মিথ্যাবাদী বানানোর মবে যোগ দিয়েছে। সেই মবস্টারদের হিংসার আগুনে পুড়ছে শত শত সাংবাদিক পরিবার। পাঠক,

সাংবাদিকদের চারপাশে আজ যে মিথ্যের বলয় সৃষ্টি হয়েছে, একে আমি শুধু মব বলি না। বলি এটাই গোটা ২৪শের দৃশ্যমান অবকাঠামো। যেটা বিশ্লেষণ করলেই রংধনুর মত পরিস্কার হয় ” ২০২৪ এর ৫ই আগস্ট” এক ভয়ঙ্কর মিথ্যাচারের নাম। সাংবাদিকদের কেন এমন মবে ফেলা হলো? বা কেন এখনও মবে রাখা হয়েছে সেটা বের হলেই জলের মত পরিস্কার হবে, কে ছিল কোন ষড়যন্ত্রের আখড়ায়? কারা কেন ষড়যন্ত্র করেছিল? কারা অর্থ দিয়েছিল? আমার সব সময় মনে হয় ৫ ই আগস্ট ২০২৪ এর পর সাংবাদিকদের ওপর ভয়ঙ্কর অত্যাচার শুরুর বিষয়টি দীর্ঘ পরিকল্পিত। সেই পরিকল্পনারই অংশই হচ্ছে, যেন কোন ভাবেই সাংবাদিক যেস থিতু না হতে

পারে, সেটা নিশ্চিত করা। তাদের আঁকা ছকে ছিল, একদিকে সাংবাদিক নিজেকে বাঁচাতে ব্যাস্ত থাকবে অন্যদিকে চলবে মব। কিচ্ছু ব্যাখ্যা পাবে না কেউ। পৃথিবীর কেউ কিছু জানবে না। আাহা কী দারুণ মেটিকুলাস ডিজাইন! পাঠক কথা যখন বললাম, তখন আরেকটু বলব। আসেন জানার চেষ্টা করি, ইউনুস সরকারের উপদেষ্টারা কথায় কথায় সাংবাদিকদের কেন হুমকি দিতেন, আতঙ্কে রাখতেন, কারণ কী? কারণ আর কিছু নয়, তাদের লক্ষ্য ছিল সাংবাদিকদের চুপ করিয়ে রাখা। কারণ তারা জানতো, ওয়ান ইলেভেনে সাংবাদিকদের কারণেই দেশ রাজনীতিতে ফিরেছিল। সেই সময় অনেকে মজা করেই বলতেন সাংবাদিকরাই এখন বিরোধী দল। তাই সেই বিরোধিতা সহ্য করার ঝুঁকি নিতে চায়নি ইউনূস

গং। অনেকেই বলতে পারেন দেশে সাংবাদিক তো আরও আছে। এখন যারা প্রেসক্লাবের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যারা ইউনিয়নে আছেন, যারা একটার পর একটা সংগঠন তৈরি করছেন। তারা কী সাংবাদিক নন? একজন সাংবাদিক হিসেবে বলতে পারি, এই উত্তরের জন্যে আমাদের বাংলাদেশের সাংবাদিকতার চলকটি জানতে হবে। এই লেখায় এত ব্যাখ্যার সুযোগ নেই। শুধু বলতে পারি ২৪ শের পর বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় একদল দখলবাজ যুক্ত হয়েছে। এরাই ঘৃণা ছড়িয়ে নিয়মিত সাংবাদিকদের সাংবাদিকতার মূল স্রোত থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছে। বলা হয় সাংবাদিকরা সমর্থন করার কারণে শেখ হাসিনা তার শাসন চালিয়ে যেতে পেরেছে। আসলেই কী তাই? সাংবাদিক কী সরকারের কর্মকাণ্ডে প্রশ্ন করেনি? সাংবাদিক কী বিরোধী দলের খবর

প্রচার করেনি? একটি গণমাধ্যমের প্রচার তো নির্ভর করে রাজনৈতিক কর্মসূচির ওপর। সেই কর্মসূচি না থাকলে সে কী করবে? একজন রাজনৈতিক নেতা কথা বলতে হলে তার নিজের মত বলতে পারেন। সাংবাদিকের কথা বলতে তো রেফারেন্স লাগে। তথ্য লাগে, প্রমাণ লাগে। ফেসবুকে বলা আর গণমাধ্যমের বলা কী এক? অথচ আমাদের ২৪ পক্ষ সবসময় সাংবাদিকের কাছে ফেসবুকের আচরণ আশা করেন। তারা নিজেদের অযোগ্যতার দায় চাপান সাংবাদিকদের ওপর। আসি ২৪ এর প্রসঙ্গে। আমাদের কোটা ভাইরা যখন কোটা থেকে বের হয়ে স্বমূ্র্তিতে আসা শুরু করলেন, তাদের ডিজাইন যখন একটু একটু করে বের হলো, তখন সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলেন। একটি প্রশ্নের জবাবও আমাদের কোটা ভাইরা ঠিকঠাক দিতে পারতো না। টকশো এসে ছড়াতো রীতিমতো। এটা পছন্দ হতো না কোটা বন্ধুদের। এক পর্যায়ে তারা টকশোতে যাওয়াই বন্ধ করে দিল। এখানে সাংবাদিকের দোষ কোথায়? আপনি মুখে আজ একরকম বলবেন, কাল একরকম বলবেন এতে সাংবাদিকের খটকা লাগলে দোষ কোথায়? সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মন ফুলের মা রূপার করা প্রশ্ন নিয়েইতো শতকাণ্ড হলো। আমরা কী আজও পরিস্কার, কী ছিল সেই উত্তরে ? আমি মনে করি আজ পর্যন্ত সেই বিশ্লেষণটিই হয়নি। এর ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে যেটা হয়েছে সেটার নাম মব। কেন করতে হয়েছে মব? কীভাবে করতে হয়েছে? কীভাবে এক শ্লোগান আরেক শ্লোগানে রূপান্তর হলো সে সব কথা ২৪শের স্টেক হোল্ডাররাই এরইমধ্যে পরিস্কার করেছে। দিনটি ছিল ১৪ই জুলাই। আমিতো মনে করি ওই দিনটি নিয়েই গবেষণা হতে পারে। একটি একটি শব্দ ধরে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে, কী প্রশ্ন হয়েছিল? আর প্রধানমন্ত্রী কী উত্তর দিয়েছিলেন? আর পরে সেটার কী ব্যাখ্যা দাঁড় করানো হয়েছিল? যদিও প্রথম আলোর ২০২৪ এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সংখ্যায় এনিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা আছে। সেই স্টেক হোল্ডারদেরই লেখা। আমিতো লেখাগুলোকে বলি, না জেনে সমন্বয়কদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি। কথা বলছিলাম নিপীড়িত সাংবাদিকদের পরিবারে ঈদ উদযাপন নিয়ে। সাংবাদিক পরিবারগুলোকে এই অথৈ বিপদে ফেলা কতটা মিথ্যাচার, কতটা অসভ্যতা, কতটা রাজনীতি বিবর্জিত, কতটা অযৌক্তিক তা ব্যাখ্যা করার জন্যে এত কথা বলতে হলো। আসলে ২০২৪ এর আন্দোলনে সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ বানানোর চেষ্টা একটি জঘন্য অপকৌশল। কারণ তারা জানে, যোগ্য সাংবাদিক কাজ করতে পারলে উল্টে যাবে ২৪শের মেটিক্যুলাস ডিজাইন। আর এখন যখন আওয়ামীলীগ ফেরার কথা জোরেশোরে আসছে তখন তারা চরম ভয় পাচ্ছে। যে কারণে কোন ভাবেই যোগ্য সাংবাদিককে একটি বড় রাজচক্র কাজ করতে দিতে চাচ্ছে না। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এরা কারা? সরকার না সরকারের বাইরের কেউ? নিশ্চয়ই সরকার। কারণ বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মুখে যতই মানুষ বান্ধব হওয়ার কথা বলুন, তার টিমের কারও কারও অনুশীলন মানুষ বান্ধব নয়। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তো নয়ই। এর সঙ্গে ২৪ শের মবস্টারদের উষ্কানীতো আছেই। মূল ভয়টা এই মবস্টাররা ছড়াচ্ছে। সরকারের মানবিক হাতটা এরাই আটকে রেখেছে ভেতর থেকে। কারণ তারা জানে আজকের ডিজিটাল পৃথিবীতে মিথ্যা বলার সুযোগ নেই। যে যা করেছে তার ডিজিটাল প্রমাণ রেখে এসেছে পেছেনে। আর সাংবাদিক জানে কখন কোন প্রমান মানুষের সামনে আনতে হবে। যদিও সব মানুষ সব বিষয়ে এখন একটু আধটু কথা বলছে। কিছু কাজও হচ্ছে। নিশ্চয়ই আগামীতে আরও হবে। এবার যে সাংবাদিক সন্তানেরা ঈদের আগে রাস্তায় নামতে পারছে না। আগামীতে নিশ্চয়ই পারবে। বিশ্ববাসীর কাছে যে অভ্যব্যতার চিত্র এখনও পৌঁছেনি নিশ্চয়ই আগামীতে তা পৌঁছাবে। পৃথিবীবাসী নিশ্চয়ই মনফুলদের বিমুখ করবে না। এখন কোটি টাকার প্রশ্ন, আমাদের নির্বাচিত সরকার কী বাংলাদেশের আটক সাংবাদিকদের মুক্তির জন্যে বিশ্ববাসীর রাস্তায় নামা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? লেখক পরিচিতিঃ ভীরু জমাদার বাংলাদেশি সাংবাদিক

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানে হাসপাতালের ৫ তলা থেকে ফেলে তরুণীকে হত্যা, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার চট্টগ্রামে মাদ্রাসার শিক্ষক-পরিচালক মিলে ছাত্রদের দিনের পর দিন ধর্ষণ: ‘হাদিয়া’ দিয়ে খবর ধামাচাপার চেষ্টা সাড়ে চার মাসে ধর্ষণের শিকার ১১৮ শিশু এই ঈদেও নিশ্চয়ই কাঁদবে সাংবাদিকের সন্তানেরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ছাত্রদলের ত্রাসের রাজত্ব সকল প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে গণতন্ত্র উদ্ধারে দেশে ফিরতে চান শেখ হাসিনা তথাকথিত ফ্যাসিজম দমনে নাজিবাদ এর উত্থান! বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক জঙ্গিবাদের প্রধান রুট হয়ে উঠেছে: দ্য অস্ট্রেলিয়ান টুডে শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পাকিস্তানের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাতেও ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল আওয়ামী লীগের ২৯ কার্যদিবসে শিশু ধর্ষণ মামলার রায়, যুবকের মৃত্যুদণ্ড শ্যালিকাকে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আমতলীতে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে একজন আটক প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, ইমামকে আটক করে পুলিশে দিল জনতা সরাইলে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ খাবার কিনতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার শিশু কালশি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ ইউনিট বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেলে ২৫% ছাড় কাবার ভেতরটা কেমন আর কী দিয়ে ঢাকা এর চারপাশ? জানুন অজানা কাহিনী হাম ও উপসর্গে আরও ১৭ জনের মৃত্যু অস্ট্রেলিয়ার ভিসা মঞ্জুরির আসল চিঠি যাচাই করবেন যেভাবে