ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
ওয়াইফাইয়ের গতি বাড়াতে যা করবেন
মানুষ কেন নাক খোঁটে জানেন?
হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হচ্ছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, যেসব সুবিধা পাবে ব্যবহারকারীরা
ফেসবুক স্বাভাবিক হওয়ার কথা জানাচ্ছেন ব্যবহারকারীরা
রাতে কিশোরদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে বিধিনিষেধ আনছে যুক্তরাজ্য
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের ‘আসক্তিকর ডিজাইন’ বদলাতে কড়া নির্দেশ ইইউ’র
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন হালাল না হারাম, জানালেন মুফতি তাকি উসমানি
ইন্টারনেট গতিতে এগিয়েছে সব দেশ, পিছিয়েছে বাংলাদেশ: বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন
দেশজুড়ে ৪জি নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ ঘটলেও ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং ব্যয়বহুল সংযোগের কারণে লাখ লাখ মানুষ এখনো ডিজিটাল সুবিধার বাইরে রয়ে গেছেন। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইন্টারনেট গতির বৈশ্বিক তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তলানির দিকে, যা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের চিত্র: বিশ্বব্যাংকের বিস্তারিত তথ্য
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ ১০৩টি দেশের মধ্যে ৯১তম এবং ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে ১৪১টি দেশের মধ্যে ৯৩তম অবস্থানে রয়েছে। “দ্য আনফিনিশড ডিজিটাল রেভল্যুশন: এক্সপান্ডিং ইন্টারনেট অ্যাকসেস” শীর্ষক এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চগতির ইন্টারনেট এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়—বরং উৎপাদনশীলতা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উদ্ভাবনের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
সংযোগ থাকলেও ব্যবহারকারী
কম: প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এভাবে যে, ২০২৪ সালে দেশের শতভাগ জনসংখ্যা ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ নেটওয়ার্ক সংকেতের আওতায় থেকেও প্রতি তিনজনে একজন মানুষ ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত থেকে গেছেন। ব্যয়বহুল হ্যান্ডসেট, চড়া ডেটা প্যাকেজ ও নিম্ন ডিজিটাল সাক্ষরতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যা প্রমাণ করে শুধু অবকাঠামো থাকলেই প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৫৮.৬ শতাংশ, যা এক বছরে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন মালিকানার হার প্রায় ৮৯.৫ শতাংশ। তারপরও সামগ্রিক জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ এখনো
ইন্টারনেটের বাইরে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক তুলনায় গতির ব্যবধান: বিশ্বব্যাংকের গড় ডাউনলোড গতির তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেটে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, প্রতি সেকেন্ডে ৬৮১ মেগাবিট (Mbps) গতি নিয়ে। এমনকি লোয়ার-মিডল ইনকাম দেশ ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের গতিও ১৮৮ Mbps। সেখানে বাংলাদেশের গড় মোবাইল গতি মাত্র ৪৩ Mbps। ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে বিশ্বে শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের গতি ৪২১ Mbps, যেখানে বাংলাদেশের গড় গতি মাত্র ৬৬ Mbps। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—তিনটি দেশই ব্রডব্যান্ড গতিতে বাংলাদেশকে বিপুল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনে কখনো মোবাইল ফোনে টেক্সট মেসেজ পাঠাননি। অর্থনীতিতে প্রভাব: কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন,
এই দুর্বল সংযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ, রপ্তানি, প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল সরকারি সেবার সম্প্রসারণে। এমনকি সরকারের ক্যাশলেস সমাজ গড়ার পরিকল্পনাও এতে হুমকির মুখে পড়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, পয়েন্ট-অব-সেল টার্মিনাল ও কিউআর কোড লেনদেন—সবকিছুই নির্বিঘ্ন সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। কম গতির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া ও দ্বৈত চার্জ কাটার মতো সমস্যায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আস্থা ক্রমেই কমছে। ওকলার (Ookla) স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের র্যাংকিংয়ে সামান্য উন্নতি হলেও সামগ্রিক চিত্র এখনো
উদ্বেগজনক। ২০২২ সালের অবস্থান ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ ১৪১টি দেশের মধ্যে ১২১তম অবস্থানে ছিল, যেখানে গড় ডাউনলোড গতি ছিল মাত্র ১৪.৩৪ এমবিপিএস। ওই সময় দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম, যেখানে মালদ্বীপ শীর্ষে (বৈশ্বিক ২৫তম) এবং প্রতিবেশী ভারত বৈশ্বিকভাবে ৭৯তম স্থানে ছিল। একই সময়ে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগে বাংলাদেশ ছিল ১৭৮টি দেশের মধ্যে ১০৪তম, যেখানে গড় ডাউনলোড গতি ছিল ৩৫.২৫ এমবিপিএস। ২০২৩ সালে সামান্য উন্নতি ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ উঠে আসে ১১১তম স্থানে, যেখানে ২০২২ সালের নভেম্বরে অবস্থান ছিল ১১৯তম—অর্থাৎ এক বছরে আট ধাপ উন্নতি হয়। এ সময়
ডাউনলোড গতি বেড়ে দাঁড়ায় ২০.৬৬ এমবিপিএসে, যা আগের বছরের ১৩.৯৫ এমবিপিএস থেকে বেশি। একই সময়ে আপলোড গতিও বেড়ে ১০.০৬ এমবিপিএসে পৌঁছায়, যেখানে আগে তা ৮ এমবিপিএসের নিচে ছিল। তবে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ডাউনলোড গতি বেড়ে ৩৮.৬৫ এমবিপিএসে পৌঁছালেও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি ঘটে। জুলাই ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশ ছিল ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০৬তম, আগের প্রতিবেদনে যা ছিল ১৭৮টি দেশের মধ্যে ১০৪তম। অর্থাৎ গতি কিছুটা বাড়লেও (৩৫.২৫ থেকে ৩৭.৯২ এমবিপিএস) তুলনামূলক অবস্থানে উন্নতি হয়নি, কারণ অন্য দেশগুলোও একই সময়ে এগিয়েছে। মোট কথা, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট গতি ও র্যাংকিং—দুটোতেই সামান্য উন্নতি
হয়েছে (১২১তম থেকে ১১১তম), কিন্তু ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে গতি বাড়লেও প্রতিযোগী দেশগুলোর দ্রুত অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশের আপেক্ষিক অবস্থান কার্যত স্থবির থেকেছে বা কিছুটা পিছিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন আরও বলছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ ইন্টারনেটের আওতায়, প্রায় সর্বজনীন সংযোগ। বিপরীতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ—অর্থাৎ চারজনে একজনেরও কম মানুষ সংযুক্ত। এছাড়া গ্রামীণ-শহুরে বৈষম্যও প্রকট, যেখানে অবকাঠামোর ঘাটতি ও কম আয়ের কারণে গ্রামাঞ্চল সবসময় শহরের তুলনায় পিছিয়ে থাকে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অস্থিতিশীল সংযোগ ও কম গতির কারণে মানুষ বাজারদর, কৃষি সহায়তা, ডিজিটাল লেনদেন, টেলিমেডিসিন ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সামগ্রিক পর্যালোচনা ২০২২-২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এসে র্যাংকিং পদ্ধতিতে (বিশ্বব্যাংক বনাম ওকলা) কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সার্বিক চিত্র বলছে, বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক গড়ের অনেক নিচে রয়ে গেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ব্যবধান বরং বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নেটওয়ার্ক কাভারেজ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গতি, স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মান ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
কম: প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে এভাবে যে, ২০২৪ সালে দেশের শতভাগ জনসংখ্যা ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় থাকলেও প্রকৃতপক্ষে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন মাত্র ৫৩ শতাংশ মানুষ। অর্থাৎ নেটওয়ার্ক সংকেতের আওতায় থেকেও প্রতি তিনজনে একজন মানুষ ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত থেকে গেছেন। ব্যয়বহুল হ্যান্ডসেট, চড়া ডেটা প্যাকেজ ও নিম্ন ডিজিটাল সাক্ষরতাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে—যা প্রমাণ করে শুধু অবকাঠামো থাকলেই প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ৫৮.৬ শতাংশ, যা এক বছরে পাঁচ শতাংশীয় পয়েন্ট বেড়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ফোন মালিকানার হার প্রায় ৮৯.৫ শতাংশ। তারপরও সামগ্রিক জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ এখনো
ইন্টারনেটের বাইরে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক তুলনায় গতির ব্যবধান: বিশ্বব্যাংকের গড় ডাউনলোড গতির তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেটে শীর্ষে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, প্রতি সেকেন্ডে ৬৮১ মেগাবিট (Mbps) গতি নিয়ে। এমনকি লোয়ার-মিডল ইনকাম দেশ ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের গতিও ১৮৮ Mbps। সেখানে বাংলাদেশের গড় মোবাইল গতি মাত্র ৪৩ Mbps। ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে বিশ্বে শীর্ষে থাকা সিঙ্গাপুরের গতি ৪২১ Mbps, যেখানে বাংলাদেশের গড় গতি মাত্র ৬৬ Mbps। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড—তিনটি দেশই ব্রডব্যান্ড গতিতে বাংলাদেশকে বিপুল ব্যবধানে পেছনে ফেলেছে। আরও উদ্বেগজনক তথ্য হলো, বিশ্বব্যাংকের উপাত্ত অনুযায়ী বাংলাদেশসহ ২৭টি দেশে জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি মানুষ জীবনে কখনো মোবাইল ফোনে টেক্সট মেসেজ পাঠাননি। অর্থনীতিতে প্রভাব: কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন,
এই দুর্বল সংযোগ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে বিনিয়োগ, রপ্তানি, প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্য, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ডিজিটাল সরকারি সেবার সম্প্রসারণে। এমনকি সরকারের ক্যাশলেস সমাজ গড়ার পরিকল্পনাও এতে হুমকির মুখে পড়েছে। মোবাইল আর্থিক সেবা, অনলাইন ব্যাংকিং, পয়েন্ট-অব-সেল টার্মিনাল ও কিউআর কোড লেনদেন—সবকিছুই নির্বিঘ্ন সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। কম গতির কারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, লেনদেন ব্যর্থ হওয়া ও দ্বৈত চার্জ কাটার মতো সমস্যায় ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের আস্থা ক্রমেই কমছে। ওকলার (Ookla) স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেটের গতিতে বাংলাদেশের র্যাংকিংয়ে সামান্য উন্নতি হলেও সামগ্রিক চিত্র এখনো
উদ্বেগজনক। ২০২২ সালের অবস্থান ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওকলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ ১৪১টি দেশের মধ্যে ১২১তম অবস্থানে ছিল, যেখানে গড় ডাউনলোড গতি ছিল মাত্র ১৪.৩৪ এমবিপিএস। ওই সময় দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল পঞ্চম, যেখানে মালদ্বীপ শীর্ষে (বৈশ্বিক ২৫তম) এবং প্রতিবেশী ভারত বৈশ্বিকভাবে ৭৯তম স্থানে ছিল। একই সময়ে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সংযোগে বাংলাদেশ ছিল ১৭৮টি দেশের মধ্যে ১০৪তম, যেখানে গড় ডাউনলোড গতি ছিল ৩৫.২৫ এমবিপিএস। ২০২৩ সালে সামান্য উন্নতি ২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, মোবাইল ইন্টারনেট গতিতে বাংলাদেশ উঠে আসে ১১১তম স্থানে, যেখানে ২০২২ সালের নভেম্বরে অবস্থান ছিল ১১৯তম—অর্থাৎ এক বছরে আট ধাপ উন্নতি হয়। এ সময়
ডাউনলোড গতি বেড়ে দাঁড়ায় ২০.৬৬ এমবিপিএসে, যা আগের বছরের ১৩.৯৫ এমবিপিএস থেকে বেশি। একই সময়ে আপলোড গতিও বেড়ে ১০.০৬ এমবিপিএসে পৌঁছায়, যেখানে আগে তা ৮ এমবিপিএসের নিচে ছিল। তবে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ডাউনলোড গতি বেড়ে ৩৮.৬৫ এমবিপিএসে পৌঁছালেও বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের অবনতি ঘটে। জুলাই ২০২৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে বাংলাদেশ ছিল ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০৬তম, আগের প্রতিবেদনে যা ছিল ১৭৮টি দেশের মধ্যে ১০৪তম। অর্থাৎ গতি কিছুটা বাড়লেও (৩৫.২৫ থেকে ৩৭.৯২ এমবিপিএস) তুলনামূলক অবস্থানে উন্নতি হয়নি, কারণ অন্য দেশগুলোও একই সময়ে এগিয়েছে। মোট কথা, ২০২২ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের মোবাইল ইন্টারনেট গতি ও র্যাংকিং—দুটোতেই সামান্য উন্নতি
হয়েছে (১২১তম থেকে ১১১তম), কিন্তু ফিক্সড ব্রডব্যান্ডে গতি বাড়লেও প্রতিযোগী দেশগুলোর দ্রুত অগ্রগতির কারণে বাংলাদেশের আপেক্ষিক অবস্থান কার্যত স্থবির থেকেছে বা কিছুটা পিছিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন আরও বলছে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জনসংখ্যার ৯৪ শতাংশ ইন্টারনেটের আওতায়, প্রায় সর্বজনীন সংযোগ। বিপরীতে নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এই হার মাত্র ২৩ শতাংশ—অর্থাৎ চারজনে একজনেরও কম মানুষ সংযুক্ত। এছাড়া গ্রামীণ-শহুরে বৈষম্যও প্রকট, যেখানে অবকাঠামোর ঘাটতি ও কম আয়ের কারণে গ্রামাঞ্চল সবসময় শহরের তুলনায় পিছিয়ে থাকে। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অস্থিতিশীল সংযোগ ও কম গতির কারণে মানুষ বাজারদর, কৃষি সহায়তা, ডিজিটাল লেনদেন, টেলিমেডিসিন ও সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সামগ্রিক পর্যালোচনা ২০২২-২৩ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে এসে র্যাংকিং পদ্ধতিতে (বিশ্বব্যাংক বনাম ওকলা) কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সার্বিক চিত্র বলছে, বাংলাদেশ এখনো বৈশ্বিক গড়ের অনেক নিচে রয়ে গেছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় ব্যবধান বরং বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নেটওয়ার্ক কাভারেজ সম্প্রসারণের পাশাপাশি গতি, স্থিতিশীলতা, আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের মান ও সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করা ছাড়া বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।



