আপনার টুথব্রাশে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া: পরিবর্তনের সময় কি এসে গেছে? – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৩ অক্টোবর, ২০২৫

আপনার টুথব্রাশে লুকিয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া: পরিবর্তনের সময় কি এসে গেছে?

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ |
প্রতিদিন ব্যবহৃত টুথব্রাশটি আসলে এক ক্ষুদ্র জীববৈচিত্র্যের জগৎ। ব্রাশের সূক্ষ্ম তন্তুগুলি প্রতিদিন মুখের পানি, লালা, ত্বকের কোষ ও খাদ্যের অণু দিয়ে ভিজে থাকে। এই পরিবেশই ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস ও ছত্রাকের বংশবিস্তারের আদর্শ ক্ষেত্র তৈরি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ব্যবহৃত টুথব্রাশে প্রায় ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ পর্যন্ত জীবাণু থাকতে পারে, যেগুলি শতাধিক প্রজাতির। এগুলি ব্রাশের তন্তুর ওপর জৈব স্তর তৈরি করে এবং পুরনো ব্রিসলের ফাটলে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে। টুথব্রাশে জীবাণুর উৎস প্রধানত তিনটি—মুখগহ্বর, ত্বক এবং পরিবেশ। ব্যবহারের আগে এমনকি নতুন টুথব্রাশেও কিছু জীবাণু থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দোকান থেকে কেনা নতুন ব্রাশের অর্ধেকেই নানা ধরনের

ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায়। ব্যবহারের পর মুখের ভেতরের স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া, যেমন স্ট্রেপটোকক্কাস ও একটিনোমািসেস, টুথব্রাশে জমে থাকে। এগুলি মুখের স্বাভাবিক জীবাণু এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়। কিন্তু একই সঙ্গে টুথব্রাশে পাওয়া যায় এমন জীবাণু, যেগুলি মূলত অন্ত্র ও খাদ্যবিষক্রিয়ার জন্য দায়ী—যেমন এসেরিচিয়া কলি, সিডোমোনাস এরোগেনুসা ও ক্লেবসিয়েলা পিউমোনিয়া। এসব জীবাণু সাধারণত পানির উৎস, হাত, কিংবা বাথরুমের বাতাস থেকে ব্রাশে আসে। বাথরুমের পরিবেশ টুথব্রাশের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি করে। এই স্থান উষ্ণ, আর্দ্র এবং নিয়মিতভাবে পানির ক্ষুদ্র কণায় ভরে থাকে, যা বাতাসে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। টয়লেট ফ্লাশ করার সময় প্রায় দেড় মিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া ক্ষুদ্র জলকণার সঙ্গে মলজাত ব্যাকটেরিয়া

ও ভাইরাস মিশে থাকতে পারে, যা কাছাকাছি রাখা টুথব্রাশে গিয়ে বসে। গবেষণায় দেখা গেছে, যৌথ বাথরুম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ টুথব্রাশে মলজাত ব্যাকটেরিয়া পাওয়া গেছে। যদিও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই জীবাণুগুলি সরাসরি অসুস্থতার কারণ হয় না, তবু ঝুঁকি সম্পূর্ণ নেই বলা যায় না। বিশেষ করে যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। কিছু গবেষণায় টুথব্রাশে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসার জটিলতা বাড়াতে পারে। টুথব্রাশে ভাইরাসও দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকতে পারে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ও করোনাভাইরাস কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত টিকে থাকতে সক্ষম, আর ঠোঁটের ঘায়ের ভাইরাস হার্পিস সিম্পলেক্স ভাইরাস-1 প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে। তাই একই পরিবারের সদস্যদেরও টুথব্রাশ

ভাগ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে একই পরিবারে বসবাসকারীদের মুখগহ্বরের জীবাণু এক ধরনের হয়ে থাকে, ফলে একসঙ্গে রাখলেও সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক কম। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ভাইরাস যেমন ব্যাকটেরিওফাজ টুথব্রাশে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতেও ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, টুথব্রাশে থাকা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল কোটিং বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সাধারণত তেমন কার্যকর নয়, বরং কখনও কখনও ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, টুথব্রাশ খোলা জায়গায় উল্টো করে শুকাতে দিলে জীবাণুর পরিমাণ কমে আসে, কারণ অনেক ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া শুকনো অবস্থায় টিকে থাকতে পারে না। স্ট্রেপটোকক্কাস মিউটানস ব্যাকটেরিয়া, যা দাঁতের ক্ষয়ের জন্য দায়ী, তা আট ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, কিন্তু ১২ ঘণ্টা পর

থেকে মারা যায়। এ কারণে টুথব্রাশ ঢেকে রাখা বা বন্ধ বাক্সে সংরক্ষণ করলে উল্টো জীবাণু বৃদ্ধির সুযোগ বেড়ে যায়। অনেকে টুথব্রাশ জীবাণুমুক্ত করতে নানা পদ্ধতি ব্যবহার করেন—যেমন আল্ট্রাভায়োলেট আলো, ডিশওয়াশার বা মাইক্রোওয়েভ। তবে এসব পদ্ধতি অনেক সময় কার্যকর হলেও ব্রাশের ক্ষতি করতে পারে। তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতি হলো, ব্যবহারের পর ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে রাখা এবং মাঝে মাঝে টুথব্রাশের মাথা অ্যান্টিসেপটিক মাউথওয়াশে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখা। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ১% ভিনেগার দ্রবণ জীবাণু হ্রাসে কার্যকর হতে পারে, যদিও এটি ব্রাশে অস্বস্তিকর গন্ধ রেখে যায়। এইভাবে টুথব্রাশ আমাদের মুখের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি নিজেও পরিচ্ছন্নতার দাবি রাখে। নিয়মিত ধোয়া, সঠিকভাবে শুকানো

এবং নির্দিষ্ট সময় পর পরিবর্তনই পারে এর অদৃশ্য জীবাণুদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
এপস্টেইন-বিতর্কের জেরে গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়া বন্ধ করলেন বাফেট শেষের ঝলকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা প্রেমের টানে হুটহাট বাংলাদেশে উড়ে যাওয়া নাগরিকদের কঠোর বার্তা চীন সরকারের টি-টোয়েন্টিতেও জিম্বাবুয়ের কাছে ধরাশায়ী বাংলাদেশ যশোরে আওয়ামী লীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার, বিএনপির ২ নেতাকর্মী আটক দেড় মাসেই উন্নয়নের জোয়ারে পদ্মায় ভেসে গেল ৫২৭ কোটি টাকার প্রকল্প! ডেঙ্গু ঠেকাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর যুগান্তকারী সমাধান: বললেন লুঙ্গি লম্বা করে ও পায়জামা পরতে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফরম্যাটে বড় পরিবর্তন আনল আইসিসি আইসিসির নতুন কমিটিতে প্রধান তামিম ইকবাল, পেলেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিও নরসিংদীর কানখেকো সেই বিএনপি নেতাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা সুস্থ অবস্থায় কারাগারে যাওয়ার ৯ দিন পর পরিবার পেল যুবলীগ নেতার মরদেহ, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ বাংলাদেশের পোশাক খাতে শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন-নিপীড়নের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ব্যার্থ: টানা চতুর্থ রাতেও হামলা, হরমুজ প্রণালীতে নতুন করে নৌ-অবরোধ দাম বেড়েছে ফার্মের মুরগির ব্যাংক থেকে মাসে ৩ বারের বেশি টাকা উত্তোলনে অতিরিক্ত চার্জ, ১৪ সেবায় নতুন ফি! ভারতে অনুপ্রবেশ, গুপ্ত অবস্থানরত পাসপোর্টহীন মার্কিন নৌসেনাসহ আরও বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার ফ্রান্সকে অনায়াসে হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে ওঠার আনন্দে বিভোর স্পেন ‘বড্ড ছন্নছাড়া ছিলাম আমরা’, বিদায়ের সব দায় নিজের কাঁধেই নিলেন এমবাপে যে রেফারি থাকলে কখনো হারেন না মেসিরা, তাকেই ইংল্যান্ড ম্যাচে নিয়োগ দিল ফিফা অক্সফোর্ডে আন্তর্জাতিক সেমিনারে সজীব ওয়াজেদের চ্যালেঞ্জ: “১৪শ জনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করুক জাতিসংঘ”