‘চুলকাতে গিয়ে দেখি পা নেই’ – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪
     ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ

‘চুলকাতে গিয়ে দেখি পা নেই’

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ | ৭:১৫ 223 ভিউ
আমার এখনও মনে হয় যে, আমার পা আগের মতোই আছে। এটা যে কেটে ফেলে দেয়া হয়েছে, এটা যে নাই সেটা মনেই থাকে না। আমি পুরো পায়ের অনুভূতি আগের মতোই পাই। হাসপাতালের বিছানায় বসে কথাগুলো বলছিলেন ১৫ বছর বয়সী কিশোর তামিম হোসেন। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন। গত ৫ই আগস্ট বিকেলের দিকে ঢাকার মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর মিরপুরে যে আনন্দ মিছিল হয়, সেটাতে অংশ নিয়েছিলেন তামিম হোসেন। একপর্যায়ে মিছিলে পুলিশ গুলি ছুঁড়লে একটি গুলি এসে পায়ে লাগে তামিমের। বাংলাদেশে জুলাই এবং অগাস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অনেকে যেমন মারা গেছেন, তেমনি তামিমের মতো আহতও হয়েছেন কয়েক হাজার। এদের কেউ গুলিতে চোখ হারিয়েছেন, কেউ

পা হারিয়েছেন আবার কেউ শরীরে বুলেট নিয়েই বেঁচে আছেন না বাঁচার মতোই। তাদের পরিবারও আছে দুর্দশার মধ্যে। আহতদের কেউ হাসপাতাল ছেড়েছেন। আবার একমাস পরও সুস্থ না হওয়ায় অনেকের ঠিকানা হয়েছে হাসপাতাল। ঢাকার তামিম হোসেন পড়তেন একটি হাফেজি মাদ্রাসায়। চলতি বছর মাদ্রাসা থেকে ভর্তি হয়েছিলেন একটি মাধ্যমিক স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে। গত ৫ই আগস্ট মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুলি তার যান পায়ের পেছনের অংশে ঢুকে পাশ কেটে বেরিয়ে যায়। তামিম বলেন, গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গে আমি রাস্তায় পড়ে যাই। পুরো ডান পা অবশ হয়ে যায়। রক্ত আর রক্ত। হাঁটতে পারছিলাম না সহজে। ঐ অবস্থাতেই গুলি থেকে বাঁচতে আশ্রয় নেই রাস্তার ফ্লাইওভারে। আধাঘণ্টা পর গুলি থামলে

নেমে আসি। পরে মানুষজন আমাকে হাসপাতালে নেই। সেদিন মিরপুরের একটি হাসপাতাল ঘুরে তাঁর আশ্রয় হয় পঙ্গু হাসাপাতালে। সেখান থেকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে। কিছুদিন ড্রেসিং করে। কিন্তু আস্তে আস্তে জায়গাটা পচে যায়। তখন পঙ্গু থেকে আমাকে হৃদরোগে পাঠায়। সেখানে টেস্ট করার পর তারা বলে যে, পা রাখা যাবে না। এটা কেটে ফেলতে হবে। পরে পঙ্গুতে আবারও ডাক্তাররা দেখে। তারা বলে যে, পা রাখার আর কোনও সুযোগ নেই। তামিমের পা কেটে ফেলার পর নতুন জটিলতা শুরু হয়। পা বিহীন অবস্থার সঙ্গে কিছুতেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না তামিম। অপারেশনের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। কিন্তু পা হারিয়েও পা থাকার ‘অদ্ভুত’ অনুভূতি এখনও বয়ে চলেছেন অষ্টম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। প্রথম তিন-চার

দিন আমি ঘুমাতে পারি নাই। আমার মনে হতো যে, পুরো পা আমার অক্ষত আছে। পায়ে যেখানে গুলি লেগেছিলো, সেখানকার ব্যথা আমি এখনও অনুভব করি। অথচ সেই পা কেটে ফেলা হয়েছে। মাঝে মাঝে চুলকায়। চুলকাতে গিয়ে দেখি পা নেই। আমার যখন পা ছিল, তখন যে ফিল করতাম যে মশা কামড় দিয়েছে বা পিঁপড়া কামড় দিয়েছে, ঐরকমের ফিল হয়। আমার পা চুলকাতে থাকে। পিঁপড়া কামড় দেয়। কিন্তু আসলে কিছু নেই। তামিম এখন অভ্যস্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন নতুন জীবনে। কিন্তু তার জীবনধারা যে আজীবনের জন্য বদলে গেছে, বুঝতে পারছেন সেটাও। তামিম বলেন, আমি এখন ক্রাচে ভর করে হাঁটার চেষ্টা করছি। আমি ফুটবল খেলতাম। সেগুলো মনে

পড়ে। আমার বন্ধুরা খেলবে। কিন্তু আমি খেলতে পারবো না -এগুলো মনে হয়। তখন আমার আম্মু ডাক্তারদের কথা বলে যে, তারা এমন পা লাগায় দিবে যে তুমি খেলতে পারবা।” তবে পরিস্থিতি যেমনই হোক, ভবিষ্যৎ নিয়ে হাল ছাড়ছেন না তামিম। স্বপ্ন দেখছেন, বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হবেন। আবু সাঈদ ভাই যখন মারা গেছে। অনেকেই আহত হয়েছে। তখন আমি বসে থাকতে পারিনি। আমার আম্মু নিষেধ করেছিল, কিন্তু আমি শুনি নাই। এখন ভাবি, আমি তো নিজেই সাহস করে আন্দোলনে গিয়েছি। নিজের একটা অঙ্গ গিয়েছে, আফসোস নাই। তবু দেশটা যেন ভালো থাকে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
ওয়াশিংটন পোস্ট: ইরানে হামলায় ট্রাম্পকে প্ররোচনা দেন সৌদি যুবরাজ বিন সালমান গত ১৮ মাসের ভারত-বিদ্বেষ ও তিক্ততা পেছনে ফেলে নতুন করে সম্পর্ক নবায়নের পথে বাংলাদেশ ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে শিক্ষাঙ্গন ‘ক্ষত-বিক্ষত’: প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের অভিযোগ, ১৪ দফা দাবি উত্থাপন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক অনিয়ম: ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ৯০ কোটি টাকা ও ১৭৬ একর জমি ফেরতের সুপারিশ সিপিডির সংবাদ সম্মেলন: মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি ‘চরম বৈষম্যমূলক’, বাতিলের আহ্বান; জাপানের ইপিএ চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি খামেনির হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানে ব্যাপক বিক্ষোভ: করাচির মার্কিন কনস্যুলেটে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২২, আহত ১২০+ স্যামসনের দুর্দান্ত ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সেমিফাইনাল ভারত বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা: ছোট দেশ হলেও নিপীড়িত মানুষ ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থাকবে বাংলাদেশ দাম বাড়ল ওয়াসার পানির, কার্যকর আজ থেকে কুষ্টিয়া আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: সভাপতিসহ ৬ পদে আওয়ামীপন্থীরা জয়ী ‘গাইনি’ সমস্যায় জরুরি অস্ত্রোপচার এনসিপি নেত্রী মিতুর, বেড়েছে জটিলতা-সংক্রমণ গাইবান্ধায় নিজ বসতঘরে প্রাথমিক শিক্ষিকার হাত পা বাঁধা লাশ, মিলেছে ধর্ষণের আলামত আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট জাতিকে ভুল বুঝিয়ে আমেরিকার সঙ্গে দেশবিক্রির চুক্তি করেছেন ইউনূস ঢালাও অভিযোগ, দুর্বল ভিত্তি : কার স্বার্থে এই মামলা? কিচেন ক্যাবিনেটের আঠারো মাসের অন্দরমহলে পুলিশ হত্যা তদন্ত শুরু হলে পালানোর পরিকল্পনায় হান্নান মাসুদ লোডশেডিং-ই কি এখন বিএনপি সরকারের সরকারি নীতি? মব আতঙ্কে সরকারি বাসভবন ছাড়তে চাইছেন না ইউনূসসহ মবের হোতারা খাম্বা তারেকের নেতৃত্বে আবারও সেই অন্ধকারযুগে ফিরছে বাংলাদেশ