ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
বাগেরহাটে জমি-জমার বিরোধে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় ছাত্রলীগ কর্মী খুন
এবার কুমিল্লায় মা-ভাবি ও ৮ মাসের ভাতিজিকে কুপিয়ে-আছড়ে হত্যা
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনায় গোসলে নেমে তিন স্কুলশিক্ষার্থী নিখোঁজ
মানিকগঞ্জে প্রবাসী ঘর থেকে একই পরিবারের ৩ জনের ক্ষত-বিক্ষত মরদেহ উদ্ধার
গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে থাকার অভিযোগ: গ্রেপ্তার বেড়ে ১৭৯
তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: রাস্তায় অচেতন পড়ে থাকা তরুণীর হাসপাতালে মৃত্যু
রেল লাইনে বোমাসদৃশ বস্তু: উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের রেল যোগাযোগ অচল
কুড়িগ্রামে সারের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে মামলা: ঘরছাড়া ৫ গ্রামের কৃষক
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় সারের ন্যায্য দাবির আন্দোলন এখন কৃষকদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের জেরে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারের ভয়ে অন্তত পাঁচটি গ্রামের কৃষকেরা এখন ঘরছাড়া।
পুলিশের নৈশ অভিযানের আশঙ্কায় রাতে নিজেদের ঘরে ঘুমাতে পারছেন না তারা; দিনে জমিতে কাজের সুযোগ হলেও সারারাত কাটছে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা আত্মগোপনে। এর ফলে চরম সংকটে পড়েছে এলাকার আমন ধান ও শীতকালীন সবজি চাষ।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৭ই সেপ্টেম্বর। বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের গোনাইয়ের কুটি গ্রামে সার ডিলার আমজাদ হোসেনের দোকানের সামনে সারের অপ্রতুলতার অভিযোগে শত শত কৃষক বিক্ষোভ শুরু করেন।
আমন মৌসুমে সারের তীব্র চাহিদা থাকা সত্ত্বেও কৃষকদের মাত্র ৫ থেকে ৭ কেজি করে সার দেওয়া হচ্ছিল বলে
অভিযোগ ওঠে। স্বজনপ্রীতি ও বারবার ঘুরেও সার না পাওয়ার ক্ষোভে কৃষকেরা বাঁশ ও আবর্জনায় আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার কৃষকদের দ্বারা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পরদিন, ৮ সেপ্টেম্বর, কৃষি কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া দুই কৃষক আল আমিন মোল্লা (৪৭) ও সুরুজ মিয়া (৪৫) আট দিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আল আমিনের স্ত্রী রওশন আরা জানান, স্বামীকে ছাড়াতে
গিয়ে তাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের জন্য বড় বোঝা। বর্তমানে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপরিচিত কাউকেই কৃষকেরা সহজভাবে নিতে পারছেন না। সাংবাদিক পরিচয়ে গেলে কৃষকেরা প্রথমে সাদা পোশাকের পুলিশ ভেবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। গোনাইয়ের কুটি গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন (৬২) ও শিউলি বেগম জানান, মামলার ভয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা রাত কাটাচ্ছেন অন্যত্র। আমন খেত ও বেগুন চাষের চরম পরিচর্যার সময়েও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এমনকি খরচের ভয়ে আগাম জামিনের আবেদনও করতে পারছেন না তারা। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লার মতে, সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে প্রতি বছরই এমন অসন্তোষ তৈরি
হয়। দেশের অন্য কোথাও কৃষকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও এই উপজেলায় মামলা দিয়ে দরিদ্র কৃষকদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার তার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে পুলিশের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃতা দেবনাথ বড় ধরণের অভিযান বা কৃষকদের ঘরছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ওসি জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদেরই কেবল শনাক্ত করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ আশ্বাস দিয়েছেন, নির্দোষ কারও ভয় পাওয়ার কারণ নেই এবং প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকদের দাবি, কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যেন
তারা খেতে কাজ করা ও ন্যায্য দামে সার পাওয়ার সুযোগ পান।
অভিযোগ ওঠে। স্বজনপ্রীতি ও বারবার ঘুরেও সার না পাওয়ার ক্ষোভে কৃষকেরা বাঁশ ও আবর্জনায় আগুন জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার কৃষকদের দ্বারা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। এই ঘটনার পরদিন, ৮ সেপ্টেম্বর, কৃষি কর্মকর্তা ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া দুই কৃষক আল আমিন মোল্লা (৪৭) ও সুরুজ মিয়া (৪৫) আট দিন হাজতবাসের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। আল আমিনের স্ত্রী রওশন আরা জানান, স্বামীকে ছাড়াতে
গিয়ে তাদের প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ করতে হয়েছে, যা তাদের পরিবারের জন্য বড় বোঝা। বর্তমানে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপরিচিত কাউকেই কৃষকেরা সহজভাবে নিতে পারছেন না। সাংবাদিক পরিচয়ে গেলে কৃষকেরা প্রথমে সাদা পোশাকের পুলিশ ভেবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। গোনাইয়ের কুটি গ্রামের কৃষক কলিম উদ্দিন (৬২) ও শিউলি বেগম জানান, মামলার ভয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা রাত কাটাচ্ছেন অন্যত্র। আমন খেত ও বেগুন চাষের চরম পরিচর্যার সময়েও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না কৃষকেরা। এমনকি খরচের ভয়ে আগাম জামিনের আবেদনও করতে পারছেন না তারা। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লার মতে, সারের কৃত্রিম সংকট নিয়ে প্রতি বছরই এমন অসন্তোষ তৈরি
হয়। দেশের অন্য কোথাও কৃষকদের আন্দোলনের বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হলেও এই উপজেলায় মামলা দিয়ে দরিদ্র কৃষকদের হয়রানি করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার তার ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিষয়টিকে পুলিশের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃতা দেবনাথ বড় ধরণের অভিযান বা কৃষকদের ঘরছাড়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। ওসি জানান, ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত দোষীদেরই কেবল শনাক্ত করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ আশ্বাস দিয়েছেন, নির্দোষ কারও ভয় পাওয়ার কারণ নেই এবং প্রশাসন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষকদের দাবি, কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই যেন
তারা খেতে কাজ করা ও ন্যায্য দামে সার পাওয়ার সুযোগ পান।



