যুবলীগ নেতা ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, মামলা করতে গিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধা মা বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে! – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৬

যুবলীগ নেতা ছেলেকে জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা, মামলা করতে গিয়ে ৬৮ বছরের বৃদ্ধা মা বিএনপি অফিস ভাঙার মামলায় কারাগারে!

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৮ September, ২০২৬ |
জমি-জমা নিয়ে বিরোধ নিয়ে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে একদল লোক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে বলে রুহুল আমিনকে পিটিয়ে জ্যান্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়। সেই ঘটনার জেরে রুহুল আমিনের মা নূরজাহান বেগম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় মামলা করতে যান। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় তিনি আদালতে মামলা করেন। মামলার পরদিন রোববার পুলিশ ৬৮ বছরের বৃদ্ধ নূরজাহান বেগমকে মামলার বিষয়ে কথা বলতে থানায় ডেকে নেয়। পরে নূরজাহান বেগমের পরিবার জানতে পারে, তাকে বিএনপি কার্যালয় ভাঙার মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ওই মামলার আসামি নূরজাহান বেগম নন। মামলাটিতে আসামি করা হয়েছিল তার

ছেলে, যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনকে। পুলিশের বক্তব্য, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে নূরজাহানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুন ও সেলিনা খাতুন জানালেন বিষয়টি। তাদের বাড়ি উপজেলার পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের নলকুলা গ্রামে। রুহুল আমিন নলকুলা গ্রামের পাটিকাবাড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সহিংসতার আশঙ্কায় তিনি এখন এলাকার বাইরে রয়েছেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মামুনুর রশীদ দাবি করেন, ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে যুবলীগ নেতা রুহুল আমীনের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তার ৬৮ বছর বয়সী মা নূরজাহান বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। সন্ধ্যায় আমলি আদালতের বিচারক সানা খাতুন তাকে

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কৃষকদল কার্যালয়ে হামলার মামলাটির বাদী হাবিবুর রহমান। তিনি কৃষকদলের নেতা হিসেবে পরিচিত। নূরজাহান বেগমের মেয়ে নাসিমা খাতুনের ভাষ্য, হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তাদের পরিবারের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই মামলায় রুহুল আমিনকে ফাঁসানো হয়েছে। যুবলীগ নেতা রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা যেদিন ঘটে, হাবিবুর রহমানের করা কৃষকদল কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের মামলাতেও একই দিনের কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৬ই সেপ্টেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ১৫ই সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর নলকুলা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কৃষকদল কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের মারধর করা হয়। মামলায় ৭৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০

জনকে আসামি করা হয়েছে। নাসিমা খাতুন জানান, ১৫ই সেপ্টেম্বর রাতে আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ি- উল্লেখ করে তাদের বাড়িতে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কয়েক শ লোক মব হামলা করে। তারা রুহুল আমীনের নাম ধরে হুমকি ধমকি দেয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিন বেরিয়ে এলে তাকে নির্মমভাবে পেটানো হয়। রুহুল আমিন প্রাণ বাঁচাতে পাটের গুদামে গিয়ে আশ্রয় নিলে সেখানে তাকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরাও গুরুতর আহত হন। নাসিমা বলেন, ঘটনার পরদিন তার মা নূরজাহান বেগম মামলা করতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় গিয়েছিলেন। কিন্তু থানা মামলা নিতে গড়িমসি করে। পরে উপায় না দেখে ২১শে সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করা হয়। বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের ছোট মেয়ে

সেলিনা বলেন, “রোববার সকালে পুলিশ বাড়িতে এসে আমার মাকে জিজ্ঞেস করে, আদালতে মামলা করেছেন কি না। ওসি তার সঙ্গে কথা বলবেন, তাই থানায় যেতে হবে বলে জানায়। মা পুলিশের সঙ্গে থানায় যান। দুপুরেও তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় আমরা কারণ জানতে চাই। তখন পুলিশ জানায়, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আদালতে পাঠানো হবে।” সেলিনা খাতুন আরও বলেন, “আমার ভাই রুহুল আমিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। প্রাণের ভয়ে সে এখন এলাকাছাড়া। ছেলের কারণে বৃদ্ধ মাকেই জেলে যেতে হলো। থানা মামলা না নিলে আদালতে মামলা করা কি অপরাধ?” এ বিষয়ে কথা বলার জন্য কৃষকদল নেতা হাবিবুর রহমানকে ফোন করা হয়েছিল। তবে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি

বন্ধ পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের