মনজুরুল হক লেখক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
আরও খবর
ক্ষমতা গেলে সবার আগে পল্টি দেন তারকা রাজনীতিবিদরা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যতিক্রম?
দল ক্ষমতা হারালে সবার আগে পিছটান দেন তারকা রাজনীতিবিদ’রা, দু’দিনের রাজনীতিবিদ সাকিব কেন ব্যাতিক্রম?
নবমবার সংশোধন করেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভুলে-ভরা এবং অসংগতিপূর্ণ বিবৃতি
তাসনুভা প্রসঙ্গে ১,২৩০ জনের সাক্ষর: ধর্মীয় আপত্তি থেকে ফৌজদারি আইন—কোথায় টানতে হবে সীমারেখা?
গন্তব্য কোথায়?
শেখ হাসিনার সরকারের পতন পরবর্তী দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচাল
রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্ব ও রাষ্ট্রের প্রতি সেনাবাহিনীর আনুগত্য: ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা
জুলাইতে মার্কিন দূতাবাসের সেফ হাউসে মজহার শিষ্যদের মগজ ধোলাইপর্ব এবং বেহাত বিপ্লব
ফরহাদ মজহার মোটেও হাটে হাঁড়ি ভাঙেননি। সব জেনে-বুঝে কারেন্ট সিচ্যুয়েশনে নিজের ব্যর্থতা প্রকাশ করে তার মূল উদ্দেশ্য যে এখনও অর্জিত হয়নি এবং কাদের কারণে হয়নি সেটি উল্লেখ করেছেন। তার এই বক্তব্য হাল্কাভাবে নেওয়া বোকামি হবে।
আজ থেকে ৪৪ বছর আগে তার অন্যতম ‘ডান হাত’ বলেছিলেন-‘আমরা বিপ্লব পরবর্তী শাসক তৈরি করছি যারা একটি মডার্ণ ব্যুরোক্র্যাসি গড়ে তুলবে’। ‘শাসক তৈরি করছেন ভালো কথা, তো বিপ্লব কবে হবে, কীভাবে হবে?’ প্রশ্নের উত্তরে ‘গুরু’ মজহার বলেছিলেন-‘সে তো এমনিতেই হবে’।
এটা মার্ক্সবাদসম্মত বক্তব্য। মার্ক্সের সূত্রানুযায়ী- “Mankind always sets itself only such tasks as it can solve; since, looking at the matter more closely, we will always find
that the task itself arises only when the material conditions necessary for its solution already exist or are at least in the process of formation.” মার্ক্সের এই the material conditions ১৯৯০ সালে খানিকটা সৃষ্টি হয়েছিল, মজহার ক্যাশ করতে পারেননি। এবার ২০২৪-এর আগে ২০২০-২১ সাল থেকে তিনি ‘একদল তরুণ তৈরি করা’র কাজটি করছিলেন। তিনি আশাবাদীও ছিলেন। তার আশায় পানি ঢেলেছে মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী দর্শন বদহজম হওয়া তার শিষ্যরা এবং বাংলাদেশের মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী দর্শনমূর্খ বামেরা। বুঝতে হবে তিনি কখনই বামেদের ওপর ভরসা করেননি। করেছিলেন অল্পবিস্তর মার্ক্স, লেনিন, মাও ঘুঁটে চোলাই খাওয়া তরুণদের ওপর, যারা তার ‘জিহাদই শ্রেণী সংগ্রাম’ তত্ত্ব গিলেছিল। এখানে তাদের পরিচয় ‘হিযবুত তাহরীর’ ও নিওলিবারাল
অক্সিলারি ফোর্স। এরাই জুলাই আনরেস্টে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল। ঘটনাক্রমে এদের হঠিয়ে নাহিদদের মত অকাট মূর্খ, জামায়াত-হেফাজতের জ/ঙ্গিরা মাঠ দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশের সহায়তায়। এখানে ন্যূনতম শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত বা গতরখাটা মানুষের অংশগ্রহণ নাই (বামেরা চিৎকার করে যা বলে আসছে)। এই অবস্থায় ক্ষমতা সাধারণের হাতে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে বিএনপি তড়িঘড়ি আন্দোলনে নিজেদের নাম লেখায়। এখানকার কোনো পক্ষই ব্যবস্থা বদল চায়নি। চেয়েছে রেজিম চেঞ্জ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চেয়েছে এবং তা অর্জনে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা ঢেলেছে। জুলাই আনরেস্ট যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনা ও সেনাবাহিনীর একাংশের অংশগ্রহণে স্রেফ ‘রেজিমচেন্জ’ মুভমেন্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে ছিল এটা চোখ-কান খোলা মানুষজন যেমন জানেন, ফরহাদ মজহারও জানেন। আগে
স্বীকার করতেন না, এখন স্বীকার করছেন মাত্র। তার স্বীকারোক্তি মতে ‘কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের’ মার্কিন দূতাবাসের ‘সেফ হাউসে’ রাখা হয়েছিলো এবং সরকার পতনের ১ দফা দাবি তুলতে বাধ্য করা হয়েছিলো। একই সময়ে আনু মুহাম্মদদের দিয়েও ১ দফার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এদের সবার সঙ্গে ফরহাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিলো। মজহার এবারও ব্যর্থ হলেন। খেয়াল করে দেখুন ২০২৪-এর শেষ দিক থেকে তিনি কয়েকবার বলেছেন- ‘জামায়াতসহ ইসলামিস্টরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়। আমি শহিদ হব তাতে আমার কোনো কষ্ট নেই’। এর মানে হলো তিনি একা ব্যর্থ হননি, তার শিষ্যরাও ব্যর্থ হয়েছে। তার একমাত্র সফলতা মাহবুব মোর্শেদ, ফারুক ওয়াসিফের মত তার কয়েকজন ঘোড়েল শিষ্য কিছু বড় পদ
বাগিয়েছে এবং তার স্ত্রী উপদেষ্টা হয়েছেন। মহজার জানেন আজ হোক বা কাল আওয়ামী লীগ ফিরবে। এখানে শেখ হাসিনা বা অন্যান্য নেতা ম্যাটার করে না। একটা পুরোনো দল, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ যাদের সমর্থক তারা ফিরবেই। তার মানে ২৪ ফরহাদ মজহারকে যে বাতিঘরের দিশা দিয়েছিল তার মৃ/ত্যু ঘটবে। তার পরও তিনি আশা ছাড়ছেন না। তিনি মনে করেন এখনও সময় আছে ৭২-এর সংবিধান মুছে ফেলার। এটা করতে পারলেই জনপ্রিয় বুর্জোয়া কাঠামোটা ভেঙে দেওয়া যাবে। গড়ে তোলা যাবে বিপ্লবী সরকার। যারা ক্রমান্বয়ে একটি মডারেট ইসলামি হুকুমাত কায়েম করে মজলুমদের ইনসানিয়াত দেবে। সমস্যা হলো তার এই আশায় পানি ঢেলেছে বিএনপি-জামায়াত, কারণ তাদের রেজিম বদলের রাজনীতির মূল কথা
সবকিছু ঠিক রেখে ক্ষমতার চেয়ারে বসা। তাই তারা জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদ ‘বাস্তবায়ন করা হবে’ বলে উত্তেজনা থামিয়ে দিয়েছে। এখন তাহলে মজহার কী করবেন? আনু মুহাম্মদসহ বাম-ডান-মডারেট সবার ভেরেন্ডা ফাঁস করবেন? তিনি ইতোমধ্যে বামেদেরকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পারপাস সার্ভকারী’ বলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সেফ হাউসে মগজ ধোলাই করে সেসব বলেছেন। এগুলো সাংঘাতিক কথাবার্ত। তার বিপদ হতে পারে। তাও যখন বলেছেন, তখন ধরে নিতে হবে তিনি ভেবেছেন- না বললে আরও বেশি বিপদ হতে পারে। ফরহাদ মজহার কি এখনও স্বপ্ন দেখেন? না, তিনি জানেন তার এবং তাদের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে তার এই ‘হাটে হাঁড়ি ভাঙা’র নাটক কেন? এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন! তিনি এখনও ক্ষীণ
আশা করছেন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে আগমন কেন্দ্র করে একটা বিশাল উথাল-পাথাল হবে, এনার্কি হবে, দ্রুত মোবিলাইজেশন, ডিমোবিলাইজেশন হবে। সেই ডামাডোলে আরও একটা ‘সিলেক্টিভ ম্যাসাকার’ বা ‘স্ক্যাটার্ড অফেনসিভ’ হবে, এবং তার কাঙ্খিত মজলুমের ইনসানিয়াত কামিয়াব হবে।
that the task itself arises only when the material conditions necessary for its solution already exist or are at least in the process of formation.” মার্ক্সের এই the material conditions ১৯৯০ সালে খানিকটা সৃষ্টি হয়েছিল, মজহার ক্যাশ করতে পারেননি। এবার ২০২৪-এর আগে ২০২০-২১ সাল থেকে তিনি ‘একদল তরুণ তৈরি করা’র কাজটি করছিলেন। তিনি আশাবাদীও ছিলেন। তার আশায় পানি ঢেলেছে মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী দর্শন বদহজম হওয়া তার শিষ্যরা এবং বাংলাদেশের মার্ক্সবাদী-লেনিনবাদী দর্শনমূর্খ বামেরা। বুঝতে হবে তিনি কখনই বামেদের ওপর ভরসা করেননি। করেছিলেন অল্পবিস্তর মার্ক্স, লেনিন, মাও ঘুঁটে চোলাই খাওয়া তরুণদের ওপর, যারা তার ‘জিহাদই শ্রেণী সংগ্রাম’ তত্ত্ব গিলেছিল। এখানে তাদের পরিচয় ‘হিযবুত তাহরীর’ ও নিওলিবারাল
অক্সিলারি ফোর্স। এরাই জুলাই আনরেস্টে অগ্রণী ভূমিকায় ছিল। ঘটনাক্রমে এদের হঠিয়ে নাহিদদের মত অকাট মূর্খ, জামায়াত-হেফাজতের জ/ঙ্গিরা মাঠ দখল করে সেনাবাহিনীর একাংশের সহায়তায়। এখানে ন্যূনতম শ্রমিক-কৃষক-মধ্যবিত্ত বা গতরখাটা মানুষের অংশগ্রহণ নাই (বামেরা চিৎকার করে যা বলে আসছে)। এই অবস্থায় ক্ষমতা সাধারণের হাতে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে বিএনপি তড়িঘড়ি আন্দোলনে নিজেদের নাম লেখায়। এখানকার কোনো পক্ষই ব্যবস্থা বদল চায়নি। চেয়েছে রেজিম চেঞ্জ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও চেয়েছে এবং তা অর্জনে মিলিয়ন মিলিয়ন টাকা ঢেলেছে। জুলাই আনরেস্ট যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনা ও সেনাবাহিনীর একাংশের অংশগ্রহণে স্রেফ ‘রেজিমচেন্জ’ মুভমেন্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যে ছিল এটা চোখ-কান খোলা মানুষজন যেমন জানেন, ফরহাদ মজহারও জানেন। আগে
স্বীকার করতেন না, এখন স্বীকার করছেন মাত্র। তার স্বীকারোক্তি মতে ‘কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতাদের’ মার্কিন দূতাবাসের ‘সেফ হাউসে’ রাখা হয়েছিলো এবং সরকার পতনের ১ দফা দাবি তুলতে বাধ্য করা হয়েছিলো। একই সময়ে আনু মুহাম্মদদের দিয়েও ১ দফার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এদের সবার সঙ্গে ফরহাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ছিলো। মজহার এবারও ব্যর্থ হলেন। খেয়াল করে দেখুন ২০২৪-এর শেষ দিক থেকে তিনি কয়েকবার বলেছেন- ‘জামায়াতসহ ইসলামিস্টরা আমাকে মেরে ফেলতে চায়। আমি শহিদ হব তাতে আমার কোনো কষ্ট নেই’। এর মানে হলো তিনি একা ব্যর্থ হননি, তার শিষ্যরাও ব্যর্থ হয়েছে। তার একমাত্র সফলতা মাহবুব মোর্শেদ, ফারুক ওয়াসিফের মত তার কয়েকজন ঘোড়েল শিষ্য কিছু বড় পদ
বাগিয়েছে এবং তার স্ত্রী উপদেষ্টা হয়েছেন। মহজার জানেন আজ হোক বা কাল আওয়ামী লীগ ফিরবে। এখানে শেখ হাসিনা বা অন্যান্য নেতা ম্যাটার করে না। একটা পুরোনো দল, দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ যাদের সমর্থক তারা ফিরবেই। তার মানে ২৪ ফরহাদ মজহারকে যে বাতিঘরের দিশা দিয়েছিল তার মৃ/ত্যু ঘটবে। তার পরও তিনি আশা ছাড়ছেন না। তিনি মনে করেন এখনও সময় আছে ৭২-এর সংবিধান মুছে ফেলার। এটা করতে পারলেই জনপ্রিয় বুর্জোয়া কাঠামোটা ভেঙে দেওয়া যাবে। গড়ে তোলা যাবে বিপ্লবী সরকার। যারা ক্রমান্বয়ে একটি মডারেট ইসলামি হুকুমাত কায়েম করে মজলুমদের ইনসানিয়াত দেবে। সমস্যা হলো তার এই আশায় পানি ঢেলেছে বিএনপি-জামায়াত, কারণ তাদের রেজিম বদলের রাজনীতির মূল কথা
সবকিছু ঠিক রেখে ক্ষমতার চেয়ারে বসা। তাই তারা জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদ ‘বাস্তবায়ন করা হবে’ বলে উত্তেজনা থামিয়ে দিয়েছে। এখন তাহলে মজহার কী করবেন? আনু মুহাম্মদসহ বাম-ডান-মডারেট সবার ভেরেন্ডা ফাঁস করবেন? তিনি ইতোমধ্যে বামেদেরকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার পারপাস সার্ভকারী’ বলেছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সেফ হাউসে মগজ ধোলাই করে সেসব বলেছেন। এগুলো সাংঘাতিক কথাবার্ত। তার বিপদ হতে পারে। তাও যখন বলেছেন, তখন ধরে নিতে হবে তিনি ভেবেছেন- না বললে আরও বেশি বিপদ হতে পারে। ফরহাদ মজহার কি এখনও স্বপ্ন দেখেন? না, তিনি জানেন তার এবং তাদের অ্যাসাইনমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে। তাহলে তার এই ‘হাটে হাঁড়ি ভাঙা’র নাটক কেন? এটাই কোটি টাকার প্রশ্ন! তিনি এখনও ক্ষীণ
আশা করছেন ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে আগমন কেন্দ্র করে একটা বিশাল উথাল-পাথাল হবে, এনার্কি হবে, দ্রুত মোবিলাইজেশন, ডিমোবিলাইজেশন হবে। সেই ডামাডোলে আরও একটা ‘সিলেক্টিভ ম্যাসাকার’ বা ‘স্ক্যাটার্ড অফেনসিভ’ হবে, এবং তার কাঙ্খিত মজলুমের ইনসানিয়াত কামিয়াব হবে।



