উভয় সংকটে ট্রাম্প, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ওয়াশিংটন – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ৮ August, ২০২৬

উভয় সংকটে ট্রাম্প, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ওয়াশিংটন

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ৮ August, ২০২৬ |
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ষষ্ঠ মাসে পদার্পণ করার পর, এই সপ্তাহে একদিকে চরম হুঁশিয়ারি এবং অন্যদিকে জোর কূটনৈতিক তৎপরতার ঘটনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমবর্দ্ধমান চরম কোণঠাসা অবস্থাকেই প্রকাশ্যে এনেছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু করা এই অপ্রিয় যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে গিয়ে এখন চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে ট্রাম্পকে প্রধানত দুটি জটিল বিকল্পের মধ্য থেকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে—প্রথমত, ওমান ও ইরানের মধ্যে হতে যাওয়া একটি মধ্যবর্তী চুক্তি মেনে নেওয়া, যা তেহরানকে হরমুজ প্রণালির ওপর এমন এক কর্তৃত্ব প্রদান করবে যা যুদ্ধের আগে তাদের ছিল না। দ্বিতীয়ত, যুদ্ধের মাত্রা বাড়িয়ে নতুন করে কঠোর সামরিক হামলার যে

হুমকি দেওয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন করা, যার পরিণতি হতে পারে আরও দীর্ঘমেয়াদী সংকট। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিকল্পটি মেনে নিলে তা হবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ হামলা চালানোর পর তেহরানকে দেওয়া সবচেয়ে বড় ছাড়। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির তদারকি অন্তত সাময়িকভাবে হলেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাবে, যা প্রতিরোধ করার অঙ্গীকার করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। অন্যদিকে, বড় ধরনের নতুন বিমান হামলার মাধ্যমে সংকেত পাঠানো রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্পের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে—বিশেষ করে আগামী নভেম্বরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে। তাছাড়া আগের বোমাবর্ষণ যেখানে তেহরানকে নতি স্বীকার করাতে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে নতুন করে হামলা

চালালেও সাফল্য পাওয়ার বাড়তি কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প অবশ্য এই দুই পথের বাইরে গিয়ে বর্তমানের নড়বড়ে ‘স্ট্যাটাস কো’ বা বিরাজমান পরিস্থিতি বজায় রাখার সিদ্ধান্তও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ বহাল রাখা এবং জাহাজে যেকোনো হামলার জবাবে মাঝে মাঝে প্রতিশোধমূলক আক্রমণ চালানো অব্যাহত থাকবে। কিন্তু এই কৌশলটিও ট্রাম্পকে এমন কোনো সম্মানজনক প্রস্থানের পথ দেবে না, যা মধ্য-এপ্রিলের মধ্যেই যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রাথমিক ধারণার সঙ্গে মেলে। ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান—উভয় প্রশাসনের সাবেক মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মধ্যস্থতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বলেন, ‘ট্রাম্পের সামনে এখন খারাপ বিকল্পের দীর্ঘ তালিকা। তবে তিনি হয়তো এখন এটি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে এই যুদ্ধ অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়া

সম্ভব নয়। কোথাও না কোথাও ছাড় দিতেই হবে, আর সেটি হতে পারে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া।’ তবে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যেকোনো ‘সাময়িক’ নৌচলাচল পথ হবে সম্পূর্ণ ‘বাধাহীন’ এবং তা কোনো একপক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না। নৌপথে অচলাবস্থা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের মাধ্যম এই হরমুজ প্রণালি কোনোভাবেই ইরানের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের ফি আদায়ের অধীনে থাকতে পারে না; এটিকে অবশ্যই উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক পানিপথ হিসেবে রাখতে হবে। তবে ট্রাম্প এর আগেও যুদ্ধ সংক্রান্ত একাধিক বিষয়ে রুবিওর বক্তব্য খণ্ডন

করেছেন এবং বিশ্লেষকদের ধারণা, এবারও তার ব্যতিক্রম নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য, ট্রাম্পের নিজস্ব জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে এই যুদ্ধ নিয়ে তীব্র অসন্তোষের কারণে প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক কৌশলের পরিধি ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ট্রাম্পের হুমকি-ধমকি ইরানকে নতি স্বীকার করাতে খুব একটা কাজে আসেনি। বরং বিশ্লেষকদের মতে, এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকেই সবচেয়ে বড় ছাড় দিতে হতে পারে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করাকে মার্কিন ও ইরানের মধ্যে আলোচনার টেবিলে ফেরার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন চায় এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হোক ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যা ছিল ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের ঘোষিত প্রধান লক্ষ্য। তবে ইরান ও ওমানের

চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে কিনা—সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। ইরানি একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র ও আঞ্চলিক দুজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, প্রস্তাবিত শর্ত অনুযায়ী পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর তেহরান কিছু তদারকি বা নিয়ন্ত্রণ পাবে। ট্রাম্প জলপথ চালুর চুক্তিকে ‘আসন্ন’ বললেও ইরানি কর্মকর্তারা জানান, অনেক খুঁটিনাটি বিষয় এখনো অমীমাংসিত। ইরান-ওমান চুক্তি চূড়ান্ত হলে বা ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও বিশেষজ্ঞরা চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। জুন মাসে স্বাক্ষরিত খসড়া সমঝোতা স্মারকটি ইতোমধ্যেই ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক ওই চুক্তিতে ইরানকে শুরুতেই কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়। হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ

না করার শর্তে জানান, আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের সময়ও যে কোনো না কোনোভাবে এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকবে—ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা তা মেনে নিচ্ছেন। এমনকি সেপ্টেম্বর থেকেই কিছু রাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ শুরু হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার সময় ট্রাম্প বিদেশনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করা এবং আমেরিকানদের অর্থনৈতিক সমস্যায় নজর দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তার ঠিক বিপরীত। ফলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে থাকা রিপাবলিকান পার্টির জন্য এটি মারাত্মক রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত কোনো জনমত জরিপ দ্বারা পরিচালিত হয় না। ট্রাম্প নিয়মিত দাবি করে আসছেন যে ইরানের বহু নেতাকে হত্যা ও তাদের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করে তিনি জয় লাভ করেছেন, কিন্তু বেশিরভাগ বিশ্লেষকই মনে করেন, যুদ্ধের মূল লক্ষ্য অর্জনে প্রেসিডেন্ট ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কূটনৈতিক সুযোগ দেওয়ার অনুরোধের কারণে তিনি বড় ধরনের নতুন হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন, তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে কঠোর আঘাত হানার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন। কিন্তু কিছু বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের এই পিছু হটার পেছনে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগও কাজ করে থাকতে পারে—যদিও ট্রাম্প অস্ত্র সংকটের কথা অস্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ট্রাম্পের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য ফুটে উঠেছে। লস ভেগাসে এক সমাবেশে তিনি বলেন, ‘আমি চুক্তি করতেই বেশি পছন্দ করব, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। তবে একটা পর্যায়ে গিয়ে আমাদের সেটা করতেও হতে পারে।’ অন্যদিকে, ইরান ওয়াশিংটনের উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্ক করে বলেছে, কোনো নতুন মার্কিন হামলা হলে তাদের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জোনাথন প্যানিকফ মনে করেন, চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়া এই যুদ্ধ খুব ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, ‘আগামী বছরগুলোতে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা কোথায় হতে পারে—তারা এখন সেটাই পর্যবেক্ষণ করে শিখছে।’ এমনকি যে সমস্ত ইরান-বিরোধী নীতি নির্ধারকরা ট্রাম্পের এই যুদ্ধকে সমর্থন করেছিলেন, তারাও এখন সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। ‘ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস’-এর গবেষক বেনাম বেন তালেবলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান নভেম্বরের আগে ট্রাম্পকে একটি উভয় সংকটে ফেলার চেষ্টা করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচিত তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া এবং তাদের প্রকৃত ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করা।’

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
নূর আলম ও আদম, দুই ভিন্ন পথের মানুষ বন্ধ এলএনজি টার্মিনাল পুনরায় চালু, গ্যাস সরবরাহ বাড়ছে পাঠ্যবইয়ের কাগজে টনপ্রতি ২২ হাজার টাকার কারসাজি: সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিল ৫৫ কোটি টাকা শতাধিক খাম্বা রেখেই সড়কের ৯৫% সম্পন্ন, উদ্বোধনের আগে আবার কাটতে হবে রাস্তা? শহিদ ধীরেন্দ্রনাথের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙচুর এনসিপির: মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে হঠাৎ তাদের এই দরদের নেপথ্যে কী? সিলেট হৃদয়ের মহাকাব্যিক ২৪২*, অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের লিড আরেক দফা বাড়ল সবধরনের চালের দাম দেশে এলপিজির মোট চাহিদার ৮৫ শতাংশই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক দখলে জিয়ার ছবিহীন ব্যানার, বঙ্গবন্ধুকে ‘জাতির পিতা’ আখ্যা: পরে স্কচটেপ দিয়ে জিয়ার ছবি লাগিয়ে অনুষ্ঠান সুনামগঞ্জে ৭ নভেম্বরের অনুষ্ঠান উপলক্ষে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ গার্ড অব অনার ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন, ক্ষুব্ধ স্বজনরা ২০৩০ সালের মধ্যে ঢাকায় দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা ঢাকার মিরপুরে নিজ বাসায় এক যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ফেসবুক ও এক্সে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে। একজন নারীর পিঠে আঘাতের চিহ্ন থাকা ছবি ব্যবহার করে এই দাবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অর্ধশতাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের তথ্য প্রচারের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। বিজ্ঞাপন শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দিনভর ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়, ওই নারী থানায় অভিযোগ জানাতে গিয়ে ওসির সঙ্গে কথোপকথনে লিপ্ত হন। তবে পোস্টগুলোতে ঘটনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। যাচাইয়ে ছবিটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। এছাড়া ওই নারীর পরিচয় বা অস্তিত্বও এখন পর্যন্ত কোথাও পাওয়া যায়নি। ছবিটি পোস্ট করা তিন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই নির্যাতনের শিকার ওই নারীর ঠিকানা বা থানায় দেওয়া অভিযোগের অনুলিপি দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন যে, তারা অন্যের পোস্ট কপি করে নিজেদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন এবং ঘটনার বিস্তারিত কিছুই জানেন না। পোস্টগুলোতে দাবি করা হয়েছে, মিরপুর থানা যুব মহিলা লীগের ‘সংগঠক’ শ্রীময়ী রীতা রানীকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও ধর্মের কারণে বাসায় ঢুকে পাশবিক নির্যাতন করা হয়েছে। মারধরে তাঁর শরীর রক্তাক্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু পোস্টে ফিরোজ নামের এক ব্যক্তিকে এই নির্যাতনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, তবে তাঁর পরিচয় নিয়ে পোস্টগুলোতে অসংগতি রয়েছে। কোথাও বলা হয়েছে তিনি মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়কের নির্দেশে এই কাজ করেছেন, আবার কোথাও তাঁকে থানা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পোস্টদাতাদের দাবি অনুযায়ী, ওই নারী থানায় অভিযোগ করতে গেলে ওসি তাঁকে সৌন্দর্যই তাঁর ‘কাল’ বলে মন্তব্য করেন এবং বোরকা পরার পরামর্শ দেন। এ ধরনের অভিযোগ তুলে পোস্টগুলোতে সংখ্যালঘু সুরক্ষা ও নারী নিরাপত্তাসহ নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই পোস্টগুলোর মধ্যে প্রথম তথ্য পাওয়া যায় শুক্রবার বেলা ১১টা ৫৯ মিনিটে ‘এফ কে জয় জয়’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে। পরবর্তীতে ‘মুকুল আহমেদ’ ও ‘সুমন মল্লিক’ নামের আরও দুটি প্রোফাইল থেকে একই পোস্ট দেওয়া হয়, যেগুলোর আগের পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায় সেগুলো নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে নিয়মিত প্রচার চালায়। বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন নিজের ফেসবুক পেজে ছবিটি পোস্ট করলে তাতে রাত আটটা পর্যন্ত প্রায় চার হাজার প্রতিক্রিয়া পড়ে। এক্সেও ‘Dr Baidyanath Ghosh’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি ছড়ানো হয়, যা রাত নয়টা পর্যন্ত ১ লাখ ৪৮ হাজার বার দেখা হয়েছে। ছবিটি ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় এবং অনেকে সত্যতা জানতে চেয়ে যোগাযোগ করেন। ছবিটি যাচাইয়ের জন্য সিন্থআইডি, ওপেনএআইয়ের এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট যাচাইয়ের টুল ও হাইভ মডারেশন ব্যবহার করা হয়েছে। সব টুলই নিশ্চিত করেছে যে ছবিটি তৈরিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। এর সূত্র খুঁজতে গিয়ে প্রায় এক মাস আগের ভারতের কেরালায় এক নববধূকে নির্যাতনের ঘটনার ছবির সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে, যা সম্পাদনা করে এই নতুন ছবিটি তৈরি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া যুব মহিলা লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সংগঠনে ‘সংগঠক’ নামে কোনো পদ নেই। মিরপুর থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান সন্ধ্যায় জানান, তাঁর থানা এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো নারী অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেননি। এছাড়া মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার জানিয়েছেন, তাঁর বিভাগের অধীন কোনো থানায় এমন কোনো মামলা বা অভিযোগ জমা পড়েনি। বিজ্ঞাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা মিরপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘এমন কোনো বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তাঁকে চিনিও না। এলাকায় এমন নামে কেউ আছেন, আবার তিনি যুব মহিলা লীগ করেন—এমন শুনিওনি। কেউ বলতেও পারছেন না। অনেক পুলিশ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরাও আমাকে ফোন দিয়েছেন।’ যুব মহিলা লীগ নেত্রীকে নির্যাতনের দাবি: এআই ব্যবহারের প্রমাণ ও নারীর খোঁজ মেলেনি হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ হিসেবে স্টিফেন মিলারকে বেছে নিলেন ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার প্রিন্স হ্যারির শ্বশুর টমাস মার্কেল চীনের অতি গোপনীয় স্পেসপ্লেনের ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মক্তব শিক্ষক গ্রেপ্তার সব অন্যায় ও গুম-খুনের বিচার করতে আমরা বদ্ধপরিকর: আইনমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের