ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
হরমুজ ইস্যুতে ওমানের সঙ্গে সমঝোতা কাঠামো চূড়ান্ত: ইরান
উভয় সংকটে ট্রাম্প, কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ওয়াশিংটন
মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পিষ্ট কিউবা, ‘আরেকটি গাজা’ হওয়ার সতর্কবার্তা
নতুন সমরাস্ত্র পদক্ষেপ নিল যুক্তরাষ্ট্র
নাইটক্লাবে মারামারি করে বিপদে ইংল্যান্ডের স্ট্রাইকার
গাজায় উদ্ধার ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের লাশ দাফন
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে শান্তি আলোচনার বিরল সুযোগ
ভারতের জেন জি-রা কি সত্যিই বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেবে?
ভারতে মহামন্দা আসন্ন, আবাসন খাতের পতন নিশ্চিত, চারপাশে আতঙ্ক—জেন জি বা নতুন প্রজন্ম যদি বাড়ি কেনা বন্ধ করে দেয়, তবে অধিকাংশ মানুষই একবাক্যে এমন উত্তর দেবেন। প্রচলিত এই ধারণাটি শুনতে বেশ নাটকীয় শোনালেও ভারতের অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে কিন্তু ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠছে।
মূল প্রশ্নটি আসলে জেন জি আবাসন চাইবে কিনা তা নিয়ে নয়; কারণ তাদেরও মাথার ওপর ছাদ প্রয়োজন। আসল প্রশ্ন হলো—তারা কি সেই বাড়ি তৈরি বা ক্রয় করবে, নাকি ভাড়া থাকবে, অথবা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তিতে বসবাস করবে? কারণ এই তিনটি পথের প্রতিটিই অর্থনীতিতে অর্থ সঞ্চালনের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দেয়।
ভারতের গুরুগাঁওয়ের গ্রেট লেকস ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের অর্থনীতির শিক্ষক ড. ভি
পি সিং বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, জেন জি বাড়ি কিনবে না বলে আবাসন খাতে ধস নামবে—এই ভয় ভিত্তিহীন। কারণ আবাসনের মোট চাহিদা মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে, কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের স্বভাবের ওপর নয়। সব অভিভাবকেরও এত সম্পত্তি নেই যে সন্তানরা তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে যাবে। ফলে থাকার জন্য বাড়ি জেন জি-র লাগবেই। তবে স্বত্বাধিকার বা মালিকানা কার হাতে থাকছে, সেটিই অর্থনীতির মূল অনুঘটক। ভারতের নতুন প্রজন্ম যদি ক্রয়ের বদলে ভাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঋণের কিস্তির টাকা ব্যাংক কিংবা ডেভেলপারের কাছে না গিয়ে যাবে বাড়িওয়ালার পকেটে। ফলে আবাসন খাতের প্রথাগত অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা তৈরি হলেও সার্বিক চাহিদা ধ্বংস
হচ্ছে না। বাস্তবতা ঢাকতে ডেভেলপারদের নীরবতা প্রচারমুখী জরিপ বা মনগড়া বিবৃতির চেয়ে সত্য উঠে আসে ব্যবসায়ীদের আচরণে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের আগ্রহ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও দেশের বৃহত্তম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ সবাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, এতে খাতের ‘নেতিবাচক দিক’ উন্মোচিত হতে পারে। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠান জেন জি ক্রেতাদের জোয়ার এসেছে বলে অন-রেকর্ড দাবি করলেও, বিক্রির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত চাওয়া মাত্রই তারা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রির সংখ্যা ভালো থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তা লুকাতে চায় না। এই নীরবতাই বলে দেয় তরুণ প্রজন্মের প্রাথমিক আবাসন ক্রয়ের হার বাস্তবে
বেশ মন্দা। স্বপ্নের বদল ও আর্থিক কৌশলের পরিবর্তন উপার্জনের শুরুতে ২০-২২ বছর বয়সে কোনো প্রজন্মই ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য রাখে না। কিন্তু দেশটিতে এবার চিত্রটি সামান্য ভিন্ন। ভারতে শুধু মেট্রোপলিটন এলাকাতেই নয়, মফস্বল শহরের ২১ বছরের এক তরুণও আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার একই ট্রেন্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ মেয়াদী হোম লোনের জালে নিজেদের বাঁধার চেয়ে বর্তমানকে উপভোগ করা—যেমন ভ্রমণ, গ্যাজেট বা লাইফস্টাইলে খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে থিনক্রেডব্লু সিকিউরিটিজের প্রধান গৌরব উদানি এটিকে বাড়ি কেনার বর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং বলছেন ক্রম পরিবর্তন বা ‘রিসিকুয়েন্সিং’। তার মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ২৫-২৬ বছরেই দীর্ঘমেয়াদী ইএমআই-এর ফাঁদে পড়ার চেয়ে প্রথমে তরল সম্পদ (যেমন:
মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারবাজার) তৈরিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বাড়িকে একমাত্র বড় বিনিয়োগ না বানিয়ে, তারা এটিকে স্রেফ একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে দেখতে চায়—যা পরবর্তীতে পর্যাপ্ত আর্থিক স্থায়িত্ব আসার পরেই কেনা সম্ভব। অর্থনীতিতে সাময়িক ধাক্কা, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাবনা প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের এই বিলম্ব অর্থনীতির তিনটি খাতে চাপ তৈরি করছে: ১. নির্মাণ খাতে ধীরগতি: প্রাথমিক বুকিং কমে গেলে নতুন প্রকল্পের কাজ থমকে যায়, যা রড, সিমেন্ট, রঙ শিল্প থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিকদের রোজগারে প্রভাব ফেলে। ২. রাজস্ব ক্ষতি: আবাসন লেনদেন কমলে রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে প্রাপ্ত রাজ্য সরকারের নির্ভরযোগ্য আয় কমে যায়, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। ৩. ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ঝুঁকি: নিরাপদ গৃহঋণ
বৃদ্ধি না পেলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন বা ‘বাই নাউ পে লেটার’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ খুচরা ঋণের দিকে ঝুঁকতে পারে। অর্থ কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না তবে মুদ্রাভীতি বা অর্থনৈতিক ধসের এই চিত্রটি একদিকে ইতিবাচক দিকও নির্দেশ করে। জেন জি প্রজন্ম যদি ডাউন পেমেন্টের টাকা বাঁচিয়ে শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, তবে সেই পুঁজি গায়েব হয়ে যাচ্ছে না। বরং দেশের কর্পোরেট খাতের জন্য তা তুলনামূলক কম খরচের তরল পুঁজি সরবরাহ করছে। অতীতে জাপান ও চীন যেভাবে অতিরিক্ত আবাসন-নির্ভর হয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছিল, তরুণদের বর্তমান বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ কৌশল দেশের অর্থনীতিকে সেই একমুখী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। ভারতের জেন জি-রা শেষ পর্যন্ত
বাড়ি কিনবে—তবে কিছুটা দেরিতে এবং তাদের মোট সম্পদের সামান্য অংশ সেখানে ঢেলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধাক্কায় আবাসন খাতের প্রথাগত ভবিষ্যৎ হয়তো টিকে থাকবে, তবে প্রাথমিক কেনাবেচার টাকা কিভাবে আবাসন, শেয়ারবাজার ও সাধারণ খরচের বাজারে ভাগ হয়ে যাবে—সেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গেই এখন সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে।
পি সিং বিষয়টিকে সহজভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, জেন জি বাড়ি কিনবে না বলে আবাসন খাতে ধস নামবে—এই ভয় ভিত্তিহীন। কারণ আবাসনের মোট চাহিদা মূলত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে, কোনো নির্দিষ্ট প্রজন্মের স্বভাবের ওপর নয়। সব অভিভাবকেরও এত সম্পত্তি নেই যে সন্তানরা তা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়ে যাবে। ফলে থাকার জন্য বাড়ি জেন জি-র লাগবেই। তবে স্বত্বাধিকার বা মালিকানা কার হাতে থাকছে, সেটিই অর্থনীতির মূল অনুঘটক। ভারতের নতুন প্রজন্ম যদি ক্রয়ের বদলে ভাড়া থাকার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে ঋণের কিস্তির টাকা ব্যাংক কিংবা ডেভেলপারের কাছে না গিয়ে যাবে বাড়িওয়ালার পকেটে। ফলে আবাসন খাতের প্রথাগত অর্থায়ন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা তৈরি হলেও সার্বিক চাহিদা ধ্বংস
হচ্ছে না। বাস্তবতা ঢাকতে ডেভেলপারদের নীরবতা প্রচারমুখী জরিপ বা মনগড়া বিবৃতির চেয়ে সত্য উঠে আসে ব্যবসায়ীদের আচরণে। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষস্থানীয় আবাসন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে নতুন প্রজন্মের ক্রেতাদের আগ্রহ নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও দেশের বৃহত্তম কয়েকটি প্রতিষ্ঠানসহ সবাই এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। তাদের দাবি, এতে খাতের ‘নেতিবাচক দিক’ উন্মোচিত হতে পারে। এমনকি একটি প্রতিষ্ঠান জেন জি ক্রেতাদের জোয়ার এসেছে বলে অন-রেকর্ড দাবি করলেও, বিক্রির প্রকৃত তথ্য-উপাত্ত চাওয়া মাত্রই তারা মন্তব্য প্রত্যাহার করে নেয়। বিশ্লেষকদের মতে, বিক্রির সংখ্যা ভালো থাকলে কোনো প্রতিষ্ঠানই তা লুকাতে চায় না। এই নীরবতাই বলে দেয় তরুণ প্রজন্মের প্রাথমিক আবাসন ক্রয়ের হার বাস্তবে
বেশ মন্দা। স্বপ্নের বদল ও আর্থিক কৌশলের পরিবর্তন উপার্জনের শুরুতে ২০-২২ বছর বয়সে কোনো প্রজন্মই ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য রাখে না। কিন্তু দেশটিতে এবার চিত্রটি সামান্য ভিন্ন। ভারতে শুধু মেট্রোপলিটন এলাকাতেই নয়, মফস্বল শহরের ২১ বছরের এক তরুণও আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার একই ট্রেন্ডের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, দীর্ঘ মেয়াদী হোম লোনের জালে নিজেদের বাঁধার চেয়ে বর্তমানকে উপভোগ করা—যেমন ভ্রমণ, গ্যাজেট বা লাইফস্টাইলে খরচ করার প্রবণতা বাড়ছে। অন্যদিকে থিনক্রেডব্লু সিকিউরিটিজের প্রধান গৌরব উদানি এটিকে বাড়ি কেনার বর্জন হিসেবে দেখছেন না; বরং বলছেন ক্রম পরিবর্তন বা ‘রিসিকুয়েন্সিং’। তার মতে, নতুন প্রজন্ম এখন ২৫-২৬ বছরেই দীর্ঘমেয়াদী ইএমআই-এর ফাঁদে পড়ার চেয়ে প্রথমে তরল সম্পদ (যেমন:
মিউচুয়াল ফান্ড, শেয়ারবাজার) তৈরিকে প্রাধান্য দিচ্ছে। বাড়িকে একমাত্র বড় বিনিয়োগ না বানিয়ে, তারা এটিকে স্রেফ একটি নিরাপদ আবাসন হিসেবে দেখতে চায়—যা পরবর্তীতে পর্যাপ্ত আর্থিক স্থায়িত্ব আসার পরেই কেনা সম্ভব। অর্থনীতিতে সাময়িক ধাক্কা, দীর্ঘমেয়াদে সম্ভাবনা প্রথমবার বাড়ি ক্রেতাদের এই বিলম্ব অর্থনীতির তিনটি খাতে চাপ তৈরি করছে: ১. নির্মাণ খাতে ধীরগতি: প্রাথমিক বুকিং কমে গেলে নতুন প্রকল্পের কাজ থমকে যায়, যা রড, সিমেন্ট, রঙ শিল্প থেকে শুরু করে দৈনিক মজুরিভিত্তিক নির্মাণ শ্রমিকদের রোজগারে প্রভাব ফেলে। ২. রাজস্ব ক্ষতি: আবাসন লেনদেন কমলে রেজিস্ট্রেশন ও স্ট্যাম্প ডিউটি থেকে প্রাপ্ত রাজ্য সরকারের নির্ভরযোগ্য আয় কমে যায়, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে। ৩. ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের ঝুঁকি: নিরাপদ গৃহঋণ
বৃদ্ধি না পেলে ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ড, পার্সোনাল লোন বা ‘বাই নাউ পে লেটার’-এর মতো ঝুঁকিপূর্ণ খুচরা ঋণের দিকে ঝুঁকতে পারে। অর্থ কিন্তু হারিয়ে যাচ্ছে না তবে মুদ্রাভীতি বা অর্থনৈতিক ধসের এই চিত্রটি একদিকে ইতিবাচক দিকও নির্দেশ করে। জেন জি প্রজন্ম যদি ডাউন পেমেন্টের টাকা বাঁচিয়ে শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ড বা ব্যবসায় বিনিয়োগ করে, তবে সেই পুঁজি গায়েব হয়ে যাচ্ছে না। বরং দেশের কর্পোরেট খাতের জন্য তা তুলনামূলক কম খরচের তরল পুঁজি সরবরাহ করছে। অতীতে জাপান ও চীন যেভাবে অতিরিক্ত আবাসন-নির্ভর হয়ে অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়েছিল, তরুণদের বর্তমান বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ কৌশল দেশের অর্থনীতিকে সেই একমুখী ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। ভারতের জেন জি-রা শেষ পর্যন্ত
বাড়ি কিনবে—তবে কিছুটা দেরিতে এবং তাদের মোট সম্পদের সামান্য অংশ সেখানে ঢেলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধাক্কায় আবাসন খাতের প্রথাগত ভবিষ্যৎ হয়তো টিকে থাকবে, তবে প্রাথমিক কেনাবেচার টাকা কিভাবে আবাসন, শেয়ারবাজার ও সাধারণ খরচের বাজারে ভাগ হয়ে যাবে—সেই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গেই এখন সবাইকে মানিয়ে নিতে হবে।



