ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
গাজায় উদ্ধার ৪০ শিশুসহ ১১২ জনের লাশ দাফন
ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো, থাকছেন ফিফার শীর্ষ পদে
প্রস্তাবিত হরমুজ চুক্তিতে জাহাজ প্রবেশের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান: রয়টার্স
প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী
মধ্যরাতে কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, নিহত ১৭
তিন বছর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিলিস্তিনের সাবেক মন্ত্রীর পরিবারের ১১২ জনের লাশ উদ্ধার
ইউক্রেন-রাশিয়া আকাশ ও সমুদ্র যুদ্ধে নতুন মোড়
মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে শান্তি আলোচনার বিরল সুযোগ
পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে লড়াইয়ের পর মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ নিয়ে আলোচনার একটি বিরল সুযোগ তৈরি হচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর পুনরায় শক্তি ফিরে পাওয়া এবং আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একটি ‘আবব্রেলা বডি’ বা জোটের অবস্থানে এই পরিবর্তনটি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। জোটটির নাম এসসিইএফ বা ফেডারেল ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠায় গঠিত স্টিয়ারিং কাউন্সিল। এই জোট কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং ছায়া সরকারকে এক প্ল্যাটফর্মে এনেছে।
সম্প্রতি থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর আলোচক কমিটির সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেন। গত মাসে এ দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে স্টিয়ারিং কাউন্সিল। বৈঠকের পর কাউন্সিল জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক সমাধানের
পথে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং এখনও এসসিইএফ-কে আলোচনার অংশীদার হিসেবে মেনে নেননি। তাঁর থাইল্যান্ড সফর পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরছে। কারণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটে (আসিয়ান) পুনরায় মিয়ানমারের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যাংকক ধাপে ধাপে চেষ্টা করছে। ফলে মিনের থাইল্যান্ড সফর যুদ্ধবিরতির বিস্তৃত প্রচেষ্টাকে সামনে আনছে। এসব ঘটনা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো মরগান মাইকেলস বলছেন, মনে হচ্ছে তাতমাদাওকে (মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী) উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে এসসিইএফ জোটের সদস্যরা সরে এসেছে। তারপরও এ দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ হতে এখনও অনেক পথ বাকি। তবে কাছাকাছি সময়ে আলোচনায় বসতে চাওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও যেতে
পারে। ‘আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত’ এসসিইএফ-এর মুখপাত্র স নিমরোদ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য সামরিক বাহিনীকে রাজনীতির বাইরে পাঠিয়ে বেসামরিক সরকারের আধিপত্য নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের চূড়ান্ত দাবি। তবে আপাতত আমরা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, রাজনৈতিক আলোচনার জন্যও প্রস্তুত।’ তবে অর্থবহ সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে একটি আহ্বান জানিয়েছে এসসিইএফ। সেটি হলো, বেসামরিকদের ওপর হামলা বন্ধ এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নির্বাচনের পর মিয়ানমারের নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং জান্তা প্রধান থেকে বেসামরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকার গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনায় বসার
আহ্বান জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমরা শান্তি কামনা করি। এটিই সবচেয়ে বড় চাওয়া’। তবে সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে বেসামরিকদের ওপর সামরিক হামলা তীব্রভাবে বেড়েছে। সামরিক প্রভাব বাড়ছে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। অর্থনীতিও ধসের মুখে। একাধিক ধাক্কা খাওয়ার পর সামরিক বাহিনী বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালু করে। চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের কাছে থেকে বড় সমর্থন পায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। রয়টার্সকে দুই যোদ্ধা জানিয়েছেন, মধ্য মিয়ানমারের বাগো এবং দক্ষিণের দাউই অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অভিযান তীব্র হয়েছে। এতে
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কিছু এলাকা থেকে সরে গেছে। মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কো কো বলেন, এক সময় সামরিক বাহিনী ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু তারা ভাঙেনি। বরং রাজনৈতিক ও সামরিক দুই দিক থেকেই টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। আলোচনার জন্য কূটনৈতিক চাপ তিনজন বিশ্লেষকের মতে, এসসিইএফ জোটে থাকা কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন বর্তমানে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং কারেনি ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ পার্টি। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করেনি। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক থাই কর্মকর্তা
জানান, আসিয়ানের সঙ্গে নেপিডোর সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাংকক মূল ভূমিকা পালন করছে। তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে, সহিংসতা কমানো, মানবিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো এবং নিজ দেশের ভেতর সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলছেন, এখন পর্যন্ত এসসিইএফ-কে নেপিডো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেয়নি। বরং তারা আলাদা আলাদা গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চাইছে। নীতিগতভাবে সব পক্ষই আরেক পক্ষের কথা শুনতে রাজি। কিন্তু শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য কিছু ছাড় দিতে হয়। সমাধানের পথ তৈরি করতে হয় যৌথভাবে। বেশিরভাগ গোষ্ঠীই এই অবস্থান থেকে এখনও অনেক দূরে আছে বলে মনে হচ্ছে।
পথে এগিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জান্তা প্রধান থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া মিন অং হ্লাইং এখনও এসসিইএফ-কে আলোচনার অংশীদার হিসেবে মেনে নেননি। তাঁর থাইল্যান্ড সফর পরিস্থিতির আরেকটি দিক তুলে ধরছে। কারণ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোটে (আসিয়ান) পুনরায় মিয়ানমারের সম্পৃক্ততা বাড়াতে ব্যাংকক ধাপে ধাপে চেষ্টা করছে। ফলে মিনের থাইল্যান্ড সফর যুদ্ধবিরতির বিস্তৃত প্রচেষ্টাকে সামনে আনছে। এসব ঘটনা নিয়ে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের রিসার্চ ফেলো মরগান মাইকেলস বলছেন, মনে হচ্ছে তাতমাদাওকে (মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী) উৎখাত করার লক্ষ্য থেকে এসসিইএফ জোটের সদস্যরা সরে এসেছে। তারপরও এ দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ হতে এখনও অনেক পথ বাকি। তবে কাছাকাছি সময়ে আলোচনায় বসতে চাওয়ার বিষয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও যেতে
পারে। ‘আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত’ এসসিইএফ-এর মুখপাত্র স নিমরোদ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য সামরিক বাহিনীকে রাজনীতির বাইরে পাঠিয়ে বেসামরিক সরকারের আধিপত্য নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, ‘এটাই আমাদের চূড়ান্ত দাবি। তবে আপাতত আমরা আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত, রাজনৈতিক আলোচনার জন্যও প্রস্তুত।’ তবে অর্থবহ সংলাপের পরিবেশ তৈরি করতে একটি আহ্বান জানিয়েছে এসসিইএফ। সেটি হলো, বেসামরিকদের ওপর হামলা বন্ধ এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত নির্বাচনের পর মিয়ানমারের নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। সেই নির্বাচনের মাধ্যমে মিন অং হ্লাইং জান্তা প্রধান থেকে বেসামরিক ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সরকার গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আলোচনায় বসার
আহ্বান জানিয়েছিল। গত সপ্তাহে পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইং বলেন, ‘আমরা শান্তি কামনা করি। এটিই সবচেয়ে বড় চাওয়া’। তবে সংঘাত পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, ক্ষমতা হস্তান্তরের পর থেকে বেসামরিকদের ওপর সামরিক হামলা তীব্রভাবে বেড়েছে। সামরিক প্রভাব বাড়ছে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে কয়েক লাখ মানুষ। অর্থনীতিও ধসের মুখে। একাধিক ধাক্কা খাওয়ার পর সামরিক বাহিনী বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগ চালু করে। চীনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের কাছে থেকে বড় সমর্থন পায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল ব্যবহার করে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেয়। রয়টার্সকে দুই যোদ্ধা জানিয়েছেন, মধ্য মিয়ানমারের বাগো এবং দক্ষিণের দাউই অঞ্চলে সরকারি বাহিনীর অভিযান তীব্র হয়েছে। এতে
সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কিছু এলাকা থেকে সরে গেছে। মিয়ানমার বিষয়ক স্বাধীন বিশ্লেষক অং কো কো বলেন, এক সময় সামরিক বাহিনী ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। কিন্তু তারা ভাঙেনি। বরং রাজনৈতিক ও সামরিক দুই দিক থেকেই টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে। আলোচনার জন্য কূটনৈতিক চাপ তিনজন বিশ্লেষকের মতে, এসসিইএফ জোটে থাকা কয়েকটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন বর্তমানে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে। এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আছে কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন, কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স অর্গানাইজেশন, চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট এবং কারেনি ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ পার্টি। এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলেও তারা মন্তব্য করেনি। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইং বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডে পৌঁছেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক থাই কর্মকর্তা
জানান, আসিয়ানের সঙ্গে নেপিডোর সম্পর্ক উন্নয়নে ব্যাংকক মূল ভূমিকা পালন করছে। তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে আছে, সহিংসতা কমানো, মানবিক সহায়তার সুযোগ বাড়ানো এবং নিজ দেশের ভেতর সংঘাত ছড়িয়ে পড়া ঠেকানো। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রিচার্ড হর্সি বলছেন, এখন পর্যন্ত এসসিইএফ-কে নেপিডো মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মেনে নেয়নি। বরং তারা আলাদা আলাদা গোষ্ঠীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চাইছে। নীতিগতভাবে সব পক্ষই আরেক পক্ষের কথা শুনতে রাজি। কিন্তু শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য কিছু ছাড় দিতে হয়। সমাধানের পথ তৈরি করতে হয় যৌথভাবে। বেশিরভাগ গোষ্ঠীই এই অবস্থান থেকে এখনও অনেক দূরে আছে বলে মনে হচ্ছে।



