ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২৪-এ সরকার বিরোধী অবস্থানে থাকলেও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান তসলিমা নাসরিন
গ্যাস ও কাঁচামালের সংকটে চট্টগ্রামের তিন সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, আমন মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা
গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম, উৎপাদন ব্যাহত শিল্পে, ভোগান্তিতে লাখো গ্রাহক
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে নাকাল দেশ, তালাবদ্ধ বাসাতেও হাজার টাকার বিল!
শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসছেনঃ বেছে নিলেন সেই ৫ই আগস্ট তারিখকেই
শূন্য হয়ে যাচ্ছে টেকনাফ, আপহরণ থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ
আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী একের পর এক কারখানা বন্ধ, কর্মহীন লাখো শ্রমিকের হয়নি বিকল্প কর্মসংস্থান
উচ্চমূলে মার্কিন এলনজি কিনেও কাটছে না গ্যাস সংকটঃ সিএনজি স্টেশনে ফের দীর্ঘ লাইন, ভোর থেকে দুপুর গড়িয়েও মিলছে না গ্যাস
এপ্রিলে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি সংকটে যেমন সিএনজি স্টেশনগুলোতে সারা মাসজুড়ে দীর্ঘ গাড়ির লাইন দেখা গিয়েছিল, ঠিক তেমনই দৃশ্য আবার ফিরে এসেছে আগস্টে। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় বড় শহরে সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের জন্য অপেক্ষমাণ গাড়ির সারি আবারও দীর্ঘ হচ্ছে, আর তাতে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহনের চালকরা।
ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস মিলছে না দুপুরের আগে
রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, রাত থেকেই শুরু হচ্ছে গাড়ির লাইন। চালকরা জানান, ভোর পাঁচটা-ছয়টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও দুপুরের আগে গ্যাস পাচ্ছেন না তারা। দিনের একটি বড় অংশ গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করে কাটিয়ে দেওয়ায় তাদের প্রকৃত আয়ের সময়
নেমে এসেছে অর্ধেকে। ফলে দৈনিক জমা দিয়ে ঘরে টাকা নিয়ে ফেরার মতো অবস্থাতেও নেই অনেক চালক। এতে সিএনজিচালকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনেক চালকের আশঙ্কা, কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পথ তৈরি করা হচ্ছে—অতীতে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অজুহাত দেখানো হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংকটের নেপথ্যে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে
কমে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এই ত্রুটির ফলে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, আর সব মিলিয়ে চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে পেট্রোবাংলা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার গ্যাস সরবরাহে। উল্লেখ্য, এপ্রিলে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি ব্যাহত হয়, যার ফলে সে সময়ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে একই ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র দেখা গিয়েছিল। চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, বাড়ছে বাড়তি ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি দামে এলএনজি কিনছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র
অনুযায়ী, আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি কেনা হচ্ছে, যেখানে প্রতি ইউনিটের দর পড়ছে ১৭ থেকে ১৯ মার্কিন ডলার—অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি দামে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি আরও বাড়িয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়েই সরবরাহকৃত এলএনজির বিপরীতে পেট্রোবাংলার প্রাক্কলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২৯৬ কোটি টাকা—যদিও
চলতি অর্থবছরে এ খাতে আগে থেকে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিকে সময়মতো পর্যাপ্ত এলএনজি সংগ্রহ করতে না পারায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংকট মেটাতে গিয়ে সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বাড়তি খরচ—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছে দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনীতি। চালকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ দিনের অর্ধেক সময় গ্যাসের লাইনে ব্যয় হওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহনের চালকদের আয় কার্যত অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকে জমার টাকা পরিশোধ করে ঘরে ফেরার মতো আয়ও করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটে চালকদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ, যা ইতিমধ্যে আসন্ন ধর্মঘটের হুমকির রূপ নিয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতের এই বারবার ফিরে
আসা সংকট শুধু সাধারণ যাত্রী ও চালকদের দৈনন্দিন ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং সরকারের আর্থিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নেমে এসেছে অর্ধেকে। ফলে দৈনিক জমা দিয়ে ঘরে টাকা নিয়ে ফেরার মতো অবস্থাতেও নেই অনেক চালক। এতে সিএনজিচালকদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভ দিন দিন তীব্র হচ্ছে। অনেক চালকের আশঙ্কা, কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির পথ তৈরি করা হচ্ছে—অতীতে জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অজুহাত দেখানো হয়েছিল বলে তাদের অভিযোগ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, দাবি পূরণ না হলে আগামী ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার হুমকি দিয়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংকটের নেপথ্যে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে
কমে গেছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এই ত্রুটির ফলে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে, আর সব মিলিয়ে চাহিদার মাত্র ৫৬ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে পেট্রোবাংলা। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশন, বাসাবাড়ি ও শিল্পকারখানার গ্যাস সরবরাহে। উল্লেখ্য, এপ্রিলে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশেও জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানি ব্যাহত হয়, যার ফলে সে সময়ও ফিলিং স্টেশনগুলোতে একই ধরনের দীর্ঘ লাইন ও ভোগান্তির চিত্র দেখা গিয়েছিল। চড়া দামে এলএনজি কিনছে সরকার, বাড়ছে বাড়তি ব্যয় সংকট মোকাবিলায় সরকার এখন স্পট মার্কেট থেকে জরুরি ভিত্তিতে বাড়তি দামে এলএনজি কিনছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র
অনুযায়ী, আগামী আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে ১০টি কোম্পানির কাছ থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার এলএনজি কেনা হচ্ছে, যেখানে প্রতি ইউনিটের দর পড়ছে ১৭ থেকে ১৯ মার্কিন ডলার—অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি দামে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি এমন থাকলে চলতি অর্থবছরে শুধু এলএনজি আমদানিতেই অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যা বাজেট ঘাটতি আরও বাড়িয়ে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে। অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ২০২৬ সালের জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময়েই সরবরাহকৃত এলএনজির বিপরীতে পেট্রোবাংলার প্রাক্কলিত ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২৯৬ কোটি টাকা—যদিও
চলতি অর্থবছরে এ খাতে আগে থেকে বরাদ্দ ছিল দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিকে সময়মতো পর্যাপ্ত এলএনজি সংগ্রহ করতে না পারায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে, অন্যদিকে সংকট মেটাতে গিয়ে সরকারকে গুনতে হচ্ছে কোটি কোটি টাকার বাড়তি খরচ—দুই দিক থেকেই চাপে পড়ছে দেশের জ্বালানি খাত ও অর্থনীতি। চালকদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ দিনের অর্ধেক সময় গ্যাসের লাইনে ব্যয় হওয়ায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও যানবাহনের চালকদের আয় কার্যত অর্ধেকে নেমে এসেছে। অনেকে জমার টাকা পরিশোধ করে ঘরে ফেরার মতো আয়ও করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটে চালকদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ, যা ইতিমধ্যে আসন্ন ধর্মঘটের হুমকির রূপ নিয়েছে। সব মিলিয়ে জ্বালানি খাতের এই বারবার ফিরে
আসা সংকট শুধু সাধারণ যাত্রী ও চালকদের দৈনন্দিন ভোগান্তিই বাড়াচ্ছে না, বরং সরকারের আর্থিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



