ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
২৪-এ সরকার বিরোধী অবস্থানে থাকলেও আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান তসলিমা নাসরিন
গ্যাস ও কাঁচামালের সংকটে চট্টগ্রামের তিন সার কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত, আমন মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা
গ্যাস সংকটে স্থবির চট্টগ্রাম, উৎপাদন ব্যাহত শিল্পে, ভোগান্তিতে লাখো গ্রাহক
উচ্চমূলে মার্কিন এলনজি কিনেও কাটছে না গ্যাস সংকটঃ সিএনজি স্টেশনে ফের দীর্ঘ লাইন, ভোর থেকে দুপুর গড়িয়েও মিলছে না গ্যাস
ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলে নাকাল দেশ, তালাবদ্ধ বাসাতেও হাজার টাকার বিল!
শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসছেনঃ বেছে নিলেন সেই ৫ই আগস্ট তারিখকেই
শূন্য হয়ে যাচ্ছে টেকনাফ, আপহরণ থেকে বাঁচতে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে মানুষ
ভারতে বসে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না হাসিনাকে—ফ্যাক্টচেকারদের দেয়া তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত
শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না—গত ৩১ জুলাই ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে মূল প্রতিবেদনের প্রকৃত বক্তব্যের সঙ্গে এই দাবির যথেষ্ট গরমিল রয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টচেক সংশ্লিষ্টরা।
যেভাবে ছড়ায় বিভ্রান্তি
ফেসবুকের অফিশিয়াল ফ্যাক্টচেকিং পার্টনার রিউমার স্ক্যানার এবং ফ্যাক্টচেক বিষয়ক অনলাইন পোর্টাল দ্য ডিসেন্টের প্রতিষ্ঠাতা কদরুদ্দিন শিশিরের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে দাবি করা হয়, ভারতের একটি পার্লামেন্টারি কমিটি সরকারকে সুপারিশ করেছে যেন শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেওয়া না হয়, পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। এই
বক্তব্যের সূত্র ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেবে না” মর্মে দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা একাধিক দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের শিরোনামে প্রকাশিত হয়। অথচ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মূল প্রতিবেদনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছিল, ভারত মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি এই নীতিতে দৃঢ়ভাবে অটল থেকেছে যে, তাদের ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে না। অর্থাৎ প্রতিবেদনটি মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের একটি বিদ্যমান নীতির কথাই তুলে ধরেছিল, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ বা নিষেধাজ্ঞার কথা নয়। নীতি বনাম বাস্তবতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভারত যে “অন্য দেশের
বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ড” হিসেবে দেখছে না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় ২ আগস্ট আওয়ামী লীগের একটি ঘোষণায়। ঘোষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হবেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ডক্টর ওয়ায়েল আউয়াদ। ৫ আগস্ট এফসিসিতে কথা বলবেন হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক দুই বছর পর, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির এফসিসিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শনের ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে কেবল অডিওর মাধ্যমে যুক্ত থাকবেন
বলে জানিয়েছেন ডক্টর ওয়ায়েল আউয়াদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে বক্তব্য দিতে এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভারতের সংসদীয় কমিটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিষয়ক পর্যালোচনা সত্ত্বেও ক্লাবটি তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে এবং এ ব্যাপারে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আপত্তি বা বাধা দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা
থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই সেশন আয়োজিত হবে, যেখানে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এই প্যানেলে অংশ নেবেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন ও শাহ মো. বখতিয়ার। প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আইনি বিচার চলছে এবং দলটির রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে, যা ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে বলে দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ৫ আগস্টের এফসিসি সংবাদ সম্মেলনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে—ভারতের বিদ্যমান নীতি এবং শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পরস্পরবিরোধী নয় বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
বক্তব্যের সূত্র ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে দেবে না” মর্মে দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা একাধিক দেশীয় সংবাদমাধ্যমেও একই ধরনের শিরোনামে প্রকাশিত হয়। অথচ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মূল প্রতিবেদনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছিল, ভারত মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি এই নীতিতে দৃঢ়ভাবে অটল থেকেছে যে, তাদের ভূখণ্ড থেকে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে না। অর্থাৎ প্রতিবেদনটি মূলত ভারতের দীর্ঘদিনের একটি বিদ্যমান নীতির কথাই তুলে ধরেছিল, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সুপারিশ বা নিষেধাজ্ঞার কথা নয়। নীতি বনাম বাস্তবতা শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভারত যে “অন্য দেশের
বিরুদ্ধে পরিচালিত কর্মকাণ্ড” হিসেবে দেখছে না, তা স্পষ্ট হয়ে যায় ২ আগস্ট আওয়ামী লীগের একটি ঘোষণায়। ঘোষণায় বলা হয়, নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের সামনে উপস্থিত হবেন শেখ হাসিনা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এফসিসি সাউথ এশিয়ার সভাপতি ডক্টর ওয়ায়েল আউয়াদ। ৫ আগস্ট এফসিসিতে কথা বলবেন হাসিনা ক্ষমতাচ্যুতির ঠিক দুই বছর পর, আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির এফসিসিতে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দেশে ফেরার এবং তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দর্শনের ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি সরাসরি উপস্থিত না হয়ে কেবল অডিওর মাধ্যমে যুক্ত থাকবেন
বলে জানিয়েছেন ডক্টর ওয়ায়েল আউয়াদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার অংশ হিসেবে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ১৯ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে একাধিকবার এফসিসিতে বক্তব্য দিতে এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি। ভারতের সংসদীয় কমিটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বিষয়ক পর্যালোচনা সত্ত্বেও ক্লাবটি তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখছে এবং এ ব্যাপারে ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও কোনো আপত্তি বা বাধা দেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে, নয়াদিল্লির মথুরা রোডের স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা
থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত এই সেশন আয়োজিত হবে, যেখানে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ থাকবে। শেখ হাসিনা ছাড়াও এই প্যানেলে অংশ নেবেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক ক্রিকেটার ও সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন ও শাহ মো. বখতিয়ার। প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে আইনি বিচার চলছে এবং দলটির রাজনৈতিক
কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ সরকার শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে আসছে, যা ভারত সরকার পর্যালোচনা করছে বলে দেশটির পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটেই ৫ আগস্টের এফসিসি সংবাদ সম্মেলনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে—ভারতের বিদ্যমান নীতি এবং শেখ হাসিনার গণমাধ্যমে সরাসরি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পরস্পরবিরোধী নয় বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।



