ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আরও খবর
পদ্মা ব্যারাজের হঠকারী প্রকল্প: বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ উপেক্ষিত, তিন দিক থেকে বিপদের আশঙ্কা
সুলতানুল আউলিয়া শাহ আলী বোগদাদী (রহ.) মাজারে হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে সুন্নিপন্থীদের বিক্ষোভ মিছিল
বাংলাদেশে মার্কিন সামরিক প্রবেশাধিকারে চুক্তি: চীন-ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ার আশঙ্কা
নারী নেতৃত্ব হারাম বলে কী টিভি এডিটরস কাউন্সিলে জায়গা হয়নি নাজনীন মুন্নী?
গণভবন লুট ও ৩২ নম্বর ভাঙচুরকারীদের ওপর প্রকৃতির অভিশাপ শুরু হয়েছে : গোলাম মাওলা রনি
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজের জন্য বন্দর খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ
জঙ্গিগোষ্ঠী আল হিম্মাহ’র প্রশিক্ষক সাবেক সেনা সদস্যকে দুর্গম টিলা থেকে গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার
আসন্ন বাজেটে বাড়ানো হচ্ছে নিত্যপণ্যের ওপর করের বোঝা: কী আছে স্বল্প আয়ের মানুষের ভাগ্যে?
কঠিন অর্থনৈতিক সংকটের মাঝে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট চূড়ান্ত করছে বিএনপি সরকার। সাধারণ মানুষ যখন নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে হিমশিম খাচ্ছে এবং আয় না বেড়েও বাড়তি ব্যয়ের সঙ্গে কোনোরকমে টিকে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকার বড় বাজেটে বড় রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর এরই মধ্যে ধান, চাল, গম, ডাল, আলু, পেঁয়াজসহ প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালানো এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার পর্যন্ত অসংখ্য খাতে বাড়তি কর বসানোর প্রস্তাব তৈরি করেছে।
এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে নতুন অর্থবছরে সাধারণ মানুষের দিনযাপন আরও কঠিন হয়ে উঠবে এবং খরচের ফর্দ আরও লম্বা হবে বলে ব্যবসায়ী ও
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং এখন চলছে চূড়ান্ত পর্যালোচনা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন। এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে এনবিআর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপরেই করের খড়্গ নামাতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বাদাম, খেজুর,
কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উপর উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে, অর্থাৎ এই করহার দ্বিগুণ হচ্ছে। শুধু নিত্যপণ্য নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রধান যানবাহন মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপরেও প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১১০ সিসি পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের ছক কাটা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২
হাজার এবং ইউনিয়নে ১ হাজার টাকা বার্ষিক কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মোটরসাইকেল কোম্পানি হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান এই প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল যিনি চালান তার গড় মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং ১৫০ সিসির উপরে হলে তা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। তিনি জানান, যারা ছয় লাখ টাকায় বাইক কিনতে পারেন তাদের কাছে এই কর বড় ব্যাপার না, কিন্তু বাকি সাধারণ চালকদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিকভাবে বিক্রি হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি ও এনার্জি সেভিং লাইট, সিসি ক্যামেরা এবং এটিএম মেশিনের মতো নিত্যব্যবহার্য ও
নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ফলে এই পণ্যগুলোর দামও বেড়ে যাবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে বর্তমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা নতুন ভ্যাট আরোপের সুপারিশ করেছে এনবিআর। আয়করের ক্ষেত্রেও মধ্যবিত্তের উপর চাপ বাড়ছে। স্ল্যাব পরিবর্তন ও করহার বৃদ্ধির ফলে যার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, তাকে এখন ৮ হাজার টাকার জায়গায় দিতে হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান এই পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতির
কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে কর্পোরেট করহার কমানোর বহু দাবি থাকলেও সেটিও কমানো হচ্ছে না। ধনীদের জন্যও বাড়তি করের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নতুন বাজেটে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদের উপর বাজারমূল্যভিত্তিক সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। চার কোটির বেশি কিন্তু ১০ কোটির কম সম্পদে ০.৫০ শতাংশ, ১০ থেকে ২০ কোটিতে ১ শতাংশ, ২০ থেকে ৫০ কোটিতে ১.৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির উপরে ২ শতাংশ হারে এই কর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না বলে জানানো হয়েছে। রপ্তানি খাতেও আঘাত আসছে। তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি
প্রণোদনার বিপরীতে বর্তমান ১০ শতাংশ উৎস করকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার পথে হাঁটছে সরকার। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রণোদনা মানেই ভর্তুকি, সেখানে মুনাফার প্রশ্ন আসে না। তার মতে, দেশের টেক্সটাইল খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত। এদিকে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এমনিতেই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ৮.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে। বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সরাসরি বলেছেন, পণ্যের উপর কর বাড়লে দাম বাড়বেই, কারণ ব্যবসায়ী কখনো নিজের পকেট থেকে কর দেন না, সেই বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার উপরেই পড়ে। তার পরামর্শ হলো, করহার বাড়ানোর আগে বিভিন্ন খাতে চলমান রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা উচিত। কারণ ফাঁকি বন্ধ হলে আদায় অনেক বেড়ে যাবে। আর করহার বাড়ালে সেই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে না গিয়ে অন্যের পকেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এই পুরো চিত্রের মাঝে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, অর্থসচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তিনি সাধারণ মানুষের ঘাড়ে বাড়তি করের বোঝা না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। নিত্যপণ্যের উপর উৎস কর দ্বিগুণ করলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কর আরোপের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেও প্রস্তাবিত করহার কমিয়ে আনতে বলেছেন। মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও সিসি ক্যামেরার উপকরণ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বর্ণে ভরিপ্রতি ৫ হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাবও কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে সিগারেটের দাম বাড়ানো, হার্টের রিং ও ডায়ালিসিসের টিউবে ভ্যাট অব্যাহতি এবং আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ করার প্রস্তাবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য ঘোষণা করে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যসহ অসংখ্য খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা কঠিন এবং চূড়ান্ত বাজেটে প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তি আসে, তা দেখার জন্য জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাজেটের কাজ প্রায় গুছিয়ে আনা হয়েছে এবং এখন চলছে চূড়ান্ত পর্যালোচনা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে প্রায় ৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, এর মধ্যে এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জুন মাসের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণা করবেন। এই বিশাল রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে গিয়ে এনবিআর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উপরেই করের খড়্গ নামাতে যাচ্ছে। বিশেষ করে ধান, ধানের কুড়া, চাল, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বাদাম, খেজুর,
কম্পিউটার ও কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ এবং সব ধরনের ফল ক্রয়ের জন্য স্থানীয় ঋণপত্রের কমিশনের উপর উৎস কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে, অর্থাৎ এই করহার দ্বিগুণ হচ্ছে। শুধু নিত্যপণ্য নয়, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের প্রধান যানবাহন মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার উপরেও প্রথমবারের মতো অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে ১১০ সিসি পর্যন্ত করমুক্ত রাখার প্রস্তাব রয়েছে। তবে ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলে বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসিতে ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি হলে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আদায়ের ছক কাটা হয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৫ হাজার, পৌরসভায় ২
হাজার এবং ইউনিয়নে ১ হাজার টাকা বার্ষিক কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। মোটরসাইকেল কোম্পানি হোন্ডার চিফ মার্কেটিং অফিসার শাহ মো. আশেকুর রহমান এই প্রস্তাবে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার মতে, ১২৫ সিসির মোটরসাইকেল যিনি চালান তার গড় মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং ১৫০ সিসির উপরে হলে তা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মধ্যে। তিনি জানান, যারা ছয় লাখ টাকায় বাইক কিনতে পারেন তাদের কাছে এই কর বড় ব্যাপার না, কিন্তু বাকি সাধারণ চালকদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সামগ্রিকভাবে বিক্রি হুমকির মুখে পড়বে। একই সঙ্গে মোবাইল ফোন, এয়ার কন্ডিশনার, ফ্রিজ, এলইডি ও এনার্জি সেভিং লাইট, সিসি ক্যামেরা এবং এটিএম মেশিনের মতো নিত্যব্যবহার্য ও
নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য পণ্যের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। ফলে এই পণ্যগুলোর দামও বেড়ে যাবে। স্বর্ণের ক্ষেত্রে বর্তমান ৫ শতাংশ ভ্যাটের পাশাপাশি প্রতি ভরিতে ৫ হাজার টাকা নতুন ভ্যাট আরোপের সুপারিশ করেছে এনবিআর। আয়করের ক্ষেত্রেও মধ্যবিত্তের উপর চাপ বাড়ছে। স্ল্যাব পরিবর্তন ও করহার বৃদ্ধির ফলে যার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা, তাকে এখন ৮ হাজার টাকার জায়গায় দিতে হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আশরাফ হোসেন খান এই পরিস্থিতিতে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতির
কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যদিকে কর্পোরেট করহার কমানোর বহু দাবি থাকলেও সেটিও কমানো হচ্ছে না। ধনীদের জন্যও বাড়তি করের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। নতুন বাজেটে চার কোটি টাকার বেশি সম্পদের উপর বাজারমূল্যভিত্তিক সম্পদ কর আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে। চার কোটির বেশি কিন্তু ১০ কোটির কম সম্পদে ০.৫০ শতাংশ, ১০ থেকে ২০ কোটিতে ১ শতাংশ, ২০ থেকে ৫০ কোটিতে ১.৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটির উপরে ২ শতাংশ হারে এই কর নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই কর কোনোভাবেই করদাতার প্রদেয় করের চেয়ে বেশি হবে না বলে জানানো হয়েছে। রপ্তানি খাতেও আঘাত আসছে। তৈরি পোশাক, চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি
প্রণোদনার বিপরীতে বর্তমান ১০ শতাংশ উৎস করকে ২০ শতাংশে উন্নীত করার পথে হাঁটছে সরকার। বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান এই প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, প্রণোদনা মানেই ভর্তুকি, সেখানে মুনাফার প্রশ্ন আসে না। তার মতে, দেশের টেক্সটাইল খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত। এদিকে বর্তমানে মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি এমনিতেই উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, মার্চে ৮.৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯.০৪ শতাংশে। বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার প্রভাবে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন সরাসরি বলেছেন, পণ্যের উপর কর বাড়লে দাম বাড়বেই, কারণ ব্যবসায়ী কখনো নিজের পকেট থেকে কর দেন না, সেই বোঝা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার উপরেই পড়ে। তার পরামর্শ হলো, করহার বাড়ানোর আগে বিভিন্ন খাতে চলমান রাজস্ব ফাঁকি বন্ধ করা উচিত। কারণ ফাঁকি বন্ধ হলে আদায় অনেক বেড়ে যাবে। আর করহার বাড়ালে সেই টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে না গিয়ে অন্যের পকেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এই পুরো চিত্রের মাঝে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দীর্ঘ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা, অর্থসচিব এবং এনবিআর চেয়ারম্যানসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, তিনি সাধারণ মানুষের ঘাড়ে বাড়তি করের বোঝা না চাপানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবসা-বাণিজ্য সহায়ক বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছেন। নিত্যপণ্যের উপর উৎস কর দ্বিগুণ করলে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় কর আরোপের প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেও প্রস্তাবিত করহার কমিয়ে আনতে বলেছেন। মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি ও সিসি ক্যামেরার উপকরণ আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাবও পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বর্ণে ভরিপ্রতি ৫ হাজার টাকা ভ্যাটের প্রস্তাবও কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যদিকে সিগারেটের দাম বাড়ানো, হার্টের রিং ও ডায়ালিসিসের টিউবে ভ্যাট অব্যাহতি এবং আবগারি শুল্কের সীমা ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ করার প্রস্তাবে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, একদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য ঘোষণা করে, অন্যদিকে নিত্যপণ্যসহ অসংখ্য খাতে কর বাড়ানোর পরিকল্পনা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে অর্জন করা কঠিন এবং চূড়ান্ত বাজেটে প্রকৃতপক্ষে সাধারণ মানুষের জন্য কতটা স্বস্তি আসে, তা দেখার জন্য জুন মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।



