শেখ হাাসিনা সরকারের এনসিডি সেবা বন্ধ, বিনামূল্যের ওষুধ বঞ্চিত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী – ইউ এস বাংলা নিউজ




ইউ এস বাংলা নিউজ ডেক্স
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬

শেখ হাাসিনা সরকারের এনসিডি সেবা বন্ধ, বিনামূল্যের ওষুধ বঞ্চিত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী

ডেস্ক নিউজ
আপডেটঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ |
বগুড়ার সোনাতলার দরিদ্র কৃষক ইসমাইল মিয়া (৬৪) উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিয়মিত বিনামূল্যে ওষুধ পেতেন। কিন্তু গত ৪ মাস ধরে আর ওষুধ মিলছে না। বাধ্য হয়ে দোকান থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। কিন্তু অভাবের সংসারে ওষুধের পেছনে অর্থব্যয় করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে এখন ওষুধ সেবন অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ইসমাইল মিয়া জানালেন, সংসারে এত মানুষের ভরণ-পোষনের পর ওষুধ কেনা হয় না নিয়মিত। বড় ছেলে ঢাকায় একটা কারখানায় চাকরি করে। টাকা পাঠালে এক সপ্তাহের ওষুধ কেনা যায়। ৩০ দিনের ওষুধের জায়গায় এখন এক সপ্তাহের ওষুধ খেয়ে কাটাতে হচ্ছে তাকে। গ্রামাঞ্চলে নয় শুধু, বন্দরনগরী চট্টগ্রামেরও একই অবস্থা। চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার

সাজিয়া বেগম (৬০) প্রায় ১৫ বছর ধরে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। স্বামী মারা যাওয়ার পরে দুই মেয়ের সংসারে ঠাঁই হয়েছে তার। গত তিন বছর ধরে পূর্ব বাকলিয়াস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনসিডি কর্নার থেকে চিকিৎসা এবং বিনামূল্যে ওষুধ পান তিনি। সাজিয়া বেগম বলেন, ‘আগে হাসপাতাল থেকে দুইটা ওষুধ এক মাসের জন্য দিত। কিন্তু কিছুদিন হলো দুইটা ওষুধের মধ্যে একটা দেয়, আরেকটা ২০ দিনের বেশি দেয় না। মেয়েদের অভাবের সংসারে আমার ওষুধের খরচ বাড়তি বোঝা। ওরা কিনে না দিলে মানুষের কাছে হাত পাততে হয়।’ শুধু ইসমাইল মিয়া বা সাজিয়া বেগম নয়; সারা দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ১০টি জেলা হাসপাতাল মিলিয়ে ৪৪৬টি অসংক্রামক রোগ (এনসিডি) কর্নারে নিবন্ধিত

১২ লাখের বেশি রোগী বর্তমানে ওষুধ সংকটে ভুগছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই বয়োবৃদ্ধ ও নিম্নআয়ের মানুষ, যাদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় বহন করার সক্ষমতা সীমিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশন প্ল্যান (ওপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়ানো এই কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মডেল বাস্তবায়ন করা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। শেখ হাসিনার উদ্যোগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সিলেটের চারটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে এনসিডি কর্নার চালু করা হয়। পরে ধাপে ধাপে সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হয়। এসব কর্নারে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস শনাক্ত, চিকিৎসা, ওষুধ বিতরণ এবং রোগীদের নিয়মিত ফলোআপের

ব্যবস্থা রয়েছে। হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ (এনএইচএফবি), জাইকা, আইসিডিডিআর,বি, ব্র্যাক হেলথসহ আটটি প্রতিষ্ঠান কর্নারগুলো স্থাপনে সেসময় সরকারকে কারিগরি সহায়তা দেয়। এর মধ্যে ৩২৭টি এনসিডি কর্নারে হার্ট ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ‘সিম্পল অ্যাপ’ এর মাধ্যমে ৯ লাখের বেশি রোগী নিয়মিত সেবা নিচ্ছে। এর মধ্যে ৭ লাখ রোগী উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত এবং ২ লাখ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সবগুলো এনসিডি কর্নার মিলিয়ে এই ১২ লাখ রোগীর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (এমআইএস)-এ সংক্ষরণের কার্যক্রম চলছে। এই এনসিডি কর্নার স্থাপন এবং যন্ত্রপাতি ও ওষুধের খরচ চালানো হয় ওপির টাকায়। কিন্তু ওপি না থাকায় প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে না রোগী। কর্মসূচির আওতায় রোগ নিয়ন্ত্রণের হার ২০১৮ সালের ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৮ শতাংশে

উন্নীত হয়েছিল। তবে ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এ হার আবার কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি সূত্রে জানা গেছে, এনসিডি কর্নারে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য মেটফরমিন ও গ্লিক্লাজাইড এবং উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যামলোডিপিন, লোজারটেন পটাশিয়াম ও হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড দেওয়া হয়। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখো মানুষ হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্রদের। কর্নারে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেশির ভাগই প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। ওপি না থাকার কারণে এনসিডির কাজ থেমে গেলে তা হবে চরম ব্যর্থতা। কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. আবদুল মোকাদ্দেস জানান, আগে রোগীদের

একসঙ্গে দুই মাসের ওষুধ দেওয়া হলেও এখন ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। সংকটের কারণে ১০ দিনের বেশি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) হালিমুর রশীদ বলেন, ওপি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অর্থায়ন সংকট তৈরি হয়েছে এবং বিকল্প উৎস থেকে অর্থ জোগানের সুযোগও সীমিত। আগামী বাজেটে হাসপাতালের তহবিল বাড়ানো হলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। ওষুধ সংকটের আভাস দিয়ে গত ১৬ই মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) হালিমুর রশীদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের আগস্টে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা দিয়ে মাত্র ২ মাসের

জন্য সেবা চালু রাখা সম্ভব হবে। নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের মধ্যে স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়তে পারে। সরকারের সর্বশেষ স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭০ শতাংশই অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার মধ্যে ৩৪ শতাংশ হৃদরোগজনিত। চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো স্বাস্থ্য সমস্যার রোগীদের নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ ও চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হয়। এ দুটি রোগের কারণে হৃদরোগ, কিডনি, ক্যানসারসহ বিভিন্ন অসংক্রামক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। সব মিলিয়ে, এনসিডি কর্নারের ওষুধ সংকট দেশের জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এক বিশাল সংকটময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দ্রুত অর্থায়ন ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:


শীর্ষ সংবাদ:
রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির ১৩ বছর আজ মিত্রদের জন্য হরমুজে ফি মওকুফ করল ইরান, কারা আছেন তালিকায় ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন ক্যাম্পাসে উত্তেজনার ঝড় বড় সংঘাতের আশঙ্কা সালাউদ্দিন আম্মারকে সতর্ক করে যা বললেন ছাত্রদল সভাপতি ইরানে পারমাণবিক হামলা করবেন কি না, জানালেন ট্রাম্প আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করল তেহরান তেলের সংকট আরও তীব্র হতে পারে, বাড়ছে দাম যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাল আরেকটি মার্কিন রণতরি হামলা হলে ‘কঠোর জবাব’ দেবে ইরান, প্রস্তুত ইসরায়েল হাজার হাজার হেক্টর বোরো জমি শুকিয়ে যাচ্ছে, চাল উৎপাদনে ৭০ লাখ টন ঘাটতির সম্ভাবনা ঝিনাইদহ সীমান্তে আফগান নাগরিকের লাশ উদ্ধার: “বাংলাদেশে এলেন কীভাবে?”; রহস্যময় ঘটনা সীমান্ত এলাকায় শেখ হাাসিনা সরকারের এনসিডি সেবা বন্ধ, বিনামূল্যের ওষুধ বঞ্চিত দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী শাহবাগ থানার ভিতরেই মোসাদ্দেক-কে পেটালো ছাত্রদল এক টাকার সম্পদ থাকলেও দিতে হবে কর অর্থনৈতিক চাপে ধুঁকছে বাংলাদেশ: ‘১৪ বোয়িং’ ক্রয়—মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির জগদ্দল পাথর বার্লিনে ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলাভির উপর টমেটো সস ছুড়ে মারলো বিক্ষুব্ধ জনতা নাহিদ ও মোস্তাফিজকে এবার আর পিএসএলে যেতে দেবে না বিসিবি হামে আক্রান্ত শিশু কোলে, মাথা চাপড়াচ্ছেন জুলাইযোদ্ধা মুশফিক প্রকল্প বাতিল, অথচ হদিস নেই ১৫৪ কোটি টাকার!